হোমমিউজিক

কথোপকথন একটি আর্ট। গানের কথা হল এরই এক শৈল্পিক সম্প্রসারণ: রূপম ইসলাম

  | July 29, 2018 11:37 IST (কলকাতা)
Rupam Islam

তাঁকে নিয়ে বাজারে ঘুরে বেড়ায় প্রচুর কাহিনী। অথচ কথা বলতে বলতে মনে হয়, কেবল গায়ক বা কাহিনীর নায়ককে ছাপিয়েও তিনি যেন আসলে এক অশ্বমেধের ঘোড়া। আজ সেই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব। শুনলেন বোধিসত্ত্ব ভট্টাচার্য।

যা কিছু চিরচেনা ও অতি গতানুগতিক,  তার ওপর কুঠারের ওঙ্কারধ্বনি যেন তিনি নিজেই। গত প্রায় দু'দশক ধরে তাঁর মতো  এপার বাংলার আর কোনও  শিল্পী অন্তত দুটো প্রজন্মকে সম্পূর্ণ বুঁদ করে রেখে প্রায় অলৌকিক এক মোহগ্রস্ততার  তুঙ্গে পৌঁছে দেওয়ার কিংবদন্তিসম কাজটি এত নিপুণ ও এত বিরতিহীনভাবে করে যেতে পারেননি। 'হাউজফুল' ও 'তাঁর শো'- এই দুটি শব্দ প্রায় এক যুগ ধরেই সমার্থক। তাঁকে নিয়ে বাজারে ঘুরে বেড়ায় প্রচুর কাহিনী। অথচ কথা বলতে বলতে মনে হয়, কেবল গায়ক বা কাহিনীর নায়ককে ছাপিয়েও তিনি আসলে এক অশ্বমেধের ঘোড়া। পণ্ডিত তন্ময় বোসের সঙ্গে তাঁর নতুন রিলিজ করা ইউটিউব অ্যালবাম 'গানের জন্ম' ইতিমধ্যেই ট্রেন্ডিং তালিকায় রয়েছে একদম উপরের দিকে। তিনি, রূপম ইসলাম। ফসিলসের পরের অ্যালবামটির কাজ শুরু হতে চলেছে আগামী রবিবার থেকে। তা নিয়ে তুমুল ব্যস্ততার মধ্যেই গান, গানের জন্ম ও আরও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বললেন  NDTV বাংলার সঙ্গে। আজ সেই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব। শুনলেন বোধিসত্ত্ব ভট্টাচার্য।

রূপম ইসলাম এখন কেমন আছেন?

আমি ভালো আছি। চমৎকার আছি।

একটি গানের জন্ম কীভাবে হয়? গানটা কি ওইভাবে জন্মায় নাকি গানটা আসলে থাকেই, আপনি কেবল সেটা খুঁজে নেন?


আপনি ঠিক বলেছেন। বড় সুন্দর বলেছেন। গানটা আসলে থাকেই। আমার কাজ হল সেই গানটিকে খুঁজে নিয়ে তার কাছে পৌঁছানো। এই কথাটি বব ডিলানও একবার বলেছিলেন। গানটা আসলে একটি অবস্থা। এটা কেমন জানেন তো? ধরুন আমি একটি রেডিও স্টেশন খুঁজে পাওয়ার জন্য সিগন্যালটা ঘোরাচ্ছি। এবার একটি সিগন্যাল অপর একটি সিগন্যালের সঙ্গে মিলে গেলেই আমি চ্যানেলটির কাছে পৌঁছে যাব। গানের ব্যাপারটিও সেরকম। 'গান' শব্দটি এখানে প্রতীকী। আসলে শিল্পের ব্যাপারটিই তো তাই। কবিতা হোক, গদ্য হোক, ছবি আঁকা হোক তা ঘটমান। এবং ক্রমবহমানও বটে। এক জায়গায় তা কখনওই থেমে নেই। জীবনের প্রত্যেকটি বাঁকে, প্রত্যেকটি মোড়ে সে নিজের অস্তিত্বটি নিয়েই দন্ডায়মান। একজন শিল্পী হিসাবে আমার কাজ সেই অস্তিত্বটির ভিতর, সেই সত্তাটির মধ্যে মগ্নভাবে প্রবেশ করা। আমাদের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপেই একটি করে গান থাকে। থাকে শিল্পও। আমাদের কেবল তা কুড়িয়ে নেওয়ার অপেক্ষা। ঠিক এই জায়গা থেকেই, এই ভাবনা থেকেই তৈরি হল ‘গানের জন্ম’।


 

আপনি তো একদম ছোটবেলা থেকেই বহু অনুষ্ঠান করতেন আকাশবাণী, দূরদর্শনের মতো জায়গায়। আপনার বাবা সুরকার নুরুল ইসলামের সঙ্গে। ঠিক কোন বয়সটা থেকে আপনি মঞ্চে পারফর্ম করতে আরম্ভ করেন?

শুধু আকাশবাণী বা দূরদর্শন নয়। আমি ওই সময় কলকাতার সমস্ত বড় অডিটোরিয়ামেই পারফর্ম করতাম। আপনি আমার বাবার নাম বললেন। উনি ছিলেন সুরকার। আমার মায়ের নামটাও একইরকম গুরুত্বপূর্ণ এই ক্ষেত্রে। তিনি ছন্দিতা ইসলাম। আমার মা ছিলেন গীতিকার। আমি চার বছর বয়সে প্রথম পারফর্ম করি স্টেজে।

খুব গতানুগতিক হয়ে যাবে হয়তো, তবু না জিজ্ঞাসা করে পারছি না, ওই সময়ের স্মৃতি আপনার কাছে ঠিক কতটা জায়গা নিয়ে রয়েছে? শিল্পী ঠিক কবে প্রথম পৌঁছে গেল শিল্পের দরজায়, সেটা মনে করে ডায়েরিতে লিখে রাখার মতো ব্যাপার তো সবসময় নয়। তার কারণ, মনেই থাকে না…

এক্ষেত্রে, আমার ব্যাপারটি কিঞ্চিৎ অন্যরকম। আমার মনে আছে। স্পষ্টভাবেই মনে আছে। আমার শুরুটা ভীষণ আনুষ্ঠানিক। আমি যখন প্রথম পারফর্ম করি মঞ্চে, তখন আমার বয়স চার বছর এগারো মাস। আমি খুব ছোটবেলা থেকেই রিহার্সাল রুমে ঢুকে পড়েছিলাম। আমি ওখানেই বসত করতাম। ওঁরা একদিন বললেন, আমাদের অনুষ্ঠান আছে। তুমি দিদার সঙ্গে থেকো। আমি সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবাদ করে বলেছিলাম যে, আমিও তোমাদের সঙ্গে স্টেজে উঠব। আমি দিদার সঙ্গে থাকব না। আর স্টেজে আমাকে যদি উঠতে দেওয়া না হয়, তাহলে আমি জোর করে উঠে যাব। আমাকে কেউ আটকাতে পারবে না। এই যে কথাটা বললাম, তা থেকে ওঁরা দুটো জিনিস বুঝতে পারলেন। প্রথমত, ওঁরা আমার ওই জেদটা থেকে বুঝলেন যে আমি স্টেজে উঠতে চাই। আর দ্বিতীয়ত, যেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, তা হল, আমি স্টেজে উঠে ঠিক কী করি, তা দেখার ব্যাপারেও আগ্রহী হলেন তাঁরা। ওঁরা একদম শেষ মুহূর্তে আমাকে একটি বাদ্যযন্ত্র কিনে দেন। সেটি ছিল একটি পারকশন ইনস্ট্রুমেন্ট। আমি একদিনের মধ্যেই  সেটি বাজাতে শিখে যাই। সেটি নিয়ে আমি স্টেজে উঠে গিয়ে ওঁদের সঙ্গে বাজিয়েছিলাম। এই প্রসঙ্গেই আরও যা বলার, ওই বয়সেই আমার বাজানোতে অভিভূত হয়েছিলেন দর্শকরা। বেশ প্রশংসিত হয়েছিল তা।

এটা কত সালের ঘটনা?

আমার তখনও পাঁচ হয়নি। জানুয়ারি মাস ছিল সেটা মনে আছে। আমার জন্মদিন পঁচিশে জানুয়ারি। তার আগেই।

উনিশশো উনআশি?

হ্যাঁ। উনআশি।

ফসিলসের শুরুটা তো উনিশশো আটানব্বই সালে?

আটানব্বই সালেই ফসিলসের শুরু। কিন্তু, আমরা সরকারিভাবে 9 জানুয়ারি 1999’কে ধরি। সেই হিসাবেই এই বছর কুড়িতে পড়েছে।

আপনার মঞ্চের কেরিয়ারের তো তাহলে চল্লিশ বছর হবে দু’হাজার উনিশ সালে…

হ্যাঁ। একদম ঠিক বলেছেন।

আপনি একবার একটি ইন্টারভিউতে বলেছিলেন, আপনি লিখতে যতটা স্বচ্ছন্দ, বলতে ততটা নয়…

এই কথাটি প্রেমের সম্পর্ক তৈরির বিষয়ে বলেছিলাম। আমি প্রেম নিবেদনের ক্ষেত্রে লিখতে যতটা স্বচ্ছন্দ, বলতে ততটা নই। কিন্তু, অন্য যে কোনও নিবেদনের ক্ষেত্রেই আমি লিখতে যতটা স্বচ্ছন্দ, বলতেও স্বচ্ছন্দ ঠিক ততটাই। আমি যে অনুষ্ঠান করি, শুধু যে লিখে অনুষ্ঠান করি, তা তো নয়। আমাকে ওখানে বলতেও হয়। আমি কথাপ্রবণ মানুষ। আমি কথা বলতে পারি। আমি কথা বলতে ভালোবাসি।

এই বলার যে কথা, তার নান্দনিকতা ও গানের নান্দনিকতা কি আপনার ক্ষেত্রে কোথাও গিয়ে একসঙ্গে মিশে যায়?

দেখুন, কথা তো একটি ফর্ম। ঠিক যেমন গানও একটি ফর্ম। ভালো গান তৈরির মতোই ভালো কথা বলতে পারাটাও খুব জরুরি বলে আমি মনে করি। দুটো আলাদা ফর্ম বলেই এরা দুজন সমান্তরাল পথ দিয়ে চলে। একে অপরের সঙ্গে মিশে যায় না। আর আমি যেটা সবসময়ই মনে করে এসেছি, লিরিক্স ইজ অ্যান এক্সটেনশন অব আওয়ার কনভার্সেশন। এই আইডিয়াটা আমি প্রথম পেয়েছিলাম সত্যজিৎ রায়ের গান রচনা দেখে।

সত্যজিৎ রায়?

হ্যাঁ। সত্যজিৎ রায়। তাঁর ছবির গানের মধ্যেই রয়েছে… ‘বাঘাদা, বাঘাদা, বলো হীরা নিলে কত শুনি’? উত্তরে বাঘা বলছে, ‘সময় কি আছে যে গুনী’? গুপী বলছে, ‘তবু কত শুনি’? ‘নিয়েছি যথেষ্ট’। ‘তবে আর নিয়ে কাম নাই, এবারে চলো পালাই’… এই যে একটা কনভার্সেশন চলেই যাচ্ছে… বা, ধরুন, ‘না না আর বিলম্ব নয়। এখনও মোদের শরীরে রক্ত রয়েছে গরম মেটেনি শখ তো, আছে যতো হাড় সবই তো শক্ত এখনো ধকল সয়…ঠিক এই কনভার্সেশনের পরেই যা আসছে, তা হল গান- চলো যাই ঘুরে, আসি প্রাণভরে…বা, তারও আগে, ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ ছবিটির দিকে যদি আমরা নজরটা ঘোরাই, কী দেখব? সেখানে রয়েছে ‘এক যে আছে রাজা’ গানটি। এই গানটি খুব মন দিয়ে লক্ষ করলে বুঝতে পারবেন, এটি আসলে অত্যন্ত নিপুণভাবে বোনা একটি কনভার্সেশন। এই যে গানের ভাষায় কনভার্সেশন, যেখানে গানটাই আসলে হয়ে উঠছে একটা ডায়লগ।

ool1eiog

এই যে একেবারে নতুন ও ঝকঝকে একটি আইডিয়ার নির্মাণ, গান রচনায় একটি তুখোড় ব্যতিক্রমী দৃষ্টি, এটি আমাকে খুব আকৃষ্ট করেছিল। মনে হচ্ছিল, এটা কী শুনছি আমি! এমনটা তো আগে কখনও শুনিনি! তার আগে আমি বহু রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনেছি। আমার কখনও সেটিকে কনভার্সেশন বলে মনে হয়নি। গান ও কথাকে একভাবে দেখার ব্যাপারটা রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনে কোনওভাবেই মনে হয়নি। বরং গান ও কথা যে একেবারেই আলাদা দুটো বস্তু, তা মনে হয়েছিল অনেক প্রবলভাবে।  এই যে অত্যন্ত সেরিব্রাল এক উপস্থাপনার মাধ্যমে সত্যজিৎ রায় ব্যাপারটাকে ভেঙে দিলেন, তা দেখে আমার প্রথম মনে হয়েছিল, আরে! গানটা তো আসলে জীবনেরই অংশ! জীবনের থেকে আলাদা কিছু তো এটা নয়! সেই সময় থেকেই আমি বিশ্বাস করি, গান হবে এমন, যা কখনওই আমার যাপনটির থেকে বিচ্ছিন্ন নয়।

আপনার শেষ বাক্যটির সূত্র ধরেই আমি পরের প্রশ্নে যাই। সত্যজিৎ রায় যে বছর মারা যান, সেই বছরই রিলিজ করে ‘তোমাকে চাই’। বিরানব্বই সালে। ইনফ্যাক্ট, একইদিনে রিলিজ করে। অদ্ভুত সমাপতন! একদম সাধারণ মানুষের যে জীবন, যে রোজকার লড়াই, তার এক অত্যাশ্চর্য ও সুন্দরতম উত্থান ঘটেছিল, বাংলা গানের ক্ষেত্রে, সুমনের গানের মধ্য দিয়ে…

হ্যাঁ, এই প্রসঙ্গটিতে যাওয়ার আগে একটি কথা বলে নিই, বিরানব্বইতে আমার মা’ও মারা যান। এটিও একটি সমাপতন। আমার মা ছিলেন আমাদের পরিবারের একমাত্র গীতিকার। মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই আমি প্রথম গান লিখতে আরম্ভ করি। তার আগে গাইতাম। সুর করতাম। কবিতাও লিখতাম। কিন্তু, গান লিখতাম না। মায়ের মৃত্যুর পর আমাদের পরিবারে গান লেখার যে চর্চাটা ছিল, তা বন্ধ হয়ে গেল। ওই শূন্যস্থানটি পূরণের জন্যই প্রথম গান লিখতে আরম্ভ করি আমি, বিরানব্বই সালেই। এবার প্রথম গান লিখতে শুরু করার সময় আমি কিন্তু সুমনকে শুনিনি। প্রথম ওই ধরনের গানকে শুনেছিলাম এবং একটা দিশা পেয়েছিলাম যার মাধ্যমে, সেটি বাংলাদেশের একটি ব্যান্ড। নাম- ফিডব্যাক। ঠিক এক বছর বাদে আমি প্রথম সুমন শুনি।

আপনাকে কি তা কোনওভাবে প্রভাবিত করেছিল?

ভীষণভাবে। আমার মায়ের মৃত্যুর পর থেকে সুমনের গান প্রথম শোনা- এই সময়কালটির মধ্যে আমি প্রায় একশোটি গান রচনা করেছিলাম। সুমনের গান শোনার পর বুঝতে পারি, আমার গানগুলো ঠিকভাবে রচিত হয়নি। গানে যে অনন্যসাধারণ ভাষা নিয়ে এসেছিলেন সুমন, সেই ভাষাটিই আসলে আধুনিক সময়ের ভাষা। উনি আমাদের ওই সময় দেখিয়ে দিয়েছিলেন যে, বাংলা ভাষাটি দিয়ে ঠিক কী করা সম্ভব। সুমন শোনার পর আমি নিজেকে পরিমার্জন করি। ওই প্রথম লেখা একশোটি গানকে বাতিল করে দিই। তার মধ্যে কিছুই যে পরে ব্যবহার করিনি, তা নয়। কিছু করেছি। কিন্তু পরিমার্জন করেই ব্যবহার করেছি। সুমন শোনার পর প্রথম বুঝতে পারলাম, আমার নিজেকে আরও ধারালো করে তুলতে হবে… তাঁর গান শুনেই প্রথম বুঝতে পারি যে, আরও ধারালো না হলে গান লিখে লাভ নেই। এবার সুমন কতটা আলাদা…

uhcfj9pg

বা, কোথায় গিয়ে আলাদা…

হ্যাঁ। কোথায় গিয়ে আলাদা। দেখুন, আমাদের দৈনন্দিন জীবন যে সুমনের আগে বাংলা গানে ছিল না, তা নয়। ছিল। বেশ ভালোভাবেই ছিল। সলিল চৌধুরীর গানে, ভূপেন হাজারিকার গানে, ক্যালকাটা ইয়ুথ কয়্যারের গানে… কিন্তু, সুমনে তা যেন কোথাও গিয়ে একটা পূর্ণতা পেল। সুমন চিরাচরিত ধারা থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে গিয়েও এতটা নির্মম সময়ানুগ হলেন, যার ফলে আমাদের মনে হতে লাগল, এতদিন যা কিছু হয়েছে, তা যেন আসলে আদিম ছিল। সেই আদিমতার যা যা প্রবণতা ছিল, সেগুলির ফাটলের মধ্য দিয়ে ঢুকেই সুমন যেন নির্মাণ করলেন এক মায়াবী আধুনিকতা। যা, তার আগে ছিল না। আরও একটি বিষয়, যা কখনওই বাংলায় তার আগে ছিল না, তা হল গানের ওইরকম পরিবেশন। বাংলাতে ওই পরিবেশনের কোনও পূর্বপ্রকাশ আমি দেখিনি…

 

( এই সাক্ষাৎকারের পরবর্তী পর্ব আগামী রবিবার )


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement
Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com