হোমবলিউড

‘ছপাক’ থেকে ‘ষাণ্ড কী আঁখ’, প্রথাগত সৌন্দর্যের সংজ্ঞা বদলে দিচ্ছেন নায়িকারা

‘ছপাক’ সিনেমার পরিচালিকা মেঘনা গুলজার সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বারবারই কাজ করে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এই সিনেমায় দীপিকাকে যথেষ্ট সাহসী একটি চরিত্রে দেখা যাবে যেখানে তার সৌন্দর্য একেবারেই প্রথাগত নয়।

Chhapaak

দীপিকা একজন অ্যাসিড অ্যাটাক সার্ভাইভারের ভূমিকায়

Highlights

  • ‘‘অ্যাসিডে পোড়ামুখের মধ্যেও লোকে সৌন্দর্য খুঁজে পাচ্ছে,’’ বলেন লক্ষ্মী
  • দীপিকার ‘ছপাক’-এর চরিত্রটি লক্ষ্মী আগরওয়ালের থেকে অনুপ্রাণিত
  • ভূমি পেদনেকর বারবার ডি-গ্ল্যাম লুকে ধরা দিয়েছেন

স্ক্রিনে একজন অ্যাসিড আক্রান্তের ভূমিকায় অভিনয় করবেন দীপিকা পাড়ুকোন। তার বহুদিন আগে জিনাত আমন এবং রেখার মতো অভিনেত্রীরাও তথাকথিত সুন্দর নয় এমন শক্তিশালী মহিলা নারী চরিত্রকে স্ক্রিনে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাদের মুখ, বা ‘ছপাক' সিনেমায় দীপিকার মুখ প্রথাগত হিরোইনদের মতো সুন্দর বা গ্ল্যামারাস হিসেবে দেখানো হয়নি। এরকম উদাহরন হয়তো খুব বেশি পাওয়া যাবে না গ্ল্যামার দুনিয়ায়। কিন্তু যখন যখন এ ধরনের চরিত্র সিনেমায় দেখানো হয়েছে, তা সমাজে একটা বড় রকমের ছাপ ফেলেছে। পরিচালিকা মেঘনা গুলজার এর ‘ছপাক' সিনেমাটি খুবই সংবেদনশীল একটি বিষয়কে নিয়ে তৈরি হচ্ছে। একজন অ্যাসিড অ্যাটাক সার্ভাইভারের জীবনের যুদ্ধ নিয়ে সিনেমা তৈরি হচ্ছে। তার মুখে অ্যাসিডের পোড়া দাগ আসলে প্রতিকূলতাকে জয় করে আসাকেই চিহ্নিত করে, বলে জানিয়েছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন।

সত্যজিতের পথের পাঁচালি আর শাহরুখের জিরো একই সঙ্গে দেখানো হবে কোন উৎসবে!


‘ছপাক' সিনেমার পরিচালিকা মেঘনা গুলজার সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বারবারই কাজ করে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এই সিনেমায় দীপিকাকে যথেষ্ট সাহসী একটি চরিত্রে দেখা যাবে যেখানে তার সৌন্দর্য একেবারেই প্রথাগত নয়।

লক্ষ্মী আগরওয়াল যিনি নিজে একজন অ্যাসিড অ্যাটাক সার্ভাইভার, তার নিষ্ঠুর জীবনকাহিনীই এ সিনেমার প্রধান অনুপ্রেরণা। তবে দীপিকা শুধুমাত্র এই সিনেমায় অভিনয় করছেন না তিনি সিনেমার সহ-প্রযোজকও।

‘বাঘিনী' কি মমতার বায়োপিক? রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন

আইএএনএস-কে লক্ষ্মী বলেন অ্যাসিডে পোড়া মুখের মধ্যে মানুষকে সৌন্দর্য খুঁজে পেতে দেখলাম সোশ্যাল মিডিয়ায়। দীপিকার ফার্স্ট লুক শেয়ার হওয়ার পর থেকে অনেকেই এ কথা জানিয়েছেন। গত বছরের ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউট ঘোষণা করেছিল যে সব সিনেমায় ভিলেনের মুখে নেতিবাচকতা বোঝাতে নানা রকম অসঙ্গতি বা ক্ষতকে দেখানো হবে সেই সব সিনেমাকে তারা আর্থিক সাহায্য করবে না। এটা আদতে ‘হ্যাশট্যাগ আই এম নট ইওর ভিলেন' ক্যাম্পেনের একটি অংশ। যারা চায় সিনেমা বা রুপোলি পর্দায় কোন ভাবে মুখের কোনও দাগ-ক্ষতকে খাটো করে দেখানো না হোক। কারণ ‘দা জোকার' এবং ‘ডার্থ ভেডার' সিনেমায় মুখের দাগকে ভিলেনের সঙ্গে সমার্থক করে দেখানো হয়েছিল।

সৌন্দর্যের সংজ্ঞা সত্যি বদলাচ্ছে।

অভিনেত্রী তমন্না ভাটিয়াকেও ‘দেবী ২' এবং ‘সাই রা নরসিংহ রেড্ডি' সিনেমার প্রযোজনে ত্বকের রঙ পরিবর্তন করতে হয়েছিল। তমন্না যদিও বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি না সৌন্দর্য্যের সঙ্গে গায়ের রঙের কোনও সম্পর্ক রয়েছে।''

সিনেমা ঐতিহাসিক এসএমএম অসুজার অবশ্য ভিন্ন মত, ‘‘কিছু ক্ষেত্রে অভিনেত্রীরা অ-গ্ল্যামারাস চরিত্রে অভিনয় করলেও সেটাই মূল প্রবণতা নয়। গ্ল্যামার উপাদান কোনও দিনই পুরোপুরি চলে যায়নি।'' তিনি জিনাত আমনের ‘সত্যম শিবম সুন্দরম'-এর উল্লেখ করে বলেন সিনেমাটি বক্স অফিসে তেমন চলেনি।

ভূমি পেদনেকরের ‘দম লাগা কে হাইসা' সিনেমার চরিত্রটিও প্রথাগত সৌন্দর্যের উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে কথা বলেছিল। তিনি ‘টয়লেট এক প্রেম কথা', ‘সোনচিড়িয়া' এবং ‘ষাণ্ড কী আঁখ'-এও সৌন্দর্যের সংজ্ঞা ভেঙেছেন।




তবে সব কিছুর মধ্যেও আশা জাগাচ্ছে ব্যতিক্রমী লুকের সিনেমার প্রতি দর্শকের অপার ভালোবাসা।


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
 
Advertisement
Advertisement