হোমআঞ্চলিক

ভালো-মন্দের ব্যাখ্যা ভাষার ব্যাকরণের থেকেও কঠিন: মৈনাক ভৌমিক

  | July 07, 2019 22:24 IST (কলকাতা)
Bornoporichoy

বর্ণপরিচয় ছবির পরিচালক মৈনাক ভৌমিক

দেখুন, আইন যেমন আছে, আইনের ফাঁকও আছে। বিদেশে এমন অনেক অফিসার আছেন, যাঁরা অবসর নিয়েও কোনও একটি বিশেষ কেস হ্যান্ডেল করেন। আমাদের দেশেও সেরকম অনেক পুলিশ অফিসার আছেন, ধনঞ্জয়ের মতো সত্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে যাঁরা সব দিক থেকে নিঃস্ব হয়ে যান। তাঁদের কথা খবরের কাগজ লেখে না।

বর্ণপরিচয়-এর ট্রেলারে বলা হয়েছে, ভালো-মন্দকে কোনও নির্দিষ্ট সংজ্ঞায় বাঁধা উচিত নয়। কেন? ভাষার ব্যাকরণ হয়। মৃত্যুর ব্যাকরণ আদৌ কি কিছু আছে?  আবীর চট্টোপাধ্যায়-যীশু সেনগুপ্ত এই প্রথম এক ফ্রেমে। দু-জনকে একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে কতটা হিমশিম খেতে হয়েছে পরিচালক মৈনাক ভৌমিককে? জেন ওয়াই-এর গল্প বলতে বলতে হঠাৎ কেন তিনিও থ্রিলারে? এমন হাজারো প্রশ্নের সোজাসাপ্টা উত্তরে মৃত্যুর ব্যাকরণের অ-আ-ক-খ জানালেন পরিচালক, উপালি মুখোপাধ্যায়কে.....

প্রশ্ন: ভাষার ব্যাকরণ হয়। মৃত্যুর ব্যাকরণ কেমন? চেনা গণ্ডি ছেড়ে হঠাৎ কেন থ্রিলারে?

উত্তর: বরাবর সম্পর্কের গল্প বললেও ক্রাইম থ্রিলার আমার পছন্দের। অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম একটা থ্রিলার বানাব। কারণ এই বিষয় কখনোই দর্শকদের কাছে পুরনো হয় না। লিখেওছি বেশ কয়েকটা চিত্রনাট্য। তার মধ্যে বর্ণপরিচয় মুক্তি পাচ্ছে ২৬ জুলাই। সম্পর্কের গল্পে আমরা যেমন একজন মানুষের সঙ্গে অন্য মানুষদের সম্পর্কের ব্যাখ্যা করি তেমনি এই ছবিতে অপরাধ, অপরাধী, সাদা-কালো, ভালো-মন্দের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কারণ, কোনটা কেন ভালো বা মন্দ, তার হিসেব বা তার ব্যাকরণ কিন্তু এতটাও সহজ নয়।

Ranveer Singh Birthday Special: কপিল লুকে কেমন মানিয়েছে রণভীরকে?


প্রশ্ন: চরিত্র বাছার ক্ষেত্রেও অভিনবত্ব চোখে পড়েছে। পর্দার দুই সত্যসন্ধানী আবীর চট্টোপাধ্যায় এবং যীশু সেনগুপ্ত বর্ণপরিচয়ে তথাকথিত মন্দ মানুষ অর্ক আর ভালো মানুষ ধনঞ্জয়। নিশ্চয়ই কোনও চিন্তা-ভাবনা ছিল এর পেছনে?

উত্তর: ভিস্যুয়ালি যখন অর্ক আর ধনঞ্জয়কে নিয়ে চিন্তা করেছি তখন প্রথমেই মনে হয়েছে, দুজনের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা খুব জরুরি। সেই দিক থেকে দেখতে গেলে আবীর আর যীশু হাইটে প্রায় কাছাকাছি। তার পরেই মনে হল, আবীর মানেই সোনাদা, ফেলুদা, ব্যোমকেশ। চিরকাল অপরাধীর পেছনে দৌড়েছে ও। এবার তাহলে ব্যাপারটা উল্টে দিলে কেমন হয়? একই ভাবে যীশু ইদানিং যখন নেগেটিভ রোল করেছে তখন সেটাতে ও মারাত্মক। সেটা দেখে মনে হয়েছে, ওকে তাহলে পজিটিভ রোল দিই। এই চিন্তা-ভাবনা থেকেই অর্ক আবীর আর ধনঞ্জয় যীশু।

প্রশ্ন:  চরিত্র দুটি সম্বন্ধে যদি বলেন...

উত্তর:  অর্ক ছবিতে সিরিয়াল কিলার। সামনে পলিশড। যার নতুন করে হারানোর কিছুই নেই। ধনঞ্জয় পুলিশ অফিসার। শুরু থেকেই এই মার্ডার মিস্ট্রি এবং সিরাল কিলারের পিছু ধাওয়া করেছে। আর কেস নিয়ে এতটাই অবসেসড যে তার জন্য হারিয়েছে পরিবার, কাজের জায়গা। তবু সত্য অনুসন্ধান করতে তার একটুও ক্লান্তি নেই। এই দুই চরিত্র পর্দায় ইঁদুর-বিড়াল দৌড়ে নামবে। বাকিটা পর্দায় দেখবে দর্শক।

প্রশ্ন: দু-জনের ক্ষেত্রেই ছক ভাঙার পর রেজাল্টে পরিচালক আবীর, যীশুকে কত নম্বর দিলেন, ১০০-য় ২০০?

উত্তর: একদম। দুজনেই নিজেকে ছবিতে সত্যিই ২০০ শতাংশ উজাড় করে দিয়েছেন। আসলে, দু-জনেই তো স্টার মার্কস পাওয়া অভিনেতা।

প্রশ্ন: বড় পর্দায় এই প্রথম এক ফ্রেমে বন্দি হলেন আবীর-যীশু। সামলাতে গিয়ে খুব বেগ পেতে হয়েছে?

উত্তর: কাজের জায়গায় যদি চাপ থাকে তাহলে কিন্তু কাজটা খুব ভালো হয় না। তাই চাপ তৈরি হতেই দিইনি। আর তারও আগে আমি যত বছর ধরে ছবি বানাচ্ছি তত বছর ধরে আবীর আর যীশু আমার খুব ভালো বন্ধু। ফলে, আমি মনে করি একসঙ্গে কাজ করলেও দিনের শেষে আমরা খুব ভালো বন্ধু। আর কাজের ক্ষেত্রে যদি বলেন তাহলে বলব, ওঁরা যতটা ভালো অভিনেতা ততটাই পেশাদার। ফলে, সমস্যা তৈরি হওয়ার জায়গাই রাখেনি কেউ।

প্রশ্ন: যীশুর লুক খুব সফট। আর পুলিশ মানেই রাফ অ্যান্ড টাফ। চরিত্র দেবার সময় এই ব্যাপারটা ভেবেছিলেন?

উত্তর: যীশুকে সেভাবেই পোট্রে করেছি শুরুতে। পরে ওর হার্ট অ্যাটাক হয়। মানসিক ও শারীরিক দিক থেকে ভেঙে পড়ে অন্যরকম হয়ে যায়।

প্রশ্ন: আজকের দিনে কোনও পুলিশ অফিসার কি কাজ নিয়ে এতটাই পজেসিভ হন? তাহলে বোধহয় অপরাধ কমত...

উত্তর: দেখুন, আইন যেমন আছে, আইনের ফাঁকও আছে। বিদেশে এমন অনেক অফিসার আছেন, যাঁরা অবসর নিয়েও কোনও একটি বিশেষ কেস হ্যান্ডেল করেন। আমাদের দেশেও সেরকম অনেক পুলিশ অফিসার আছেন, ধনঞ্জয়ের মতো সত্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে যাঁরা সব দিক থেকে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। তাঁদের কথা খবরের কাগজ লেখে না। 

অভিনয়ে আসছেন শাহরুখ-কন্যা সুহানা? ফাঁস করলেন অনন্যা পাণ্ডে

প্রশ্ন: আপনার প্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার রয়েছেন ছবিতে। ওঁর চরিত্র কেমন?

উত্তর: প্রিয়াঙ্কা ধনঞ্জয়ের স্ত্রী মালিনী। ধনঞ্জয়ের সঙ্গে ওর সম্পর্ক খুব ভালো নয়। এই চোর-পুলিশ খেলায় প্রিয়াঙ্কার একটা বড় ভূমিকা আছে। কিন্তু থ্রিলার বলে সেটা এখুনি ফাংস করতে পারছি না। তবে এটা বলতে পারি, প্রিয়াঙ্কাকে যেমন চরিত্র দেওয়া হয় ও খুব সুন্দর ভাবে তাকে ফুটিয়ে তোলে। ১০ বছর পরে একসঙ্গে কাজ করছি। এখনও ওর মধ্যে বাচ্চা মেয়ে লুকটা রয়েই গেছে। কিন্তু ১০ বছরে ও আরও শক্তিশালী অভিনেত্রী হয়েছে।

প্রশ্ন: ব্যাকগ্রাউন্ডে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। মিউজিকে অনুপম রায়। এই ভাগাভাগি কেন?

উত্তর: কারণ, দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে। আর দু-জনেই এই দুটো বিষয়ে মাস্টারপিস বলে।

প্রশ্ন: কোথায় কোথায় শুট করলেন?

উত্তর: ভালো প্রশ্ন। সারা শহর জুড়ে এই প্রথম শুট করেছি (হাসি)। বালিগঞ্জের হিন্দুস্থান পার্কে থাকি। এতদিন তার থেকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে শুট করে এসেছি। প্রথমবার সারা শহরের বাইরেও ছুটোছুটি করে শুট করলাম।

প্রশ্ন: প্রথম থ্রিলার। ছবির সাফল্য নিয়ে কি টেনশনে ভুগছেন মৈনাক ?

উত্তর: আবারও বলছি, থ্রিলার আমার খুব পছন্দের। সবাই ভীষণ খেটেছেন ছবিতে। আমিও আমার সাধ্যমতো দেওয়ার চেষ্টা করেছি। টেনশন হচ্ছে না। তবে দর্শক দেখে ভালো বললে সবার পরিশ্রম সার্থক।



  


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement