হোমরিভিউস

শেষরক্ষা করতে পারলেন না অমিতাভ, আমির। থাগস অফ হিন্দোস্তানের ভরাডুবি

  | November 08, 2018 14:41 IST (নিউ দিল্লি)
পড়ুন | Read In
Thugs Of Hindostan

থাগস অফ হিন্দোস্থান সিনেমায় আমির অমিতাভ ক্যাটরিনা ও ফাতিমা সানা

ভারতের নাবিকদের লড়াই ও আবেগ আর বিদেশী শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদের উন্মেষের মশলা সবই ছিল। কিন্তু পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ আচার্যের চিত্রনাট্য রাঁধা হল না ঠিকমতো।

অভিনয়ঃ অমিতাভ বচ্চন, আমির খান, ক্যাটরিনা কাইফ এবং ফাতিমা শানা শেখ

পরিচালকঃ বিজয় কৃষ্ণ আচার্য

রেটিং: 2.5 স্টার (5 টি স্টারের মধ্যে)


 


বাজেট বড়, তিন জন অন্যতম সর্বাধিক বেতনভোগী অভিনেতা অভিনেত্রী, দারুণ সব অ্যাকশন- সবই ছিল তবু হিন্দোস্তানের থাগসরা নতুন কোনও উদাহরণ তৈরি করতে পারলেন না।  19 শতকের প্রথম দিকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচার এবং বিদেশী শক্তির দাসত্বের প্রত্যাখ্যান করতে সংগঠিত হওয়া হাজারো মানুষের গল্পই উপজীব্য। অতিরিক্ত গম্ভীর চরিত্রে অমিতাভ ও একেবারে লঘু মজার চরিত্রে আমির খান। ভারতের নাবিকদের লড়াই ও আবেগ আর বিদেশী শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদের উন্মেষের মশলা সবই ছিল। কিন্তু পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ আচার্যের চিত্রনাট্য রাঁধা হল না ঠিকমতো। প্রত্যাশা ছিল অনেক তবু চলচ্চিত্রের বড় বাজেট থেকেও ভরাডুবিই হল থাগস অফ হিন্দোস্তানের।

o294oqlg

থাগস অফ হিন্দোস্তানে অমিতাভ বচ্চন এবং আমির খান (ছবি সৌজন্যে: ইন্সটাগ্রাম/ তোদ্যফিল্ম) 

 

খোদাবক্সের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অমিতাভ বচ্চন। একজন নাবিক, একজন দেশপ্রেমিক! যিনি ক্লাইভ (লয়েড ওয়েন) (ইনিই রবার্ট ক্লাইভ কিনা তা নিয়ে কিঞ্চিৎ দ্বন্দ্ব আছে বৈকি!) নামক এক অত্যাচারী ব্রিটিশ অফিসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য তাঁর লোকদের প্রশিক্ষণ দেন। কোঁকড়া চুল, চোখে কাজল, কানে দুল আর নাকে নাকছাবি পরা আমির ফিরঙ্গি মাল্লার ভূমিকায় তেমন ছাপ রাখতে অপারগ। বারবার চরিত্র বদলায় তাঁর। বিশ্বাস আর বিশ্বাঘাতকতার মাঝে ঝুলন্ত এক চরিত্র! দুই মূল অভিনেতার ভূমিকার চড়া মানের অসামঞ্জস্যে তরী ডুবেছে থাগস অফ হিন্দোস্তানের। অমিতাভ বচ্চন অত্যধিক ভারী চরিত্র আবার আমির একেবারেই অপ্রয়োজনীয় মজার চরিত্রে- সব মিলে লঘু হয়েছে সিনেমার ভাষা ও প্রকাশ।

ধর্ম ও সংস্কৃতির ধারণা অনুসারে থাগস অফ হিন্দুস্তান অদ্ভুত এক মিশ্রিত সংস্কৃতিই তুলে ধরেছে। যদিও প্রধান চরিত্রগুলি বেশিরভাগই মুসলিম, তবু তাঁরা যে অনুষ্ঠানগুলি পালন করেছেন তা হিন্দু অভ্যাসকেই প্রতিফলিত করে। একি ইতিবাচক সংহতির বার্তা নাকি নিছক অবহেলায় এড়িয়ে যাওয়া ভুল! চলচ্চিত্রের শেষ পর্বে দশেরার দিনে একটি দুর্গে রাবণ পোড়ানোর দৃশ্য রয়েছে। অশুভের উপর শুভ শক্তির বিজয়ের এই ক্লিশে উদাহরণকে আরও ক্লিশে করে তুলেছে দুই নায়িকার মধ্যে একজনের এই অশুভ শক্তির হাতে মৃত্যুর ঘটনা।


অস্বীকার করে উপায় নেই যে দৃশ্যগুলি দুর্দান্ত ভাবে শ্যুট করা। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় ভিএফএক্স দিয়ে সিনেমাটোগ্রাফার মানুশ নন্দনের কাজের গুরুত্ব হারিয়েও গিয়েছে মাঝে মাঝে।

আর বাকি গড়পড়তা অ্যাকশন সিনেমার মতোই অবশ্যম্ভাবী রূপে মেয়েদের ভূমিকা নেই এখানেও তেমন। যদিও ফতিমা সানা শেখ কিছুটা শক্তিশালী ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর তার বাবা মির্জা সিকন্দার বেগ (রণিত রায়) ক্লাইভের হাতে নিহত হন। ফতিমা ঠাই নেন খুদবক্ষের অধীনে। রয়েছে ফতিমার বেশ কিছু ভালো তীরন্দাজির দৃশ্য। অন্যদিকে ক্যাটরিনা কাইফ নৃত্যশিল্পী সুরাইয়ার ভূমিকায় অভিনয় করেন। গান এবং নাচ ছাড়া আর কোনও ভূমিকাই নেই তাঁর।

চিত্তাকর্ষকভাবে উপস্থাপিত হয়েও বিষয়ের গাম্ভীর্য আর গল্পের কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারল না ‘থাগস অফ হিন্দোস্তান'। থাগস অফ হিন্দোস্তান বৃহত্তর অংশের শ্রোতাদের বিনোদন করতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোথাও গিয়ে পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ানের সঙ্গে তুলনা এড়াতে পারল না আমির অমিতাভের থাগস।


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement