হোমবলিউড

আমি একদিনে ১০ বারও কেঁদেছি: অবসাদের সঙ্গে লড়াইয়ের কথা বললেন পরিণীতি চোপড়া

পরিণীতি চোপড়া বলেন, "আক্ষরিক অর্থেই আমার জীবনে তখন খুব খারাপ সময় যাচ্ছিল, কিছুতেই পজিটিভ কিছু হচ্ছিল না"

  | August 07, 2019 17:52 IST (নয়া দিল্লি)
Parineeti Chopra

জাবারিয়া জোড়ি নামে একটি ফিল্মে দেখা যাবে পরিণীতি চোপড়াকে

Highlights

  • আমার ভিতরের কষ্ট যেন কিছুতেই কমছিল না: পরিণীতি চোপড়
  • 'এটা তাঁর জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময় ছিল', বলেন অভিনেত্রী
  • অবসাদ থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে তাঁর ভাই তাঁকে সাহায্য করেন

অবসাদ বা ডিপ্রেশন থাবা বসিয়েছিল সদা হাস্যমুখ অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়ার (Parineeti Chopra) জীবনেও। ওই অভিনেত্রী তাঁর আসন্ন ছবি জবারিয়া জোড়ির প্রচার চলাকালীন একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর হতাশার কথা তুলে ধরেন।  অবসাদে (Parineeti Chopra Depression) থাকাকে 'ব্ল্যাকহোলের মধ্যে ডুবে যাওয়ার' সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, এটিই তাঁর এখনও পর্যন্ত 'জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময়' ছিল। পরিণীতি চোপড়া তাঁর আসন্ন ছবির প্রচারের লক্ষ্যে একটি সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ওই অভিনেত্রীকে তাঁর এক অনুরাগী অবসাদ বা ডিপ্রেশনের (Parineeti Chopra Depression) সঙ্গে তাঁর লড়াইয়ের সম্পর্কে জানতে চান। সেই সময়েই ৩০ বছরের ওই অভিনেত্রী বলেন যে ২০১৫ সালে, তাঁর অভিনীত পরপর দুটি ছবি ফ্লপ করে এবং সেই সময় তাঁর প্রেমিকের (যাঁর নাম তিনি বলেননি) সঙ্গেও সম্পর্ক ছিন্ন হয় তাঁর, তখনই তিনি অবসাদে চলে যান।

বলিউডের ছটফটে ওই অভিনেত্রী (Parineeti Chopra) বলেন, তখন তাঁর হাতে যেমন টাকা ছিল না তেমনি তাঁর জীবনে সেই সময় ভাল বা সদর্থক কিছুই ঘটছিল না। ইশকজাদের নায়িকা বলেন, সেই সময় (Parineeti Chopra Depression) তিনি যেন একটা খোলসের মধ্যে নিজেকে ঢুকিয়ে রেখেছিলেন এবং দিনের মধ্যে কমপক্ষে ১০ বার তিনি কাঁদতেন। পরিণীতি বলেন তখন একেবারে ঘ্যানঘেনে, প্যানপেনে মেয়ে হয়ে গেছিলেন নিজে।

''অবসাদ 'দুঃখবিলাস' নয়'', সলমনকে হঠাৎ কেন একথা বললেন দীপিকা?

"২০১৪ সালের শেষ এবং গোটা ২০১৫ সাল, এই দেড় বছর সত্যিই আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময় ছিল। আমার পরপর দুটি ছবি- দাওয়াত-ই-ইশক এবং কিল দিল ব্যর্থ হয়েছিল, আর এটা ছিল আমার প্রথম ধাক্কা। ওই ছবি দুটি ব্যাক-টু-ব্যাক মুক্তি পেয়েছিল এবং ফ্লপ করে যায়। হঠাৎ, আমি বুঝতে পারি যে আমার কাছে অর্থ নেই ... সেই সময়টা আমার কাছে এতটাই খারাপ ছিল যখন কোনও কিছুই আমার জীবনে ভাল হচ্ছিল না", বলেন পরিণীতি চোপড়া।


"আমি একটি খোলসের মধ্যে ঢুকে গেছিলাম। আমি খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলাম, আমি ভাল করে ঘুমানো বন্ধ করে দিয়েছিলাম। তখন আমার কোনও বন্ধু ছিল না। আমি কোনও লোকের সঙ্গে দেখা করতাম না। যাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল, এমনকি আমার পরিবার সহ সবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম আমি। ওই সময়ে আমি দু'সপ্তাহে একবার তাদের সঙ্গে কথা বলতাম I আমি কেবল আমার ঘরে থাকতাম, টিভি দেখতাম, ঘুমোতাম, সারা দিন না খেয়ে থাকতাম ... আমি সেই সময় যেন একজন জম্বি হয়ে গেছিলাম। আমি সেই মেয়েটার মতো হয়ে গেছিলাম ... যে দিনে কমপক্ষে ১০ বার কাঁদত। আমার সবসময় মন খারাপ থাকতো এবং আমি সব সময় কাঁদতাম। আমার ভিতরে এত ব্যথা জমা ছিল যে সারাক্ষণ কাঁদলেও তা শেষ হত না", বলেন পরিণীতি চোপড়া।

বহুদিন আগে ফারহা 'দ্য ডার্টি ডান্সিং' -এ এটা করে দেখিয়েছেন। এখন চেষ্টা করবেন কেউ?

জবারিয়া জোড়ির সহ শিল্পী অভিনেতা সিদ্ধার্থ মালহোত্রা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন কীভাবে তিনি (Parineeti Chopra) এই অবসাদ পর্বটি কাটিয়ে উঠতে পেরেছিলেন। তাঁর উত্তরে পরিণীতি উত্তর দিয়েছিলেন যে তার ভাই সাহাজ চোপড়া তাঁকে ওই পরিস্থিতির মধ্যে থেকে নিজেকে বের করে আনতে সাহায্য করেছিলেন। পরিণীতি বলেন, "আমি নিজের জন্যে ভাবতে শুরু করলাম। আমি নিজেকে সুস্থ করে তুললাম। আমি নিজের জীবনকে আবার নতুন করে সাজাতে শুরু করলাম কারণ আমি জানতাম একবার এই হতাশার অন্ধকূপে ঢুকে গেলে সেখান থেকে আর বের হতে পারব না" বলেন পরিণীতি।


প্রায় দু'বছরের বিরতি নেওয়ার পরে, পরিণীতি (Parineeti Chopra) মেরি পেয়ারি বিন্দু এবং গোলমাল এগেন ছবির মাধ্যমে বলিউডে কামব্যাক করেন, ওই দুটি ছবিই ২০১৭ সালে মুক্তি পেয়েছিল। জবারিয়া জোড়ির পরে পরিণীতির হাতে রয়েছে সায়না নেহওয়ালের বায়োপিক, সন্দীপ অউর পিঙ্কি ফারার অ্যান্ড ভূজ ছবি দুটি। তাই বর্তমানে হতাশার অন্ধকার কাটিয়ে ফের ফিল্মি জগতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন পরিণীতি চোপড়া।


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
 
Advertisement
Advertisement