হোমরিভিউস

রিভিউঃ বিসর্জনের ছায়া হয়েই থেকে গেল বিজয়া

  | January 05, 2019 10:27 IST (কলকাতা)
Bijoya

বিজয়া ছবির রিভিউ জেনে নিন সুরজিৎ ঘোষের থেকে।

অভিনয়- আবীর চট্টোপাধ্যায়, জয়া আহসান, কৌশিক গাঙ্গুলি, লামা হালদার

পরিচালনা- কৌশিক গাঙ্গুলি

রেটিং- ২.৫/ ৫


পৃথিবীর প্রতিটি জনজাতির এমন কিছু ব্যথা থাকে যা তার শুধুই তার নিজের। অন্য কেউ তা বুঝতে পারে না। বুঝতে পারলেও কিছুই করতে পারে না। বাঙালির ক্ষেত্রে দেশভাগ তেমনই একটা ক্ষত, যা ছিল, আছে এবং থাকবেও। আর তাই বাংলা সিনেমা  থেকে শুরু করে সাহিত্যে বার বার ধরা পড়েছে দেশভাগ। এ ধরনের প্রায় সমস্ত ছবিতেই বোঝাতে চাওয়া হয়েছে দুটি দেশের শুধুই সীমানা বিভাজিত হয়েছে, মনের দিক থেকে তারা আজও এক। হৃদয়ের এই উষ্ণতা থেকেই একদিন সকালে বাংলাদেশের শ্রীপুরের  বাড়ি থেকে বেরিয়ে নদীর ধারে অসুস্থ অবস্থায় এক অচেনা মানুষকে পড়ে থাকতে দেখে কষ্ট হয়েছিল পদ্মার। ফলাফল কী হতে পারে তা চিন্তা না করেই সেদিন অসুস্থ নাসির আলিকে বাড়ি নিয়ে এসেছিলেন। সামাজিক অসম্মানের হাত থেকে বাঁচতে অপরিচিত যুবককে দাদা পাতিয়ে পাশে থেকেছিলেন। ভালবাসতেও সময় নেননি। তিনি যাতে নিরাপদে দেশে ফিরে আসতে পারেন তার জন্য গ্রামের প্রভাবশালী মানুষ গণেশ মণ্ডলকে বিয়েও করেছিল পদ্মা। সমাজ জীবন, বাস্তবতা এবং রাজনীতির সেই মিশেলই কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবি বিসর্জনকে বিশেষ করেছিল। দর্শক এবং চলচিত্র সমালোচকদের প্রশংসাও কুড়িয়েছিল অকাতরে। সেই ঘটনাপ্রবাহকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এবার নতুন ছবি করেছেন পরিচালক। সদ্য মুক্তি পাওয়া ছবি ‘বিজয়া'-কে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হবে সেটাই স্বাভাবিক। আর তাই প্রথমেই এটা বলে রাখা উচিত সেই প্রত্যাশা যে একশো শতাংশ পূরণ হয়েছে তা বলা যাবে না। ভাল চিত্রনাট্য, ভাল অভিনয় এবং হাততালি কুড়নোর মতো সংলাপ থাকা সত্ত্বেও কোথায় যেন বিসর্জনের ছায়া হয়েই থেকে যেতে হচ্ছে বিজয়াকে। সোয়া দু' ঘণ্টা ধরে সেই ছায়ার সঙ্গেই যুদ্ধ করতে হচ্ছে দর্শকদের।


আরও পড়ুনঃ রিভিউ: পাভেলের রসগোল্লা চেখে দেখতেই হবে

আগের গল্প যেখানে শেষ হয়েছিল এটার শুরু সেখান থেকে। প্রথমেই দেখানো হল বাংলাদেশের শ্রীপুরের সেই প্রভাবশালী গণেশ মণ্ডলের শরীর ভাল নয়। দেওয়াল লিখন পড়ে স্থানীয় চিকিৎসক জানালেন ইন্ডিয়ায় গিয়ে চিকিৎসা করা ছাড়া পথ নেই। সে মতো স্ত্রী পদ্মা এবং ছায়াসঙ্গী লাউকে নিয়ে কলকাতায় আসেন গণেশ। কলকাতার চিকিৎসকও বলে দেন শরীর ভাল নয়। এরই মাঝে পদ্মার সঙ্গে আবার দেখা হয় নাসিরের। সেই হাসপাতালের ওষুধের দোকানে কাজ করেন নাসির। এরপর থেকে গল্পটা কিছুটা সাধারণ হয়ে পড়ে। ভালবাসা এবং কৃতজ্ঞতা থেকে বিপন্ন পরিবারের পাশে দাঁড়ায় নাসির। এরই মাঝে চিকিৎসক জানিয়ে দেন গণেশ মণ্ডল সুস্থ হবেন না! করা যাবে না তাঁর অস্ত্রপচারও। তাঁর অবর্তমানে স্ত্রী এবং সন্তানের কী হবে সেটা ভেবে চিন্তিত গণেশ চান নাসির এবং পদ্মার পুরনো সম্পর্ক আবার জীবন্ত হয়ে উঠুক। তবে শেষমেশ তা হয়ে ওঠে না। কলকাতা ছেড়ে চলে যান পদ্মা। গল্পের শেষ মোটামুটি এখানেই।

অভিনয়ের দিক থেকে গণেশ মণ্ডলের ভূমিকায় একই রকম সপ্রতিভ পরিচালক। পাশাপাশি আবীর চট্টোপাধ্যায়, জয়া আহসান বা লামা হালদারদেরও একই রকম ভাল লাগবে। পাওয়া বলতে থাকছে আরও দুটো জিনিস। তার একটা হল ছবির গান। ছবির বিভিন্ন দৃশ্যের নেপথ্য থেকে ভেসে আসা গান দর্শকদের হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়। এর পাশাপাশি কলকাতার হাসপাতালের বড় চিকিৎসককে সামনে রেখে চিকিৎসক-সামাজকে বিশেষ বার্তাও দিতে চেয়েছেন পরিচালক।


 


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement