হোম

'‘সুর্মা পরে সঞ্জয় দত্তকে ফলো করে 'বিক্রম' হয়েছি’': বনি সেনগুপ্ত

  | October 20, 2019 21:00 IST (কলকাতা)
Bonny Sengupta

জানবাজ ছবিতে বনি সেনগুপ্ত

আগামী ছবিতে ‘বিক্রমজিৎ’ বনি কেমন? শ্বশুরমশাই অনুপ সেনগুপ্তের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা জমল হবু বউমা কৌশানির?

‘বাবা ভীষণ বদলে গেছেন। সেটে আর একটুও চেঁচান না!'--- অনুপ সেনগুপ্তের পরিচালনায় প্রথম ছবি ‘জানবাজ'-এ (Jaanbaaz) অভিনয়ের পর বনি সেনগুপ্ত (Bonny Sengupta) সাক্ষাৎকার শুরুই করলেন এই কথা বলে। আড্ডায়-গল্পে সামনে এল বাবার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা। সুর্মা পরে, ৪৫ ডিগ্রি তাপে পুড়ে শুট করার পর কয়লার মতোই গায়ের রং হয়ে যাওয়ার দুঃখটাও চেপে রাখলেন না। সঙ্গে অকপট স্বীকারোক্তি, বিক্রম করতে গিয়ে ‘বাস্তব' ছবিতে সঞ্জয় দত্তের অভিনয় স্টাইল অনুসরণের চেষ্টা। সব মিলিয়ে আগামী ছবিতে ‘বিক্রমজিৎ' বনি কেমন? শ্বশুরমশাই অনুপ সেনগুপ্তের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা জমল হবু বউমা কৌশানির রসায়ন? খোঁজে উপালি মুখোপাধ্যায়

প্রশ্ন: পুজো কেমন কাটল?

উত্তর: খাওয়া-দাওয়া, ঠাকুর দেখা, আড্ডা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো---সব মিলিয়ে হইহই করে কেটে গেল।

প্রশ্ন: দিওয়ালিতে নতুন ছবির মুক্তি---সেই উত্তেজনা? 


উত্তর: অবশ্যই আছে। মুখিয়ে আছি বলতে পারেন। সঙ্গে হালকা টেনশন। দর্শকদের রি-অ্যাকশন কী হবে।

প্রশ্ন: 'জানবাজ' ছবিতে বনি নাকি জান বাজি রেখে অভিনয় করেছেন? 

উত্তর: (হেসে ফেলে) নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তার জন্য চরিত্রের কাছে আমি 
ঋণী। কারণ, বিক্রম-জিৎ সুমেরু আর কুমেরু। বিক্রম কোল মাফিয়ার ডানহাত। জিৎ একদম ইন্ট্রোভার্ট। মানে আমার উল্টোটা। আমি তো সারাক্ষণ বকবক করেই যাই। ফলে, একসঙ্গে দুটো বিপরীত মেরুর চরিত্র ফোটাতে গেলে বাড়তি পরিশ্রম তো করতেই হবে।  তবে পুরোটাই সম্ভব হয়েছে পরিচালক-পাপা অনুপ সেনগুপ্তের জন্য। এই প্রথম সেটে সারাক্ষণ আমি ডিসিপ্লিনড! ভাবা যায়? আর এই ধরনের চরিত্র কোনোদিন করিনি বলেই পাপা যেন জোর করে আমায় দিয়ে এটাও করিয়ে নিলেন।

প্রশ্ন: বাবা-ছেলের 'কম্বো প্যাক' দেখতে এতদিন সময় লেগে গেল! 

উত্তর: এই প্রশ্নটাও সবাই করেন, করেছেন। আমার মনে হয়, কোথাও পাপার মনে হয়েছিল, ছেলের হাতেখড়ি বাবা করালে লোকে হয়ত বলতে পারে বাবা ব্যাক করছে। তাই অন্য পরিচালকের হাতে পাপা আমায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। অডিশন দিয়ে জায়গা করেছি। কিছুটা তৈরি হওয়ার পর আমায় নিয়ে কাজ করলেন। আর এত বড় প্রযোজক, এত ভালো গল্পও এর আগে আমরা পাইনি। ওই যে বলে না, ধৈর্যের ফল মিষ্টি হয়। সেটাই বোধহয় হতে যাচ্ছে।

k21lbv


প্রশ্ন: 'জানবাজ'-এর 'বিক্রমজিৎ' কেমন? চরিত্র ফোটাতে কী কী হোমওয়ার্ক করলেন?

উত্তর: জিৎ-এর জন্য বেশি খাটতে হয়নি। যদিও জিৎ চুপচাপ, গ্রামভারী তবুও জানতাম, এই চরিত্রটা আমি পারব। একটু চাপ ছিল বিক্রমকে নিয়ে। পোস্টারে দেখেছেন আমার কপালে তিলক কাটা। হাফ ডনের মতো লুক। লুক সেটের জন্য ইউ টিউব, গুগল সার্চ করেছিলাম। আর হাঁটাচলা, কথা বলা রপ্ত করতে বাস্তব ছবির সঞ্জয় দত্তকে হাল্কা অনুসরণ করেছিলাম। 

প্রশ্ন: সঙ্গে ৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কোলিয়ারিতে অভিনয়... নিজের স্টান্ট নিজে দেওয়া...

উত্তর: একদম। একটা সময় মাথায় বরফ চাপিয়ে বসে থাকতাম। শরীরের তাপ কমাতে। পাপা তো প্লেন ঝোল-ভাত, জুস, লস্যি, জল, গ্লুকোজ ওয়াটারের ব্যবস্থা রেখেছিলেন অফুরন্ত। ভীষণ কষ্ট করেছি সবাই। কোলিয়ারির নীচে কাজ আরও সাঙ্ঘাতিক। উঠে আসার পর মনে হত শরীরে আর কিছু নেই। আর বরাবরই নিজের স্টান্ট নিজে দিয়ে এসেছি। ছোট থেকেই বডি ডাবল ব্যবহার করা একদম ভালো লাগত না। কতবার প্রশ্ন করেছি, মুখ দেখায় না কেন! কে, কাকে মারছে বুঝব কী করে? গায়ের রং পুড়ে কয়লা। কলকাতায় এসে নিজেকেই আর নিজে চিনতে পারি না! তবে এটাও ঠিক, সব মিলিয়ে খুব ভালো অভিজ্ঞতা সেনগুপ্ত পরিবারের।

l1h0nts8


প্রশ্ন: মুখের প্রশ্নটাই কেড়ে নিলেন। অনুপ সেনগুপ্ত কি অনস্ক্রিনে বনি-কৌশানির অফস্ক্রিন রসায়নকে কাজে লাগালেন?

উত্তর:অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই ববি-কৌশানি জুটি জনপ্রিয়। এখনও শহরতলিতে গেলেই সবাই বলেন, ওই দেখ 'গার্লফ্রেন্ড' বা 'পারব না আমি ছাড়তে তোকে'-র জুটি এসেছে। পাপারও হয়ত কোথাও মনে হয়েছে, আমরা ক্লিক করব। চিত্রনাট্য আমাদের চাইছে।  পাপার কথায়, এই প্রথম কৌশানিও একসঙ্গে রোম্যান্টিক চরিত্রের পাশাপাশি রাফ অ্যান্ড টাফ আইপিএস অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পাবে এখানে। ফলে সব মিলিয়ে বনি-কৌশানি জুটি আরও একবার বড় পর্দায়।

প্রশ্ন: তা বলে বারবারে কৌশানি-ই? অন্য নায়িকার নায়ক হবেন না? শহরের নয়, শহরতলির হিট জুটি জেনে কখনও খারাপলাগা কাজ করে?

উত্তর: আমার অপশনটাই কম। হয় কৌশানি নয় রীতিকা। চেষ্টা যে করছি না তা নয়। তবে সবটাই সময়ের অপেক্ষা। তবে ভালো লাগে এই ভেবে, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দর্শকদের প্রিয়। পরিচালক-প্রযোজক আমাদের চান। এটাই বা কম কী! আর প্রতি ছবিতেই কৌশানি আমার কাছে নতুন চরিত্র হয়ে ধরা দেয়। ফলে, আমার খারাপ লাগে না। তবে, নিশ্চয়ই সুযোগ পেলে অন্য নায়িকারও হিরো হব। আর এই যে বললেন শহরতলির জনপ্রিয় জুটি, সেটা আমরা জানি তো! জানেন, আমাদের জন্য শহরতলির লোকেরা রাত জেগে ঠাণ্ডার মধ্যেও বসে থাকেন! পছন্দের সংলাপ শুনলে এখনও হলে পয়সা ছোড়েন। এই ভালোবাসার কোনও দাম নেই! আমি খুশি শহরতলির সেরা জুটি হয়ে।

3cj8gdng


প্রশ্ন: পরিচালক অনুপ সেনগুপ্ত কেমন? হবু শ্বশুর-বউমার রসায়ন কতটা জমল সেটে?

উত্তর: এর আগে দেখেছি বা শুনেছি, কাজ ঠিক মতো না পারলে পাপা সেটে খুব চেঁচামেচি জুড়ে দিতেন। এবার কাজের সময় আমায় তো প্রায় বকলেনই না। নো চিৎকার। শুধু কৌশানিকে একবার হাল্কা ধমক দিয়েছেন, 'আমার সেটে কে এত কথা বলছে', বলে। কৌশানি চুপ সঙ্গে সঙ্গে। আসলে ও-ও তো আমার মতো বকবকম পায়রা! পুরনো দিনের পরিচালক বলে একটু হয়ত খুঁতখুঁতে। কিন্তু এখন ঠান্ডা মাথায় কাজ বের করে নিতে শিখে গেছেন। বাড়তি কখনও খাটাননি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করেই যাও, সেসব ছিল না। আর, কৌশানি খুব খুশি বাবার সঙ্গে কাজ করে। বেশি খুশি, মারপিট করতে পেরে। আমার বিরুদ্ধে বন্দুক তুলতে পেরে। শুধু আমায় মারধর দিতে পারেনি বলে, কী আপশোস! পাপাকে বলেছে, ''জানবাজ'-এর ফ্র্যাঞ্চাইজি কর। আমি বনিকে ধরে হেব্বি পেটাব!'' (জোরে হাসি)

প্রশ্ন: হচ্ছে নাকি তেমনটা? 

উত্তর: ফ্র্যাঞ্চাইজি না হলেও আবার সেনগুপ্ত পরিবার ফিরছে সুরিন্দর ফিল্মসের আগামী ছবিতে। চিত্রনাট্য নিয়ে বসা হবে ২৫ অক্টোবর ছবি রিলিজের পর। ততক্ষণ ধৈর্য ধরুন প্লিজ।




বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement