হোমবলিউড

চিত্রনাট্যেই ক্লিশে ‘হ্যাপি ফির ভাগ যায়েগি’, পাওনা কেবল সোনাক্ষী

  | August 24, 2018 20:50 IST (নিউ দিল্লি)
Happy Phirr Bhag Jayegi Review

'হ্যাপি ফির ভাগ যায়েগি'তে সোনাক্ষী সিনহা, জিমি শেরগিল, জেসসি গিল ও পীযূশ মিশ্র (Image courtesy: aslisona )

সোনাক্ষী অবশ্যই এই সিনেমাতেও তাঁর সেরাটিই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যদিও কোথাও বিষয়বস্তুর লঘুতায় হারিয়ে গিয়েছে তাঁর চেষ্টা। জসসি গিলকেও কোথাও খাপছাড়া চরিত্রে ঠিক ভাবে প্রকাশ করা হয়ে ওঠেনি। অভিনেতা জিমি শেরগিলও কোথাও স্ক্রিপ্টের চরিত্র থেকে নিজেকে বের করে অন্য মাত্রায় পৌঁছাতে পারেননি

অভিনয়ে: সোনাক্ষী সিনহা, জিমি শেরগিল, জেসসি গিল, পীযূষ মিশ্র, ডায়ানা পেন্টি এবং আলি ফজল

পরিচালক: মুদাসসার আজিজ

রেটিং: 1/2 স্টার

 


নাম বিভ্রাট এবং তাঁর পর মানুষের ভোগান্তি- এই নিয়ে সিনেমা কম নেই বলিউডে।

সমনামী হওয়ার ঝামেলায় দুই মানুষকে ঘিরে বিড়ম্বনা, শ্ত্রুর মোকাবিলা, দুই সমনামীর দেখা হওয়া- হাসির উপাদানের কমতি ছিল না সিনেমায়। তবু খেই হারিয়েছে গল্প। অমৃতসর আর সাংহাইয়ের পটভূমিতে গল্পকে ধরে রাখতে চেয়েছেন পরিচালক। কিন্তু, দর্শকদের ধরে রাখতে পারলেন কি? নাহ! হ্যাপি ফির ভাগ জায়েগি শুনেই দর্শকদেরও প্রায় পালাই পালাই অবস্থা।

 

oskcs948

2016 সালের হ্যাপি ভাগ জায়েগীর ফলো আপ হিসেবেই এই সিনেমা বানাতে চেয়েছিলেন পরিচালক। নিজের বিয়ে থেকে পালিয়ে যাওয়া হরপ্রীত বা হ্যাপিকে নিয়েই সেই গল্পের শুরু ছিল। ছবির দ্বিতীয় সিক্যুয়েলে তাই দেখা যায় সাংঘাইয়ের ইউনিভার্সিটিতে পড়াতে আসেন হর্টিকালচারের প্রফেসর হ্যাপি(সোনাক্ষী সিনহা) সেই সময় চিনের এই জনপ্রিয় শহরে এসে পরে আরেক এক হ্যাপি (ডায়ানা পেন্টি) ও তাঁর স্বামী গুড্ডু (আলি ফাজল)। পরিকল্পনামতো গ্যাংস্টারের দল হ্যাপিকে কিডন্যাপ করে নিয়ে যায়। পরে বুঝতে পারে, যাঁকে তুলে আনা হযেছে, সে আসলে সঠিক হ্যাপি নয়। পরে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারের জন্য গুড্ডু ও হ্যাপিকে নিয়ে আসা হয়। শুরু হয় হাসির কাণ্ডকারখানা। 

i5m8bls

 

ihcg7h7g

হাসির খোরাক আনতে গেলে পাঞ্জাবী চরিত্রের ব্যবহার বলিউডে ক্লিশে। ঘটনাচক্রে তার থেকে বেরোতে পারেননি পরিচালকও। ফলত অমৃতসর, পাটিয়ালা আর লাহোরবাসী পাঞ্জাবীদের মূল চরিত্রে রেখে মজা করতে চাইলেও চিত্রনাট্যের দোষেই তা তেমন কাজে আসেনি। চীনা মানুষদের মৌখিক এক্সপ্রেশনও এখানে একেবারেই জোর করে সুড়সুড়ি দিয়ে হাসানোর নামান্তর মনে হয়েছে।


চলচ্চিত্রের আবহ সঙ্গীতে অবশ্যম্ভাবীরূপে রয়েছে পাঞ্জাবি ড্রামের ছন্দ। বহু পুরনো গান ‘মেরা নাম চিন চিন ছু’-লে নতুন ভাবে পাওয়া যাবে এই সিনেমায়। কমর জালালাবাদীর লেখা এবং ও.পি. নায়ারের সুর করা গানের সুন্দর চিত্রায়ন হয়েছে গুয়াংঝাউ জেলের মধ্যে। 137 মিনিটের এই সিনেমাটির সবচেয়ে বোকাবোকা অংশটি হল এর ক্লাইম্যাক্স।

সোনাক্ষী অবশ্যই এই সিনেমাতেও তাঁর সেরাটিই দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যদিও কোথাও বিষয়বস্তুর লঘুতায় হারিয়ে গিয়েছে তাঁর চেষ্টা। জসসি গিলকেও কোথাও খাপছাড়া চরিত্রে ঠিক ভাবে প্রকাশ করা হয়ে ওঠেনি। অভিনেতা জিমি শেরগিলও কোথাও স্ক্রিপ্টের চরিত্র থেকে নিজেকে বের করে অন্য মাত্রায় পৌঁছাতে পারেননি। গোটা সিনেমায় পাঞ্জাবী কথোপকথনে উর্দু বলা ছাড়া পীযুষ মিশ্রকেও তেমনভাবে ব্যবহার করতে পারেননি পরিচালক।

হ্যাপি ফির ভাগ জায়েগির মূল সমস্যাই আসলে পরিচালনা। বলিউডের হাসির সিনেমার বাজার সব সময়ই দারুণ। কিন্তু এখানে সেই উপাদানেই ঘাটতি রয়ে গিয়েছে বেশ। হাসাতে গিয়ে কোথাও খেই হারিয়ে ফেলেছে গল্প, গল্পের চরিত্ররাও।


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement