হোমরিভিউস

Film Review: জয়ং দেহি মিতিন মাসি

  | October 05, 2019 04:08 IST (কলকাতা)
Mitin Masi

মেয়েছেলে গোয়েন্দা আরও আসুন মেয়েদের বাঁচাতে

এতদিন শারদীয়া পুজোসংখ্যার বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রয়াত সাহিত্যিক সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ‘মিতিন মাসি’। গোয়েন্দা থ্রিলার মেকিংয়ে মাস্টারপিস পরিচালক অরিন্দম শীলের সৌজন্যে এবছরের পুজোয় তিনি বড়পর্দায় জ্যান্ত।

ছবি: মিতিন মাসি

পরিচালকঅরিন্দম শীল

অভিনয়: কোয়েল মল্লিক, জুন মালিয়া, শুভ্রজিৎ দত্ত, রিয়া বণিক, অনির্বাণ চক্রবর্তী, বিনয় পাঠক

প্রযোজনা: ক্যামেলিয়া প্রোডাকশনস প্রাইভেট লিমিটেড


রেটিং : ৩.৫/৫

শুভারম্ভ: এতদিন শারদীয়া পুজোসংখ্যার বিশেষ আকর্ষণ ছিল প্রয়াত সাহিত্যিক সুচিত্রা ভট্টাচার্যের ‘মিতিন মাসি' (Mitin Masi)। গোয়েন্দা থ্রিলার মেকিংয়ে মাস্টারপিস পরিচালক অরিন্দম শীলের (Arindam Sil) সৌজন্যে এবছরের পুজোয় তিনি বড়পর্দায় জ্যান্ত। ‘হাতে মাত্র তিনদিন' উপন্যাস অবলম্বনে দুর্গাপুজোয় নারীশক্তি বন্দনায় এবং একাধিক পুরুষ গোয়েন্দাদের পর্দায় আনার পর দর্শকদের (সম্ভবত নিজেরও কি!) চোখ এবং মনের স্বাদ বদলাতে অরিন্দমের এই বিশেষ পুজো উপহার।

দু-মলাট বনাম রুপোলি পর্দা: সুচিত্রা ভট্টাচার্যের মিতিন মাসি ছিলেন একটু বেশি ঘরোয়া। সঙ্গে প্রচণ্ড বুদ্ধিমতী। মার্শাল আর্ট জানতেন না। কিন্তু নানা বিষয়ে অগাধ জ্ঞান। স্বামী পার্থ, ছেলে বুমবুম আর বোনঝি নুপূরকে নিয়ে তাঁর সংসার, গোয়েন্দাগিরি। এবং রান্নাবান্না তাঁর প্যাশন। একুশে এসে সেই মিতিন মাসির একটু তো ঘষামাজা হবেই। তাই তিনি তাইকোন্ড-এ ব্ল্যাক বেল্ট। একাই পাঁচ-ছয় গুণ্ডাকে হাসতে হাসতে ঘায়েল করতে পারেন। শাড়ি কম, প্যান্ট-শার্টে স্মার্ট বেশি। ছবিতে তিনি সন্তানহীন। তাই পার্শী কোটিপতি ব্যবসায়ী রুস্তমজি জরিওয়ালার আট বছরের ছেলে রৌনক ওরফে রনি কিডন্যাপ হলে তিনি ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। তাঁকে একটা সময়ের পর গোয়েন্দাগিরি থেকে জরিওয়ালা দম্পতি নিরস্ত করতে চাইলেও মিতিন রনির কচি মুখ মনে করে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেন না। এবং শেষমেশ জয় মেয়েছেলে গোয়েন্দার!

এ বলেন আমায় দেখ, ও বলেন আমায়: কোয়েল মল্লিক, জুন মালিয়া, শুভ্রজিৎ দত্ত, রিয়া বণিক, অনির্বাণ চক্রবর্তী, বিনয় পাঠক---ছবি জুড়ে এঁরাই রাজপাট চালিয়েছেন। শুভ্রজিতের স্বাভাবিক অভিনয় তাঁর অভিনয় জীবনের ইউএসপি। সেই ক্ষমতা এখানেও বর্তমান। জুন মালিয়া লীলা জরিওয়ালা। পার্শী কাজ করা শিফন শাড়িতে যেমন স্নিগ্ধ সুন্দরী তেমনি ছেলের নিখোঁজ হওয়ার খবর পেতেই মায়ের উতলা অভিব্যক্তিতে নিখুঁত। রিয়া বণিক টুপুর হয়েছেন খুব সুন্দর ভাবে। মিতিনের পুলিশকর্তা দাদা 'অনিশ্চয়দা'র ভূমিকায় অনির্বাণ চক্রবর্তী যথাযথ। এবার আসব বিনয় পাঠকের কথায়। ছবিতে তাঁর চরিত্রে একটুও অভিনয় করেননি মুম্বইয়ের এই অভিনেতা। বরং চরিত্রে ডুব দিয়ে মিশে গেছেন তার সঙ্গে। বাংলা-হিন্দি মেশানো সংলাপ, অভিব্যক্তি---দর্শক মনে রাখবে বহুকাল। বাকি মিতিন। ছবির শুরুতেই কোয়েলের স্টান্ট চমকে দিয়েছে দর্শককে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে অভিনয়ে তাঁর চোখের ব্যবহার। কোয়েলের সেকেন্ড ইনিংস সত্যিই আগের থেকে অনেক স্ট্রং। তাই পুজোর আবহে তাঁর কাছে একটাই চাওয়া, জয়ং দেহি মিতিন মাসি। বাকি 'শ্যামলদা' অরিন্দম শীল। ক্যামিও রোলে তাঁর অভিনয় দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, কেন আগের মতো ফুল ফ্লেজে অভিনয় করেন না অরিন্দম!

গান হেঁশেল: পণ্ডিত বিক্রম ঘোষ আবহ এবং গানে। মিতিনের সকাল শুরু হয় যোগাভ্যাসে। পুরোন গ্রামোফোন রেকর্ডে তখন সম্ভভত বাজছিল রাগ ভৈঁরো। একই ভাবে বৃষ্টির দিনে রশিদ খানের গলায় মল্লার রাগের গান মন ভরিয়ে দেয়। ক্লাইম্যাক্সে বিক্রমের তালবাদ্য ধ্রুপদী মাত্রা এনেছে।

এবং অরিন্দম: 'মেয়েছেলে গোয়েন্দা' এনে এভাবে পুজোয় সারপ্রাইজ দেবেন ভাবা যায়নি। অরিন্দমের হাতে চরিত্ররা বাস্তব হয়ে ওঠে, আমরা তাঁর 'ব্যোমকেশ' বা 'শবর'-এর ক্ষেত্রে দেখেছি। টিম 'মিতিন'ও তাই-ই। শুভ্রজিতের মুখের 'দেশে তো চৌকিদার এসে গেছে, তোমার আর কাজ কি' সংলাপ দর্শকরা উপভোগ করেছেন। 'মেয়েছেলে গোয়েন্দা' কথাটা তো সবার মুখে মুখে ফিরছে। তাই অরিন্দমের কাছে আবদার, শবরের মতো মিতিন মাসির ফ্র্যাঞ্চাইজি-ও হবে তো?  




বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement