হোম

Gotro: আজ থেকে পুজোয় সংকল্প করুন গোত্র ছাড়াই: শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

  | August 23, 2019 11:23 IST (কলকাতা)
Gotro

Gotro: ' গোত্র ছাড়াই সবার নামে পুজোর সংকল্প করুন': শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়

জন্মাষ্টমী থেকেই হোক ‘মানব গোত্র’-এর পুজোর সূচনা। ‘গোত্র’ মুক্তির আগে সাক্ষাৎকারে তেমন আহ্বানই জানালেন পরিচালক জুটির অন্যতম শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

বাড়িতে জন্মাষ্টমী পালিত হয়? বাড়ির সবার নামে পুজো দেন নিশ্চয়ই? কখনও রক্তের সম্পর্কের থেকেও বেশি আপন কোনও পরের জন্য পুজো দিয়েছেন? ধর্ম-গোত্র ভুলে? যদি না করে থাকেন তাহলে জন্মাষ্টমী থেকেই হোক  ‘মানব গোত্র'-এর পুজোর সূচনা। ‘গোত্র'  (Gotro)মুক্তির আগে সাক্ষাৎকারে তেমন আহ্বানই জানালেন পরিচালক জুটির অন্যতম শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shiboprosad Mukherjee)। বার্তা ছড়িয়ে দিলেন উপালি মুখোপাধ্যায়

''মা যশোদা কি কৃষ্ণকে পালনের সময় ‘গোত্র' জানতে চেয়েছিলেন?'': অনসূয়া মজুমদার

প্রশ্ন: বছরে একটা ছবির ছক ভেঙে ‘গোত্র' ছবির ভাবনা এল কীভাবে?

উত্তর: খুব খারাপ লাগছিল সমাজের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে। ভারত বিশ্বের দরবারে পরধর্মসহিষ্ণু বলেই পরিচিত, প্রশংসিত। সেই ঘরানা ভেঙে একদল মানুষ দেশে হিংসা ছড়াচ্ছে। বিশেষ এক অবতারের নামে জয়ধ্বনি দিচ্ছে। ধর্ম-জাতি নিয়ে ভেদ গড়ছে। সারা দেশ উত্তপ্ত পরধর্মঅসহিষ্ণুতায়। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে একজন পরিচালক হিসেবে মনে হল, আমাদেরও কিছু বার্তা দেওয়ার আছে। নন্দিতা রায়কে বলতেই দিদি এককথায় রাজি। সেই জায়গা থেকেই ছক ভেঙে বছরের দ্বিতীয় ছবি 'গোত্র'। আমরা বরাবর পরিবারের কথা বলে এসেছি। এই ছবিও তার ব্যতিক্রম নয়। আর ধর্ম তো শুরু হয় ঘর থেকেই। একই সঙ্গে উইন্ডোজ প্রোডাকশন সমাজের সমস্ত সমস্যার দিকে সরাসরি আঙুল তুলে এসেছে সব ছবিতেই।


প্রশ্ন: ছবির বিষয় ভাবতে গিয়ে কী করে মুখ্য চরিত্র হয়ে উঠলেন আপনার মা?

উত্তর: ২০১২ সাল। মা তখন বরানগরে থাকতেন। বিরাট বাড়িতে তিনি একা। বাবা মারা গেছেন। ওই সময় বাড়ি আর মায়ের দেখভালের জন্য দ্বারস্থ হয়েছিলাম নাইজেল আকারার। কারণ, ও তখন জেল থেকে বেরিয়ে নতুন সংস্থা 'কলকাতা ফেসিলিটিস' গড়েছে। সেখানে ঘর-অফিস পরিষ্কার করার লোক থেকে কেয়ারটেকারও পাওয়া যেত। আমার মায়ের জন্য একজনকে পাঠান নাইজেল। তিনিও নাইজেলের মতই জেল ফেরত। এদিকে আমার মা প্রচণ্ড আচার-বিচার মানেন। সংস্কার আছে। ছোঁয়াছুঁয়ি, বাছ-বিচার আছে। বাইরের লোক বাথরুমে গেলে তাঁকে সেই বাথরুম পরিষ্কার করে স্নান করতে হয়। বাড়িতে নির্দিষ্ট সময়ে না ঢুকলে গেট বন্ধ করে দেন। এদিকে তাঁর রোজের খবরের কাগজ, স্বামীজি, রামকৃষ্ণ চরিত্রামৃত, রবীন্দ্রনাঠ ঠাকুর গুলে খাওয়া। এমন এক পরস্পরবিরোধী স্বভাবের এক মহিলার কাছে কাজ করতে গিয়ে নাইজেলের সেই ছেলে কিছুদিন বাদেই ছেড়ে চলে আসতে চেয়েছিলেন। কারণ, আমার মা তাঁকে খবরের কাগজ, বই পড়িয়ে পড়া ধরতেন! মায়ের যুক্তি, 'ও হয়ত সুযোগ পায়নি বলে পড়তে পারেনি। তা বলে পড়াশোনা শিখবে না!' পরে মনে হল এই উপাদানটাই তো ছবির মূল বিষয় হতে পারে। তখনই গোত্র ছবির মুখ্য অভিনেতা হয়ে গেলেন আমার মা। পর্দায় তাঁকে ফুটিয়ে তুলেছেন অনসূয়া মজুমদার।

7tevofj


প্রশ্ন: ছবির গল্প এত জোরালো, অথচ অভিনেতারা কেউই জনপ্রিয় তারকা নন! কেন?

উত্তর: কারণ, সবাই ভালো অভিনেতা বলে। আমি তো স্টার চাইনি! অভিনয় চেয়েছি সবার থেকে। ২০১২-এ যখন 'মুক্তধারা' করেছিলাম, নাইজেল নতুন। তখনও ওঁর আদালতে মামলা চলছে। তার মধ্যেই উনি সফল হলেন। ছবি বক্স অফিস হিট হল। নাইজেল কিন্তু যথেষ্ট জনপ্রিয়। প্লাস এই ছবির কাহিনির সঙ্গে ও জড়িয়ে। তাই ওঁকে ছাড়া অন্য কেউ তারেক আলি হতেই পারবেন না। মানালি ছোটপর্দার ভীষণ ভালো অভিনেত্রী। ওকে বড়পর্দায় সেভাবে কেউ ব্যবহার করেন না। অথচ ওঁর প্রচুর গুণ। ছবি জুড়ে মানালি এত মিষ্টি দৌরাত্ম্য করেছেন যে দর্শক ওঁর প্রেমে পড়বেই। বাকি রইলেন সাহেব চট্টোপাধ্যায়, বাদশা মৈত্র, খরাজ মুখোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ বসু, দেবলীনা কুমার, সন্তু মুখোপাধ্যায়। এঁরা সবাই চরিত্রের খাতিরে এসেছিন। এবং সবাই এটাও জানেন, আমরা যাঁকে যেটা মানায় সেটাই অফার করি। অহেতুক তারকার ভিড় জমিয়ে ছবি ভারী করি না। নিজেরাও তো ছোটপর্দা থেকেই এসেছি। তাই জানি, ওঁরা তারকা না হলেও খুবই ভালো অভিনেতা।

প্রশ্ন: গানের রান্নাঘরও ভাগাভাগি করেছেন?

উত্তর: করেছি বৈচিত্র আনতে। কারণ, 'কণ্ঠ'র গানের থেকে এই ছবিতে আলাদা কিছু চেয়েছিলাম। তাই একটি পেপি সং ব্যবহার করেছি 'রঙ্গবতী', যেটা ওড়িশার বিখ্যাত লোকগান। ওটা সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায় ছাড়া আর কেউ সামলাতে পারবেন না। বাকিগুলো অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় বানিয়েছেন। সেখানে শ্রেয়া ঘোষাল, অরিজিৎ সিং, বাবুলসুপ্রিয় রয়েছেন। ভাগ করে দেওয়ার জন্যই নীল দিগন্তে, মাসিমা হিটলার, মা--- সমস্ত গানগুলো ইউটিউবে সব রেকর্ড ভেঙেছে। ছবির প্রয়োজনে কীর্তনও আছে। অদিতি মুন্সী গেয়েছেন।

স্বাধীনতা দিবসে অসহিষ্ণুতা সরিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দিল তারেক আলি, মুক্তি দেবী

প্রশ্ন: এখনকার বেশির ভাগ ছেলেপুলেই বিদেশে বা অন্য রাজ্যে থাকেন চাকরি সূত্রে। তাহলে আগামী দিনে মা-বাবা কি এভাবেই পরনির্ভরশীল হয়ে উঠবেন? এটাও কি খুব নির্ভরযোগ্য হবে?

উত্তর: কোনটা নির্ভরযোগ্য আর কোনটা নয়, আগে থেকে কি বলা যায়? নিঃসঙ্গ দম্পতি বা বয়স্ক একা মা কিংবা বাবা যখন বাড়িতে থাকেন, সেটাই বা কতটা নির্ভরযোগ্য! প্রমোটার তো ওঁত পেতে থাকে বাড়ি দখলের জন্য। দরকারে লোক দিয়ে খুনও করে ফেলে। খবরের কাগজে তো এমন খবর রোজই ছাপছে। তার থেকে একজন বিশ্বস্ত লোককে যদি আপন করে নেওয়া যায়, ক্ষতি কী? অনেক সময় রক্তের সম্পর্কের থেকেও কিন্তু পর বেশি আপন হয়। যেমন, মুক্তি দেবী আর তারেক আলি। 

hajo1a0g


প্রশ্ন: ছবি মুক্তির জন্য জন্মাষ্টমীকেই বেছে নিলেন কেন?

উত্তর: এই দিন প্রায় সব বাড়িতেই শ্রীকৃষ্ণ গোপাল রূপে ঘরের ছেলে হিসেবে পূজিত হন। রক্তের সম্পর্কের না হলেও যদি যশোদা মা আর গোপালের সেই পুরাণ গল্প বাস্তবে দেখা যায়, তাহলে তাকে সামনে আনতে জন্মাষ্টমীর থেকে উপযুক্ত দিন আর কী আছে? এই দিন তো মা-ছেলের সম্পর্ক উদযাপনের দিন। একইসঙ্গে সর্বধর্মসমন্বয়ের বার্তাও দেওয়া হয়েছে ছবিতে। হিন্দু বাড়ির উৎসবে মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোগ দেওয়ার দৃশ্য রেখে। আমরা হয়ত এসব দেখেশুনে আঁতকে উঠি। আগ্রায় কিন্তু এরকমই এক শহর আছে, যেখানে হিন্দু-মুসলিম এক হয়ে জন্মাষ্টমী পালন করেন। আমরা সেখানে গিয়ে দেখে এসেছি।

ত্রিধারা সম্মিলনী-র খুঁটিপুজো রঙিন ‘রঙ্গবতী'র নাচে

প্রশ্ন: শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কাছে গোত্র কী?

উত্তর: একটাই, মানুষ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র ভুলে নিজের লোকের পাশাপাশি পরকেও আপন করে নিন। গোত্র না জেনেই পুজো দিন বাড়ির, পাড়ার, অঞ্চলের সেই সব মানুষের নামে, যাঁরা দরকারে-অদরকারে আপনাকে সারাক্ষণ আগলান। মানুষের থেকে বড় গোত্র আজও দুনিয়ায় আর কিচ্ছু নেই।


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement