হোম

‘Gumnami’: ‘কেন বন্ধ হয়েছিল মুখার্জি কমিশন?' ফরওয়ার্ড ব্লক মঞ্চ থেকে প্রশ্ন তুললেন সৃজিত

  | September 08, 2019 18:25 IST (কলকাতা)
Gumnami

নেতাজি আর গুমনামি বাবা এক!

নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুকে বড় পর্দায় ধরছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়--- এই খবর প্রথম যেদিন সামনে এসেছিল, বিতর্কের জন্ম তখন থেকে। মাঝে এই বিতর্ক সামান্য থিতিয়ে গেলেও পোস্টার-টিজার আর রবিবার ট্রেলার লঞ্চের দিন 'গুমনামী' বিতর্ক ফের খবরের শিরোনামে।

নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুকে (Gumnami) বড় পর্দায় ধরছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়--- এই খবর প্রথম যেদিন সামনে এসেছিল, বিতর্কের জন্ম তখন থেকে। এরপর ছবির শুট শুরু হয়েছে। শেষও হয়েছে যথা সময়ে। মাঝে এই বিতর্ক সামান্য থিতিয়ে গেলেও পোস্টার-টিজার আর রবিবার ট্রেলার লঞ্চের দিন গুমনামী বিতর্ক ফের খবরের শিরোনামে। বিজেপি নেতা চন্দ্র বসু সহ নেতাজি পরিবারের ৩৩ সদস্যের স্বাক্ষরিত চিঠি নিয়ে ফরোয়ার্ড ব্লক ঘোর আপত্তি জানিয়েছে এই ছবি নিয়ে। চন্দ্র বসুর বার্তা ছিল পরিচালককে, প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তিনি ছবি প্রদর্শন বন্ধ করবেন। সাধারণ মঞ্চ থেকে আইনি চিঠিও পেয়েছেন সৃজিত। ২১ অগাস্ট তথ্য বিকৃতির অভিযোগ এনে প্রতিবাদে পথে নেমেছিল ফরোয়ার্ড ব্লক। পাশাপাশি, একের পর এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছিল জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালকে, কোন রায়কে তিনি ছবিতে মান্যতা দিচ্ছেন? নেতাজির বিমান-দুর্ঘটনায় মৃত্যু? রাশিয়া তত্ত্ব? মুখার্জি কমিশন? নাকি গুমনামী বাবা তথ্যকে? রবিবার সকালে ফরোয়ার্ড ব্লকের কলকাতা শাখার অফিসের সঙ্গে নিজে যোগাযোগ করে সেখানে দাঁড়িয়ে, ছবির ট্রেলার দেখিয়ে বসু পরিবার এবং দলের সমস্ত সদস্যদের কাছে এবার সবিনয়ে প্রশ্ন রাখলেন সৃজিত মুখোপাধ্যায় (Srijit Mukherjee), 'সবাই আমার ছবির বিষয় নিয়ে বহু দিন ধরে নানা প্রশ্ন করে এসেছেন। কেউ এখনও কেন এই প্রশ্ন তুললেন না, ‘'কেন বন্ধ হয়েছিল মুখার্জি কমিশন (Mukherjee Commission)?''

91fec358


একই সঙ্গে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি, যে ছবি আনকাট সেন্সর সার্টিফিকেট পায়, সে ছবি নিয়ে এত বিতর্ক কেন? রবিবার, অর্থাৎ আজকের মঞ্চে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত বিনম্র কিন্তু দৃঢ় গলায় পরিচালক জানালেন, স্বাধীন দেশের নাগরিক তিনি। পরিচালক হিসেবে যেকোনও বিষয় নিয়ে স্বাধীনভাবে কাজের অধিকার তাঁর আছে। তা বলে এমনটাও নয় যে, তিনি সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রতি বাঙালির সেন্টিমেন্টে আঘাত করবেন। বরং, আপামর জনসাধারণের হয়ে প্রশ্ন রাখছেন 'গুমনামী' ছবি দিয়ে, আসলে নেতাজির কী হয়েছিল? তিনি কতদিন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে ছিলেন? কেন আজও নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য হয়েই রয়ে গেল? আর কবে দেশ, বাঙালি জানবে, প্রকৃত সত্য? মঞ্চে তখন উপস্থিত কলকাতা ফরোয়ার্ড ব্লক শাখার সম্পাদক নরেন দে। আলোচনায় উপস্থিত নেতাজি পরিবারের বহু সদস্য এবং গবেষক। 

Gumnami: কীভাবে ‘গুমনামী' ছবিতে প্রসেনজিৎ থেকে বোস হয়ে উঠলেন বুম্বাদা?

ছবির ট্রেলার দেখানোর আগে সৃজিত আরও জানান, তিনি তিনটি তথ্য সমান ভাবে তুলে ধরেছেন--- বিমান দুর্ঘটনা, রাশিয়ায় যাওয়ার পর অত্যাচারে মৃত্যু আর গুমনামী বাবা ওরফে সুভাষ চন্দ্র বসু এক। কিন্তু সারা ছবি জুড়ে মেনে চলেছেন মুখার্জি কমিশন তথ্যকে। নেতাজির পরিবার থেকে 'গুমনামী' নাম নিয়ে যখন আপত্তি উঠেছিল তখনও তিনি রাজি ছিলেন নামবদলের। কিন্তু সেন্সর বোর্ড থেকে পরিচালককে বলা হয়েছিল, গুমনামী বাবা নামটি আপত্তিকর। শুধু 'গুমনামী' নয়। কারণ, গুমান বা গুমনামী মানে অচেনা, অজানা। তাই বদলের কোনও প্রশ্ন নেই। আজ ফরোয়ার্ড ব্লক মঞ্চে দাঁড়িয়ে সৃজিতের কৌতূহল, ২০০৪-এ শ্যাম বেনেগাল যখন নেতাজিকে নিয়ে ছবি করেন তখন এত প্রশ্ন উঠেছিল কী? তাহলে তাঁর বেলায় কেন!


u39ekbhg


ট্রেলার দেখানোর পর নরেন দে সহ সমস্ত ফরোয়ার্ড ব্লক সদস্য এবং নেতাজির পরিবারের মত, ছবিটি তাঁরা প্রিমিয়ারে দেখবেন। সৃজিত যেভাবে বলছেন গুমনামী যদি তেমনই ছবি হয়, তাহলে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। তবে নেতাজির ভাবমূর্তিতে আঘাত লাগলে তাঁরা ফের পথে নামবেন। সৃজিত নিজেও জানান, নেতাজি, ফরোয়ার্ড ব্লক এবং বসু পরিবার একসূত্রে গাঁধা। তাঁদের এড়িয়ে কিছু করার প্রশ্নই নেই। তাই তিনি নিজে ফোন করে আলোচনায় বসার কথা জানিয়েছিলেন। যদিও দুর্জনের মতে, এভাবেই নাকি মধুরেণ সমাপয়েৎ করে বিতর্ক থামালেন সৃজিত।

Independence Day 2019:  ৭৩ তম স্বাধীনতা দিবসে সামনে আসছেন ‘নেতাজি'?

প্রসঙ্গত, গতকালই রবিবার ট্রেলার মুক্তির কথা টুইট করে ছবির প্রযোজক সংস্থা এসভিএফ এবং লেখক অনুজ ধর। দেখুন টুইট:


ছবির ট্রেলার দেখে পরিচালককে সাধুবাদ জানান মুম্বইয়ের ট্রেড অ্যানালিসিস তরণ আদর্শ। এর আগে অবশ্য এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী-গায়ক-অভিনেতা বাবুল সুপ্রিয় সৃজিত মুখোপাধ্যায়কে সাপোর্ট করে বলেছিলেন, 'সবার স্বাধীনতা আছে, নিজস্ব মত প্রকাশের। সৃজিতও তাই করছেন। উনি ভালো বন্ধু। ওঁর 'উমা', 'হোটেল শাজাহান রিজেন্সি'তে আমি অভিনয় করেছি। আমার মতে, ছবিটা আগে দেখুন সবাই। তারপর না হয় মতামত দেবেন। খারাপ লাগলে বা খারাপ কিছু হলে বলার সুযোগ তো রয়েইছে। আগে থেকে এই বিতর্কের সত্যিই কি কোনও মানে আছে? এতদিন সবাই দেশের অসহিষ্ণুতা নিয়ে বিতর্কের বন্যা বইয়ে দিলেন। আর এখন একজন পরিচালককে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে দিচ্ছেন না! অবাক কাণ্ড! '










বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement