HomeReview

রিভিউঃ প্রথম দুই অধ্যায়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হল সাহেব, বিবি অউর গ্যাংস্টার 3

  | July 27, 2018 11:30 IST

সাহেব, বিবি অউর গ্যাংস্টার 3এর পোস্টার। (সৌজন্যে ইনস্টাগ্রাম)

সাহেব, বিবি অউর গ্যাংস্টার 3 রিভিউঃ সঞ্জয় দত্ত, জিমি শেরগিল, মাহি গিল, চিত্রাঙ্গদা সিং, কারও অভিনয়ই পারল না সিনেমার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে!

কাস্ট: সঞ্জয় দত্ত, জিমি শেরগিল, মাহি গিল, চিত্রাঙ্গদা সিং, সোহা আলি খান, কবির বেদী, দীপক তিজোরি, পামেলা ভুতোরিয়া।

পরিচালক: তিগ্মাংশু ধুলিয়া

রেটিং: 2 স্টার (5এর মধ্যে)

সাহেব বিবির দুনিয়া ফেরত এসেছে জিমি শেরগিল এবং মাহি গিলের হাত ধরে। কিন্তু আগের দুই অধ্যায়ের মতো এবারেও কী সাহেব বিবির সাম্রাজ্যের ইঁদুর দৌড় দর্শককে টানটান উত্তেজনায় বেঁধে রাখতে পেরেছে? সাহেব বিবি অউর গ্যাংস্টারের প্রথম অধ্যায় মুক্তি পেয়েছিল 2011 সালে এবং দ্বিতীয় অধ্যায় সাহেব বিবি অউর গ্যাংস্টার রিটার্নস মুক্তি পেয়েছিল 2013 সালে। কিন্তু তারপর তৃতীয় অধ্যায় মুক্তি পেতে সময় লেগে গেল প্রায় পাঁচ বছর।  

সাহেব বিবি ছাড়াও এই সিনেমায় রয়েছেন সঞ্জয় দত্ত, যিনি একজন বদরাগী গ্যাংস্টারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। তাঁর চরিত্রের নাম উদয় প্রতাপ সিং।  

সিনেমায় অত্যন্ত বাস্তব কিছু ঘটনাকে তুলে ধরা হয়েছে। এমন এক দুনিয়ার কথা বলা হয়েছে যেখানে মানুষের বিয়ে যেমন স্বর্গে নির্ধারিত হয় না তেমনই ধারালো ব্লেডের এক আঁচড়ে ছিঁড়ে যায় সম্পর্কের বন্ধন।

পাঁচ বছর পর মুক্তি পাওয়ায় সকলের আশা ছিল সাহেব বিবি অউর গ্যাংস্টার 3 সিনেমার গল্পের কাঠামো অনেকটা মজবুত হবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন পরিচালক। অনেক ক্ষেত্রে সাহেব বিবি অউর গ্যাংস্টার 3-এ চরিত্রদের ওপর যেন অতিরিক্ত দায়ভার চাপিয়ে দিয়েছেন পরিচালক, যা পরিপূর্ণ করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে চরিত্রদের বলেই মনে করা হয়েছে।

এক প্রধান চরিত্র সাহেব আদিত্য প্রতাপ সিংকে (জিমি শেরগিল) প্রশ্ন করেছে যে, তাঁর দেহে কি এখনও রাজপরিবারের রক্ত বইছে, না কি এতদিনের রাজনৈতিক মার প্যাঁচ সহ্য করে তা জলে পরিণত হয়েছে? প্রশ্নের উত্তর দেননি সাহেব। কিন্তু সমগ্র সিনেমা জুড়ে বারবার ঘুরে ফিরে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, রাজকীয় আচরণ শুধুমাত্র রাজ পরিবারের রক্তেই নির্ধারিত হয় না, মানসিক অবস্থানের ভিত্তিতেও তা নির্ধারিত হয়!

চিত্রনাট্যকার সঞ্জয় চৌহান এবং পরিচালক তিগ্মাংশু ধুলিয়ার চিত্রনাট্যে আদিত্য প্রতাপের উচ্চাকাঙ্ক্ষী, মদাসক্ত স্ত্রী মাধবীর ভূমিকায় দেখা গেছে মাহি গিলকে।

বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকরের নামে পরিচালিত একটা রাজনৈতিক দলেরও উল্লেখ আছে এই সিনেমায়, যারা আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে প্রস্তুতি নিচ্ছে- এমনভাবে সিনেমায় দেখানো হয়েছে।

সঞ্জয় দত্তের বাবা মহারাজা হরি সিং ও দাদা বিজয়ের ভূমিকায় যথাক্রমে অভিনয় করেছেন কবির বেদী ও দীপক তিজোরি, যারা দুজনেই সঞ্জয় দত্ত দেশে ফিরে আসয় কার্যত হতাশ হয়েছেন। কারণ উদয় প্রতাপ সিং (সঞ্জয় দত্ত) দেশে ফিরে নিজের পারিবারিক সম্পত্তির ভাগ চেয়েছে এবং তাঁর পরিবার তা দিতে নারাজ হওয়ায় তাঁরা উদয় প্রতাপের স্ত্রী সুহানির (চিত্রাঙ্গদা সিং) জীবন অতিষ্ট করে তুলেছে। এরপর গল্প এগিয়েছে নিজ খেয়ালে।

সমস্ত চরিত্রের অভিনয় ও চিত্রনাট্যের মান মাঝারি এবং মহিলা চরিত্রগুলো যেন অত্যন্ত নিম্ন মানের মনে হয়েছে। সোহা আলি খানকে খুব অল্প সময়ের জন্য আদিত্য প্রতাপ সিং-এর দ্বিতীয় স্ত্রীয়ের ভূমিকায় পর্দায় দেখা গেছে। উদয় প্রতাপের স্ত্রীয়ের ভূমিকায় চিত্রাঙ্গদা সিংকে বেশ কিছুটা সময় পর্দায় দেখা গেলেও তাঁর চরিত্রের বিশেষ কিছু উন্নতি দেখা যায়নি। এছাড়াও সিনেমার আর এক মহিলা চরিত্রে দেখা গেছে পামেলা ভুতোরিয়াকে, যিনি আদিত্য প্রতাপের টেক-স্যাভি রক্ষিতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

এই সিনেমায় “যব নাম কে ইলাওয়া কুছ বাচা না হো তো নাম কো বাচা বাচা কে চলনা চাহিয়ে” সংলাপটা উল্লেখযোগ্য হয়ে ওঠার চেষ্টা করেও পারলো না শুধুমাত্র নির্মাতাদের যথাযথ প্রয়োগের অভাবে। এই সিনেমার প্রথম দুই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সৌজন্যেই দর্শক তৃতীয় অধ্যায় দেখতে সিনেমা হলে যাবে এবং কার্যতই হতাশ হয়ে ফিরবে।  চিত্রনির্মাতারা এর পরের অধ্যায় তৈরির কথা যেহেতু ভেবেছেন, সেক্ষেত্রে তৃতীয় অধ্যায় ভাল ফল না করতে পারায় তাঁদের উচিৎ হবে চতুর্থ অধ্যায়ে হয় অত্যন্ত ভেবেচিন্তে গুছিয়ে এগোনো কিংবা এই অধ্যায়ের ফলাফল দেখার পর একেবারেই না এগোনো।

Advertisement