হোমরিভিউস

রিভিউঃ 'গুগলি'তে নিশ্চিত উইকেট পাচ্ছেন অভিমন্যু

  | March 30, 2019 12:46 IST (কলকাতা)
Googly

'গুগলি'র ট্রেলারের একটি দৃশ্যে শ্রাবন্তী ও সোহম। (সৌজন্যে ইউটিউব)

অভিমন্যু মুখোপাধ্যায়ের ছবি 'গুগলি' মুক্তি পেয়েছে গতকাল। সুরজিৎ ঘোষের কলমে পড়ুন তারই রিভিউ।

অভিনয়- সোহম, শ্রাবন্তী, কাঞ্চন, অরিত্র, সৌম্যদীপ্ত

পরিচালক- অভিমন্যু মুখোপাধ্যায়      

রেটিং- ৩/৫

এক একটা সকাল আসে যখন কোনও কারণ ছাড়াই মন ভাল লাগে। বালিশে মাথা রেখে হাসতে ইচ্ছা করে। সকালে নিত্য কাজ বোরিং লাগে না। একঘেয়ে খাবার পেটে পুরে চেনা রাস্তা দিয়ে চেনা বাসে উঠে অফিস বা কাজে যাওয়ার সময় গুনগুন করে গাইতে ইচ্ছা করে। কোনও কারণ নেই তবু এসবই হয়। তবে হ্যাঁ কোনও একটা ধাক্কা  খেলে সম্বিত ফিরে আসে। আর তখনই মালুম হয় আসলে কিছুই বদলে যায় নি। সব যেমন ছিল তেমনই আছে। শুধু আমার আপনার জীবন নয়, ডালী আর অর্জুনের জীবনেও ঘটেছে এরকমই একটা ঘটনা। ওদের সব ভাল শুধু কথা বলতে গেলেই গুলিয়ে যায় সব।মানে যেগুলো ভাল বলে মনে হচ্ছিল আসলে সেগুলো বিশেষ কিছু নয়।  তোতলা বলেই ওরা কলকে পায় না কোথাও। ছোট থেকে অবহেলা নিয়েই  ওদের বড় হওয়া। 


 এই দুজনের প্রেমের থুড়ি সংসারের গল্প উঠে এসেছে  বড় পর্দায়। গুগলি এমনিতে খুব সাধারণ ছবি। সাধারণ মানেই খারাপ এমন ভাবার প্রয়োজন নেই। আসলে এই গুগলি সাধারণের মধ্যে এক অসাধারণ ছবি। এবার বলা যাক কেন এটা সাধারণ ছবি। ছোট বেলায় ঘুমের ঠিক আগে বাড়ির বড় কারওর থেকে শোনা প্রতিটা গল্পেই একটা রাজা থাকে। হেরফের করে রানির সংখ্যা। সে যাই হোক সাধারণ প্রেমের কাহিনিতে তেমনি একটা একঘেয়েমি থাকে।এখানেও আছে। মানে ওই মেগা সিরিয়ালে যেমন মেলোড্রামা থাকে, কতকটা সেই রকম। আর অসাধারণ এই কারণে যে মেলোড্রামাটা কিছুটা হলেও ভাল লাগে।

আরও পড়ুনঃ ‘‘যদি ষাট বছরের বৃদ্ধার চরিত্রের অফার আসে, যেখানে ফাটিয়ে অভিনয় করার সুযোগ রয়েছে আমি করবো''

একই সমস্যা নিয়ে বড় হওয়া দুটো মানুষের জীবন কীভাবে এক হল সেটাই এই ছবির মূল বিষয়। আর তারপর তাঁদের বাকি জীবন কীভাবে কাটল সেটাও দেখিয়েছেন পরিচালক অভিমন্যু মুখোপাধ্যায়।

এই গল্পে দর্শক যা চান তার প্রায় সবই আছে। জমাটি প্রেম,দমফাটা হাসি এবং বুক চাপা কান্না – পাবেন  সবই। সোহম এবং শ্রাবন্তীর প্রেম ছাড়াও শহরের এক ঘটি এবং বাঙাল পরিবারের ঠোকাঠুকি ভাল লাগবে। ভাল লাগবে কাঞ্চন মল্লিক সহ বাকিদের অভিনয়ও।আলাদা করে বলতে  হবে কয়েকটি জিনিসের কথা।প্রথমেই বলতে হবে  ছবির সংলাপের প্রসঙ্গ। অভিমন্যুকে যাঁরা চেনন তাঁরা জানেন রসবোধকে ফুটিয়ে  তুলতে  তিনি অনেকের থেকেই অনেক এগিয়ে। আর তাই ছবির আগাগোড়া রয়েছে অসম্ভব ভাল এবং বুদ্ধিদীপ্ত কিছু সংলাপ।আর যে সমস্ত সংলাপে কিছুটা হলেও পেঁয়াজ রসুন মিশেছে সেগুলি আরও বিশেষ। সেই সমস্ত সংলাপের বেশিটাই কাঞ্চনকে দিয়ে বলানো হয়েছে বলে তা আরও ভাল হয়েছে।এবার আসি গুল্পের গুগলি সৌম্যদীপ্তর কথায়। প্রবন্ধের পাঠক যদি ছোটবেলায় ডানপিটে হয়ে থাকেন তাহলে এই একরত্তির ছেলেটাকে আপনাকে আপনার শৈশব যে ফিরিয়ে দেবে  তা বলাই যায়। সব মিলিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন এটা ভেবে যে এই গুগলি দিতে উইকেট পড়বে। ভালও লাগবে। 





বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement