হোমআঞ্চলিক

সবাই স্টার হয়ে গেলে পাশের বাড়ির মেয়ে কে থাকবে?: ইশা সাহা

  | March 29, 2019 08:50 IST
Isha Saha

অভিনেত্রী ইশা সাহা। (সৌজন্যে ফেসবুক)

'সোয়েটার' মুক্তির আগে নিজের জার্নি নিয়ে এনডিটিভি বাংলার প্রতিনিধি পরিজা কর্মকারের সঙ্গে অকপট আড্ডায় অভিনেত্রী ইশা 'টুকু' সাহা।

'সোয়েটার' তো তোমার তিন নম্বর ছবি। 

রিলিজ ধরলে তিন নম্বর। মাঝে 'বুড়ো সাধু' করেছিলাম। কিন্তু সেটা এখনও পর্যন্ত রিলিজ হয়নি। এছাড়া 'দুর্গেশগড়ে গুপ্তধন'-এর শুটিং হয়ে গিয়েছে। সুতরাং রিলিজ হিসাবে 'সোয়েটার' তিন নম্বরেই।

টেলিভিশনের লবঙ্গ থেকে আজকের টুকু- কতটা গ্রোথ হয়েছে বলে তোমার মনে হয়?

অনেকটা। আজ যদি আমি অভিনয়ের ১০% জানি তাহলে যখন লবঙ্গ করেছি তখন আমি কিছুই জানতাম না। তার আগে কোনও দিন আমি স্টেজেও অভিনয় করিনি। লাইট থেকে শুরু করে ক্যামেরা সব কিছু ওই সময়েই প্রথম জেনে ছিলাম। সেই তুলনায় এখন ক্যামেরা, আলো সবটাই কিছুটা বুঝতে শিখেছি। আর এটাও বুঝেছি যে এগুলো নিয়ে আমাকে কিছুই ভাবতে হবে না। ডিওপি সমস্তটা বুঝে নেবে। এই পুরো গ্রোথটা কিন্তু এই জার্নিটা না হলে বুঝতেই পারতাম না। মানুষ হিসাবে বলবো আমার ধৈর্য্য অনেকটা বেড়েছে। আর অভিনেত্রী হিসাবেও গ্রোথটা এই সময়ের মধ্যেই অনেকটা হয়েছে।


হঠাৎ করে ক্যামেরার সামনে এসেছিলে। নেপথ্যের কারণটা কী ছিল?

আসলে একটা অনুষ্ঠানে একজন চ্যানেল ইপি আমার নম্বর নিয়েছিলেন। তারপর অডিশন, ওয়ার্কশপ এসবের মধ্যে দিয়েই হাজির হয়েছিলাম টেলিভিশনের পর্দায়। সেখান থেকে দেখে অনিন্দ্য দা (অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়) ডেকে পাঠান। তারপর পরপর সব হতে থাকে।

আমার গল্প বলার যে ধরণ সেখানে কোনও মানুষ নয়, পরিস্থিতিটাই ভিলেন: শিলাদিত্য মৌলিক

প্রজেক্ট বাছার সময় কোন জিনিসগুলো মাথায় রাখো?

এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে দেখতে গেলে পুরোটাই ইনস্টিংট। মন যদি বলে এটা করা উচিত তবে সেটাই হ্যাঁ বলে দিই। স্ক্রিপ্ট শুনে নিজের যদি ভালো লাগে তাহলে মনে করি দর্শকেরও হয় তো ভালো লাগবে। আর যদি নিজেরই ভালো না লাগে তখন না বলি। আর অবশ্যই ডিরেক্টর, স্ক্রিপ্টের পাশাপাশি প্রোডাকশন হাউজকে মাথায় রাখি। কারণ একটা ছবিতে খেটেখুটে অভিনয় করার পর সেটা রিলিজ না করলে খুব খারাপ লাগে। হল পেতে আজকাল নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। তো সেক্ষেত্রে কোন ব্যানার সেটাও দেখতে হয়। 'সোয়েটার'-এর ক্ষেত্রে অবশ্য কন্টেন্ট দেখেই রাজি হয়ে গিয়েছিলাম।

ছোট পর্দা থেকে উঠে এসেছো। টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে বহু অভিনেতা অভিনেত্রী টেলিভিশন থেকে উঠে এসে আজ ইন্ডাস্ট্রি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তুমি নিজের ইউএসপি কী বলে মনে করো?

পাওলি দাম, পার্নো মিত্র, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ এমন বহু অভিনেতা অভিনেত্রী টেলিভিশন থেকে উঠে এসেছেন। তাঁদের প্রত্যেকের অভিনয় আমার ভীষণ প্রিয়। কিন্তু নিজের ইউএসপি কী সেটা আমি এখনই বলতে পারবো না। এটার জন্য আরও কয়েক বছর সময় লাগবে। দুই তিন বছর পর এই উত্তরটা আমি দেবো।

ওয়েব সিরিজ নিয়ে কী প্ল্যান?

আমি ওয়েব সিরিজে কাজ করতেও আগ্রহী। অগ্র করেছি। সামনেই একটা ওয়েব সিরিজের কাজ খুব তাড়াতাড়ি শুরু হতে চলেছে। আমার মনে হয় ওয়েবে কাজের এক্সপেরিয়েন্সেরও দরকার ছিল।

25b2esqo

'সোয়েটার'-এর প্রমোশনে ছবির কলাকুশলীদের সঙ্গে অভিনেত্রী ইশা সাহা।

রাধিকা আপ্তের সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছে মানুষ।

রাধিকা আপ্তে, পাওলি দাম খুব কমন। আমার সঙ্গে মাহি গিল, ইয়ামি গৌতম, রাইমা সেন আরও অনেকের মিল খুঁজে পেয়েছে মানুষ। সে সব শুনে আমার মনে হয় এত জনের সঙ্গে একটা মানুষের মিল কীভাবে থাকতে পারে! তবে আমি কারও সঙ্গেই নিজের মিল খুঁজে পাই না।

তোমাকে লোকে ইশার চেয়ে বেশি টুকু বলছে। সেটা কেমন লাগছে?

ভালোই তো লাগছে। সেটাই তো চাওয়ার। 

পাশের বাড়ির মেয়ে মনে হওয়ায় কমার্শিয়াল ছবিতে গ্ল্যামারাস চরিত্রে মানুষ একেবারেই তোমাকে মেলাতে পারছে না।

মানুষের মেলানোর চেয়ে বড় কথা আমি নিজেই মেলাতে চাই না। আমি চাই না একজন বড় স্টার হয়ে যেতে যেখানে লোকে আমায় লাইন দিয়ে দেখুক। লাইন দিয়ে লোকে আমাকে এখানেও দেখুক। কিন্তু পাশের বাড়ির মেয়ের মতো আমার যে ইমেজটা তৈরি হয়েছে আমি চাই সেটা থেকে যাক। তবে গ্ল্যামারাস চরিত্রে কী আমি অভিনয় করবো না? কিন্তু সেটা পর্দার বাইরে আর আমার সঙ্গে আসবে না। আমি যদি আরও কম বয়সে গ্ল্যামারাস চরিত্রে অভিনয় শুরু করতাম তাহলে হয় তো বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতো। এখন আর সেটা সম্ভব নয়। আর আমি চাইও না নিজেকে বদলাতে। যেমন আছি সেটাই তো ভালো আছি। আর চাই লোকে এইভাবেই অ্যাক্সেপ্ট করুক, একটু আলাদাভাবে। সবাই একইরকম হওয়ার থেকে একটু আলাদা হওয়া ভালো না? সবাই স্টার হয়ে গেলে পাশের বাড়ির মেয়ে কে থাকবে?

প্রেমে পড়তে বারণ করলেও অধিকাংশ বারণই কেউ শোনে নাঃ রণজয় ভট্টাচার্য

 অবশ্যই তাই। তার মানে গ্ল্যামারাস চরিত্রে অভিনয় করলেই ইশা বদলে যাবে না।

একদমই তাই। আর আমার মনে হয় তিন বছর তো অনেক বড় সময়। তাই যদি সত্যিই বদলানোর হত তাহলে এই তিন বছরেই বদলে যেতাম।

সিনেমায় তো টুকুর বিয়ে নিয়ে সবার মাথা ব্যাথা। ইশার বিয়ের কী প্ল্যান?

ইশার বিয়ের এখনই কোনও রকম প্ল্যান নেই। বিয়ে হলে তোমরাই সবার আগে খুঁজে বের করবে আমি জানি।

পরের প্রজেক্ট?

কয়েকটা কথা চলছে। তবে পরপর একই ধরণের চরিত্রে অভিনয় করবো না। গ্ল্যামারাস চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগও আসছে। তবে আমি পুরোপুরি কমার্শিয়াল ছবিতে কোনও দিন অভিনয় করতে পারবো না। কারণ আমার মনে হয় সেক্ষেত্রে নাচ আর গানটা খুব ইম্পর্টেন্ট, যেটা আমি একেবারেই পারি না। এবার দেখা যাক কী করা যায়।


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement