হোমটলিউড

Flashback 2019: মাস-ক্লাস একাকার কোন ৫ বাংলা ছবিতে?

  | December 27, 2019 16:24 IST (কলকাতা)
Flashback 2019

সেরা ৫ বাংলা ছবি

শুধু বিনোদন নয়, বাঙালি দর্শক খুঁজছে বুদ্ধিদীপ্ত বিনোদন। ফলে, কনটেন্ট বা বিষয়ের ওপর পরিচালকেরা জোর দিচ্ছেন।

এক দশকে বদলেছে বাংলা ছবির ভাষা। এক দশকে বদলেছে দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গি। শুধু বিনোদন নয়, বাঙালি দর্শক খুঁজছে বুদ্ধিদীপ্ত বিনোদন। ফলে, কনটেন্ট বা বিষয়ের ওপর পরিচালকেরা জোর দিচ্ছেন। ২০১৯-এ দর্শকের এই চাহিদা আরও বেড়েছে। ফলে, সামাজিক বিষয় নির্ভর ছবি ‘গোত্র' যেমন রমরমিয়ে ছুঁয়েছে ১০০ দিন। দেশের রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী ‘ঘরে বাইরে আজ'-ও দর্শক নন্দিত। এবছর মোট ছবি মুক্তি পেয়েছে ৮০টি। তার মধ্যেই কমবেশি সব ছবিই দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেছে। NDTV সেই সমস্ত ছবির মধ্যে থেকে বেছে নিয়েছে সেরা ৫টি ছবি। দেখা না হলে দেখতে পারেন এগুলো---

গরমের ছুটিতে রূপকথা, শীতে প্রথম ঝলক

১. গোত্র--- ক্রমশ সমাজে কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন বাড়ির বয়স্করা। ছেলে-মেয়েরা চাকরি বা লেখাপড়া করতে দেশের বাইরে। তাঁরা কেয়ারটেকারের কেয়ারে। এদিকে খবরের কাগজ খুললেই চোখে পড়ে একাকী বৃদ্ধ বা বৃদ্ধার আত্মহত্যার ঘটনা। যার নেপথ্যে হয়ত সেখানকার প্রমোটার জড়িত। তেমনই একজন মুক্তি দেবী। যআঁক দেখভাল করে ঝুমা আর তারেক আলি। তারেক জেল ফেরত আসামী হলেও মুক্তি দেবীর ছোঁয়ায় মুক্তমনা। একসময় মৃত ছোট ছেলের শোক ভুলতে তাঁকে আপন করে নেন ছোঁয়াছুঁয়ি বাচিয়ে চলা মুক্তি দেবী। সমাজের প্রান্তবাসীদের গল্পের পাশাপাশি ছবিতে উঠে এসেছে সমাজের জাতপাতের অস্পৃশ্যতা। যা ক্রমশ ভাঙছে সমাজকে। সমাজের মানুষের মন। অনসূয়া মজুমদার, নাইজেল আকারা, মানালি মনীষা দে-র অভিনয়ের জোরে অনায়াসে ১০০ দিন পার করেছে গোত্র। কণ্ঠ ছবির পরেই নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাস্টার্স স্ট্রোক গোত্র। ছবির আইটেম সং রঙ্গবতী পুজো, বড়দিন হয়ে ইংরেজি নতুন বছরের সেলিব্রেশনেও পাড়ায় পাড়ায় বাজবে, সবার আশা। প্রযোজনায় উইন্ডোজ প্রোডাকশন।


i904lvdg


২. মিতিন মাসি--- গোয়েন্দা থ্রিলারে মাস্টারপিস অরিন্দম শীলের পুজো কালেকশন মিতিন মাসি। এই প্রথম কোনও 'মেয়েছেলে গোয়েন্দা' পর্দা কাঁপাল। মার্শাল আর্ট থেকে রান্নাবান্না জানা মিতিন মাসি উঠে এসেছেন সাহিত্যের পাতা থেকে। লেখক সুচিত্রা ভট্টাচার্যের  ‘হাতে মাত্র তিনদিন' উপন্যাস অবলম্বনে। আর সেই চরিত্রে মারাত্মক মানানসই কোয়েল মল্লিক। তাঁর যোগ্য সঙ্গতদার বিনয় পাঠক, শুভ্রজিৎ দত্ত, জুন মালিয়া প্রমুখ। দর্শকদের প্রসংশায় উৎসাহী অরিন্দম অলরেডি হাত দিয়েছেন মিতিন মাসির ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। শুভ্রজিতের মুখের 'দেশে তো চৌকিদার এসে গেছে, তোমার আর কাজ কি' সংলাপ দর্শকরা উপভোগ করেছেন। 'মেয়েছেলে গোয়েন্দা' কথাটা তো সবার মুখে মুখে ফিরেছে। পণ্ডিত বিক্রম ঘোষ আবহ এবং গানে।  ক্লাইম্যাক্সে বিক্রমের তালবাদ্য ধ্রুপদী মাত্রা এনেছে। প্রযোজনায় ক্যামেলিয়া প্রোডাকশন ্প্রাইভেট লিমিটেড।


7c8puogg


৩. রবিবার--- অতনু ঘোষের জাতীয় পুরস্কারজয়ী ছবি ময়ূরাক্ষী যাঁরা দেখেছেন তাঁরা মুখিয়ে আছেন তাঁর এই ছবিটি দেখার জন্য। পরিচালক যদিও একটি ময়ূরাক্ষীতেই তৃপ্ত নন। তাই তিনি ফের আরও একটি সম্পর্কের গল্পে। রবিবার মিলিয়ে দেবে দুই পূর্ব পরিচিত অসীমাভ এবং সোহিনীকে। পরিচালকের দাবি, যাঁরা সাত বা আটের দশকে জন্মেছেন তাঁরা একটা বিশাল পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। আড্ডা, বন্ধুত্ব, পরস্পরের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ, সময় কাটানো---সবই এখন যান্ত্রিক। সৌজন্যে মুঠোফোন, ভার্চুয়াল দুনিয়া যন্ত্র সভ্যতা। এই সম্পর্ক কতটা খাঁটি এবং অন্তরের, বলা মুশকিল। তবে এই ওলোটপালটে পাল্টে যাচ্ছে অনেক সম্পর্ক। আবার হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ক ফের সামনে এলে কী ঘটতে পারে সেটাও বলা দরকার দর্শককে। সেই তাগিদ থেকে এই ছবি। মুখ্য ভূমিকায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জয়া এহসান। 


gjmv7n48


৪. প্রফেসর শঙ্কু ও এলডোরাডো--- জন্ম ১৯৬১ সাল। ফেলুদার থেকে সিনিয়র। যতটা জনপ্রিয় বইয়ের পাতায় ততটাই দূরের মানুষ ছিলেন সত্যজিৎ রায় সৃষ্ট প্রফেসর ত্রিলোকেশ্বর শঙ্কু। ২০১৯-এ প্রথম যাত্রা শুরু করেই দর্শক মনে ছাপ রাখলেন তিনি। সৌজন্যে সন্দীপ রায়। গ্রাফিক্সের সাহায্যে, ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়ের অনবদ্য অভিনয় ক্ষমতায় প্রফেসর শঙ্কু বুদ্ধিদীপ্ত বাঙালিকে বশ করেছেন। সঙ্গে নকুড়বাবুর ভূমিকায় শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের অসাধারণ যুগলবন্দি। টেকনোলজি এই ছবির প্রাণ অবশ্যই। কিন্তু কখনও তা গল্পকে ছাপিয়ে ওঠেনি। বরং ছবিকে আরও ঋদ্ধ করেছে। বাহুল্যহীন গ্রাফিক্স, বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ, মেদহীন চিত্রনাট্য আর কানে আরাম দেওয়ার মতো আবহ--- সব মিলিয়ে বড়দিনের সত্যিই বড় প্রাপ্তি প্রফেসর শঙ্কু। ভ্রমণবিলাসী বাঙালির বাড়তি পাওনা, সাও পাওলোর অসাধারণ দৃশ্য। প্রযওজনায় ভেঙ্কটেশ ফিল্মস।


2i2anghg


৫. ঘরে বাইরে আজও--- লাস্ট বাট নট দ্য লিস্ট অপর্ণা সেনের ঘরে বাইরে আজও। 

রবি ঠাকুরের আমলের নিখিলেশ-বিমলা-সন্দীপ স্বাধীনোত্তর ভারতের একুশ শতকের প্রতিনিধি হলে কী দেখত? ব্রিটিশ শাসকের জায়গা নিয়েছে স্বাধীন দেশের রাজনৈতিক দল। যাঁদের শাসনে-তাশনে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় দেশের। দেশের মানুষদের। 'পরধর্মসহিষ্ণু দেশ' বলে বিশ্বের দরবারে যার সবসময়েই আদর-কদর ছিল, সে দেশ সারাক্ষণ ফুটছে ধর্মান্ধতায়। গো-রক্ষণ, জাতের নামে বজ্জাতিতে। কী করত তখন কবিগুরুর এই তিন অমর সৃষ্টি? স্বাভাবিক ভাবেই নিখিলেশ গণতন্ত্রের পক্ষ নিত। সন্দীপ অবশ্যই তর্কে-বিতর্কে তাকে রক্তাক্ত করে সদম্ভে সাপোর্ট করত ‘জয় শ্রীরাম' জিগিরকে। আর বিমলা? শিক্ষিতমনস্ক হয়েও বেচারি তখনও ‘শ্যাম রাখি না কূল'...দ্বন্দ্বে ভুগত। এই আধুনিক ভাবনা নিয়েই অপর্ণা সেনের নতুন ছবি ‘ঘরে বাইরে...আজ'। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সত্যজিৎ রায়ের ছোঁয়া বাঁচিয়ে, শুধু তাঁদের কাজের সামান্য গন্ধ মেখে একুশের অপর্ণা সেন রোজ যা দেখছেন, প্রয়োজনে পথে নেমে যা বলছেন এবং করছেন---সেটাই ছবিতে উঠে এসেছে হুবহু। তাই 'ঘরে বাইরে আজ' পরিচালকের রাজনৈতিকমনস্কতার দলিল। যীশু সেনগুপ্ত-অনির্বাণ ভট্টাার্য সুযোগ পেলেই 'বাপি বাড়ি যা' ব্যাটিং করেন, দর্শক জানেন। কিন্তু তুহিনা বৃন্দার ভূমিকায় কোথাও ফাঁক রাখেননি। প্রযোজনায় এসভিএফ প্রোডাকশন।


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement
Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com