HomeReview

রিভিউঃ সইফ ও নাওয়াজউদ্দীনের স্যাকরেড গেমসের প্রতি পরতে রয়েছে চমক

  | July 09, 2018 21:28 IST

স্যাকরেড গেমসে সইফ আলি খান ও নাওয়াজউদ্দীন সিদ্দিকি

সইফ আলি খান ও নাওয়াজউদ্দীন সিদ্দিকির স্যাকরেড গেমসের প্রতি পরতে লুকিয়ে আছে চমকের হাতছানি। একবারেই দেখে ফেলুন আটটা এপিসোড। এটুকু আপনাকে নিশ্চিত করতেই পারি, সাড়ে ছয় ঘণ্টা আপনার দারুণ সময় কাটবে।

কাস্ট: সইফ আলি খান, নাওয়াজউদ্দীন সিদ্দিকি, রাধিকা আপ্তে এবং সুরভীন চাওলা
পরিচালক: অনুরাগ কাশ্যপ, বিক্রমাদিত্য মোটওয়ানে
রেটিং: 4 স্টার (5এর মধ্যে)নেটফ্লিক্সের স্যাকরেড গেমসে ঈশ্বরের প্রসঙ্গ এসেছে বারবার। আপনি কি ইশ্বরে বিশ্বাসী? আটটা এপিসোড জুড়ে বারবার এই প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে দর্শক।  উত্তর কিন্তু প্রতিবারেই দ্ব্যর্থক। সুতরাং, গল্পটা কি স্যাকরেড বা পবিত্র নয়? অন্তত মুম্বাইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের কাছে তো একেবারেই নয়। এই দুনিয়া তার বাইরের দুনিয়াকে প্রতিনিয়ত নিজের ইশারায় খেলিয়ে চলেছে। এই সিরিজে রাজনীতিবিদ, পুলিশ, ছোটখাট খ্যাত সম্পন্ন মানুষ, গ্যাংস্টারদের গল্প যেন শেক্সপিয়ারের “ফ্লাইস টু ওয়ানটন বয়েজ”-এর আদলে বলা হয়েছে।

নেটফ্লিক্সের প্রথম ইন্ডিয়ান অরিজিনাল স্যাকরেড গেমস প্রথম প্রাপ্তবয়স্ক বলিউড থ্রিলার, যা নেটফ্লিক্সে সম্প্রচারিত হওয়ার দরুন সেন্সর বোর্ডের চোখ রাঙানী এড়িয়ে যেতে পেরেছে। সইফ আলি খান এবং নাওয়াজউদ্দীন সিদ্দিকি উভয়েই গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তুখোড় অভিনয় দক্ষতা প্রদর্শন করেছেন। প্রতিটা চরিত্র গল্পের খাতিরে নিজেকে মেলে ধরতে পেরেছে সম্পূর্ণরূপে।
 

স্যাকরেড গেমসের প্রধান দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে অন্যতম অপরাধ জগতের সর্বেসর্বা গনেশ গাইতন্ডে (নাওয়াজউদ্দীন সিদ্দিকি) ময়লার স্তূপেই নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। আশির দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে মুম্বাই মিউনিসিপালিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবসার প্রধান হয়ে ওঠার পর থেকে তার নাম হয়েছে ‘কাচরা রাজা’। তার পাশাপাশি দেখা যায় পুলিশ আধিকারিক সারতাজ সিং-কে। যিনি একজন খুঁতখুঁতে কিন্তু অসহায় মুম্বাই পুলিশ আধিকারিক, যিনি বুঝতে পারেন তাঁর মাফিয়া ডনের সঙ্গে সুদূর অতীতের যোগসূত্র আছে।বহু বছর নিষ্ক্রিয় থাকার পর গাইতন্ডে সারতাজের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং বর্তমানে ঘটা বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে অতীতের কী যোগসূত্র আছে তার বর্ণনা দিতে থাকে। যৌনতা, হিংস্রতা, সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতা, রাজনীতি এবং সন্ত্রাসবাদের মিশ্রণে তৈরি নিখুঁত বলিউড থ্রিল এই গল্প।


বিক্রম চন্দ্রের মুম্বাই এপিক স্যাকরেড গেমস অবলম্বনে তৈরি এই ওয়েব সিরিজের দৈর্ঘ্য 383 মিনিট- পুরোপুরি সিনেমার মতোই ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক বিক্রমাদিত্য মোটওয়ানে এবং অনুরাগ কাশ্যপ।  এছাড়াও কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবরার কৃতিত্বও অনস্বীকার্য। প্রত্যেক অভিনেতা-অভিনেত্রী অত্যন্ত নিপুণভাবে নিজেদের চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। স্ক্রিনরাইটার বরুণ গ্রোভার, স্মিতা সিং ও বসন্ত নাথের পক্ষে প্রতিটি দৃশ্য নিখুঁতভাবে তুলে ধরা খুব একটা সহজ কাজ ছিল না।ঝাঁ-চকচকে মুম্বাইয়ের কালো দিকটা এখানে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আর সেক্ষেত্রে ক্যামেরা, লাইট, এডিটিং, সাউন্ড ডিজাইনিং এবং মিউজিকাল স্কোরের ভূমিকা অনস্বীকার্য।    গল্পে ভারতের রাজনৈতিক এবং সামাজিক পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক ফুটে উঠেছে। 26/11-র ঘটনা, সত্তরের দশকের জরুরি অবস্থা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বাবরি মসজিদ ধ্বংস, বোম্বে ব্লাস্ট- স্যাকরেড গেমসে দেশের বিভিন্ন পরিস্থিতিকেই তুলে ধরা হয়েছে।
গল্পের অন্যান্য চরিত্রে অভিনেতা নীরজ কবি, আমির বাশির, গিরিশ কুলকারনি, পঙ্কজ ত্রিপাঠি, জিতেন্দ্র যোশী, যতীন সারনা এবং অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে, রাজশ্রী দেশপান্ডে এবং অন্যান্য সকলেই নিজ নিজ চরিত্রে অভিনয়ের ক্ষেত্রে অসামান্য দক্ষতা দেখিয়েছেন।স্যাকরেড গেমসের প্রতি পরতে লুকিয়ে আছে চমকের হাতছানি। একবারেই দেখে ফেলুন আটটা এপিসোড। এটুকু আপনাকে নিশ্চিত করতেই পারি, সাড়ে ছয় ঘণ্টা আপনার দারুণ সময় কাটবে।
 



Advertisement