হোমমিউজিক

'নাইট ক্লাব সিঙ্গার হয়ে কোনও আপশোস নেই': ঊষা উত্থুপ

  | September 20, 2019 07:54 IST (কলকাতা)
Usha Uthup  

গানের দুনিয়ায় ৫০ পার 'দিদি' ঊষা উত্থুপের

সাল ১৯৬৯। কলকাতার ট্রিঙ্কাস বারে নতুন এক রাত-গায়িকা পা রেখেছেন। ইষৎ ভারী চেহারা, লম্বা। আর হাস্কি, ভারী ভয়েস। এলেন, দেখলেন আর ওই ভারী গলার গান দিয়েই ঝড় তুললেন নাইট ক্লাবের রাতজাগানিয়াদের বুকে।

সাল ১৯৬৯। চেন্নাইয়ের এক নাইট ক্লাবের নিয়মিত গান গান তিনি। পরে সেখান থেকে এসে ১ অক্টোবর কলকাতার ট্রিঙ্কাস বারে নতুন এক রাত-গায়িকা ( night club singer) পা রাখলেন। ইষৎ ভারী চেহারা, লম্বা। আর হাস্কি, ভারী ভয়েস। এলেন, দেখলেন আর ওই ভারী গলার গান দিয়েই ঝড় তুললেন নাইট ক্লাবের রাতজাগানিয়াদের বুকে। তিনি আর কেউ নন, উষা উত্থুপ ( Usha Uthup)। কলকাতার ‘দিদি'। যিনি পরে গানে গানে জানিয়েছেন, পথেঘাটে তাঁকে কেউ দিদি বলে ডাকলে বড় খুশি হন। সদ্য তিনি পার করলেন গান-জীবনের ৫০ বছর (50th year)।

Durga Puja 2019: পুজোয় শ্রোতাদের অনুপম-উপহার, ‘বৃষ্টি থেমে গেলে'

শহর তখনও শিক্ষিতমনস্ক হয়ে ওঠেনি। নাইট ক্লাব ডান্সার বা বার ডান্সাররা সমাজে অছ্যুত। তারই মধ্যে নাইট ক্লাবের গানের জগতে ঊষা যেন নতুন সকাল আনলেন। পৃথুলা শরীর কাঞ্জিভরম জড়ানো। মাথায় ফুল। হাত ভরে কাচের চুড়ি। আর কপালে 'ক' লেখা সিকি সাইজের টিপ। এই সাজেই গায়িকা তৈরি করলেন নয়া ট্রেন্ড।

নিতানন্তই পেটের দায়ে নাইট ক্লাবে গান গাইতে আসা সেই মেয়ে যে ভবিষ্যতে ১৬টি ভারতীয় ভাষায়, আর ৮টু বিদেশি ভাষয় গান গেয়ে মাতিয়ে দেবেন দুনিয়া, কে জানত! মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে ঊষা কিন্তু এর জন্য পুরো কৃতিত্বই দিলেন নাইট ক্লাবের গানকে। ঊষা উবাচ, 'এই গান করেই আমি উঠেছি। পরিচিতি পেয়েছি। এবং ছবিতে নেপথ্য গানের সুযোগ পেয়েছি। স্টুডিওয় একটা গান অনেকবার রিটেক করা যায়। লাইভ পারফরমেন্সে প্রথমেই বাজিমাত করতে হবে। আমি সেটা পেরেছি। তাই আজ সবাই আমাকে, আমার গানকে ভালোবাসেন।'

Durga Puja 2019: ‘জনপ্রিয়তা যেন উন্নতির বাধা না হয় রাণুর': কুমার শানু


একসময় এই গায়িকার জীবনেও দিনবদলের পালা এসেছে। মুম্বই থেকে ডাক পেয়েছেন প্লে-ব্যাক করার। 'হরি ওম হরি', 'ওয়ান টু চা চা চা' গানের দৌলতে ঊষা জনপ্রিয়তার মধ্যগগনে। সেই স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে ৭১ বছরের চিরযৌবনার মত, একটা করে গান হিট হত, মুম্বইয়ে ৩২৫টি করে শো করার ডাক পেতাম। মঞ্চে উঠে গান গাইবার মজাই আলাদা ছিল। দর্শক-শ্রোতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হয়ে যেত। ওঁরা গানের তালে নাচলে আমার উৎসাহ বাড়ত। ওঁরা চুপ করে বসে থাকলে টেনশন হত, তাহলে কি ঠিক ভাবে মনোরঞ্জন করতে পারছি না!

এরই পাশাপাশি আরও একটি বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন তিনি। ৬৯-এ ট্রিঙ্কাসে তিনি গেয়েছিলেন বিশ্বকবির বিখ্যাত গান, 'পুরানো সেই দিনের কথা।' সেখানে বসে সেই গান কারা কারা শুনেছিলেন জানেন? জ্যোতি বসু, সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বরা। সেই কথা বলতে বলতে গলা ধরে এসেছিল ঊষাদিদির, 'আমিই প্রথম মিথ ভেঙেছিলাম যে, নাইট ক্লাবেও ঠিক মতো পরিবেশন করতে পারলে রবীন্দ্রসঙ্গীতও গাওয়া যায়। তাও আবার গিটারের সঙ্গে। সেদিন সবাই উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে আমায় সাধুবাদ জানিয়েছিলেন।'

‘ভালোবাসার আখড়া' বসাতে আসছে ‘খ্যাপা'

বলিউডের অমিতাভ বচ্চন, বাংলার ম্যাটিনি আইডল উত্তমকুমার, সুপ্রিয়া দেবী, বিশ্ববরেণ্য পরিচালক সত্জিৎ রায় কতবার ট্রাঙ্কাসে এসে গান শুনে গেছেন রাত-গায়িকার। ২০১১ সালে সেরা গায়িকার সম্মান পান ঊষাজি, 'সাত খুন মাফ' ছবিতে গান গেয়ে। ঊষাজির কথায়, সেসময় নাইট ক্লাব কিন্তু ভীষণ ভদ্র ছিল। অনেকেই পরিবার নিয়ে গান শুনতে আসতেন। কলকাতার দিদির শিল্পী জীবনের ৫০ বছর পূর্তির পাশাপাশি ট্রিঙ্কাসের এবছর ডায়মন্ড জুবিলি ইয়ার। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে পিছনের দিকে তাকালে কী মনে হচ্ছে দিদির? গানে গানে দিদি জানালেন, 'তবু তুমি সুন্দরী কত, কলকাতা!' সঙ্গে যোগ করলেন, 'নাইট ক্লাব সিঙ্গার হয়ে কোনও আপশোস নেই। সেদিন ট্রিঙ্কাস এই সুযোগ না দিলে ঊষা উত্থুপকে কে চিনত?'


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement