হোমমিউজিক

সাম্প্রতিক শিল্প নয়, কালোত্তীর্ণ শিল্প তৈরি করাই আমার লক্ষ্য: রূপম ইসলাম

  | August 12, 2018 15:11 IST (কলকাতা)
Rupam Islam

আমাকে যদি খবর না দেওয়া হয়, আমার পক্ষে নিজে থেকে খবর নেওয়া সম্ভব নয়।

একটি রাগী তর্জনী হয়ে বারেবারে প্রশ্ন করে তাঁর গান।কথা শুনতে শুনতে মনে হয়, প্রতিটি শব্দের সঙ্গেই একটি করে ক্ল্যাসিক সহবাস রচনা করে ফেলছেন তিনি। আজ সাক্ষাৎকারটির দ্বিতীয় পর্ব। শুনলেন বোধিসত্ত্ব ভট্টাচার্য।

আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের পরিকল্পিত চিত্রলেখাকেই যেন একটি রাগী তর্জনী হয়ে বারেবারে প্রশ্ন করে তাঁর গান। বহু স্বাগত-সম্ভাষণের পটভূমির মধ্যে একা দাঁড়িয়ে থেকে সঙ্গীতের মতো জনচিত্তহারী মাধ্যমটিতে তিনি হয়ে ওঠেন নাশকতার আধুনিক দেবদূত। জনপ্রিয়তার নন্দনতত্ত্ব ও জনগণের রুচির অন্যরকম শিল্পোত্তরণ- দুইই করায়ত্ত তাঁর। কথা শুনতে শুনতে মনে হয়, গভীর মনোনিবেশ নিয়ে প্রতিটি শব্দের সঙ্গেই একটি করে ক্ল্যাসিক সহবাস রচনা করে ফেলছেন তিনি… NDTV বাংলার মুখোমুখি রূপম ইসলাম। কথা বললেন গানের পরিবেশন, মঞ্চ, গণ-আন্দোলন নিয়ে। আজ সাক্ষাৎকারটির দ্বিতীয় পর্ব। শুনলেন বোধিসত্ত্ব ভট্টাচার্য।

সুমনের গানের পরিবেশন নিয়ে কথা হচ্ছিল। সুমন তাঁর গান নিয়ে দর্শক এবং শ্রোতার কাছে পৌঁছে যাওয়া শুরু করেছিলেন যে সময়, তার প্রায় এক দশক বাদে এলেন আপনি। আমাদের চেতনায় তখন অনেক কুয়াশাই ফুটে ওঠেনি মেঘে এবং অপরিচয়ে। ঠিক ওই জায়গা থেকেই এসেছিলেন আপনি...

 


সুমনের যে ব্যাপারটি আমার কাছে সবথেকে বেশি স্ট্রাইকিং মনে হয়েছিল, তা শুধুমাত্র ওঁর গানের বিষয় নয়। বিষয়ের পূর্বপ্রকাশ কিন্তু তার আগে আমরা ইতস্তত দেখতে পেয়েছি। হয়তো, খুব কনসেনট্রেটেড ওয়েতে নয়। তবে, বেশ কয়েক জায়গায় আমরা তা দেখতে পেয়েছি। ভূপেন হাজারিকার গানে পেয়েছি। সে কথা আগে বলেছি। ক্যালকাটা ইয়ুথ কয়্যারের গানে পেয়েছি। ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’ গানটি…এটি কি সুমন যে সমস্ত বিষয়ের গান নিয়ে এলেন, তার পূর্বসূরী নয়? অবশ্যই পূর্বসূরী। কিন্তু,বিষয়ের ক্ষেত্রেও সুমনের গান আলাদা হয়ে গেল যেখানে…যে সমস্ত অপ্রীতিকর অনুষঙ্গকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছিল আগে, তিনি সেগুলিকেও তাঁর গানের মধ্যে নিয়ে এলেন। কিছু বাদ দিলেন না। এছাড়াও, আরও বড় ব্যাপার যা, তা হল- সুমনের পরিবেশন। যেভাবে উনি মঞ্চে উঠলেন, যে পোশাক পরে উঠলেন, যে স্বাচ্ছন্দ্যে উঠলেন, এই সময়ের মানুষ যেভাবে চলতে চায় দৈনিক জীবনে ঠিক সেটাই যেন উনি তুলে আনলেন ওঁর পরিবেশনে। আর এই পুরো ব্যাপারটিই উনি করে চলেছেন অত্যন্ত সাবলীলভাবে। তা এতটাই স্বাভাবিক যে, কখনওই মনে হয় না এর জন্য তিনি আলাদা করে বহু ভাবনাচিন্তা করে ও প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলেন। এই ব্যাপারটাই বাংলা গানের পরিবেশনে তার আগে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল। সুমনের পরিবেশনের যে দর্শন, তার যদি কোনও পূর্বসূরী আমাকে খুঁজতে হয়, তাহলে আমি বলব… ধরা যাক, একজন বাউল। অনেকসময়, যন্ত্র শিল্পীদের তাঁরা সঙ্গে নেন, এটা ঠিক। তেমনই এটাও ঠিক যে, যন্ত্রানুষঙ্গে কাউকে না নিয়েও একজন বাউল তাঁর শিল্পটি পরিবেশন করতে পারেন। অর্থাৎ, একজন বাউল স্বয়ংসম্পূর্ণও হতে পারেন। এবার, বাউল যেটা করেন… যেমনভাবে তিনি থাকেন, ঠিক তেমনভাবেই তিনি তাঁর গানটি পরিবেশন করেন। গান পরিবেশনের জন্য তিনি আলাদা করে কোনও একটি পাঞ্জাবী পরলেন বা একটিধোপদুরস্ত পোশাক পরলেন বা অদ্ভুত সুন্দরভাবে সাজিয়েগুছিয়ে কথা বললেন, যা সাধারণভাবে তিনি করেন না- এমনটা কিন্তু নয়। বাউল নিজে যেমন, তাঁর পরিবেশনেও তিনি ঠিক তেমনই। সুমনের পরিবেশনের ক্ষেত্রেও এটাই মনে হয়েছিল আমাদের। তিনি যেমন, তাঁর পরিবেশনও ঠিক তেমন। এখানে কিছুই আরোপিত নয়। এটা ছিল একক উপস্থাপনের সময়। সুমন যে সময়টার সূচনা করেছিলেন। পরবর্তীকালে আমি যখন এলাম, রক ব্যান্ড নিয়ে এলাম, আমি কিন্তু একক উপস্থাপন করিনি… বা, বলা যেতে পারে যে, একক উপস্থাপনই করেছি, কিন্তু অনেকগুলি একক উপস্থাপন একসঙ্গে করেছি। সেখানে আমার একক উপস্থাপন ছিল। সেখানে গিটারিস্ট অ্যালেনের একক উপস্থাপন ছিল। বেসিস্ট চন্দ্রের একক উপস্থাপন ছিল। ড্রামারের একটা একক উপস্থাপন ছিল… সবগুলো একসঙ্গে মিলে গিয়ে একটা নতুন বহুমাত্রিক উপস্থিতি তৈরি করছিল। যে সময়টায় আমাদের শুরু, তখন এটা ছিল এমন এক নতুন, যা বিস্মিত করে। আরও যেটা হয়েছিল, তা হল, একটা উত্তরণ। অর্থাৎ, যে চলাচল সুমনের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল, আমার সময়ে আমি তার গতি বৃদ্ধি করতে পারলাম। যা সময়েরই দাবি ছিল। আমি এখন ‘একক’ করি। প্রশ্ন হতে পারে যে, আমি এখন ‘একক’টা করছি কেন… তার কারণ হল, আমার শুরুটা তো একক দিয়েই। যে কোনও শিল্পীর শুরুটা একক দিয়েই হয়। সে একা বসে একটি গান তৈরি করে। গানটিতে সুর করে। বন্ধুরা বাড়িতে এলে গান শোনায়। এই অভ্যেসটি আমার মধ্যেও বরাবরই ছিল। যাঁরা আমার ব্যক্তিগত বন্ধুবান্ধব, যাঁরা প্রিভিলেজড, আমার বাড়িতে আসতে পারেন, তাঁরা এসে আমার নতুন গানটি শোনেন। বা, পুরনো কিছু গান, যা রেকর্ড করা হয়নি, সেরকম গান শোনেন। তাঁদের মনে হয়েছিল, এটাও একটা প্রেজেন্টেশন। ফসিলস ছাড়াও, আমার এই প্রেজেন্টেশনটিও বেশ পাতে দেওয়ার মতো। এক্ষেত্রে, তাই, এটাও বলা যেতে পারে যে, আমি এখন একযোগে দুটো প্রেজেন্টেশন করছি। একটা ফসিলস। একটা একক। এটা এমন একটি ব্যাপার, যা হয়তো এই শহরে আগে কখনওই দেখা যায়নি। এরকম সাফল্যের সঙ্গে দুটো ভিন্ন প্রেজেন্টেশন, আলাদা আলাদা গান নিয়ে…দেখা যায়নি। আমার এককগুলিতে আমি আমার জনপ্রিয় গানগুলিকে গাই না। একটা সাড়ে তিনঘন্টার অনুষ্ঠান হচ্ছে, কোনও যন্ত্রানুষঙ্গ ছাড়া, অন্য কোনও বাদ্যযন্ত্রী ছাড়া, অথচ, হলটা ভরে যাচ্ছে ঠিকই। কখনও কখনও এমনও হয় যে, অনুষ্ঠান তার নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়িয়ে গিয়েও চলতে থাকে। একজনও কিন্তু তাঁর আসনটি থেকে উঠে যান না। হোর্ডিং আসবার আগেই অনুষ্ঠানগুলি হাউজফুল হয়ে যায়। এটাই আমার কাজ করবার উৎসাহকে ত্বরান্বিত করে। বলা ভালো, এই যে বছরে আমি এখন দুটো করে অ্যালবাম বের করছি, তার অন্যতম বড় কারণ, এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেজেন্টেশনেও আমার একইরকম সাফল্য। প্রতিদিন আমার নতুন দর্শক ও শ্রোতা তৈরি হতে থাকে। এদের জন্যই তাহলে তো আমাকে নতুন গান রেকর্ড করতে হবে। যা কিছু নতুন, একজন শিল্পীকে জীবন্ত রাখতে পারে তো তা-ই। সেই কারণেই সবটা করা…


 

আপনি বললেন, একজন পারফর্মারের আলাদা করে ওই তথাকথিত পোশাকটির দরকার হয় নাএই জায়গা থেকেই আমার পরের প্রশ্ন, রূপম ইসলামের তো একটা নিজস্ব স্টাইল স্টেটমেন্ট আছে…কালো কুর্তা আর জিনস…

 

সেটা তো সকলেরই আছে… কিন্তু, আমি যেটা বলতে চাইছি, আলাদা করে একটা ধোপদুরস্ত কিছু পরবার দরকার পড়ে না। এমন কিছু পরা, যা দৈনন্দিন জীবনে আমরা পরতে পারি…সুমন যখন মঞ্চে গান পরিবেশন করতে এলেন, তখন তিনি জিনসের জামা আর জিনসের প্যান্ট পরে এলেন। একজন বাউল যখন মঞ্চে উঠে গান গাইছেন, তখন তিনিও কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে যে আলখাল্লাটি পরে থাকেন, তিনি তা পরেই মঞ্চে উঠলেন। আমিও আমার দৈনিক জীবনে যে জামাকাপড় পরি, সেটাই পরেছি মাত্র।

 

পোশাকের রং হিসাবে একমাত্র কালোকেই বেছে নেওয়া, এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে?

 

অবশ্যই আছে। তার প্রথম কারণ হল, আমি কালো পছন্দ করি, তাই পরি। এই প্রসঙ্গে আরও একটি কথা রয়েছে। আমাদের গানের যে বিষয়বস্তুগুলো, সেগুলো ডার্ক। আমরা ডার্ক সাবজেক্ট নিয়েই কাজ করি। তাই কালো জামা পরলে আমাদের গানের সাবজেক্ট বা সাউন্ডের সঙ্গে একটা সাযুজ্য থাকে। যে কোনও শিল্পীই তো সাযুজ্য তৈরি করতে চাইবেন, তাই না? আমিও চেয়েছি।

 

আপনার গানের পরিবেশনের যে মূল ক্ষেত্র, সেই মঞ্চ নিয়ে কথা বলব এবার।মঞ্চ বলতে প্রধানত আমরা যা বুঝি, দর্শকাসন থেকে খানিকটা উচ্চতাযে উচ্চতা যেন এক নক্ষত্রের জন্যই প্রযোজ্যএই উচ্চতাটা কতটা প্রয়োজন? একজন শিল্পী এবং পারফর্মার হিসাবে এই উচ্চতাটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

উচ্চতা একটা ভৌত অবস্থান। মঞ্চগুলো সেভাবেই বানানো হয়। কিন্তু, মানসিকতা থেকে যাতে ওই উচ্চতাটা বা ওই ব্যবধানটুকু মিটিয়ে ফেলা যায়, সেটাই একজন শিল্পীর লক্ষ্য হওয়া উচিত। আমার ক্ষেত্রে আমি বারবারই সেটা করেছি। রক কনসার্টের ক্ষেত্রে সবথেকে বড় বিষয় হল- পার্টিসিপেশন। যেখানে শিল্পী সহ সমস্ত দর্শক এবং শ্রোতা একটি পারফর্মিং আর্টকে একযোগে তৈরি করছেন… সেটাই সবথেকে বড় নির্মাণ হয়ে দাঁড়ায়। আমার অনুষ্ঠানে যেটা আমি করেছি বা করে থাকি, তা হল, কিছুক্ষণ অনুষ্ঠানটি চলার পরে দর্শক বা শ্রোতা বুঝতেই পারবেন না, ঠিক কোনদিকে তাকালে তিনি সেরা বিনোদনটি পাবেন। তাঁকে ক্রমান্বয়ে আমার দিকে তাকাতে হবে, অ্যালেনের দিকে তাকাতে হবে, তন্ময়ের দিকে তাকাতে হবে, আমাদের মঞ্চে উপস্থিত অন্যান্য শিল্পীদের দিকে তাকাতে হবে… পাশাপাশি, অডিয়েন্সের মধ্যেও হয়তো, তাকাবার উপযোগী নানা দৃশ্যকল্প সে পেয়ে যাবে। কোনও একটি তরুণ বা তরুণী হয়তো প্রবল আবেশে একটি গানের সঙ্গে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছে। কেউ হয়তো পাগলের মতো কেঁদে চলেছে একনাগাড়ে। কেউ হয়তো মাথা ঝাঁকিয়ে চলেছে…এগুলো প্রত্যেকটাই কিন্তু সব মিলিয়ে একটা দুর্দান্ত সেলিব্রেশন। অর্থাৎ, গানটা শুধু গাওয়াই হচ্ছে না, গানটাকে সেলিব্রেট করা হচ্ছে। গান গাওয়ার একটা সেলিব্রেশন ঘটছে, গোটা অডিটোরিয়াম জুড়েই। আমি হয়তো স্টেজে আলোকবৃত্তের তলায় রয়েছি। কিন্তু ওখানে আমি একাই পারফর্মার নই। আমি সেখানেই পারফর্মার, যেখানে আমি নিজের পারফরম্যান্সটাকে ছড়িয়ে দিতে পারছি। এটা সম্পূর্ণ একটি আলাদা ফর্ম। যা তথাকথিত একক শিল্পীর ফর্ম নয়। তবে বার্তাটি যেন একই। যে, উচ্চতাটা কেবলই ভৌত উচ্চতা। পারফরম্যান্সের দিক থেকে যা ম্যাটার করছে না। এমনকি, আজকাল অনেক জায়গায় পারফর্ম করতে গিয়ে দেখি যে,  সেখানে স্থান সংকুলান হচ্ছে না দর্শকাসনে। তখন তাঁরা আমার মঞ্চের  চারপাশে উঠে আসেন। মঞ্চটা এভাবেই আমার অনুষ্ঠানে মিশে যায় গোটা অডিটোরিয়ামের সঙ্গে। এমনকি,  ভৌতভাবেও। এখানে তথাকথিত উচ্চতাটা আর কোনও বিষয়ই হচ্ছে না।

 

আপনি যখন প্রথম রক কনসার্ট শুরু করেন, ভেঙে চুরমার করে দেওয়ার যে নিজস্ব আলোক,  তা আপনিও করেছিলেন এবং করেও থাকেন খুব সুচারুভাবেসুমন এবং আপনার মধ্যবর্তী সময়ে আর কারও মধ্যে দেখেছিলেন এটা?  মঞ্চে দাঁড়িয়ে পারফর্ম করা অন্য কোনও শিল্পীর মধ্যে?

 

দেখেছিলাম। ব্যতিক্রম হিসাবে আমি বলতে পারি গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের পারফরম্যান্সের কথা। কিন্তু, তিনি তা একনাগাড়ে করেননি। আমার দেখা  দু’একটি পারফরম্যান্সে সেই ছককে ভেঙে ফেলার ব্যাপারটি সম্যকভাবে উপস্থিত ছিল। তবে, এই ব্যাপারে বলার, আমি বাংলায় যেভাবে এবং যে ধরনের রক কনসার্টকে নিয়ে এসেছিলাম, তা আমি অন্তত, আমার আগে, সামগ্রিকভাবেই, দেখিনি। আমাকে কিন্তু এটা তৈরি করতে হয়েছিল।

পারফরম্যান্সের মাধ্যমে চেনা ছাঁচটির ওপর যে কুঠারাঘাত, তার শুরুটা একটু জানতে চাইব…

 

আমি যখন প্রথাগতভাবে আমার গলাটিকে স্টেজের উপযোগী করে তোলার জন্য কাজ করছি,  সেই সময় একজন মানুষের সংস্পর্শে আসি। তিনি, আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক শুভাশিস নাথ। আমি তাঁর কাছেই অধ্যায়ন করেছিলাম উচ্চাঙ্গসঙ্গীত। তিনি আমার গলা তৈরি করছিলেন বিভিন্ন ভারতীয় রাগসঙ্গীতের অনুশীলনের মাধ্যমে। একটা নির্দিষ্ট সময় পর তাঁর মনে হল,  আমি এখন একজন শিল্পী হিসাবে মঞ্চে পারফর্ম করতে পারি। ওই সময় তিনি আমায় একদিন বললেন, চল, আমি তোকে নিয়ে একটি জায়গায় যাব। ঠিক কোন অঞ্চল আমার এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। কারণ, কলকাতার রাস্তাঘাট ওই সময় আমি খুব কম চিনতাম। আমি নিজের মধ্যেই থাকতাম। নিজের পাড়াটুকুর বাইরেও তেমনভাবে কোথাও যেতাম না। তিনি আমাকে নিয়ে একটি ক্লাবে যান। সেই ক্লাবঘরে একটি মঞ্চ ছিল। আর,  অন্তত জনা চল্লিশেক মানুষ সেখানে ছিলেন। সেই মঞ্চে একটি মাইক্রোফোন ছিল। কিন্তু, তার কাছে গিয়ে আমি বুঝতে পারলাম, সেটি কথা বলার উপযুক্ত হলেও,  গান গাওয়ার উপযুক্ত নয়। আমি তাঁকে তখন বলি যে, এই মাইক্রোফোনটি আমার লাগবে না। আমি ওই সময় যেটা করি, নিজের গিটারটি গলায় ঝুলিয়ে দর্শকাসনে বসে থাকা ওই জনা চল্লিশেকের  মাঝে নেমে যাই। মানুষের মাঝখানে ঘুরে ঘুরে খালি গলায় তাঁদের গান শোনাই। একের পর এক মৌলিক গান তাঁদের শুনিয়ে যাই। এই ব্যাপারটাই  আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল…

 

এটা তো ফসিলস তৈরির আগে

 

অনেক আগে। ছিয়ানব্বই সালের ঘটনা এটি। সেই সময়েই আমার মনে হয়েছিল,  আই ক্যান কমিউনিকেট। ওই শিক্ষাটাই আমি হাতে-কলমে কাজে লাগিয়েছিলাম তখন বিভিন্ন আনকোরা জায়গায়। কলেজে, হোস্টেলে, বইমেলায়, নন্দনে…দিঘায় বেড়াতে গিয়ে সমুদ্রের পাশে দাঁড়িয়েই গিটারটা নিয়ে গান করতে আরম্ভ করলাম। আমার সঙ্গে একজন বা দুজন থাকতেন। আমি এইসব জায়গাগুলিতে দাঁড়িয়ে বা বসে গলায় গিটার ঝুলিয়ে গানটা গাইতে আরম্ভ করে দিতাম। ওই জায়গাগুলিতে আমার গান শুনে বহু মানুষ জড়ো হয়ে যেতেন। এবং, সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ, তাঁরা কিন্তু থাকতেন। যতক্ষণ না আমার গান শেষ হচ্ছে, ততক্ষণ তাঁরা কেউই ওই জায়গাটা ছেড়ে চলে যেতেন না। চলে গেলে কিন্তু আমি ডি-মরালাইজড হয়ে যেতাম। গান বন্ধ করে দিতাম। কিন্তু, কেউ চলে যাননি। আমি তখন নতুন। আমি তখন অজানা গান গাইছি। নিজের গান গাইছি। অর্থাৎ, আমার কাছে যাঁরা গান শুনতে আসতেন, তাঁদের মুগ্ধ করে রাখার জন্য আমার তথাকথিত উচ্চতা  বা মাইক- কোনওটারই প্রয়োজন হয়নি। এটাই প্রমাণ করে দেয় যে, একজন শিল্পী, যিনি পারফর্মার, তাঁর স্টেজের আলাদা করে খুব একটা প্রয়োজন হয় না। থাকলে ভালো। না থাকলেও, তিনি নিজের স্টেজটি যে কোনও জায়গায় তৈরি করে নিতে পারেন।

 

এমন ঘটনা আপনার পেশাদার সঙ্গীতজীবনে এরপরেও কি ঘটেছে, যেখানে মাইক নেই অথচ নেমে গিয়েছেন দর্শকদের মধ্যে?

 

ঘটেছে। দু’হাজার পনেরো সালের সিয়াটেলের একটি সঙ্গীতানুষ্ঠানের কথা এক্ষেত্রে আমি বলতে চাই। অনুষ্ঠানটি শুরুর সময় আমি মাইক নিয়ে মঞ্চে ঢুকব, সেখানে ঢুকতে ঢুকতে বুঝতে পারলাম,  আমার মাইকটি কাজ করছে না। এবং, আয়োজকদের হাতে কোনও মাইকও ছিল না, যা নিয়ে আমি গান গাইতে পারব। সেখানে সারাদিন আমরা হোটেলেই বসে থাকতে বাধ্য হয়েছিলাম। কারণ, অনুষ্ঠান যে করব,  তার সাউন্ড চেক করার উপায় ছিল না সেখানে। তা কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। আমি মাইক ছাড়াই নেমে পড়েছিলাম দর্শকদের মধ্যে। আমি আর আমার শ্রোতারা  সকলেই গাইছিলাম একসঙ্গে। মাইকের জন্য কিন্তু রক কনসার্ট বন্ধ হয়ে যায়নি। সম্ভবত, গোটা বিশ্বের রক কনসার্টের ইতিহাসে এটিই একমাত্র ঘটনা যেখানে মাইক ছাড়াই  শুরু হয়ে গিয়েছিল একটি পূর্ণাঙ্গ রক কনসার্ট।

 

হোটেলে বসে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন বললেন, ব্যাপারটাকে আরও একটু বিস্তৃত করবেন?

 

বলছি। সাউন্ড চেকের জন্য যে মিক্সার দরকার, সেই যন্ত্রাংশগুলি যে ঘরে ছিল, সেখানে তালা মেরে এক সাহেব চলে গিয়েছেন। তাঁর আর পাত্তা নেই কোনও। ওদিকে আমরা বুঝতে পারছি অনুষ্ঠানের সময় এগিয়ে আসছে। হল ভরে গিয়েছে দর্শকে। অথচ, দর্শকদের কাছে যার মাধ্যমে আমরা পৌঁছে যেতে পারব, সে সব যন্ত্রাংশই  অনুপস্থিত। আয়োজকরা কাঁদোকাঁদো, বললেন,  কিছু একটা ব্যবস্থা করুন।

 

তারপর কী হল?

 

অনুষ্ঠান যখন শুরু হচ্ছে, তখন দেখছি আমার মাইক কাজ করছে না। অথচ, অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গিয়েছে। অনুষ্ঠানের বাজনা বেজে গিয়েছে। আমার আর ফিরে যাওয়ার কোনও উপায় নেই। পরিহাসের মতো শোনালেও, এটাই সত্যি যে, একজন শিল্পীর সঙ্গে এমন ঘটনাটি ঘটেছিল কার্ট কোবেনের শহরে। আমি থামিনি। গান শুরু করে দিয়েছিলাম। নেমে পড়েছিলাম দর্শকদের মাঝে। থেমে গিয়েছিলেন যন্ত্রীরাও। কারণ,  আমার মাইক কাজ করছিল না। অনুষ্ঠান শুরু করেছিলাম যে গান দিয়ে,  সেটি হল-  ‘কেন করলে এরকম’…গোটা অডিটোরিয়াম ঘুরে ঘুরে গেয়েছিলাম আমি।‘সেদিনও ছিল’ ধরলাম। ঘুরে ঘুরে গাইলাম দর্শকদের সঙ্গে। তারপর হাতে পেয়েছিলাম মাইক। কিন্তু, যা বলার, একজন সঙ্গীতশিল্পী মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাইক পাচ্ছেন না, এর থেকে বড় প্রতিবন্ধকতা তো আর কিছু হতে পারে না। তাতে কিন্তু কোনও অসুবিধা হয়নি। ওই অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে যা আমি বোঝাতে পেরেছিলাম, তা হল, শত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও একজন রূপম ইসলামকে আটকানো যায় না। সে তারপরেও নিজের পারফরম্যান্সটি দিয়ে যেতে পারে ঠিকই। অথচ, মজার ব্যাপার,  যে আয়োজকদের অপেশাদারিত্বের জন্য এই অবস্থা, তাঁরাই পরে নিজেদের অকর্মণ্যতা ঢাকা দিতে  আমার নামে অনেক খারাপ কথা বলেছিলেন। কুৎসা করেছিলেন…

 

কুৎসা করেছিলেন?

হ্যাঁ। পরদিন ফেসবুকে একজন লেখেন আমি নাকি আগের দিন হোটেলের ঘরে বসে সারাদিন নেশা করেছিলাম। তাই অনুষ্ঠানে পৌঁছাতে দেরি হয়ে গিয়েছিল আমার। এবং, অত্যন্ত খারাপ ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। যা, কোনও ভদ্রলোক সাধারণত ব্যবহার করতে পারেন না। আসলে, শিল্পী হলে, বিশেষত রকশিল্পী হলে, সকলেরই যেন একটা পৈতৃক অধিকার জন্মে যায়,  তাঁর নামে কুৎসা করার। রকশিল্পী মানেই যেন নেশাখোর। এবং, নেশাখোর যখন, তখন তো আর অপমান করার জন্য কোনও ছাড়পত্র লাগছে না। ওই ব্যক্তি ঘোষণা করেছিলেন,  আমাকে ফুটপাথে দাঁড়িয়ে থাপ্পড় মারা উচিত।

 

আপনি এর কোনও জবাব দেননি?

আমার জবাব সবসময়েই এসেছে আমার গানের মাধ্যমে। এইক্ষেত্রে এসেছে যে গানটির মাধ্যমে, তা হল- দেওয়ালি pee। এটা প্রকাশিত হবে ফসিলসের নতুন অ্যালবামে। এই গানটি আমি বিভিন্ন একক অনুষ্ঠানে  গেয়েছি এবং তা অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে। তবে, গানটির মধ্যে কেবলমাত্র আমার একার অপমানটিই প্রতিফলিত হয়নি। এই গানের মাধ্যমে উদ্ভাসিত হয়েছে বহু মানুষের অপমানিত হওয়ার ঘটনার  কথা। আমার বাবাকেও বহু অপমানের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। গানটিতে উঠে এসেছে সেইসব কথাও।

এবার একটু অন্য প্রসঙ্গে যাব। গত দশ বছরে এমন প্রতিবাদ মিছিল হাতে গুনে কয়েকটা হয়েছে, যেখানে দলমতনির্বিশেষে সাধারণ মানুষ মধ্যবিত্ত মানুষ তাঁদের চেনা ঘেরাটোপ অথবা চেনা ছাঁদের ভয়গুলিকে ভেঙে দিয়ে নেমে পড়েছেন রাস্তায়। যেমন ধরা যাক, নন্দীগ্রামের ঘটনার পরের যে মহামিছিল… অথবা, হোককলরবএই প্রতিবাদ-মিছিলগুলোর অংশ ছিলেন আপনিওঅথচ, ডান-বাম কোনও দলেরই ছত্রছায়ায় নেই আপনিহোককলরবের সময় যে গানটি আপনি তৈরি করেছিলেন, তা প্রায় ধূমকেতুর গতিতে ওই সময় ছড়িয়ে পড়েছিল মানুষের মধ্যেওই গানে একটি লাইন ছিল- ‘আন্দোলনের শেষ থাকে না, থাকে শুধু শুরুয়াত’… কয়েকদিন আগে মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়াদের অনশন নিয়েও ফেসবুকে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন আপনিঢাকা শহরে এই কয়েকদিন আগেই স্কুল পড়ুয়াদের একটি অভিনব আন্দোলন হয়ে গেল… এমন একটি সময়ে দাঁড়িয়ে একজন শিল্পী হিসেবে আপনি গণ-আন্দোলনকে কীভাবে দেখেন?

বব ডিলান যখন প্রতিবাদী গানের রচয়িতা হিসাবে মার্কামারা হয়ে গেলেন এবং তাঁকে দাগিয়ে দেওয়া হল ‘প্রজন্মের মুখপাত্র’ হিসাবে, তখন তিনি খুব বিরক্ত হয়েছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, এটা উচিত কাজ হচ্ছে না…আমি শিল্পী। আমি এসেছি আমার শিল্পের দায়িত্বপালন করতে। এবার ধরা যাক, এমন কোনও বিষয়, যা দেখে মনে হল এটা নিয়ে একটা গান রচনা করা যেতে পারে, বক্তব্য নয়, বক্তব্য অনেক ভাবেই রাখা যেতে পারে…মুখে বলে বা লিখেও বক্তব্য রাখা যায়। গান রচনাটা কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য ক্যাটেগরি। একটা গান রচনা করা বা একটা সিনেমা তৈরি করা, এটা একটা ক্রিয়েটিভ স্পেস। এটাকে শুধু বক্তব্য বললে ভুল হবে। বক্তব্য অবশ্যই আছে। কিন্তু, তার থেকেও বড় যা আছে, তা হল- শিল্প। কিন্তু, যখনই কোনও শিল্পী একটি বক্তব্যমূলক শিল্প রচনা করেন এবং তার সঙ্গে কোনও একটি সময়ের অনুষঙ্গ-একটি রাজনৈতিক বা সামাজিক ঘটনা- জড়িয়ে যায়, তখনই একটা বড় ভুল হয়ে যায়। সেখানে শিল্পের থেকেও, বক্তব্যটাই যেন প্রধান হয়ে ওঠে এবং সেই শিল্পীকে তখন আর একজন ‘শিল্পী’ বলে নয়, দেখা হয় ‘প্রজন্মের মুখপাত্র’ হিসাবে…বা, ‘সময়ের মুখপাত্র’ হিসাবে।বব ডিলান বিরক্ত হয়ে বলেছিলেন- “ধুর!আমাকে লোকে বলল, এই গান বাঁধলে পরে লোকে শুনছে বেশি। তাই আমি এই সমস্ত গান বেঁধেছি”।হয়তো এটা সত্যি কথা নয়। বব ডিলান অজস্র মিথ্যে কথা বলেছিলেন। এটাও তেমন কেউ বিশ্বাস করেননি। শ্লেষ হিসাবেই উড়িয়ে দিয়েছেন। এর নেপথ্যে যে জাস্টিফিকেশনটা থেকে যায়, তা হল, বব ডিলান কিন্তু সরে আসেন। ওই যে, আমাদের তথাকথিত ‘প্রতিবাদী গায়ক’-এর যে ধরণ, সেখান থেকে সরে আসেন। এবং, ইলেকট্রিক গিটার হাতে তুলে নেন। একটি ব্যান্ড তৈরি করেন। তার নাম ছিল- দ্য ব্যান্ড। ঘটনা হল, তারপরই ছিছিক্কার পড়ে যায়। বহু মানুষের অসন্তোষের কারণ হয়ে ওঠেন তিনি। ঠিক এই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনেই আমি বলতে চাই, আমি যখন গান গাইতে এসেছিলাম, আমি যে ভেবেছিলাম, লোকে আমার গান শুনবে না, তার একটা বড় কারণ ছিল, আমি সম্পূর্ণ আত্মজৈবনিক গান গাইছিলাম। আমার লক্ষ্যই ছিল, আমার জীবনযাপন নিয়ে গান তৈরি করব। এবং, তাই জন্যই আমার মনে হয়েছিল, আমার গান কেউ শুনবে না। কারণ, কারও কিছু তো শোনার নেই। আমি নিজের জীবন নিয়ে গান লিখছি। আমি কেমনভাবে দিন কাটাচ্ছি, কী খেতে পারছি, কী পরছি, কী ধরনের বাদ্যযন্ত্র আমার দরকার বা আছে, আমি কোথায় গেলাম বা কোথা থেকে এলাম, কার প্রেমে পড়লাম বা পড়লাম না বা কোন প্রেম থেকে নিষ্কৃতি চাইছি- এগুলোই আমার গানের বিষয় ছিল। সেই কারণেই আমি ভেবেছিলাম, আমার গান এতটাই ব্যক্তিগত, যে এই গান মানুষের শোনবার কথা নয়। এবং, তাও মানুষ শুনেছেন ও তখন অনেক মানুষ আমাকে এসে বললেন, আরে! এটা তো আমারই জীবনের গল্প! তুমি জানলে কী করে?ঠিক এই জায়গা থেকেই আমি বুঝতে পারলাম, আমার গল্পটা আসলে আমার একার গল্প নয়। একটা প্রজন্মের গল্প। সেই জায়গা থেকেই একটা প্রজন্মের মুখপাত্র হিসাবে যদি আমাকে কেউ দাগিয়ে দেয়, আমার তাতে কোনও আপত্তি নেই। আমার সমস্যা একটা জায়গাতেই- আমি সমাজ নিয়ে প্রচুর গান লিখব বা রাজনৈতিক আন্দোলন নিয়ে গান লিখব, এই পরিচয়টা যদি মুখ্য হয়ে ওঠে, বা মুখ্য করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাতে আমার আপত্তি আছে। আমি যে যে আন্দোলন নিয়ে মুখর হয়েছি বা গান লিখেছি বা অংশ নিয়েছি, সেগুলিকে কিন্তু আমি আমার ব্যক্তিগত জীবন হিসেবেই দেখেছি। আমার ব্যক্তিগত জীবনে যদি সেই ঘটনার কোনও প্রভাব পড়ে থাকে, শুধুমাত্র তখনই আমি গান তৈরি করেছি। যদি প্রত্যক্ষ প্রভাব না পড়ে থাকে, আমি গান তৈরি করিনি। ঘটনা হচ্ছে, আমি এতরকম কাজে ব্যস্ত থাকি, আমাকে যদি খবর না দেওয়া হয়, আমার পক্ষে নিজে থেকে খবর নেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, আমি প্রত্যেকদিনই অন্তত চার রকম পৃথক সৃষ্টিশীলতায় ব্যস্ত থাকি। ফলে, আমার পক্ষে সবসময় খবরের কাগজ পড়া সম্ভব নয়। কেউ যদি বলে অথবা যদি আমার ছুটির দিন হয়, সেটা অন্য বিষয়। নইলে, আমি খবরের কাগজের থেকে অনেক বেশি ইচ্ছুক ও মনোযোগী বিভিন্ন প্রবন্ধের বই, কবিতার বই, নাটকের বই, উপন্যাস পড়ার ক্ষেত্রে। আমি তার থেকে পুষ্ট হই। কারণ, সেই একই কথা। আমি একজন শিল্পী। আমাকে শিল্প তৈরি করতে হবে। তার জন্য আমার অনুপ্রেরণা দরকার। সেই অনুপ্রেরণা আমি মহত্তর শিল্পের কাছ থেকে নিই। আপনি নিশ্চয়ই এটি মানতে বাধ্য হবেন, বাধ্য হওয়া উচিত- আমি যেগুলির কথা বললাম, সেগুলি খবরের কাগজের তুলনায় মহত্তর শিল্প। আমি সবসময়ই মহত্তর শিল্পের অন্বেষণ করে চলি। আমি খুব  বাধ্য না হলে খবরের কাগজ পড়ি না। মহত্তর শিল্প আমাকে সবসময় সাম্প্রতিক থাকতে দেয় না। আর, আমি সবসময় সাম্প্রতিক থাকতে চাইও না। আমার লক্ষ্য বক্তব্য প্রকাশ করা নয়। আমার লক্ষ্য, শিল্প তৈরি করা। সাম্প্রতিক শিল্প নয়,  কালোত্তীর্ণ শিল্প। আগেও এই লক্ষ্যই ছিল, এখনও তাই।


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement