হোমমিউজিক

কিশোর কুমার জনপ্রিয় হতেই দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছিলেন মহম্মদ রফি?

  | July 31, 2019 12:30 IST
Mohammed Rafi

প্যাথোজ আর রোমান্টিসিজমে মোড়া রেওয়াজি কণ্ঠের মালিক রফি সাহাব

১৯৮০-র ২৪ জুলাই চলে যান মহানায়ক। ওই বছরের ৩১ জুলাই, অর্থাৎ আজকের দিনে একবুক অভিমান নিয়ে বিদায় নেন মহম্মদ রফি

১৯৮০-র ২৪ জুলাই চলে যান মহানায়ক উত্তমকুমার। ওই বছরের ৩১ জুলাই, অর্থাৎ আজকের দিনে একবুক অভিমান নিয়ে বিদায় নেন মহম্মদ রফি (Mohammed Rafi)। ‘একবুক অভিমান' কথাটি ইচ্ছে করেই ব্যবহৃত। কারণ, শেষের দিকে প্যাথোজ আর রোমান্টিসিজমে মোড়া রেওয়াজি কণ্ঠের মালিক রফি সাহেবকে অনেক অপমান সহ্য করে চলে যেতে হয়েছিল (Death Annivarsery)। সেই অজানা কথা আজকের NDTV-র পাতায়। শিল্পীর চলে যাওয়াকে স্মরণ করে---

অডিশনে সিলেক্ট হওয়ার পরে হাঁটু কাঁপছিল: অঙ্কিতা ভট্টাচার্য

সময়টা ১৯৭০। শক্তি সামন্তের ‘আরধনা' রিলিজ করেছে। রাহুল দেব বর্মন-কিশোর কুমার (Rahul  Dev Burman-kishore Kumar) ম্যাজিকে বুঁদ সঙ্গীত দুনিয়া। রাজেশ খান্নার (Rajesh Khanna) যুগ শুরু। ছবিতে মহম্মদ রফির-ও গান ছিল একটা--- ‘বাগো মে বাহার হ্যায়।' সেই গানও জনপ্রিয়। তবে কিশোরের গানের মতো নয়। কিশোর উন্মাদনায় রফি তখন অনেকটাই কোণঠাসা। স্টুডিও-য় গেলে নাকি রীতিমতো অপমানজনক আচরণ করা হচ্ছিল তাঁর সঙ্গে। যে-কোনও গান গাইতে দেওয়া হচ্ছিল। যা রফি-র জঁরেরই নয়। বরাবরের ভীষণ মৃদুভাষী, আপাদমস্তক ভদ্র রফি মুখ বুঁজে তাই-ই গেয়ে যাচ্ছেন। এদিকে নিজের আত্মবিশ্বাস (confidence) ক্রমশ তলানিতে এসে ঠেকছে শিল্পীর। সেই ছাপ পড়ছে তাঁর গানেও।

দিনের পর দিন এই ধরনের ব্যবহার পেতে পেতে যখন ক্লান্ত রফি সাহেব, তখনই বিষয়টি কানে গেল সুরকার নৌসাদ সাহেবের (Nousad)। যাঁর সুরে ১৪৯টি গান রফি গেয়েছিলেন। যার মধ্যে ৮১টি একক গান। ঘটনা কানে যাওয়ার পর নৌসাদ নিজে একদিন এলেন বান্দ্রার মেহবুব স্টুডিও-য়। চুপচাপ পেছনের সারিতে বসে দেখলেন সবটা। দেখলেন, সবাই কীভাবে হেনস্থা করছে রফি সাহেবকে। আর শিল্পী মাথা নীচু করে, মুখ বুঁজে সহ্য করছেন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। যেমন চুপচাপ এসেছিলেন, তেমনি ভাবেই বেরিয়ে গেলেন নৌসাদ। শুধু যাওয়ার আগে স্টুডিও-র একজনকে ডেকে বলে গেলেন, 'রেকর্ডিং হয়ে যাওয়ার পর রফিকে আমার বাড়িতে একবার আসতে বল তো।'


রেকর্ডিং শেষে রফি ভিলা-য় পৌঁছোনোর আগে রফি সাহেব গেলেন আশিয়ানা-য়। ওটিই নৌসাদ সাহেবের বাড়ি। সুরকারের মুখোমুখি হতেই রফিকে কষে ধমক লাগালেন নৌসাদ। বললেন, 'ওরা তোমায় হুকুম করতে পারে কেন? ওরা না হয় জানে না রফি কে, কিন্তু তুমি তো জান তুমি কী! তারপরেও ওদের সব কথা মুখ বুঁজে হজম করছ? সব দু-দিনের গায়ক আর দু-দিনের সুরকার! তোমার ওপরে ছড়ি ঘোরাচ্ছে আর তুমি সব মেনে নিচ্ছ! তোমার মতো ওর গলা রেওয়াজি? শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নিয়েছে? কেন ভয় পাচ্ছ ওকে? ও অন্য ধারার। তুমি অন্য ধারার। তোমার মতো করে তুমি গান কর। এভাবে অবসাদে ডুবে যেও না।'

Birthday Special: বিয়েবাড়িতে গান গেয়ে সংসার চালাতেন সোনু নিগম!

তারপরেই তিনি মহম্মদ রফির অপমানের জবাব দিতে শিল্পীর জন্য বানালেন 'মাই ফ্রেন্ড' ছবির একটি গান, 'নয়না মেরি চলতি যায়ে, সাহারে তেরি বঢ়তে যায়ে'। বিশুদ্ধ রাগ ভৈরবীতে বাঁধা এই গান শ্রোতারা হইহই করে শুনলেন। ঠিক সেই সময়েই রফির নাম নির্বাচিত হল সেরা গায়ক হিসেবে। অনিল ধাওয়ানের 'হাওয়াস' ছবিতে ব্যবহৃত শাওন কুমারের লেখা, ঊষা খান্নার সুর দেওয়া 'তেরি গলিও মে না রাখেঙ্গে কদম আজ কে বাদ' গানের জন্য। 

অনুষ্ঠানের দিন ব্যাকগ্রাউন্ডে এই গান বাজছে। রফি ধীর পায়ে মঞ্চে উঠলেন। সেরা গায়ক হিসেবে ঘোষণা হল তাঁর নাম। হাততালিতে ফেটে পড়ল সভাগৃহ। রফি সাহেবকে অকারণে অপমান করা ছোট মনের মানুষেরা চুপ। মুখ নয়, গানে গানে রফি সেদিন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলেন, সত্যিকারের ভদ্র এবং কাজ জানা মানুষেরা মুখে নয়, জবাব দেয় কাজে!





বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement
Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com