হোমআঞ্চলিক

শশী কাপুর আমাকে প্রচন্ড ইন্সপায়ার করেন: প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়

  | July 08, 2018 11:46 IST (কলকাতা)
Prosenjit Chatterjee

ট্রেলার মুক্তির অনুষ্ঠানে প্রযোজক প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়

আমার তিন ইয়ারি কথা দেখে সৃজিত বলেছিল 'বাংলা সিনেমা বড় হয়েছে' (হাসতে হাসতে) ইউ ক্যান ট্রাই আউট এনিথিং। তিন ইয়ারি কথার জন্য আমি সেন্সরের সঙ্গে নয় মাস লড়াই করেছিলাম। বলেছিলাম না আমি আমার সিনেমা কাটতে দেবো না। এই চ্যালেঞ্জগুলো নিতে আমার ভাললাগে।

বিখ্যাত সিনেমা 'তিন ইয়ারি কথা', সিরিয়াল 'গানের ওপারে' ও 'অদ্বিতীয়া'-র পর দলছুটের তালিকায় নবতম সংযোজন 'উড়নচণ্ডী'। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের এনআইডিয়াজ প্রযোজিত 'উড়নচণ্ডী' সিনেমার ট্রেলার সদ্য মুক্তি পেল শহরের এক ঝাঁ-চকচকে নামী হোটেলে। ট্রেলার মুক্তি পাওয়ার পর সুপারস্টার প্রযোজক প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ভিড়ের মধ্যে থেকেই কিছুক্ষণের জন্য হাইজ্যাক করে ফেলল এনডিটিভি বাংলা। সংক্ষিপ্ত আড্ডায় উঠে এল বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য। মুগ্ধতার রেশ কাটিয়ে কলম ধরলেন পরিজা কর্মকার।

প্রশ্ন: প্রযোজক হিসাবে বরাবর আমরা কেন ব্যতিক্রমী প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কেই দেখতে পাচ্ছি?

উত্তর: এক্ষেত্রে একটা জিনিস আমার কাছে খুব পরিষ্কার। আমিরের সঙ্গে একবার এই বিষয়ে আমার দীর্ঘক্ষণ আড্ডা হয়েছিল। আমার কাছে একটা মানুষ ভীষণ ইন্সপায়ারিং। সেই ভদ্রলোকের নাম শশী কাপুর। তাঁর একটা সাক্ষাৎকারে আমি একবার পড়েছিলাম, তিনি বলেছিলেন, 'সিনেমা থেকে আমি প্রচুর অর্থ রোজগার করছি। কোনওটা আমি ভালোবেসে করছি, কোনওটা হয়তো পছন্দ নয় তবুও অর্থের জন্য করছি'- আমিও তো তাই। কিছু কমার্শিয়াল ছবি করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে এটা আমি তো না করলেও পারতাম। কিন্তু রোজগারের জন্য তবুও করেছি। এই সবটাই আমার অর্থ। আমি আমার ইচ্ছে মতো খরচ করতেই পারতাম। আমি পঁচিশ বছর আগে যে সমস্ত পরিচালকের সিনেমায় অভিনয় করেছি তাঁদের দিয়েও বছরে দুটো করে সিনেমা করাতে পারতাম। কিন্তু ওটা আমার স্বপ্ন নয়। আমি চেয়েছি চ্যালেঞ্জিং কিছু করতে। এমন কিছু করতে যেটার জন্য সচরাচর কেউ এগিয়ে আসবে না।

 
prosenjeet

একটা সিনেমার ক্ষেত্রে প্রথমেই আমরা (প্রযোজক) দেখি তার কন্টেন্ট। তারপর দেখি কে অভিনয় করেছে আর কে পরিচালক। তাহলে আমার সিনেমা এত টাকায় বিক্রি হয়ে যাবে, এত টাকায় সার্কুলেট হয়ে যাবে, আমার এত টাকা লাভ হবে। কিন্তু কিছু কিছু সিনেমায় কন্টেন্ট থাকে। আমার তিন ইয়ারি কথা দেখে সৃজিত বলেছিল 'বাংলা সিনেমা বড় হয়েছে' (হাসতে হাসতে) ইউ ক্যান ট্রাই আউট এনিথিং। তিন ইয়ারি কথার জন্য আমি সেন্সরের সঙ্গে নয় মাস লড়াই করেছিলাম। বলেছিলাম না আমি আমার সিনেমা কাটতে দেবো না। এই চ্যালেঞ্জগুলো নিতে আমার ভাললাগে। আমার নিজস্ব একটা মার্কেট আছে। আমি একসময় কমার্শিয়াল ছবিতে অভিনয় করেছি। এখন বছরে তিনটে সিনেমায় অভিনয় করি। আমি জানি আমি আগামী পাঁচ বছর কী করবো। আর প্রযোজনার ক্ষেত্রে আমি সিনেমার পাশাপাশি যেসব সিরিয়াল প্রযোজনা করেছি- গানের ওপারে, অদ্বিতীয়া- সেগুলো অন্যরকম। পরবর্তীকালেও যদি সিরিয়াল প্রযোজনা করি তখন দেখবেন বিষয়টা একটু অন্যরকম। তো এটা না করতে পারলে আমার ভাল লাগে না।
 
proseenjeet

আমি নিজের কাজ নিয়ে অত্যন্ত খুশি। আর এই স্ক্রিপ্টটা আমাকে ভীষণ ইন্সপায়ার করেছে। আমি শুনেই বলেছিলাম তুই কিছুদিন অপেক্ষা কর। দাঁড়া। স্ক্রিপ্ট শুনেই আমি ভেবে নিয়েছি কোন চরিত্রে কাকে সবচেয়ে ভালো মানাবে। টেকনিশিয়ান দল খুব ভাল হওয়ার প্রয়োজন ছিল। তাই আমি সৌমিক, তন্ময়দের ডেকে নিয়েছি। ওদের শুধু বলিনি ছবিটা করতে। ওদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, সিনেমাটা নিয়ে আমার যে অনুভূতিটা হচ্ছে, তোদেরও কি একই অনুভূতি হচ্ছে? কারণ সেটা না হলে সিনেমাটা দাঁড়াতো না। যখন বুঝেছি আমার পুরো টিম তৈরি, তখন কাস্টিং শুরু করেছি। একটু একটু করে কাজ শেষ করেছি তারপর আজ আমি ঘোষণা করছি কবে সিনেমা মুক্তি পাবে। শুরুতেই সেটা জানাইনি। ছবিটা আমি নিজে আগে না ভালোবেসে সকলকে ভালোবাসাবো কীভাবে? তবে একথা ঠিক এনআইডিয়াজ আগামী দিনে অনেকগুলো কাজ করার কথা ভাবছে। আমরা যে ধরণের কাজ করি, তার বাইরে বাণিজ্যিক কিছু ছবি করতেও আমাকে বলা হচ্ছে, নাহলে আমরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকবো কীভাবে?

প্রশ্ন: আপনার মতে বর্তমান পরিস্থিতিতে উড়নচণ্ডী গল্পের প্রাসঙ্গিকতা ঠিক কতখানি?

উত্তর: গল্পটা বড্ড বেশি সমসাময়িক। কিন্তু আমরা গল্পটা বলছি একেবারেই গোড়ার থেকে। তিনজন মহিলার গল্প। এটা কিন্তু তাঁদের বাঁচার লড়াই নয়। তাঁরা যে নতুন করে সমস্তটা শুরু করতে চাইছে তা কিন্তু নয়। তিনটে আলাদা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে তাঁরা উঠে এসেছেন। তাঁদের সবার লড়াই আলাদা। কিন্তু কোনওভাবে তাঁরা এক। আর এই সিনেমায় লরিটাও একটা প্রধান চরিত্র।

স্ক্রিপ্টটা বারবার আমাকে 'পলাতক'-এর কথা মনে করিয়েছে। ওটাতো আর হবে না। ওটা মাইলস্টোন ছবি। কিন্তু এই সিনেমায় পলাতকের একটা গন্ধ রয়েছে। কোথাও একটা পালিয়ে যাওয়া, কোথাও একটা হারিয়ে যাওয়া। প্রতিদিনের ছক বাঁধা জীবন ছেড়ে বড় কোথাও একটা পালানো। এর সঙ্গে সমাজের প্রতিটা শ্রেণীর মহিলাই মিল খুঁজে পাবে। নারী পুরুষ প্রত্যেকেই আমরা প্রতিনিয়ত যা ঘটে হজম করে নিই। কিন্তু এই সিনেমার মজাটা হচ্ছে, এই তিনজন মহিলা হজম করেনি। একটা খুব সুন্দর সংলাপ আছে, একজন শিক্ষিতা মহিলা বুঝতে পেরে বলে, 'দেখো আমাদেরও রোজ পালাতে ইচ্ছে করে কিন্তু আমরা পারি না। তোমরা যে পালাচ্ছো, একটা নতুন বাঁচার রাস্তা খুঁজছো, সেটা একটা দারুণ ব্যাপার।' 



প্রশ্ন: গতানুগতিকতা থেকে বেরিয়ে নতুন ধাঁচের ছবি। তার ওপর আবার নতুন পরিচালক। একটু বেশিই রিস্ক নেওয়া হয়ে গেল না?

উত্তর: পৃথিবীর কোনও মানুষ কি আছে যে বলতে পারে, এই ছকটা করলেই সিনেমাটা হিট হবে? ময়ূরাক্ষী তো কোনও গতানুগতিক ছবি নয়। মানছি, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ছবি। কিন্তু সেখানে তো ছকে বাঁধা গল্প নেই। বরং বলা যায় সেখানে কোনও গল্পই নেই। সেই ছবি তো দর্শক দেখছে। সারা পৃথিবীর মানুষ পাগলের মতো দেখছে। এখন দর্শক প্রস্তুত হয়ে গেছে একটু অন্য রকম কিছু দেখার জন্য।

prosenjeet

কঙ্কনা (কঙ্কনা সেন শর্মা) অভিনীত লিপস্টিক আন্ডার মাই বুরখা আমাকে ভীষণভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। একটা র ফিল্ম, প্রচন্ড বাস্তবধর্মী, কিন্তু সেখানে বলার আছে অনেক কিছু। উড়নচণ্ডীর মধ্যেও আমি তেমনই মেটারিয়াল পেয়েছি। এটাও একইরকম র, বাস্তবধর্মী। কিন্তু তার পাশাপাশি নাটক আছে, গান আছে, প্রত্যেকের একটা নিজস্ব লড়াই আছে- যা আমার অত্যন্ত ভালো লেগেছে। আর সিনেমা এমনই একটা জিনিস যেখানে রিস্ক নিতেই হবে। আমি আগে থেকে একটা জিনিস ভাবলাম, ভেবে নিলাম সিনেমা খুব হিট করবেই, কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যেই দেখলাম তেমনভাবে দর্শক টানতে পারলো না, সে যত বড়ই কাস্টিং হোক না কেন। তাই সিনেমা এমনই একটা জিনিস যে রিস্ক নিতেই হবে।

আড্ডা এগোচ্ছিল ভালোই। কিন্তু সময় অত্যন্ত সীমিত। আর টলিউডের সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ঘিরে ততক্ষণে অন্যান্য সাংবাদিকদের ভিড় জমে গেছে। অগত্যা আড্ডা শেষ করে উড়নচণ্ডীর জন্য অনেক শুভেচ্ছা জানিয়ে হোটেল থেকে বেরিয়ে এলাম। সূর্য তখন সবে অস্ত যাচ্ছে। গাড়িতে উঠেই শুনতে পেলাম ভিতরে মিউজিক সিস্টেমে গান বেজে চলেছে 'যে তোরে পাগল বলে, তারে তুই বলিস নে কিছু'। 

বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement