Advertisement
হোমরিভিউস

মুভি রিভিউঃ নাওয়াজুদ্দিনের মান্টো নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা

  | May 17, 2018 10:25 IST
Manto Movie Review

মান্ততে নাওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকি (Image courtesy: mantofilm)

মুভি রিভিউঃ নাওয়াজুদ্দিনের মান্টো নিমেষে আমাদের মনে হাজার চিন্তার সমাবেশ ঘটাবে

কাস্ট: নাওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকি, রাশিকা দুগ্গল, তাহির রাজ ভাসিন
পরিচালক: নন্দিতা দাস
রেটিং: 4 স্টার (5 এর মধ্যে)
(2018 কান চলচ্চিত্র উৎসবের স্ক্রিনিংয়ের ভিত্তিতে এই রিভিউ লেখা হয়েছে)
গোবিন্দ নামক একজন পান বিক্রেতার উল্লেখ আছে নন্দিতা দাসের মান্টো । আপাতদৃষ্টিতে মনে না হলেও তাঁর সঙ্গে গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রের সম্পর্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পার্টিশন মুভমেন্ট চলাকালীন লাহোরে চলে যাওয়ার সময় তিনি তাঁর এক বন্ধু, 1940 এর দশকের এক বলিউড তারকা শ্যাম চাড্ডাকে জানান, তিনি কোনওদিন এক টাকার ঋণ শোধ করবেন না, কারণ সে তাঁর প্রিয় শহর মুম্বাই যেখানে তাঁর মা, বাবা এবং প্রথম সন্তানের কবর রয়েছে- সেই শহরের ঋণ কোনওদিন শোধ করতে পারবে না।
 
দেশভাগ সংক্রান্ত আমাদের সমস্ত আবেগকে অত্যন্ত নিপুণ ভাবে পরিচালক ব্যবহার করেছেন। দুই দেশের মানুষের মধ্যে দেশভাগের যে যন্ত্রণা তা প্রবলভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু আমরা কি তা দেখতে এসেছি? এই প্রশ্নটাই পরিচালক মান্টো  সিনেমায় একজন বিদ্রোহী, সংবেদনশীল, উর্বর উর্দু ছোট গল্প লেখক সাদাত হাসান মান্তর সংক্ষিপ্ত কিন্তু দুর্দান্ত বৃত্তি জীবনের মধ্যে দিয়ে এই সিনেমায় তুলে ধরতে চেয়েছেন।  
 
মান্টোর লেখা বায়োগ্রাফিকাল ডিটেলের উজ্জ্বল মিশেলের পাঁচটি কঠোর কাল্পনিক গল্প- যার মধ্যে দুটো আবার ওতপ্রোতভাবে জড়িত- যা 1947 এর দেশভাগের সময় একজন মানুষের মানসিক ও শারীরিক কষ্ট- এই সিনেমার বিষয়বস্তু হিসাবে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ফুটে উঠেছে।
 

মান্ত একটা অত্যন্ত মুগ্ধতা সৃষ্টিকারী গল্প, যেখানে পরিচালক লেখকের জীবনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বছরকে ফুটিয়ে তুলেছেন। নাওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকি, রাশিকা দুগ্গল এবং তাহির রাজ ভাসিন এই গল্পের কেন্দ্রিয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও তৎকালীন মুম্বাইয়ের সিনেমা জগতের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের চরিত্র নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন দিভ্যা দত্ত, তিলোত্তমা সোম, রণবীর শোরে, শশাঙ্ক আরোরা, বিজয় বর্মা, চন্দন রায় সান্যাল প্রমুখ অভিনেতা-অভিনেত্রী। একজন পাকিস্তানী অ্যাকাডেমিক হিসাবে জাভেদ আখতারের অভিনয়ের প্রশংসা না করলেই চলে না।
মান্ত এমন একজন লেখক, যিনি শত প্রতিকূলতা স্বত্তেও যা চোখের সামনে ঘটতে দেখেছেন, তাইই লিখে গেছেন। তাঁকে আজীবন মুম্বাইয়ের ফিল্ম প্রোডিউসার (ঋষি কাপুর এমনই একজনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন) এবং লাহোরের পাবলিশারদের কাছে তাঁর প্রাপ্য পারিশ্রমিকের জন্য লড়াই চালাতে হয়েছে।  
 
নন্দিতা দাস প্রযোজিত মান্টো , এইচপি স্টুডিওস, ফিল্মস্টক এবং ভায়াকম 18 মোশন পিকচার্সের উদ্যোগে নির্মিত, মুম্বাইয়ে লেখকের শেষ দুই বছরের শুন্যতা এবং নবনির্মিত পাকিস্তানে তার অর্থনৈতিক, ব্যক্তিগত ও আইনি সমস্যা নিয়ে শেষ হয় যেখানে তাঁকে নির্বাসিত করা হয় তাঁর Thanda Gosht (ঠাণ্ডা মাংস) গল্পের জন্য। আইনী ঝুটঝামেলা এবং প্রকাশকদের সঙ্গে ক্রমবর্ধিত সমস্যায় তাঁর জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠলেও তাঁর সাহিত্য সৃষ্টিতে তা কখনও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।


71 তম কান চলচিত্র উৎসবে রবিবার মান্টো র প্রদর্শনী হয়। এই সিনেমায় লেখকের যন্ত্রণা এবং রাগ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে।  
যদিও মান্টো তে, পরিচালক দাস, কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাক্ত করেছেন। তবে তাতে মুল বিষয়ের কোনওরকম পরিবর্তন ঘটেনি। এই সিনেমায় সহমর্মিতা এবং চিন্তা-ভাবনা স্পষ্ট। সঙ্গে মিশেছে কিছুটা হিউমর এবং ক্ষীণ আশার আলো। সকল অভিনেতা- অভিনেত্রীদের পারফর্মেন্স, দুর্দান্ত চিত্রনাট্য এই সিনেমাকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। এই সিনেমা সকলের মনের গভীরে প্রবেশ করতে বাধ্য। সকলের এটি সিনেমাটা অবশ্যই দেখা উচিত।
মান্তর চরিত্রে নাওয়াজুদ্দিনের অভিনয় সকলের মনে দাগ কেটে যাওয়ার মত। তাঁর স্ত্রীয়ের চরিত্রে রাশিকা দুগ্গল যথাযথ। এটি বড় পর্দায় তাঁর প্রথম দীর্ঘ সময়ের অভিনয় এবং তিনি এক্ষেত্রে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। মান্তর স্ত্রী সাফিয়ার চরিত্রের বিভিন্ন খুঁটিনাটি তিনি খুবই নিপুণতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন। এছাড়াও বন্ধু শ্যামের চরিত্রে তাহির রাজ ভাসিন অত্যন্ত সাবলীল।
 

এছাড়া সিনেমার প্রত্যেক টেকনিশিয়ান, সিনেমাটোগ্রাফার কার্ত্তিক বিজয়, সাউন্ড ডিজাইনার রেসাল পুকুট্টী, এডিটর এ শ্রীকর প্রসাদ এবং প্রডাকশন ডিজাইনার রিতা ঘোষ- সকলেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিছয় দিয়েছেন। এই সিনেমা একজন অসামান্য লেখক যিনি সুদীর্ঘ যন্ত্রণা ভোগের পর মাত্র 42 বছর বয়সে দেশভাগের যন্ত্রণা বুকে নিয়ে তিলে তিলে মারা যান- তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য।
 
Advertisement
Advertisement