HomeRegional

ট্রেলার- এক যে ছিল রাজা: এক হিতৈষী ধ্রুবপুত্রের আনোখা বৃত্তান্ত

  | September 10, 2018 23:35 IST (কলকাতা)

শ্রীভেঙ্কটেশ ফিলমস প্রযোজিত এই ছবিটি মুক্তি পাবে 12 অক্টোবর

ট্রেলারের শেষ দৃশ্যে অন্ধকার নীচু হয়ে এসেছে, তার ভিতর দিয়েই জলে ডুব দিচ্ছেন যীশু সেনগুপ্ত। জল থেকে ডুব দিয়ে আবার মাথা তুললেন যখন, তখন আলোটা বদলে গেল। একটি কাঁপা কাঁপা সেলোফেন পেপার আলো হয়ে পড়ছিল যেন তাঁর মুখে। খুব ম্লান আলো। দেখে বোঝা যায়, বদলে গেছে। কী ভীষণ বদলে গেছে… লিখলেন বোধিসত্ত্ব ভট্টাচার্য।

যেন শূন্যের ভিতর দিয়ে হেঁটে আসছে এক অনাবৃত অর্ধনগ্ন শরীর। যেন কোনও স্বপ্নাচ্ছন্নের ছবি ফুটে উঠছে অন্ধকার ছিঁড়ে কোনও আদিম গুহাচিত্রের মতো। গোটা শরীর জুড়ে যেন সংখ্যাতীত আজগুবির অভিনব জঞ্জাল। আদি-শৈত্য আলো ও আঁধারের ভিতর দিয়ে হেঁটে আসছে যেন আদতে এক অলীক বৈদ্যুতিক কশাঘাত। অন্তরীক্ষকে পুড়িয়ে দিয়ে ছাইদানে ফেলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন যিনি। শোনা যায়, এক মৃতদেহকে কোর্টরুমে মধ্যে ডেকে আনার একটি আর্জি।  কিন্তু, তিনি কে? তিনি কী? অথবা, তিনিই কি…?

এই তিনটি প্রশ্নকে একই রেখায় এনে দিয়ে গভীর মর্মান্তিক, বিপজ্জনক ও নাতিশীতোষ্ণ এক পটভূমির মুখোমুখি দর্শকদের দাঁড় করিয়ে দিতে চলেছেন যিনি, বাংলা ছবির ক্ষেত্রে তাঁর প্রাতিস্বিক প্রতিভাময় চিত্রসমাবেশ শেষ প্রায় একটি দশক ধরে খুলে ধরেছে আরেকরকম বিস্ফোরক বিপ্লবের দরজা। আধুনিকতার সীমাটিতে যোগ করেছে একইসঙ্গে একটি নির্ভীক ও অবিরাম মাত্রা। এমনকি, মুহূর্তের পশ্চাদভ্রমণে তত্ত্বায়নের ক্ষেত্রেও তাঁকে মনে হয়ে এক পথপ্রদর্শক। তাঁর ব্যকরণের তোয়াক্কা না করা ঝাঁকুনিগুলি দেখলে বারবার মালুম হয়, সম্প্রসারিত চলচ্চিত্রই সম্ভবত তাঁর কাছে একমাত্র সত্য। যেখানে কোনও পুনরুচ্চারণ নেই।

তিনি, সৃজিত মুখোপাধ্যায়।

এবারের পুজোতে যে ছবিটি নিয়ে আসছেন, তা বাঙালির জীবনে দীর্ঘস্থায়ী চর্চার বীজটি বুনে দিয়েছিল, আজ থেকে তেতাল্লিশ বছর আগে উত্তমকুমারের একটি ছবির পর। ভাওয়ালের রাজাকে তৈরি ওই ছবি ‘সন্ন্যাসী রাজা’ দর্শক ও সমালোচক দু’তরফেরই আনুকূল্য পেয়েছিল। যদিও, সৃজিতের ছবিটি ভাওয়াল সন্ন্যাসীকে নিয়ে তৈরি আগের ছবিটির থেকে অনেকটাই আলাদা। এটি মূলত ভাওয়াল সন্ন্যাসীর কোর্ট কেসটি নিয়ে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের 'আ প্রিন্সলি ইমপস্টার- দ্য স্ট্রেঞ্জ অ্যান্ড ইউনিভার্সাল হিস্টরি অব দ্য কুমার অব ভাওয়াল' বইটির যার প্রেরণা।

কিন্তু, কে এই ভাওয়াল সন্ন্যাসী? পিছিয়ে যাওয়া যাক, আজ থেকে আটানব্বই বছর আগের সময়টিতে। 1920 সাল। অবিভক্ত বাংলাদেশের ঢাকা শহর। সবে একটি মহাযুদ্ধ শেষ হয়েছে। দেশভাগ হতে তখনও সাতাশ বছর দেরি। সুভাষচন্দ্র বসু নামের এক যুবক স্বপ্ন দেখছেন দেশকে বদলে দেওয়ার। বাঙালির ‘হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা’ সুকুমার রায়ের একমাত্র পুত্রের জন্ম হয়নি তখনও। তেমনই একটি সময় ঢাকা শহরে খসখসে ক্লিন্ন চামড়া, ডেলা পাকানো তামাটে চুল ও ছাইতে এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে যাওয়া থাকথাক পেশি বসানো শরীরটি নিয়ে উঠে এলেন এক সন্ন্যাসী। অনেক ছানবিনের পর প্রকাশ্যে এলো যে, তিনি আসলে বহুদিন আগে ‘মৃত’ ভাওয়ালের রাজা রমেন্দ্রনারায়ণ রায়। কিন্তু, তিনি কি সত্যিই ভাওয়ালের রাজা? শুরু হল মামলা। দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে চলেছিল সেই মামলা। মামলাটি ‘ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলা’ নামে খ্যাত। সেই মামলার রায় কী দেওয়া হয়েছিল, তা প্রায় সকলেই জানেন। জানা ঘটনার ঠিক কোন জায়গাটিতে নতুনভাবে একেবারে মোহমুক্ত হয়ে আলো ফেললে কী ঘটতে পারে, তা প্রকৃত শিল্পীমাত্রেই জানেন।

এই ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলা নিয়েই নতুন ছবি সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের। নাম- এক যে ছিল রাজা। আজ মুক্তি পেল ছবিটির ট্রেলার। রাজার নাম এখানে বদলে গিয়ে হয়েছে মহেন্দ্রকুমার চৌধুরী। ওই চরিত্রে অভিনয় করছেন যীশু সেনগুপ্ত। অন্যান্য চরিত্রে রয়েছেন অঞ্জন দত্ত, অপর্ণা সেন, জয়া আহসান, রুদ্রনীল ঘোষ, অনির্বাণ ভট্টাচার্য প্রমুখ।

সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবি ও দুর্গোৎসব প্রায় আপৎকালীন বন্ধুত্বের মতোই কাছাকাছি চলে এসেছে এখন। শ্রীভেঙ্কটেশ ফিলমস প্রযোজিত এই ছবিটি মুক্তি পাবে 12 অক্টোবর।

ট্রেলারের শেষ দৃশ্যে অন্ধকার নীচু হয়ে এসেছে, তার ভিতর দিয়েই জলে ডুব দিচ্ছেন যীশু সেনগুপ্ত। জল থেকে ডুব দিয়ে আবার মাথা তুললেন যখন, তখন আলোটা বদলে গেল। একটি কাঁপা কাঁপা সেলোফেন পেপার আলো হয়ে পড়ছিল যেন তাঁর মুখে। খুব ম্লান আলো। সেই আলো পড়ছে জলেও। দেখে বোঝা যায়, বদলে গেছে। কী ভীষণ বদলে গেছে!  মৃতদেহ দিয়ে শুরু হওয়া ট্রেলারটি কখন যেন ঠিকই পৌঁছে গিয়েছে জীবনে। জলের ছোট ছোট তরঙ্গের মধ্যে দিয়ে ভাসতে থাকে সাহানা বাজপেয়ীর আশ্চর্য কণ্ঠস্বর... 

Advertisement