হোম

‘মাধুরী কোনও পুরুষের তাঁবে থাকতে পছন্দ করে না’: অপর্ণা সেন

  | November 25, 2019 08:40 IST (কলকাতা)
Aparna Sen

Click to Play

অধরা মাধুরী অপর্ণা

সত্যজিৎ রায়ের 'সমাপ্তি' এবং সুমন ঘোষের 'বসু পরিবার'-এর পর আরও একবার তিনি কেন জুটি বাঁধলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে? পুরনো রসায়ন ঝালিয়ে নিয়ে?

তিনি স্পষ্টবাদী। হাসতে হাসতে স্পষ্ট কথা বলতে একটুও ভয় পাননি কোনোদিন। সেই সাহসিকতা তাঁর পরিচালিত ‘৩৬ চৌরঙ্গী লেন', ‘পরমা', ‘পারমিতার একদিন' সহ আরও অনেক ছবি হয়ে ‘সোনাটা'-তেও। সাহস বরাবর ঝলসে উঠেছে তাঁর অভিনীতি প্রতিটি চরিত্রে। পরিচালক অনুমিতা দাশগুপ্তের (Anumita Dasgupta) আগামী ছবি 'বহমান'ও (Bohomaan) তার ব্যতিক্রম নয়। সেখানে অধরা ‘মাধুরী' তিনি। কতটা সাহসিনী? কতটা আধুনিকমনস্ক? সত্যজিৎ রায়ের 'সমাপ্তি' এবং সুমন ঘোষের 'বসু পরিবার'-এর পর আরও একবার তিনি কেন জুটি বাঁধলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে? পুরনো রসায়ন ঝালিয়ে নিতে? প্রশ্নগুলো ঘাই মারছিল তাঁর সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার আগেই। মুখোমুখি হওয়ার পর মনে হল, এঁর জন্যে পুরুষ ৫০ বছর কেন, যুগের পর যুগ অপেক্ষা করতে পারে। তিনি অপর্ণা সেন (Aparna Sen)।

Exclusive: ‘ফেলুদার পরে অভিনয় থেমে গেলেও ক্ষতি নেই': টোটা রায়চৌধুরী

দু-সপ্তাহ আগেই মুক্তি পেয়েছে তাঁর পরিচালনায় 'ঘরে বাইরে আজ'। চলতি বছরের এপ্রিলে মুক্তি পেয়েছিল সুমন ঘোষের 'বসু পরিবার'। সেখানে সৌমিত্র-অপর্ণা 'সমাপ্তি'র অমূল্য-মৃন্ময়ীর মতোই দম্পতি। 'বহমান'-এ দর্শক কীভাবে দেখতে পাবেন জুটিকে? কেনই বা তিনি রাজি হলেন এই চরিত্রে অভিনয় করতে? বেজ রঙা ফুল হাতা লং লেন্থের কুর্তি-পালাজো, মানানসই জাঙ্ক জুয়েলারি, ওভারসাইজড চশমা, ডান পাশ ঘেঁষা সিঁথি কাটা বিনুনিতে ছিমছাম 'মাধুরী' অপর্ণা জানালেন, এই ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আমার মেয়েবেলার প্রেমিক। সেলিম খান। ধর্ম কোনোদিন আমাদের প্রেমে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি। শুধু ছেলের কাছে ছাড়া। সে মাকে আটকানোর ছুতোয় বলেছে, 'তার ওপর আবার মুসলমান'! এবং এই চরিত্র করতে রাজি হয়েছি প্রথমত, অনুমিতার অনুরোধে। কারণ, অনুমিতা বলেছিলেন, আমি অভিনয়ে রাজি না হলে ছবিটাই করবেন না। দ্বিতীয়ত, চিত্রনাট্য শোনার পর মাধুরী চরিত্রটা পছন্দ হয়ে যায়। তাই আমি 'বহমান'-এ।

মাধুরী কি আপনার মতোই স্পষ্টবাদী, আধুনিকমনস্ক? 'একদম। স্পষ্টবাদী। সে আধুনিক শিক্ষায়-রুচিতে-মনস্কতায়। প্রেমিক বা স্বামী---কারও তাঁবেদারিতেই সে থাকতে রাজি নয়। একসময় কলেজের অধ্যাপক ছিল। এখন সে ছেলে-বউমা সুব্রত-অর্পিতার সঙ্গে থাকে। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্রাত্য বসু এবং অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়। ছেলে মাকে নিয়ে এতটাই পজেসিভ যে ৫০ বছর পরে মায়ের কাছে প্রেমিকের ফিরে আসা একেবারেই মেনে নিতে পারে না। সেলিম তার কাছে তাই 'থার্ড পার্সন'। যার সঙ্গে মাকে ভাগ করতে রাজি নয়। এবং এটা ইডিওপ্লাস কমপ্লেক্সের একটি রূপ।'

‘পার্সেল' খুলতেই পুরস্কার! 25th KIFF-এ ‘সেরা পরিচালক' ইন্দ্রাশিস আচার্য

জয়িতার সঙ্গে কেমন সম্পর্ক মাধুরীর? টিপিক্যাল শাশুড়ি-বউমা? 'উঁহু, মা-মেয়ের সম্পর্ক। জয়িতা মাধুরীর বন্ধু নীলার মেয়ে। আজন্ম জানে তাকে। তাই ছেলের বউ হয়ে যখন সে আসে তখন বউমা কম মেয়ে বেশি মাধুরীর।' অনেকটা 'পারমিতার একদিন'-এর মতো? সেখানেও তো বউমা-শাশুড়ি বন্ধু ছিল? কিছুটা। পুরোটা নয়। পারমিতার একদিন উত্তর কলকাতার বনেদি ঘরের শাশুড়ি-বউমাকে দেখিয়েছিল। যেখানে বউমা উচ্চশিক্ষিত কিন্তু শাশুড়ি তা নন। তারপরেও শাশুড়ির ব্যক্তিত্ব বা শিক্ষিত মানসিকতার জন্য বন্ধুত্ব হয়ে গেছিল। মাধুরী-জয়িতা একালের শিক্ষিত শাশুড়ি-বউমা। যাঁরা আধুনিক এবং স্ব-উপার্জিত'? যুক্তি অপর্ণার।


৫০ বছর পরে শাশুড়ির প্রেমিক ফিরছেন। শাশুড়ি সেটল হতে চান। বিষয়টা বউমা কী চোখে দেখবে? 'খুব উদারভাবে গ্রহণ করেছে সে সবটা। শাশুড়ির হয়ে স্বামীর সঙ্গে লড়েছে। এতটাই যে প্রয়োজনে শাশুড়িকে সমর্থন জানিয়ে স্বামীর কটূক্তি হজম না করে বেরিয়ে আসতেও রাজি সে। ট্রেলারে একটা সংলাপ আছে, মাধুরী যখন হালকা সেজে সেলিমের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছে তখন জয়িতা তাকে দেখে বলছে, 'কী সুন্দর দেখতে লাগছে তোমায়!' এই সংলাপ বলে দিচ্ছে মাধুরী-জয়িতা সখী।'

তোড়জোড় শেষ, ৬০ বছর পরে 'কাজল'কে নিয়ে ঘরে ফিরছে ‘অপু'

একুশ শতকে, সোশ্যাল মিডিয়ার রাজত্বে ৫০ বছর পরেও প্রেম-ভালোবাসা বেঁচে থাকে? সামান্য চিন্তা করেই ঠোঁটে হালকা হাসি ভাসিয়ে স্মার্ট উত্তর অপর্ণার, 'অনেকে মনে রাখে। অনেকে ভুলে গিয়ে এগিয়ে যায়। অনেকেই তাই এই ছবি দেখে নস্টাল হয়ে পড়বেন, পুরনো প্রেম মনে করে। তাঁদের হয়ত মনে পড়বে, এভাবেই তো সে-ও আমায় চাইত! এরকম ধমক আমার ছেলের কাছেও শুনতে হয়েছে। কিংবা, এভাবেই তো ভালোবাসার গলা টিপে অন্যের ঘরনি হয়েছি।' সেলিম-মাধুরীর প্রেম কেন বহমান? এবার হেসে ফেলে হালছাড়া গলায় উত্তর, সে তো অনুমিতার 'বহমান' ছবি-ই বলবে। ২৯ নভেম্বর।

সাক্ষাৎকারের শেষে একটা কৌতূহল সামলানো গেল না কিছুতেই। পরিচালক অপর্ণা সেনের কাছে অভিনেতা অপর্ণা সেন বেশি সহজ? নাকি, অন্য পরিচালকের কাছে? এবারেও চটপট জবাব, 'নিজেকে নিজে পরিচালনা করতে বেশি ভালো লাগে। তবে অন্য পরিচালকের সঙ্গেও তো অসংখ্য ছবিতে কাজ করলাম। সেটাও মন্দ নয়। এবং আমি অভ্যস্ত। পার্থক্য, অন্য পরিচালকের ছবিতে অভিনয়ের সময় আমি পরিচালকের টুপিটা নিজের মাথা থেকে খুলে রাখি।' 




বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement