হোমরিভিউস

রিভিউ দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন: রহস্য-ইতিহাসের জমজমাট যুগলবন্দি

  | May 25, 2019 13:34 IST
Bengali Movie Legend

Durgeshgorer Guptodhon: ছবিতে সিরাজদৌল্লার আমল যেন উঠে এসেছে

প্রথম ছবিতেই পরিচালক ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায় (Dhrubo Banerjee) বলেছিলেন, শুধু রহস্য নয় তাঁর এই সোনাদা ফ্র্যাঞ্চাইজিতে (Durgeshgorer Duptodhon) থাকবে বাংলার শিকড়, বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ইতিহাস। এবারেও তার অন্যথা হয়নি। ছবিতে সিরাজদৌল্লার আমল যেমন উঠে এসেছে, তেমনি দর্শক জেনেছেন বনপুকুরিয়ার মতো কম পরিচিত জায়গায় আজও লুকিয়ে আছে বাংলার পুরনো ইতিহাস।

পরিচালক: ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিনয়: আবীর চট্টোপাধ্যায়, অর্জুন চক্রবর্তী, ইশা সাহা, লিলি চক্রবর্তী, কৌশিক সেন, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, খরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈশাখী মার্জিত, অরিন্দম শীল, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়।

রেটিং: ৩.৫


প্রথম ‘গুপ্তধনের খোঁজে‘ বেরিয়েই এই প্রজন্মের দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিলেন সুবর্ণ সেন ওরফে সোনাদা (Abir Chatterjee) আর তাঁর দুই সহকারী আবির (Arjun Chakraborty)-ঝিনুক (Isha Saha)। জনতা জনার্দনের সেই ভালোবাসায় ভরসা রেখেই গরমের ছুটিতে ছোটো-বড়ো-মেজো-সেজো সব বয়সের দর্শকের জন্য বড়োপর্দায় আবার হাজির সোনাদা তাঁর সহকারীদের নিয়ে। এবার তিনি পৌঁছে গেছেন ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন‘-এর (Durgeshgorer Duptodhon) খোঁজে।


দেখুন ট্রেলার:

গল্প যেমন--- এবারের ছবির প্রেক্ষাপট রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়, সিরাজদৌল্লা, জগত শেঠ। নবাবের বিরুদ্ধে বন্ধু জগত শেঠকে সাহায্য করে কৃষ্ণচন্দ্র প্রচুর ধনসম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন। কিন্তু মীরকাশিমের বাঁকা নজর তাঁর ওপর পরতেই রাজপাট ছেড়ে তিনি চলে আসেন। এবং দুর্গেশগড়ে (Durgeshgorer Duptodhon) বন্ধু দুর্গাগতি দেব রায়ের পৈতৃক ভিটেয় প্রচলন করেন দুর্গাপুজোর। যা বংশ পরম্পরায় মেনে চলেছে এই প্রজন্মও। নিছক পুজো দেখতেই এই গড়ে পা রেখেছিলেন সদলবলে সোনাদা। কিন্তু গোয়েন্দা থাকবে কিন্তু রহস্য-রোমাঞ্চ থাকবে না! হয় নাকি? অতএব, পুজোর প্রচলিত গানেই গুপ্তধনের (Durgeshgorer Duptodhon)  হদিশ পেলেন সোনাদা। কিন্তু শেষমেশ তা উদ্ধার হল কীভাবে? সেটুকু জানতে যে আপনাদের প্রেক্ষাগৃহে যেতে হবে।

অভিনয় কেমন--- আবীর (Abir Chatterjee)  বড়ো যত্ন করে ফেলুদা, ব্যোমকেশ হয়েছিলেন। তেমনই, প্রথম ছবি থেকেই তিনি বড়ো যত্ন করে ‘সোনাদা‘ হয়ে উঠেছেন। বুদ্ধিমত্তা, ধারালো মগজাস্ত্র আর সহকারীদের প্যাম্পারিং---সব মিলিয়ে এবারেও তিনি ঝকঝকে। টানটান রোমাঞ্চের মধ্যেও এই ছবির কমিক রিলিফ অর্জুন (Arjun Chakraborty), খরাজ। অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, অরিন্দম শীল, বৈশাখী মার্জিত, কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় এখানে সীমিত অবকাশে অনবদ্য। ইশা তাঁর মতো করেই একঝলক টাটকা অক্সিজেন ছবিতে। তবে আলাদা করে বলতেই হয় লিলি চক্রবর্তী এবং কৌশিক সেনের কথা। দেব রায় বাড়ির পিসিমা লিলির অভিনয় এই ছবির অ্যাসেট। আর অনেকদিন পড়ে ‘সফিসটিকেট ভিলেন‘ উপহার দিলেন কৌশিক। উচ্চশিক্ষিত খলনায়ক বোধহয় এমনই হয়, তাই না?

কথা রেখেছেন পরিচালক: প্রথম ছবিতেই পরিচালক ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায় (Dhrubo Banerjee) বলেছিলেন, শুধু রহস্য নয় তাঁর এই সোনাদা ফ্র্যাঞ্চাইজিতে (Durgeshgorer Duptodhon) থাকবে বাংলার শিকড়, বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ইতিহাস। এবারেও তার অন্যথা হয়নি। ছবিতে সিরাজদৌল্লার আমল যেমন উঠে এসেছে, তেমনি দর্শক জেনেছেন বনপুকুরিয়ার মতো কম পরিচিত জায়গায় আজও লুকিয়ে আছে বাংলার পুরনো ইতিহাস। সেই ইতিহাস দেখাতে গিয়ে গ্রাফিক্স এবং নিখুঁত সেটের ব্যবহার সত্যিই প্রশংসনীয়। যদিও কখনও কখনও তা বাহুল্য বলে মনে হয়েছে। ফলে, কিছু ক্ষেত্রে শ্লথ করেছে ছবির গতিকে। তবে, সোনাদা-ত্রিশূলপাণির সংঘাত যদি উত্তেজনার উপাদান যোগায় তাহলে তার মধ্যে বসন্তের হাওয়ার মতোই রিফ্রেশমেন্ট ঝিনুক-আবীরের প্রেম। উপরিপাওনা, বাংলার অদেখা অনেক জায়গা। সব মিলিয়ে এবারের গরমের ছুটিতে সপরিবারে হলমুখো হতে চাইলে আপনি চোখ বুঁজে পৌঁছে যেতেই পারেন দুর্গেশগড়ে। সোনাদা অ্যান্ড কোংয়ের সঙ্গে।     

               


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement