হোমআঞ্চলিক

আমার গল্প বলার যে ধরন সেখানে কোনও মানুষ নয়, পরিস্থিতিটাই ভিলেন: শিলাদিত্য মৌলিক

  | March 28, 2019 15:15 IST
Sweater

জয়িতা সেনগুপ্তের 'উল কাটা' গল্প অবলম্বনে 'সোয়েটার' বুনেছেন শিলাদিত্য মৌলিক। (সৌজন্যে ফেসবুক)

'সোয়েটার' মুক্তির আগে পরিচালক শিলাদিত্য মৌলিকের সঙ্গে আড্ডায় উঠে এল নানা প্রসঙ্গ।

শীত চলে গেলেও চারপাশে মানুষের 'সোয়েটার' নিয়ে মাতামাতি এখনও রয়েছে। কেউ বা উল বোনার পাঁচালী শুনছে কেউ বা করছে বসন্তের স্মৃতিচারণ। কারণ একটাই, আগামীকাল মুক্তি পাচ্ছে শিলাদিত্য মৌলিকের ছবি 'সোয়েটার'। তার আগে এনডিটিভি বাংলার প্রতিনিধি পরিজা কর্মকারের সঙ্গে কথা বললেন পরিচালক।

সোয়েটার পর্যন্ত আপনার জার্নিটা কেমন ছিল?

আমি লন্ডন ফিল্ম স্কুল থেকে ফিল্ম মেকিং নিয়ে পড়াশোনা করেছি। প্রায় ১০-১২ বছর অ্যাডভারটাইজিং কপি রাইটার হিসাবে কাজ করেছি। তারপর অভয় দেওলের ব্যানারে 'মিসেস স্কুটার' নামে একটা ছবি বানিয়েছি। সেটা বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে গিয়েছে। ছবিটার সূত্রে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে আলাপ হয়েছে এবং সেখান থেকেই আস্তে আস্তে 'সোয়েটার'-এর ভাবনা চিন্তা শুরু হয়। জয়িতা সেনগুপ্তের 'উল কাটা' গল্পটা পড়েই মূলত 'সোয়েটার' করার কথা ভাবি। 

নারী স্বাধীনতার যুগে আমরা চারপাশে মেয়েদের চাকরি বা শিক্ষার বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকতে দেখি। কিন্তু এখানে মেয়েটার বিয়ে হচ্ছে না সে বিষয়ে এতটা আলোকপাত কেন করলেন?


আমাদের সমাজে অ্যারেঞ্জড ম্যারেজের অনেকগুলো ডার্ক সাইড রয়েছে। একটা মেয়েকে ছোটবেলা থেকে তৈরি করা হয় ভালো পাত্রের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য। বিয়ের জন্য তার মধ্যে এই এই গুণগুলো থাকতে হবে। ব্যাপারটা খুবই কমার্শিয়াল, ট্রানজ্যাকশনাল। কারণ মা বাবারা মনে করেন ভালো বাড়িতে বিয়ে হয়ে গেলেই তাদের দায়িত্ব শেষ। অ্যারেঞ্জড ম্যারেজের এই অন্ধকার দিকটাই আসলে তুলে ধরতে চেয়েছি। 

মানে মেয়েটার বিয়েকে নয় সমাজের এই অন্ধকার দিকটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে চাইছেন?

হ্যাঁ। ইশার বোনের চরিত্রে যে অভিনয় করেছে অনুরাধা সে আসলে দিদির বিপরীত একটা চরিত্র। দিদি কিছুই জানে না আর সে সব জানে। কিন্তু দু'জনের পরিণতিটা আলাদা কিছু নয়। সমাজের কাছে বিভিন্ন মানুষ নিজেকে বিভিন্ন ভাবে প্রমাণ করতে চায়। এখানে সোয়েটারকে আমি হাইলাইট করেছি। কিন্তু সমাজে সকলেই এই রোগে আক্রান্ত সেটাই এখানে দেখা যাবে। 

আরও পড়ুনঃ প্রেমে পড়তে বারণ করলেও আপনি নিজেকে সামলাতে পারবেন তো?

সোয়েটারকেই কেন হাইলাইট করলেন? অন্য কিছু কেন নয়?

সোয়েটার না হয়ে অন্য কিছুও হতেই পারতো। কিন্তু মেয়েদের বিবাহোপযোগী করে তুলতে যা কিছু শেখানো হয় তার একটা নির্দিষ্ট ফর্মুলা আছে। মাধ্যমিকের আগে যেমন টেস্ট পেপার সলভ করতে হয় তেমনই বিয়ের জন্য মেয়েদের এই এই জিনিসগুলো শেখাতে হয়। মেয়ে দেখতে এসে জিজ্ঞাসা করা হয় গান গাইতে পারো? রান্না জানো? নাচতে পারো? বিয়ের পর সেই মেয়েকে কে নাচাবে আর কে কোথায় গান গাওয়াবে? কিন্তু এগুলোই  কোয়ালিটি বিচারের মাপকাঠি। কিন্তু এই ভদ্রমহিলা (জুন মাল্য) জানেন এইসব করলে হবে না। অন্য কোনও উপায় দেখতে হবে। তিনি শুধু দেখতে চান মেয়েটা চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করে কি না। তিনি জানেন তিনি একটা অদ্ভুত জিনিস বলছেন কিন্তু সেটা শিখে করার উদ্যম মেয়েটার মধ্যে আছে কি না সেটাই তিনি দেখতে চান। কারণ সংসার একটা বড় পরীক্ষা। জীবনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। সেটার জন্য মেয়েটা তৈরি কি না সেটাই তিনি (জুন মাল্য) দেখতে চেয়েছেন। অদ্ভুত জিনিসের কথা বলে অবাক করে দেওয়ার জন্যই আসলে সোয়েটারের কথাটা বলা হয়েছে। 

ইশার ইমেজটা একেবারেই গার্ল টু দ্য নেক্সট ডোর। বড় কাস্টিং না করাটাই কি সোয়েটারের ফর্মুলা?

ফর্মুলা বলতে আমি মনে করি যে চরিত্রটায় অভিনয় করবে তার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর। আজ দর্শকের কাছে চরিত্রটা যতটা রিলেটেবল হবে তত বেশি ছবিটা তাদের কাছে পৌঁছতে পারবে। ধরুন আজ যদি প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এই চরিত্রটায় অভিনয় করেন তাহলে দর্শক প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকেই দেখবে, টুকুকে দেখবে না। আজ চারদিকে সবাই টুকুর কথা বলছে। কোনও স্টার থাকলে সেটা হত না। এই জিনিসটা হচ্ছে কারণ ইশা খুব রিলেটেবল আর বিলিভেবল। নাহলে স্টার পাওয়ারটা ক্যারেক্টারকে ওভারপাওয়ার করতো। আমি চাইনি সেটা হোক। তার জন্যই ইশাকে কাস্ট করি। 

sdtaqgn8

'সোয়েটার'-এর প্রমোশনে অভিনেতা, অভিনেত্রী, সুরকার ও প্রযোজকের সঙ্গে পরিচালক। (সৌজন্যে ফেসবুক)

আর বাকি চরিত্ররা?

বাকিরাও প্রত্যেকেই চরিত্রের মধ্যে পুরো ঢুকে গিয়েছিল। একটা সিনেমা বানাতে গেলে যেমন ভাবতে হয় দর্শক কতটা রিলেট করবে তেমনই কাস্টিংয়ের সময় ভাবতে হয় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা কতটা রিলেট করবে। অভিনেতারা নিজেরা ফিল করতে পারলে নিজেরাও অনেক ইনপুট দিতে পারে। এক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। অভিনেতারা নিজেদের মতো করে চরিত্রগুলো গুছিয়ে নিতে পেরেছে।

সোয়েটারের প্রতিটা গানই মানুষ পছন্দ করেছে। ইউটিউব ঘাঁটলে আপনার গাওয়া গানও শোনা যায়। সোয়েটারে আপনি গান গাইলেন না কেন?

(হেসে) মিউজিক ডিরেক্টর (রণজয় ভট্টাচার্য) গাইতে দেয়নি। 

সেকী! কেন?

না, আসলে আমি যে খুব ভালো গান গাইতে পারি তা নয়। কিন্তু আমি গান গাইতে খুবই ভালোবাসি। এবার সেটা মিউজিক ডিরেক্টরের ঘাড়ে চেপে তো বলতে পারি না। তবে নিশ্চয়ই কোনও না কোনও ছবিতে গান গাইবো। এমন কোনও ছবি যেখানে কম সুরেলা গায়ক দরকার হবে সেখানে নিজেকে খুব তাড়াতাড়িই প্লেস করে দেবো। 

আরও পড়ুনঃ প্রেমে পড়তে বারণ করলেও অধিকাংশ বারণই কেউ শোনে নাঃ রণজয় ভট্টাচার্য

পরের ছবিও কলকাতায় নাকি 'সোয়েটার'-এর পরেই ব্যাক টু মুম্বাই?

দুটোই করবো আমি। যেটা আগে হয়। তবে মুম্বাইতে কাজ হতে একটু সময় লাগে। সে জন্যই বাংলা সিনেমাটা করার সময়টা পেয়েছিলাম। মুম্বাইয়ের প্রজেক্টের সবটাই তৈরি। কাস্টিংও ঠিক হয়ে আছে। কিন্তু সেটা উইন্টার ফিল্ম। তাই সময় নিচ্ছি। মাঝে যদি বাংলায় কোনও ইন্টারেস্টিং প্রজেক্ট পাই অবশ্যই করবো। 

নেক্সট বলিউড প্রজেক্টের বিষয় কী?

একজন অ্যালকোহলিক মায়ের গল্প। তার আর তার মেয়ের জার্নি। সেখানেও একটা টুইস্ট আছে। 

'সোয়েটার' আর তার পরের ছবিতেও তাহলে সমাজের জন্য একটা মেয়ের জীবনে কী ধরণের ক্রাইসিস দেখা দিচ্ছে তা আপনি তুলে ধরতে চাইছেন?

আমি আসলে ইস্যু-বেসড কিছু সেভাবে করতে চাই না। কিন্তু গল্পের মধ্যেই কিছু কিছু ইস্যু ফুটে ওঠে। সব গল্পেরই একটা করে ক্রাইসিস দরকার হয়। এবার আমার গল্প বলার যে ধরণ সেখানে ক্রাইসিসগুলো কোনও মানুষ নয়। পরিবেশ বা পরিস্থিতি সেখানে ক্রাইসিস। মনে অমরিশ পুরী আমার সিনেমায় একটা পরিস্থিতি। কোনও ভিলেন নেই। অথচ পরিস্থিতিটাই ভিলেন। এখনও পর্যন্ত এই ধরণের ছবিই আমি করেছি। এরপর কী হবে এখনও জানি না।

'সোয়েটার'-এর জন্য অনেক শুভেচ্ছা।

ধন্যবাদ।


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement