হোমআঞ্চলিক

"মেধা ও শিক্ষা না থাকলে এখন আর বাংলা সিনেমায় টিকে থাকা যায় না": অরিন্দম শীল

  | September 30, 2018 15:18 IST (কলকাতা)
Arindam Sil

অকপটে অরিন্দম শীল

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের এক দুপুরে কেবলমাত্র নিজের আসন্ন ছবিটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে কথা বললেন সমগ্র বাংলা ছবির জগৎ নিয়েই। বললেন স্বভাবসিদ্ধ স্পষ্টভঙ্গিতেই। শুনলেন বোধিসত্ত্ব ভট্টাচার্য। আজ এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব।

এই মুহূর্তের বাংলা সিনেমায় তিনি এক অত্যন্ত জরুরি স্তম্ভ। নিজেকে 'পুরনোপন্থী' বলতে পছন্দ করলেও আদতে তিনি আধুনিকতম বাংলাছবির মেজর এনলাইটমেন্টের নিপুণ কারিগর। তাঁর ছবি গত পাঁচ বছর ধরে একইসঙ্গে পেয়ে এসেছে দর্শকের আনুকূল্য এবং সমালোচকদের বাহবা। আপাতত ভয়ঙ্কর ব্যস্ত নিজের আসন্ন ছবি 'ব্যোমকেশ গোত্র' নিয়ে। তর্কহীনভাবে বর্তমান বাংলার সবথেকে সফল অভিনেতা-পরিচালক অরিন্দম শীল  সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের এক দুপুরে কেবলমাত্র নিজের আসন্ন ছবিটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে কথা বললেন সমগ্র বাংলা ছবির জগৎ নিয়েই। বললেন স্বভাবসিদ্ধ স্পষ্টভঙ্গিতেই। শুনলেন বোধিসত্ত্ব ভট্টাচার্য। আজ এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব।

 

একের পর এক সিনেমার পরিচালনা। প্রযোজনা। তারপর প্রমোশন। ব্যস্ততা তুঙ্গে। এর মধ্যে দিয়েই মানুষ অরিন্দম শীল কেমন আছেন?

 


আমি ভালো আছি। চমৎকার আছি। এই ভালো থাকার একটা মূল কারণ হল, আমি নিজের কাজের মধ্যে থাকতেই পছন্দ করি। পরনিন্দা পরচর্চা ইত্যাদি ব্যাপারগুলো থেকে বহু দূরে থাকি। আমি ওয়ার্কোহলিক। তবে, তার মানে এমনটাও নয় যে, নিজের পরিবার বা বন্ধুবান্ধবদের জন্য সময় দিই না। তাদের জন্য সময় বের করার সময়টি হাতে রেখেই কাজ করি। অকারণে সময় নষ্ট করি না। যে সময়টা আমাদের হাতে থাকে, সেটার সদ্ব্যবহার ঠিকভাবে করতে পারলেই তো অনেকটা সময় পাওয়া যায়, তাই না? আর কখনও কোনওভাবেই নেতিবাচক চিন্তাকে ধারেকাছে আসতে দিই না। কারণ, ওই ধরনের চিন্তা আমার কাছে আসা মানেই তা কোনওভাবে আমার মধ্যে বাস করতে শুরু করবে। সেটা হতে আরম্ভ করলে আমার কাজের ক্ষতি হবে। তা আমি কখনওই হতে দিতে পারি না।


 

এই যে পরনিন্দা পরচর্চার কথা বলছেন, এটা কি বাংলা ছবির ইন্ডাস্ট্রির ভিতরের কথাই বলছেন আপনি?

 

হ্যাঁ। আসলে আমাদের এখন কী হয়েছে জানেন তো? আমরা অদ্ভুতভাবে, নিজেরা কী করছি, তা যত না দেখি, তার থেকে অনেক বেশি ইন্টারেস্টেড অন্যেরা কী করছে, তা নিয়ে। আয়নায় নিজেদের দেখাটা আদতে কতটা হয়ে ওঠে, তা বলা মুশকিল। হ্যাঁ, ফর আ হেলদি কম্পিটিশন আমার অন্যান্য বন্ধুবান্ধব বা কলিগরা কী কী কাজ করছেন, তা আমার দেখা প্রয়োজন। জানা প্রয়োজন। এবং, সে সম্পর্কে আমার সম্যক ধারণা থাকাও অত্যন্ত প্রয়োজন বলে মনে করি। কিন্তু সেটা তো অন্য দিক। তারপরের যে স্টেপটা, অর্থাৎ, আমি নিজে শ্রেষ্ঠ, এটা প্রমাণ করার জন্য অপরকে যেভাবেই হোক, ছোট করা। এবার সেটা করব, বিভিন্ন জায়গায় গল্প আড্ডায়… মজার ব্যাপার হল, সামনাসামনি দেখা হলে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা হলে তখন আবার কিন্তু আমার থেকে ভালো কেউ নেই। এই পুরো পদ্ধতিটা, এই যে একটা জায়গায় ডিমিন করা এবং আরেক জায়গায় গিয়ে সেটা কভার আপ করা, এটা তো দীর্ঘ একটা প্রসেস। এইসবে প্রচুর সময় নষ্ট হয়ে যায় তো! আমি আমার সময়টা এইভাবে খরচ করতে রাজি নই।

 

 

আপনি তো দীর্ঘদিন ধরে এই ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িয়ে…

 

ত্রিশ বছর।

 

হ্যাঁ, এই ত্রিশ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিকে তো খুব কাছ থেকে দেখেছেন। ইন্ডাস্ট্রির অংশ হয়েই দেখেছেন তাকে। এতগুলো বছর পর এখন কি এই ব্যাপারটা বদলেছে খানিকটা? নাকি, একই রয়েছে?

 

সফিস্টিকেশনের একটা মোড়ক এসেছে এই ব্যাপারটায়। এছাড়া, কিচ্ছু বদলায়নি। তার কারণ, আগে তো বেশিরভাগই সব অশিক্ষিত লোকজন ছিল। তারা তো খোলাখুলি গালিগালাজ করত আর কী! এবার, শিক্ষার তো একটা জায়গা আছে। যে শিক্ষিত সে জানে, যা-ই করি না কেন, তা একটা মোড়কের ভিতর রেখে অনেকটা রেখেঢেকে পুরো ব্যাপারটা মেনটেন করতে হবে। সেটা কিন্তু আবার আরও ভয়ঙ্কর। নয় কি? দেখুন, আমার এগুলো দিয়ে কিছু এসে যায় না। আমি একটা কথা বারবার বলি। অ্যায়াম ভেরি পজিটিভ পার্সন অ্যান্ড মাই ফ্যামিলি ইজ অলসো ভেরি পজিটিভ। আমার বাড়িতে কেউ এলে বলে, বাহ! একটা দারুণ পজিটিভ ভাইব পাওয়া গেল তো! এটার কারণ একটাই যে, আমরা খুব সচেতনভাবেই বিশ্বাস করি, অমুকে আমার নামে এই বলছে বা তমুকে আমার নামে সেই বলছে, এই নেগেটিভিটিটাকে যদি আমি অ্যাক্সেপ্ট করে ডিস্টার্বড হই, তাহলে সেই নেগেটিভিটিটাই আমাকে আরও একটি বৃহত্তর নেগেটিভিটির দিকে নিয়ে যাবে। তার বদলে, আমি ওটাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলে ইট গেটস রিফ্লেক্টেড ব্যাক। যার থেকে এসেছে তার কাছেই ফেরত যায়। আমার কাছে আসে না। এটা একটা মজার প্রসেস। কিন্তু, ইট ট্রুলি ওয়ার্কস।

 

আটচল্লিশ বছরে পরিচালনায় এলেন প্রথম। ‘আবর্ত’ দিয়ে শুরু…

হ্যাঁ। তারপর থেকে সত্যি বলতে দেয়ার হ্যাজ বিন নো লুকিং ব্যাক! অডিয়েন্সের কাছ থেকে এত ফিডব্যাক! এত পজিটিভিটি! একটা জন্মে একটা মানুষের এই পাওয়াটা আমাকে আপ্লুত করে। যখন অভিনয় করেছি, তখন প্রশংসা পেয়েছি। লাইন প্রোডাকশনের কাজ করার সময়ও তাই। পরিচালক হয়ে গত পাঁচ বছরে ন’টা ছবি বানিয়েছি। তার মধ্যে একমাত্র প্রথম ছবি ‘আবর্ত’ বাদ দিয়ে বাকি সবক’টাই একইসঙ্গে বক্সঅফিসে সাফল্য এবং সমালোচকদের প্রশংসাও পেয়েছে। আজ পর্যন্ত আমার একটা ছবিও দর্শক দেখতে দেখতে সিট ছেড়ে উঠে যায়নি। তাই আমার ইন্ডাস্ট্রির কলিগরা আমাকে কতটা স্বীকৃতি দিল বা না দিল, তাতে কিছু এসে যায় না। আমাকে দর্শক স্বীকৃতি দিয়েছে। আমার প্রযোজক আমাকে একের পর এক ছবি দিয়ে যাচ্ছে।

 

আপনি আশির দশকে এমবিএ করেছিলেন। তারপর বিদেশে পিএইচডি করার সুযোগও পেয়েছিলেন। অ্যাকাডেমিক্সের দিক দিয়ে বিচার করলে দুর্দান্ত কেরিয়ার গড়তে পারতেন। ছেড়ে দিলেন কেন সব?

আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই একজন শিল্পী বাস করে। আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে যে নানারকম সত্তা থাকে, তার ভিতরেই কোথাও ঘাপটি মেরে থাকে শিল্পীসত্তাটাও। শিল্পী তখনই কেউ হতে পারেন, যখন তিনি সারাজীবন ওই শিল্পীসত্তাটা নিয়ে বাঁচতে চান। এবার, ওই সত্তাটি নিয়ে বাঁচার জন্য অনেক আত্মত্যাগ প্রয়োজন। ইটস ভেরি ডিফিকাল্ট টু বি অ্যান আর্টিস্ট।

গত প্রায় দেড় দশক ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে বদলের যে ধারা, তার সঙ্গে তো আপনিও কোথাও গিয়ে ভীষণভাবে সম্পৃক্ত…

হ্যাঁ। এই বাংলা চলচ্চিত্রের বদলের যে ধারার কথা বলছেন, সেটার জন্য আমি ভীষণভাবে যাঁকে সাধুবাদ জানাতে চাই, তিনি হলেন অঞ্জন দত্ত। হি ইজ কাইন্ড অব মাই মেন্টর। অঞ্জনদা আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন। এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হওয়ার জন্য ওই সময় সাহায্য করেছেন প্রচুর। আমি প্রথা ভেঙে কাজ করতে শুরু করি। নিজের মতো করে নিয়ম বানিয়েছি। দু’হাজার পাঁচ সালের কথা বলছি। এইভাবে চলতে চলতেই দেখা গেল যে, আমার তৈরি করা বাজেটিং সফটওয়্যারটাই ইন্ডাস্ট্রির থাম্বরুল হয়ে গেল। আমি খুব গভীরভাবে বিশ্বাস করি, কোনও কাজ খুব ইতিবাচকভাবে ভেবে নিয়ে যদি একরোখাভাবে এগোনো যায়, তাহলে প্রচুর বাধা আসতে পারে হয়তো চলার পথে, সে তো থাকেই, তবে, ইট হ্যাপেন্স। যখন আমরা বং কানেকশন করেছিলাম বা একমুঠো ছবি করেছিলাম, ইন্ডাস্ট্রির লোকরাই হাসত। ধরে ধরে জ্ঞান দিত। বড় বড় সুপারস্টাররা এসে বলত যে, বাংলা টিলিভিশনে যারা মুখ দেখায়, তাদের সিনেমায় কিস্যু হবে না।

কারা? তাদের নামগুলো বলা যাবে?

নাম বলে আর কী হবে! এখন তো আমরা সবাই এক হয়ে গিয়েছি। সবাই এখন একসঙ্গেই কাজ করছি।

আচ্ছা।

ওই সময় অঞ্জন দত্ত, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, অতনু ঘোষ, ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরীরা সকলেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তখন কাজ করছেন টেলিভিশনে। নতুন ছবি বানাচ্ছেন। এই যে শিক্ষিত এবং বাঁধাধরা কাঠামোর বাইরে ছবি করার কথা ভেবেছিলেন তখন তাঁরা, স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার ফল প্রায় পনেরো বছর বাদে কিন্তু আমরা এখন পাচ্ছি। মাল্টিপ্লেক্সে রমরমিয়ে চলছে বাংলা ছবি। এবং, বাংলা ছবির নিজস্ব একটা দর্শক তৈরি হয়েছে।

বাংলা ছবির বাজার এখন কেমন? যে সময় ইন্ডাস্ট্রিতে আপনি এসেছিলেন, তার থেকে কি কিছু এগিয়েছে? নাকি একই তিমিরে?

ওই সময় বাংলা ছবির একজন অতি সফল পরিচালক আমাদের একটা ছবির একটা সিন দেখে বলেছিলেন, ওখানে নাকি ‘কন্টিনিউটি জার্ক’ রয়েছে। আমরা আসলে ওটা জাম্প কাট করেছিলাম। পরিবর্তনটা এই সামান্য উদাহরণ থেকেই খানিকটা বুঝতে পারা যাবে। ইন্ডাস্ট্রির অশিক্ষাটা এই জায়গায় ছিল। একটা জাম্প কাট সিকোয়েন্সও একজন সফল পরিচালক বুঝতেই পারছেন না। তিনি ভাবছেন, ওটা কন্টিনিউটি জার্ক। যদিও ‘জার্ক’ শব্দটাও ব্যবহার করেননি তিনি। কেবল বলেছিলেন, কন্টিনিউটি নেই।

এটা কোন ছবি দেখে বলেছিলেন?

আমাদের ‘একমুঠো ছবি’। ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরীর ছবির যে অংশটায় আমি অভিনয় করেছিলাম, সেটার একটা শট দেখে বলেছিলেন। তা, সেই সময়টা তো বদলে গিয়েছে। এখন তো অত সহজে আর পরিচালক হওয়া যাবে না। এখন খাটতে হবে। প্রচন্ড খাটতে হয়। শুধু তাই নয়। নিজের মেধা ও সেই মাপের শিক্ষা না থাকলে এখন কিন্তু বাংলা ছবিতে ঠাঁই পাওয়া খুব মুশকিল। এটা শুধু পরিচালকদের ক্ষেত্রেই নয়। অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে তো বটেই। এত বিভিন্ন ধরনের চরিত্র তাঁদের করতে হচ্ছে, ওই শিক্ষাটা না থাকলে তাঁরা পারবেনই না। এখন বাংলা ছবি তো আর কোনও নায়কের নামে চলে না। এখন কনটেন্ট ইজ কিং।

তথাকথিত শহুরে দর্শকদের জন্য ছবি আর গ্রামের দর্শকদের জন্য ছবি- এই দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বৈষম্যটা বাংলা ছবির ক্ষেত্রে কি আদৌ প্রযোজ্য? এখন তো প্রত্যেকের হাতেই স্মার্টফোন। সবার ফ্রি নেট কানেকশন। সাউথ সিটির কফিশপে বসে যে নেটফ্লিক্স দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন কেউ, সেই নেটফ্লিক্সের কোনও সিরিজ হয়তো একইসময়ে দেখে নিয়ে ফেসবুকে স্টেটাসও দিয়ে দিচ্ছে পশ্চিম মেদিনীপুরের গ্রামের স্কুলের ক্লাস টেনের পড়া কোনও কিশোর। এটাকে কীভাবে দেখেন?

 

একদমই তাই। খুব ভালো বলেছেন। আমাদের কাছে এখন নেটফ্লিক্স আছে। আমাদের কাছে অ্যামাজন আছে। ইচ্ছামতো বিভিন্ন সিরিজ দেখে ফেলতে পারছি আমরা। দেখার সঙ্গে সঙ্গেই নিজেদের ভিতরেই শুরু হয়ে যাচ্ছে একটা তুলনামূলক আলোচনা। আজ যখন আমাকে ছবি করতে হচ্ছে, ধরা যাক, একটা ‘শবর’ শুরু করছি, তখন কিন্তু আমাকে এটা মাথায় নিয়ে এগোতে হচ্ছে যে, ‘সেক্রেড গেমস’-এর মাপের একটি দুর্দান্ত কাজ ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে। নেটফ্লিক্সে ‘মানিহেস্ট’ বলে একটা স্প্যানিশ সিরিজ দেখছিলাম। মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার মতো কাজ। এই চারপাশের বিভিন্ন কাজগুলো আমাদের একইসঙ্গে অনুপ্রাণিত করছে এবং চ্যালেঞ্জ করছে। ঠিক সেই কারণেই আমাদেরও আমাদের নিজেদের কাজ দিয়েই নিজেদের চ্যালেঞ্জ করতে হচ্ছে। তাই, এখানে কিন্তু বসে থাকার কোনও জায়গা নেই। আমার গত সাতটা ছবি দারুণ হিট করেছে। দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে। ভালো ব্যবসা করেছে। তা, এইসব মাথায় নিয়ে আমি যদি ভাবি, আমি তো বসে থাকতেই পারি চুপচাপ এখন। কী আছে আর! এত সাফল্য পেয়েই তো গেলাম! এমনটা যদি ভাবি, তাহলে আমি ভুল। কারণ, ওটার জায়গা আর নেই। বসে থাকার কোনও জায়গা নেই।

আপনার আর অঞ্জন দত্তের মধ্যে তুমুল সংঘাত কি এখন সম্পূর্ণ মিটে গিয়েছে? এই সাক্ষাৎকারটির মধ্যেই অন্তত তিনবার আপনি অঞ্জন দত্তের নাম করলেন।

অঞ্জনদার সঙ্গে আমার মুখোমুখি কখনও কোনওদিন ঝামেলা হয়নি। হ্যাঁ, অঞ্জনদা হয়তো আমাকে দেখে কখনও কথা না বলে চলে গিয়েছে। কখনও হয়তো একটা মুচকি হাসি দিয়েছে। এটা প্রায় পুরোটাই মিডিয়া ক্রিয়েটেড। অশান্তি তো কখনওই হয়নি আমাদের মধ্যে। বরং, আমরা যখন বন্ধু বেশি, তখন অশান্তির পরিমাণ অনেক বেশি ছিল আমাদের মধ্যে। অঞ্জনদার কোনও কাজ ভালো না লাগলে আমি মুখের ওপর বলেছি। অঞ্জনদাও আমার মুখের ওপর বলেছে। অঞ্জনদার কাছে আমি অনেক কিছু শিখেছি। আজকে অঞ্জনদা আমার সিনেমার ফ্লোরে এসে আমার অবজার্ভারের সঙ্গে বসে পরেরদিনের কলটাইম তৈরি করছে। অভিনয় যে সময়টা করছে না, তখন সেটে হেলপ করছে। এই জিনিসটা শিল্পটার প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা না থাকলে কখনওই আসে না। ওই সময় ওটা কার ছবি তার সঙ্গে আমার কী ঝামেলা, এইসব তুচ্ছ ব্যাপারগুলো আর মাথাতেই থাকে না। অঞ্জন দত্ত সেরকমই একজন শিল্পী।


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement