হোমরিভিউস

Review Pareenita’: অনেকটাই পরিণত রাজের ‘পরিণীতা’

  | September 08, 2019 21:07 IST (কলকাতা)

'পরিণীতা'য় পরিণত 'রাজশ্রী'

স্কুললাইফ অনেক কাল আগের কথা। বেণি দুলিয়ে, পিঠে ব্যাগ নিয়ে আড় নজরে পাড়ার পছন্দের দাদাকে মাপা, তাকে নিয়ে গসিপিং যেন অতীত জীবনের কাহিনি আপনার আমার জীবনের।

ছবি: পরিণীতা

পরিচালকরাজ চক্রবর্তী

অভিনয়: ঋত্বিক চক্রবর্তী, শুভশ্রী, বিশ্বজিৎচক্রবর্তী, তুলিকা রায়, লাবণী সরকার গৌরব চক্রবর্তী, আদৃত রায়, ফলক রশিদ

প্রযোজনারাজ চক্রবর্তী এন্টারটেনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড


রেটিং: ৩/৫

ট্যাগ লাইন: লাল ফিতে, সাদা মোজা, স্কুল স্কুল ইউনিফর্ম...

স্কুললাইফ অনেক কাল আগের কথা। বেণি দুলিয়ে, পিঠে ব্যাগ নিয়ে আড় নজরে পাড়ার পছন্দের দাদাকে মাপা, তাকে নিয়ে গসিপিং যেন অতীত জীবনের কাহিনি আপনার আমার জীবনের। এমনকি আজকের প্রজন্মও বোধহয় এমন হাবুডুবু খেতে খেতে প্রেম করে না। কিন্তু কখনও যদি সেই বসন্তবেলা ফিরে আসে? বাস্তবে ফেরার চান্স না থাকলেও পর্দায় তো ফিরতেই পারে। সেই অনুভূতি বহুদিন পরে ফিরল এই বিষয়ে মাস্টারপিস রাজ চক্রবর্তীর হাত ধরে।

পড়া ফেলে এক ছুট ছুট রাস্তার মোড়ে

এটাই মেহুল। পাড়ার বাবাইদা তার হার্টথ্রব। পড়ার ছুতোয় এবং ছুতোয়-নাতায় সে সারাক্ষণ বাবাইদার সঙ্গে খোঁজে। আর বাবাইদা পড়াশোনা দেখিয়ে দিয়ে গুরুদক্ষিণা নেয় ছাত্রীকে দিয়ে পিঠ-মাথা টিপিয়ে নিয়ে। মেহুলের জীবনে বাবাইদা তার বেঁচে থাকার রসদ। বাবাইদার জীবনে? টাটকা অক্সিজেন, পাড়ার ছোট্ট মেয়ে। এর বেশি না। এভাবেই রাজ চক্রবর্তীর বহু প্রতীক্ষিত ছবি পরিণীতা-র প্রথম অংশ জুড়ে আপনার-আমার জীবন থেকে হারিয়ে যাওয়া স্কুলবেলার গন্ধমাখা চেনা প্রেমের জানা গল্প।  সঙ্গে উত্তর কলকাতার ভীষণ পরিচিত সরু গলির গা-ঘেঁষা বাড়ি, ছাদে ছাদে চোখাচোখি, কার্নিশ বেড়ে এক বেড়ালের অন্য বাড়িতে অবাধ প্রবেশ। আর খাটো ফ্রক পরা, দুই বেণি দোলানো, কানে ছোট্ট সোনার রিং, পায়ে নুপূর পরা প্রাণবন্ত মেহুল। সবুজ বয়সের অবুঝ প্রেমের এই সরলতা দেখতে দেখতে যখন আপনি প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছেন আপনার মেয়েবেলা তখনই বাস্তবের মাটিতে আছাড়া। বাবাইদার আত্মহত্যা। এবং মেহুলের বদলে যাওয়া।   

এরপর বিষণ্ণ দিন বাজে না কোনও বীণ...

বাবাইদাকে হারিয়ে সত্যি বেসুরো হয়ে পড়ে মেহুল। চোখে চশমা এঁটে, কাধে ব্যাগ দুলিয়ে টাইম মেশিনে চড়ে দ্রুত স্কুল-কলেজের বেড়া টপকে ঢুকে পড়ে চাকরির দুনিয়ায়। তখনও তার সঙ্গী বাবাইদার স্মৃতি। এই স্মৃতি আঁকড়ে কী করে মেহুল কর্পোরেট হাউজে ঢুকল, বসকে বশ করল, বাবাইদার মৃত্যুর শোধ নিল----সবটাই রয়েছে আলো-আঁধারি ঢাকা প্রেক্ষাগৃহের রুপোলি পর্দায়।

তার কথা কেউ বলে না....

এতদিন ধরে এই অভিযোগ নীরবে-সরবে বলে এসেছেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। নায়িকা শুভশ্রী সম্পর্কে।সবাই শুধু শুভশ্রীকে ডলপুতুল বানিয়ে নায়কের পাশে সাজিয়ে রাখল। অভিনয়ের সুযোগ দিল না। ছবির প্রচারের সময় এই কথা তাঁর মুখে শোনা গেছে। সুযোগ পেয়ে প্রিয়াঙ্কা-পোদ্দার-অর্ণব ভৌমিকের গল্প নিয়ে ছবি বানিয়ে সেই অভাব অনেকটাই মেটালেন রাজ। কিন্তু গ্ল্যামারাস শুভশ্রীকে দেখানোর লোভ সামলাতে পারলেন কই! তাই দ্বিতীয়ার্ধ জুড়ে শুভ শুধুই সৌন্দর্যবিলাসী। বলতে দ্বিধা নেই, মেকআপহীন শুভ, শুভশ্রীর থেকে যেন বেশি আপনার। তবে শুভশ্রী কিন্তু দু-রকমের রূপেই নিজেকে প্রমাণ করতে পেরেছেন। সেদিক থেকে তিনি রাজের সত্যিই পরিণত পরিণীতা। ছবির প্রত্যেক চরিত্র নিজেদের ষোলআনা উজাড় করে দিয়েছেন। গৌরব চক্রবর্তীর মতো গ্ল্যামারাস বস হলে কোন মহিলা কর্মী না প্রেমে পড়বে! কিন্তু ঋত্বিক চক্রবর্তীকে নিয়ে না বললে পরিণীতা অসমাপ্ত। অনেক ধরনের চরিত্রে ঋত্বিক সাজিয়েছেন নিজেকে। সেই সব চরিত্রকেই ছাপিয়ে গেল বাবাইদা। শুভশ্রী-বাবাইদা জুটি যখন পর্দায় জমজমাট তখনই বাবাইদার ফুরিয়ে যাওয়া, একটা অভাব তৈরি করবেই দর্শক মনে।

বাকি ছবির গান। প্রেমের ছবিতে যেমন গান হওয়া উচিত তেমনটাই বানিয়েছেন অর্কপ্রভ মুখোপাধ্যায়। তাই যাঁরা পুরনো দিনে ফিরে যেতে চাইলে এতদিন গুনগুন করতেন নচিকেতা চক্রবর্তীর 'সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা...', তাঁরাই এবার হয়ত আনমনে গেয়ে উঠবেন 'প্রাণ দিতে চাই মন দিতে চাই সবটুকু ধ্যান তোমাকে দিতে চাই...তোমাকে!'


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement