হোমরিভিউস

গলি গুলিয়া রিভিউঃ মনোজ বাজপেয়ীর অভিব্যক্তি এ ছবির সম্পদ

  | September 05, 2018 23:22 IST (নিউ দিল্লি)
Gali Guleiyan Movie Review

গলি গুলিয়া সিনেমায় মনোজ বাজপেয়ী ও রণবীর শোরে

প্রতিটি মানুষের ভেতরের অশান্তির তীব্রতা বোঝাতে সংলাপ দরকার নেই, এই ছবির দৃশ্যপট আর অভিনেতাদের অভিব্যক্তিই যথেষ্ট

অভিনেতাঃ মনোজ বাজপেয়ী, নীরজ কবি, রণবীর শোরে

পরিচালক: দীপেশ জৈন

রেটিং:  4 তারকা (5 টির মধ্যে)

 


গলি গুলিয়া শুরু হলেই দেখা যায় এই সিনেমার স্বভাবগম্ভীর নায়ক খুদ্দুস তাঁর অপরিচ্ছন্ন, অগছালো নোংরা ঘরে টিভির দিকে তাইয়ে বসে। টিভিতে সে দেখছে বাড়ির নীচের গলির নানা দৃশ্য। গণেশী, খুদ্দুসের বন্ধু এসে উপস্থিত হয়, বেশ কয়েকদিন ধরেই খুদ্দুস তাঁর ফোন না ধরায় তাঁকে কিঞ্চিত মারধরও করে। আসলে দু-তিন জন মানুষের একাকীক্ত, মানসিক সমস্যা, মনোরোগ আর পালাতে চাওয়া নিয়েই আবর্তিত দীপেশ জৈনের এই সিনেমা। এই সিনেমা দিয়েই বলিউডে আত্মপ্রকাশ করলেন দীপেশ। বলিউডের 'উন্মাদ' মানুষ বলতে যা বোঝে খুদ্দুসের ভূমিকায় মনোজ বাজপেয়ী একেবারেই সেরকম নন। প্রতিটি মানুষের ভেতরের অশান্তির তীব্রতা বোঝাতে সংলাপ দরকার নেই, এই ছবির দৃশ্যপট আর অভিনেতাদের অভিব্যক্তিই যথেষ্ট।

 

 

পুরনো দিল্লির নানা দৃশ্য এখানে সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অভিনেতাদের মানসিক টানাপড়েন এবং কষ্টের সাথে যেন কথা বলছে দিল্লি শহরের চিত্রপটগুলি।

গলি গুলিয়ার অন্যতম কেন্দ্র মনোজ বাজপেয়ী। অসাধারণ তাঁর অভিনয়। নিজের এবং তাঁর চারপাশে বিশ্বের সঙ্গে মতভেদ নিয়ে বেঁচে থাকা একজন মানুষ। মনোজের চোখ, মুখের অভিব্যক্তি, সারা শরীর দিয়ে তাঁর অভিনয় মনে রাখার মতো।

খুদ্দুস একাই থাকে, নেশা বলতে অন্যদের বাড়িতে আড়ি পাতা আর সিসিটিভি দিতে তাঁদের গতিপ্রকৃতির উপর নজরাদারি চালানো। একদিন এমনই আড়ি পেতে সে শুনতে পায় একটি ছেলেকে প্রবল মারা হচ্ছে। খুদ্দুসের মনে হয় এই ছেলেটিকে সাহায্য করা তাঁর দরকার। খুদ্দুস তাঁর বন্ধু গণেশীকে (রণবীর শোরে) বলে, "আমার আরও ক্যামেরা প্রয়োজন"। গণেশী বলে খুদ্দুস পাগল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু খুদ্দুস নির্বিকার।

o6j378e

ইদ্রিস (ওম সিং) আরেকটি গল্পের প্রাণকেন্দ্র। অন্য মানুষের ঘরে আড়ি পাতা, উঁকি দেওয়াতে অভ্যস্ত মানুষ সেও। সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হতাশাজনক সত্য উদ্ঘাটিত হয় একের পর এক। তাঁর বাবা, একজন মাংস বিক্রেতা অসম্ভব হিংস্র প্রকৃতির মানুষ। ইদ্রিসের মা সায়রা (শাহানা গোস্বামী) গর্ভবতী, কোলে আবার আরেকটি শিশু। ইদ্রিসের জন্য সান্ত্বনার একমাত্র উৎস তাঁর মা’ই।

ইদ্রিস এবং তাঁর মা’র জন্য পুরনো দিল্লির বাড়িটি একটি ফাঁদ। অন্ধকারে আবদ্ধ তাঁদের জীবনে ইদ্রিসের জন্য একমাত্র উজ্জ্বল মুহূর্ত সেইটিই যখন সে তাঁর বন্ধু জিনির (আরবাজ খান) সঙ্গে থাকে এবং তাঁর মায়ের আগত সন্তানের জন্ম নিয়ে আলোচনা করে এবং পুত্র সন্তানের নাম ঠিক করে। মা জিজ্ঞেস করে: তুই কী করে এত নিশ্চিত হলি যে ছেলে হবে? আমি নিশ্চিত, সে উত্তর দেয়। ইদ্রিসের জীবনে একমাত্র মহিলার উপস্থিতি তাঁর মায়ের মাধ্যমেই।


এই সিনেমার অন্যতম বড় সম্পদ নীরাজ কবি, শাহানা গোস্বামী, রণবীর শোরী এবং শিশু অভিনেতা ওম সিং। নীরাজ কবি একজন চমত্কার অভিনেতা। শাহানাও এই সিনেমায় উজ্জ্বল। এবং ওম সিং! সালাম বালক ট্রাস্টের এই অভিনেতা অসম্ভব স্বতস্ফূর্ত।

গলি গুলিয়া ঐতিহ্যগত বিনোদনমূলক সিনেমা একেবারেই নয়। ভারসাম্যহীনতায় তলিয়ে যাওয়া একটি মানুষের মানবিকতার গল্পকেই নিখুঁতভাবে চিত্রিত করে। একজন অভিনেতা নিজেকে কোথায় নিয়ে যেতে পারেন শুধু সেটা দেখতেই গলি গুলিয়া দেখা যেতে পারে।


(এনডিটিভি এই খবর সম্পাদিত করেনি, এটি সিন্ডিকেট ফিড থেকে সরাসরি প্রকাশ করা হয়েছে.)


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement