Advertisement
হোমবলিউড

জনের পরমাণু মন ছুঁতে পারলো না- শৈবাল চ্যাটার্জির রিভিউ

  | June 01, 2018 17:12 IST
Parmanu Movie Review

পরমাণু মুভি রিভিউঃ পোস্টারে জন আব্রাহাম এবং ডিয়ানা পেন্টি

পরমাণু রিভিউঃ জন আব্রাহামের অভিনয় নিখুঁত, কিন্তু খারাপ চিত্রনাট্যের ভিড়ে তাঁর প্রতিভা চাপা পরে গেছে

কাস্ট : জন আব্রাহাম, ডিয়ানা পেন্টি
পরিচালক :  অভিষেক শর্মা
রেটিং : 1.5 স্টার (5এর মধ্যে)
অভিষেক শর্মার পরমাণু- দা স্টোরি অফ পোখরাণ-এর গল্পটা যেন বড্ড একঘেয়ে। দুই দশক আগের একটা নিউক্লিয়ার টেস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশভক্তি জাগিয়ে তুলতে এই গল্পে যথেচ্ছভাবে ফিকশন মেশানো হয়েছে। পোখরাণের ঘটনায় টেকনোলজির যতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, তা লঘু করে সিনেমায় মিলিটারি-দের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
                                         
পরমাণুর গল্পে বিল ক্লিন্টন, বেনজির ভুট্টো, নাওয়াজ শরিফ, অটল বিহারী বাজপেয়ীর চরিত্র সৃষ্টি করে যতই একে “সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি”- প্রমাণের চেষ্টা করা হোক না কেন, চিত্রনাট্যে যা ফিকশনাল এলিমেন্ট মেশানো হয়েছে, তার ফলে গল্পের মূল বিষয়বস্তুর আমুল পরিবর্তন ঘটে গেছে।

পরমাণুর স্ক্রিপ্টে জহরলাল নেহেরু, হোমি ভাবা, ইন্দিরা গান্ধী, বিক্রম সারাভাই, রাজা রমন এবং অন্যান্য সন্মানীয় ব্যক্তিত্বের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এই সিনেমা আমাদের বিশ্বাস করাতে চায় ভারতের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম 1990 এর দশকের একজন ইঞ্জিনিয়ার আমলার মস্তিষ্ক-প্রসূত, যিনি দেশের স্বার্থে নিজের ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবনকে এক করে ফেলেছেন। তিনি এবং তাঁর দলের সদস্যরা ইউএস-এর নজরদারি এবং অন্যান্য প্রতিকূলতা পেরিয়ে দেশের উন্নতির স্বার্থে নিজেদের নিয়োজিত করেছেন।
 

এই সিনেমার শুরুতে এক উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক, আশ্বাত রায়না (জন আব্রাহাম), এক পুরস্কার প্রাপ্ত আর্মি অফিসারের সন্তান, একটা অফিশিয়াল মিটিং-এ বলেন, “ভারতের এবার নিউক্লিয়ার দেশে পরিণত হওয়ার সময় হয়েছে”। এবং তারপর এই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করেই সিনেমার গল্প এগিয়ে গেছে।
 

রায়নার জীবন 3 বছরে অন্য দিকে মোড় নেয় যখন হিমাংশু শুক্লা(বোমান ইরানি) অফিসে প্রধান মন্ত্রীর নতুন মুখ্য সচিব হন এবং আর একটি সুযোগের জন্য তাকে অফিসে ডাকেন। পোখরানের আর্মি রেঞ্জ যেখানে ইন্দিরা গান্ধী প্রায় এক শতাব্দী আগে "স্মাইলিং বুদ্ধ" পরীক্ষা করেছিলেন, সেখানে ধারাবাহিক ভাবে কয়েকটি পরমাণু বিস্ফোরণের জন্য রায়না এক বিজ্ঞানী, এক টেকনোক্রেট, এক নজরদার, স্পেস এজেন্সি থেকে এক মহিলা(ডিয়ানা পেন্টি), এবং এক আর্মি মেজর নিয়ে পঞ্চপাণ্ডবের এক দল বানায়। 
 

রায়না দেশের জন্য কিছু করতে চায়। তাঁর উদ্দেশ্যই হলো পরমাণু-দ্য স্টোরি অফ পোখরাণ এর বিষয়বস্তু, কিন্তু কোনো জায়গাতেই ফিল্মটি অপারেশনের প্রয়োজনীয়তা সঠিক ভাবে তুলে ধরতে পারে না। ছয় সক্রিয় মানুষকে মনে হয় এক দল কঠোর পরিশ্রমী উত্তপ্ত মরুভূমিতে লুকোচুরি খেলছেন। পরমাণু সত্যিই এর থেকে বেশি আকর্ষক হয়ে ওঠেনি।
 
জন আব্রাহাম এই ফিল্মের প্রযোজক, ফলে পরমাণু ফিল্ম হিসেবে কি অর্জন করতে চায় তা তিনি বিশ্বাস করেননা-এটি অনুমান করার কোনো কারণ নেই। কিন্তু তিনি হাস্যকর অবাস্তব স্ক্রীনপ্লের (যুগ্ম ভাবে সংযুক্তা শেইখ চাওলা, সাইউইন কোডরাস এবং পরিচালক অভিষেক শর্মার লেখা) জন্য বিশেষ কিছু করতে পারেননি। 
 
মিশনের অপেরাশনের কেন্দ্রবিন্দু ও সর্বজ্ঞানী ব্যস্ত মানুষ হিসেবে ডিয়ানা পেন্টি সুন্দর।
পরমাণু-দ্য স্টোরি অফ পোখরাণ ফিল্মটি প্যান কেকের মতো সমতল, একটি আশাহত নিস্তেজ খুঁড়িয়ে চলা পরমাণু যা এগিয়ে যাওয়ার আগেই বক্রোক্তির স্তুপের নিচে সমাধিস্থ হয়েছে।
Advertisement
Advertisement