হোমরিভিউস

নেটওয়ার্ক রিভিউ: এভাবেই সিনে দুনিয়া জুড়ে অপরাধের জাল বিছোয় ‘নেটওয়ার্ক’

  | June 29, 2019 16:32 IST
Network

নেটওয়ার্ক-এর জালে আটক সিনে দুনিয়ার সব্বাই

এক গল্প নিয়ে নাম বদলে ছবি বানানোর অভিযোগ এনেছেন শহরের এক জনপ্রিয় পরিচালক জুটি। তাঁদের দাবি, তাঁদের গল্পকে সামান্য এদিকওদিক করে, অন্য নামে আরেকটি ছবি বানাচ্ছেন তাঁদের সঙ্গ ছেড়ে যাওয়া এক প্রযোজক। যিনি তাঁদের গল্প জানতেন। কাকে, কাস্ট করা হবে সেটাও। তারপরেই তিনি নাকি নিজের প্রযোজনা সংস্থা খুলে, আরেক পরিচালককে দিয়ে একই স্বাদের গল্প বানাচ্ছেন।

পরিচালক: সপ্তাশ্ব বসু

অভিনয়: সব্যসাচী চক্রবর্তী, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, দর্শনা বণিক, রিনি ঘোষ, ইন্দ্রজিত মজুমদার।

প্রযোজনা: নিও স্টুডিও

রেটিং: ২.৫


গৌরচন্দ্রিকা--- কী কাকতালীয় ব্যাপার দেখুন! আজকেই কলকাতার একটি প্রথম সারির দৈনিকে বেরিয়েছে খবরটা। বিনোদনের পাতায়। ছবির গল্পের স্বত্ব বিক্রির টাকা থেকে বঞ্চিত লেখিকা। এই অভিযোগ প্রয়াত লেখিকার স্বামীর। অন্যদিকে, এক গল্প নিয়ে নাম বদলে ছবি বানানোর অভিযোগ এনেছেন শহরের এক জনপ্রিয় পরিচালক জুটি। তাঁদের দাবি, তাঁদের গল্পকে সামান্য এদিকওদিক করে, অন্য নামে আরেকটি ছবি বানাচ্ছেন তাঁদের সঙ্গ ছেড়ে যাওয়া এক প্রযোজক। যিনি তাঁদের গল্প জানতেন। কাকে কাস্ট করা হবে সেটাও। তারপরেই তিনি নাকি নিজের প্রযোজনা সংস্থা খুলে, আরেক পরিচালককে দিয়ে একই স্বাদের গল্প বানাচ্ছেন। আর এই বিষয় নিয়েই গতকাল শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে একদম আনকোরা পরিচালক সপ্তাশ্ব বসুর (Saptaswa Basu) প্রথম ছবি নেটওয়ার্ক (Network)!

সিনেমার মধ্যে সিনেমা--- গল্পকার-পরিচালক অভিজিত গাঙ্গুলি একসময় ইন্ডাস্ট্রিতে রাজত্ব করতেন। সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে ক্ষয় ধরেছে তাঁর অস্তিত্বে। মনের ক্ষয়, কখন যেন বাসা বেঁধেছে শরীরেও। টেরই পাননি অভিজিত। যখন জানতে পারলেন, শেষের সেদিন সামনেই, ঠিক করলেন নেভার আগে শেষবারের মতো জ্বলে উঠে প্রমাণ করে যাবেন, তিনি মরেও মরেন নাই! 

সুনীল শেট্টির মেয়ে আথিয়ার সঙ্গে জোরদার প্রেম করছেন এই ক্রিকেটার! সত্যি?

সেই বাসনা থেকেই তিনি শুরু করেন তাঁরই লেখা একটি গল্প নিয়ে ছবি। যেটি ভৌতিক এবং সায়েন্স ফিকশনের ককটেল। কিন্তু কাজ করবেন ঘোষণা করতেই নানা মুনির নানা মতের মতোই আছড়ে পড়তে লাগল ব্যঙ্গোক্তি। কেউ বলছে, সুপারফ্লপ করবে। কেন ছবি করতে আসছে! কেউ বলল, ছাড় তো, দু-দিনের নাটক। তার থেকেও বড় পথে কাঁটা প্রযোজক অরিন্দম চক্রবর্তী। দু-জনের সম্পর্ক বরাবরই আদায়-কাঁচকলায়। তিনিই অভিজিতকে সরাসরি প্রস্তব দিলেন পরিচালনা-প্রযোজনা আমার। ছবিতে নাম থাকবে আপনার গল্পকার হিসেবে। ছবিটা দিয়ে দিন। কিন্তু নিজের সন্তানকে কী করে কেউ অন্যের হাতে তুলে দেয়!

নানা পরিস্থিতির সঙ্গে লড়তে লড়তে যখন কাজ প্রায় শেষের পথে আচমকাই অভিজিত একটি চ্যানেলে দেখলেন, তাঁরই গল্প, লোকেশান, গান নিয়ে হুবহু আরও একটু ছবি আসছে। শুধু বদলে গেছে পরিচালক, অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। বেলাশেষে এই সর্বনাশ কে করল অভিজিতের? কী করে নিজেকে প্রমাণ করবেন তিনি? সিনে দুনিয়ার এই জাল ছিঁড়ে আদৌ বেরোতে পারবেন তো অভিজিত? এই সব জানাতেই তো মুক্তি পেয়েছে নেটওয়ার্ক।

প্লাস পয়েন্ট---- এমন গল্প যে ছবির বিষয় সেই ছবির থেকে এক্সপেকটেশন আলাদা। তার ওপর পয়লা ছবিতেই সপ্তাশ্ব বাজি মেরেছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়-সব্যসাচী চক্রবর্তীকে পর্দায় লড়িয়ে দিয়ে। একজন জনপ্রিয় পরিচালক যখন আচমকাই ম্লান যান সময়ের ধুলোয় তখন তাঁর সেই যন্ত্রণা সারাটা ছবিতে অদ্ভুত ভাবে বয়ে বেরিয়েছেন শাশ্বত। রোগের খবর শুনে ভেঙে পড়েছেন। মেয়ের কথা মনে করে মনে মনে ভিজেছেন। আর ঘুরে দাঁডা়নোর পণ নিয়ে আবার যখন লাইমলাইটে তখনও গর্জে ওঠা বাঘের মতোই দৃপ্ত জেশ্চার-পশ্চার তাঁর। সব্যসাচী চক্রবর্তীকে এতদিন ফেলুদা হয়ে ভিলেন ঢিট করতে দেখেছেন। তিনি যখন ভিলেন হন, তখন কতটা ভয়ঙ্কর তিনি? এই ছবি যেন তার জ্বলন্ত প্রমাণ। দু-জনের একজনও অভিনয়ের সময় কেউ কাউকে এক ইঞ্চি ফ্রেম ছাড়েননি। এই দ্বৈরথ দেখার মতো। আলাদা করে ভালো লেগেছে ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বাকিরা যথাযথ। 

কবে বন্ধ হবে শিশুশ্রম? উত্তর দেবে ‘এক যে ছিল খোকা'

কিন্তু, পরন্তু--- এত স্কোপ পেয়েও কিছু কিছু জায়গায় চিত্রনাট্য একটু যেন ঢিলে। অভিজিত গাঙ্গুলি ছবি করতে মরিয়া। কিন্তু না দেখেশুনে কাগজে সই করে দেবেন তা-বলে। কেন? নতুন ইপি তাঁকে এতটাই ইম্প্রেসড করেছেন? নাকি গল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য! ইপি হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন আলট্রা মড রিনি ঘোষ বেশ ভালো। কিন্তু আলট্রা স্মার্টনেস দেখাতে গিয়ে কোথাও কোথাও সামান্য লাউড। গানগুলো মন্দ শুনতে নয়। তবে গল্পে গতি চাইলে এসব না থাকলেও চলত।

শেষ কথা---- কিন্তু, পরন্তুর পরেও একটা কথা স্বীকার করতেই হবে, সহজ কথা যেমন যায় না বলা সহজে তেমনি সহজ করে গল্প বলাও বেশ কষ্টের। সপ্তাশ্বের প্রথম ছবি সেটা অনেকটাই করে দেখিয়েছে। আগামী দিনেও এই গুণ ধরে রাখতে পারলে সপ্তাশ্ব, আপনি থাকবেন স্যার!!


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement