হোম

Exclusive: ‘ফেলুদার পরে অভিনয় থেমে গেলেও ক্ষতি নেই’: টোটা রায়চৌধুরী

  | November 14, 2019 20:06 IST (কলকাতা)
Tota Roy Chowdhury

স্কেচ মিলন্তি!

পরিচালক অরিন্দম শীল, বিক্রম চট্টোপাধ্যায় তো আছেনই, অসংখ্য বাঙালি ভক্ত ফেলুদাকে নিয়ে উন্মাদনায় ফুটছে। শুরুতেই এত শুভেচ্ছা, চাপ বাড়াচ্ছে না বাড়াচ্ছে অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ?

জাস্ট দু-বার রিং। তারপরেই মোবাইলের ওধারে একরাশ উচ্ছ্বাস। আবির চট্টোপাধ্যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্তকে টপকে তিনিই বাংলার নব্য ফেলুদা (Feluda)---এই আনন্দ শীত পড়ার আগেই তাঁকে উষ্ণ করেছে। স্কেচ বলছে, মিলছেন তিনি মিলছেন। পরিচালক অরিন্দম শীল, বিক্রম চট্টোপাধ্যায় তো আছেনই, অসংখ্য বাঙালি ভক্ত ফেলুদাকে নিয়ে উন্মাদনায় ফুটছে। শুরুতেই এত শুভেচ্ছা, চাপ বাড়াচ্ছে না বাড়াচ্ছে অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ? কী কী হোমওয়র্ক শুরু করেছেন ওয়েবে ফেলুদাকে জীবন্ত করতে? মগজাস্ত্র ধারালো রাখতেই বা কী করেন তিনি? সাতসতেরোয় টোটা রায়চৌধুরী (Tota Roy Chowdhury)। আড্ডা টাইমসের (Adda Times) ওয়েব সিরিজ 'ফেলুদা ফেরত'-এর (Feluda Ferot) ফেলুদাকে ফোনে ধরলেন উপালি মুখোপাধ্যায়

প্রশ্ন: বাঙালি উত্তেজনা-আনন্দে ফুটছে, ফেলুদা ফিরছে টোটা রায়চৌধুরী রূপে। আর টোটা?

উত্তর: (প্রাণখোলা হাসি) এই একটা চরিত্রের জন্য জীবনে একবারই তদ্বির করেছি। সেটা ফেলুদা। সন্দীপ রায়কে অনুরোধ করেছি। ইন্ডাস্ট্রিতেও। সবাইকে অনুরোধ করেছিলাম, আমায় একটা সুযোগ দেওয়া যায় না! অবশেষে সেই সুযোগ দিলেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। আড্ডা টাইমস ওয়েব প্ল্যাটফর্মে 'ফেলুদা ফেরত' সিরিজে। আমি ধন্যবাদ জানানোর ভাষা হারিয়েছি। সঙ্গে পরিচালক অরিন্দম শীল, বিক্রম চট্টোপাধ্যায় এবং অসংখ্য ভক্তদের শুভেচ্ছা। আমি ভাসছি।


প্রশ্ন: চাপ বাড়ছে না উৎসাহিত হচ্ছেন?

উত্তর: প্রথমে সত্যিই ভীষণ ভালো লাগছিল। এখন একটু একটু টেনশন হচ্ছে, যদি ফেলুদার ফ্লেভার ঠিকমতো ফোটাতে না পারি তাহলে বাঙালি ছেড়ে কথা বলবে না।

প্রশ্ন: আবির চট্টোপাধ্যায়, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্তকে টপকে কাজলের বয়ফ্রেন্ড-স্বামী এবার এলিজেবল ব্যাচেলার গোয়েন্দা প্রদোষ মিত্র। রহস্য ফাঁস করবেন?

উত্তর: অনেকেই বলছেন, কীভাবে জিতলেন! আমি বলব, আমি জিতিনি। আমায় জিতিয়ে দিয়েছেন সৃজিত। ওঁর কল্পনায় কোথাও হয়তো আমার জন্য জায়গা ছিল। উনি সেটা বাস্তব করছেন।

প্রশ্ন: প্রথম শোনার পর কী করলেন?

উত্তর: বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। আমি? ফেলুদা! সৃজিতের ফোন কানে নিয়ে শুনছি। সৃজিত বুঝে বললেন, হ্যাঁ তুমিই আমার ফেলুদা। মনে হল সারাজীবনের প্রতীক্ষা সার্থক।

প্রশ্ন: সত্যজিৎ রায়ের স্কেচ থেকে সৃজিত মিল পেয়েছেন। আপনারও কি এবার নিজেকে একটু একটু ফেলুদা লাগছে?

উত্তর: (হেসে ফেলে) প্রথম প্রথম নিজেকে একেকটা চরিত্রের সঙ্গে কল্পনা করে মিল খুঁজে পেতাম। এখন আর সেটা হয় না। বুঝেছি, অভিনেতার কাজ শুধুই অভিনয়। সে হাঁড়ি-কলসি না কুঁজো হবে, ঠিক করবেন পরিচালক আর জনতা-জনার্দন।

np7l82q

  

প্রশ্ন: ধাতস্থ হওয়ার পরে নিশ্চয়ই হোমওয়র্ক শুরু? কাকে অনুসরণ করবেন--- সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সব্যসাচী চক্রবর্তী না সত্যজিৎ রায়ের লেখা?

উত্তর: কিচ্ছু করছি না। পুরোটা সৃজিতের ওপর ছেড়ে বসে আছি। আর কয়েকদিনের মধ্যেই বসব ওঁর সঙ্গে আলোচনায়। সৃজিত যেমন বলবেন আমি তেমনটাই করব। 

প্রশ্ন: ধারালো মগজাস্ত্র! ভালোমন্দ পরিচালকের দায়?

উত্তর: (আবার হাসি), মন্দের দায় আমার। ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গে 'চোখের বালি' করার সময় ঋতুদাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, উপন্যাসটা পড়ে নিই? ঋতুদা বলেছিলেন, নিশ্চয়ই পড়বি। তবে শুট শেষের পর। এখন আমি যেমনটা চাইছি তেমনটা কর। পরে উপন্যাস পড়ে দেখলাম, ভাগ্যিস ঋতুদার কথা শুনেছি! নইলে পুরো ধ্যাড়াতাম। তারপর থেকেই আমি ডিরেক্টরর্স চয়েস।

প্রশ্ন: তুল্যমূল্য বিচার হবে। নিতে পারবেন?

উত্তর: আমি আমার একশো ভাগ দেব। বাকিটা....

প্রশ্ন: বাবুদার সঙ্গে দেখা করেছেন? টিপস নেবেন না?

উত্তর: অবশ্যই। সৃজিতও বলেছেন, দেখা করে আশীর্বাদ নিয়ে এস সন্দীপ রায়ের থেকে। যাব। গিয়ে ওঁর থেকে টিপসও নেব। কারণ, উনি ছোটবেলা থেকে সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা সৃষ্টির একমাত্র সাক্ষী। পরে সহকারি হিসেবে কাজ করেছেন বাবার সঙ্গে। ছোটপর্দার হিন্দি ফেলুদাতেও কাজ করেছেন। নিজে একাধিক ছবি বানিয়েছেন। এমন মানুষের সঙ্গে সবার আগে দেখা করতে হয়।

প্রশ্ন: বাবুদার পরিচালনায় ফেলুদা চরিত্রে অভিনয় করতে পারলে ষোলকলা পূর্ণ হত?

উত্তর: সৃজিত কম কিসে! নিজেকে বারবার প্রমাণ করেছেন। আমি ফেলুদা হচ্ছি, এর বাইরে আপাতত আর কোনও ভাবনা নেই।

প্রশ্ন: আড্ডা টাইমসে এর আগেও ফেলুদা সিরিজ হয়েছে। তখন ফেলুদা হয়েছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হচ্ছে?

উত্তর: একেবারেই না। সিনারি আঁকতে দিলে সবাই গাছ-পাতা-ফুল-পাহাড়ই আঁকে। কিন্তু নিজের মতো করে। একই ভাবে চরিত্র একটা হলেও সবাই যে যাঁর মতো করে অভিনয় করেন। পরম পরমের ক্যারিশ্মা দিয়ে। আমি আমার পরিশ্রম দিয়ে।


প্রশ্ন: এতদিনে আপনার শরীরচর্চা, মার্শাল আর্ট কাজে লাগবে...

উত্তর: (হো হো হাসি)ভালো বলেছেন। হ্যাঁ, এবার এই অস্ত্রগুলো কাজে লাগাব। তবে একেবারেই ফেলুদার স্টাইলে। মুম্বই বা অন্য কারোর মতো করে নয়।

প্রশ্ন: আপনার তো এখন মুম্বই-কলকাতা মান্থলি। বাকি কাজের কী হবে?

উত্তর: মুম্বইয়েও বিগ ব্যানারে একটি ওয়েব সিরিজে কাজের কথা হয়েছিল। হলে, ওটাই আমার প্রথম ওয়েব ডেবিউ হত। কিন্তু, চাইছিলাম এমন কিছু দিয়ে শুরু করি, যেটা আজীবন সবাই মনে রাখবেন। এভাবে হিমালয় চুড়োয় যে উঠে যাব একলাফে, সত্যিই কল্পনাতেও ছিল না। তাই সবাইকে কাজ পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। কলকাতাতেও তাই-ই। দরকারে তাঁরা আমায় বাদ দিতেও পারেন। ফেলুদা করার পর আমার যদি অভিনয় থেমেও যায়, একটুও আক্ষেপ করব না।




বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement