হোমমিউজিক

‘কী চেয়েছি, আর কী যে পেলাম!’, আক্ষেপ লোপামুদ্রার...

  | January 16, 2020 13:22 IST (কলকাতা)
Lopamudra Mitra

বেয়োনেটের সামনে লোপামুদ্রা

ভাবতে ইচ্ছে করে না, নাকি ভাবতে ভয় হয়? মগজে কার্ফু। হয়তো সেই কারণেই ইদানীং খবরের কাগজ পড়া বন্ধ করে দিয়েছি।

কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর Lopamudra Mitra। চারিদিকে যা দেখছেন, দিনরাত যা শুনছেন, বুঝতে বাধ্য হচ্ছেন, তাই থেকে এবং দেখে কেবল এই একটি কথাই মনে হচ্ছে তাঁর, এখন আর বুঝেই উঠতে পারছেন না, কী চাই তাঁর। কী চাওয়া উচিত। মগজে কার্ফু। এবং সেই কারণেই হয়ত ইদিনীং খবরের কাগজ পড়া বন্ধ করে দিয়েছেন। দেখেন না নিউজ চ্যানেল। পাছে মনের কোণে ঘাপটি মেরে থাকা ভয় আরও পেয়ে বসে! এবার তাই গানে গানে ভয় সরিয়ে সোচ্চার হওয়ার পালা। আরও একবার শিল্পীর পাশে 'Kriti' production। 'Beyoneter Samne Lopamudra' অনুষ্ঠান নিয়ে।

Exclusive: বড়দিন উদযাপনে ইমন, এই প্রথম বাংলা গানের উদ্বোধন খ্রিস্টমাসে

অথচ ছোটবেলা থেকে এই ভয় কিন্তু পাননি শিল্পী। তখন বরং তিনি উল্টোটাই। কেমন ছিল তাঁর তখনকার অনুভূতি? শিল্পী উবাচ, 'আপাদমস্তক রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম। বাবা-কাকারা কাজ করতেন ব্যাঙ্কে। বাম ইউনিয়নের যোদ্ধা। তাই ছোটবেলার সঙ্গে জড়িয়ে লাল ঝান্ডা। প্রথম শেখা গান ‘বিদ্রোহ চারিদিকে, বিদ্রোহ আজ'। শিখেছি একের পর এক গণনাট্যের গান। একসঙ্গে চলা, এক সঙ্গে থাকা, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এই সব স্বপ্ন নিয়েই গড়ে উঠেছিল আমার বামপন্থী ছোটবেলা।'

কম্পিউটারের সুবিধা এখন আমরা পাচ্ছি। সেই আন্দোলন কতটা ঠিক ছিল, ভুল ছিল কি না, সেই বিচারে যাচ্ছি না। কিন্তু একটা সময়ের পর আদর্শের যে মোহভঙ্গ হয়েছিল তাঁর, বাবা-কাকার, আরও অনেকের মতো, সেই ক্ষতে আর প্রলেপ পড়েনি। 


কলেজে পড়তে পড়তেই পুলিশে চাকরি পেয়েছিলেন লোপামুদ্রা। গান গেয়েই জীবন কাটিয়ে দেব, ভাবেননি তখনও। এই সিদ্ধান্তে এখন আপশোস? দৃঢ়চেতা শিল্পীর কথায়, 'ভাগ্যিস করিনি সেই চাকরি! যদিও আমার বাবা খুব উত্তেজিত ছিলেন আমার চাকরির খবর শুনে। ওঁদের কাছে পুলিশ মানে ‘ন্যায়'। অন্যায়ের প্রতিবাদ। মাঝেমধ্যে মনে হয়, ওদের প্রজন্মের ‘সিস্টেমটাই' আসলে অন্য রকম ছিল। ‘ন্যায়-অন্যায়', ‘ঠিক-ভুলে'র একটা স্পষ্ট ধারণা ছিল। যে বাবা প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার কথা শিখিয়েছেন, শিখিয়ে গিয়েছেন একের পর এক প্রতিবাদের গান, সেই বাবাই কিন্তু সিনেমা হলে গিয়ে স্ক্রিনজোড়া তেরঙার সামনে আমার হাত মুঠি করে চেপে দাঁড়িয়ে থাকতেন একসময়। মাত্র কয়েক দশকের মধ্যে বোধের সেই ‘সিস্টেম'টাই গুলিয়ে গিয়েছে। সিস্টেম এখন কেবলই ক্ষমতা। কোনও নির্দিষ্ট দলের কথা বলছি না। সার্বিক ভাবে আমাদের বোধ-বিবেচনা রাজনীতির কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছে। যদি সে দিন পুলিশের চাকরি নিতাম, তা হলে আমিও হয়তো সেই সংকীর্ণ ক্ষমতার বলয়ের অংশ হতাম আজ। হয়ে উঠতাম সিস্টেমের বোড়ে! ' 

FlashBack 2019: হিয়া নস্ট্যাল যে ৫ ‘সিনে গান'-এ

নিজেকে নিয়ে শিল্পীর আরও সংযোজন, ' এরপর এল ‘পরিবর্তনে'র আন্দোলন। আমার কাকার লেখা বামপন্থী গানগুলো আরও প্রাসঙ্গিক হল। আর পরিবর্তনের পরে? মঞ্চে দাঁড়িয়ে যখন গাই ‘রেশনে চাল ছিল/ কম দামে তেল ছিল/ মিঠে মিঠে বাত ছিল/ রাগী রাগী সভা ছিল/ আসলে ভোট ছিল/ তাই ছিল সব ছিল', দেখি সামনের সারিতে বসে কিছু লোক হাত তালি দিচ্ছেন। তাঁরা নেতা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের। ওঁরা কি বুঝছেন না যে কথাগুলো ওঁদের বিরুদ্ধেই বলা হচ্ছে? বুঝছেন। তবু হাততালি দিয়ে তাঁরা দেখিয়ে দিচ্ছেন, এ সব কথায় তাঁদের কিছু যায় আসে না।

কিন্তু দর্শকদের আসে যায়। রাজনীতির চোরাস্রোত সাধারণ মানুষের মগজে এমন ভাবে ঢুকে বসেছে যে, আজকাল মঞ্চে দাঁড়িয়ে ‘বন্দে মাতরম' গাইতেও ভয় হয়। মানুষের প্রতিক্রিয়ায় বুঝতে পারি, একেকটা গান কোনও কোনও শব্দের সঙ্গে রাজনীতির অনুষঙ্গ তৈরি হয়ে গিয়েছে তাঁদের। আগে মঞ্চে উঠে গান গাইতে গাইতে কথা বলতাম অনেক। ‘বন্দে মাতরম' গাওয়ার সময় বলতাম, বাইরের শত্রু নয়, দেশের ভিতরের রাজনীতিই সাধারণ মানুষকে লুঠ করছে। গাইতাম, ‘এ মানচিত্র জ্বলছে জ্বলুক/ এই দাবানল পোড়াক চোখ/ আমার কাছে দেশ মানে এক লোকের পাশে অন্য লোক', মানুষের প্রতিক্রিয়ায় সমর্থন পেতাম। সার্জিকাল স্ট্রাইকের পর দেখছি, সেই মানুষেরই প্রতিক্রিয়া বদলে গিয়েছে।

‘উড়ান' দিচ্ছেন শ্রাবন্তী-সাহেব, সুর আকাশে ভাসছে গান

ভয় পাচ্ছি। কী চেয়েছি, কী পেয়েছি, সে কথা ভাবার সময় এটা নয়। এ সময় ভয়ের সঙ্গে যুঝে নেওয়ার। যা বলতে চাই, যা ভাবতে চাই, বলা তো দূরের কথা, সেটুকু যদি ভাবতেও না পারি, তা হলে আর সিস্টেমের বাইরে যেতে পারলাম কোথায়? বিশ্বাস করুন, গলা ছেড়ে বলতে ইচ্ছে করছে, ‘তোমরা বলছ এ গান গেও না/ তোমরা বলছো পথ ছাড়ো/ তোমরাই বেঁধে দিচ্ছ পথ/ এটা নয় ওটা করো/ তোমরা কে হে?' কিন্তু বলতে পারছি না। কিছু দিন আগেও যত সহজে ‘তোমরা কে হে' বলার সাহস পেতাম, আজ আর তা পাচ্ছি না। একটা অদৃশ্য বেয়নেটের সামনে দাঁড়িয়ে গান। দাঁড়িয়ে সমাজ। তবু এখনও বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়, ‘প্রাণ জাগছে জাগছে জাগছে/ ঢেউ উঠছে...।' তাই সুরে সুরে , গানে গানে প্রতিবাদ আবারও। ২৬ জানুয়ারি সন্ধে সাড়ে ছ-টায়, জিডি বিড়লা সভাঘরে।


    


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement
Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com