হোমআঞ্চলিক

এতদিন শুধুই দিলাম, এবার নেবও: খোলামেলা আড্ডায় কাঞ্চন মল্লিক

  | July 18, 2019 13:44 IST (কলকাতা)
Kanchan Mallick

'অদল বদল'-এর টাইটেল ট্র্যাকে কাঞ্চন মল্লিক

এবারে কাঞ্চন অন্দরমহলে ঢুকে পড়বেন সরাসরি। এই শো-য়ে অংশ নিয়ে বাড়ির যেকোনও পুরনো জিনিস বদলে পাবেন আনকোরা নতুন। খেলায় হারলে কিন্তু চ্যানেল নিয়ে নেবেন আপনার পুরনো জিনিসটাও।

১৯ বছর পরে কাঞ্চন মল্লিকের প্রত্যাবর্তন একই চ্যানেলে। কালার্স বাংলার নতুন নন ফিকশন শো ‘অদল বদল'-এ। এবারে কাঞ্চন অন্দরমহলে ঢুকে পড়বেন সরাসরি। এই শো-য়ে অংশ নিয়ে বাড়ির যেকোনও পুরনো জিনিস বদলে পাবেন আনকোরা নতুন। খেলায় হারলে কিন্তু চ্যানেল নিয়ে নেবেন আপনার পুরনো জিনিসটাও। নন ফিকশন এই শো যেমন বদলে দেবে জনতার জিনিস, তেমনি ১৯ বছরে কতটা বদলেছেন কাঞ্চন? তিনি ডোরবেল বাজানোর পরেই দরজা খুলে তাঁকে দেখে কতটা উচ্ছ্বসিত আম বাঙালি? জিনিস বদলাতে গিয়ে সমাজ- মানুষের কী কী অদল বদল চোখে পড়ল সঞ্চালক-অভিনেতার? মজা মিশিয়ে সব প্রশ্নের সাবলীল জবাবে অভিনেতা-সঞ্চালক কাঞ্চন মল্লিক। শুনলেন উপালি মুখোপাধ্যায়

প্রশ্ন: ২০০০ থেকে ২০১৯, এই ১৯ বছরে কাঞ্চন মল্লিকের কতটা অদল বদল ঘটল?

উত্তর: গালে একটু মাংস লেগেছে। কোমর ২৮ ইঞ্চি ছিল, ৩২ ইঞ্চি হয়েছে। আর তেমন বদল ঘটেনি চেহারায়। সময়, কাল অনেকটাই এগিয়ে গেছে। তার মধ্যেও চেষ্টা করেছি মাটিতে পা-টা রেখে দিতে। ডানাও গজায়নি, ল্যাজও হয়নি। তাই আবার মানুষের দরবারে ফিরতে চাই।

প্রশ্ন: ২০১৯-এর কাঞ্চনকে সাধারণ মানুষ কি পারছেন জনতা এক্সপ্রেসের সঙ্গে মেলাতে?


উত্তর: এটা তো ঠিক জনতা এক্সপ্রেসের আদলে শো নয়। তবে হ্যাঁ, যাচ্ছি সেই জনতার কাছেই। আর এবার আমি দিচ্ছিও। একই সঙ্গে খেলায় না জিততে পারলে নিয়েও নেব। (মুচকি হেসে), এতদিন তো শুধুই দিলাম। এবার না হয় একটু নিই! তবে আমি ব্যক্তিটি কিন্তু নিচ্ছি না। নিচ্ছে চ্যানেল। আমার হাত দিয়ে। আর বিশ্বাস করুন, এমন কোনও শক্ত প্রশ্নও করা হচ্ছে না। তবু যাঁরা পারছেন না, তাঁদের থেকে তো নিতেই হবে। এটাই খেলার দস্তুর।

প্রশ্ন: ডোরবেল বাজানোর পর আপনাকে দেখে জনতার প্রথম রি-অ্যাকশন কী?

উত্তর: দারুণ উচ্ছ্বসিত! আনন্দিতও। তারপর যেই খেলার নিয়ম বলছি, ওমনি মুখ শুকিয়ে আমসি। পুরনো জিনিসের ওপর কী মায়া! আর নিজেরাও বেছেবুঝে সেই কোন মান্ধাতা আমলের জিনিসগুলো আনছেন বদলে নিতে। কই নতুন জিনিস তো দিচ্ছেন না! নিজেকে কেমন যেন কাবারিওয়ালা বলে মনে হচ্ছে জানেন। রাস্তা দিয়ে যাঁরা হাঁকতে হাঁকতে বলেন, পুরানা কে বদলে নয়া লে লো! আমার কাজটাই তো এখন তাই!

7lqecaq8

প্রশ্ন: কারা, কীভাবে প্রশ্ন সাজাচ্ছেন?

উত্তর: এটা চ্যানেলের একটি টিম করছেন। তাঁরা প্রশ্ন সাজিয়ে তুলে দিচ্ছেন চ্যানেল কর্তৃপক্ষের হাতে। চ্যানেল সেখান থেকে ঝাড়াইবাছাই করছে। তারপর সেটা গিয়ে পড়ছে জনতার সামনে। মজার কথা, আমাকেও পর্যন্ত জানানো হচ্ছে না প্রশ্ন! আমি জানছি খেলতে গিয়ে। 

প্রশ্ন: মানুষ হিসেবে কম বদলালেও সঞ্চালক কাঞ্চন মল্লিক প্রথমবার টাইটেল ট্র্যাকে গলা দিয়েছেন! নেচেছেন, ডিগবাজিও খেয়েছেন। এই বদল কীভাবে ঘটল?

উত্তর: পুরোটাই করেছে দিব্যেন্দু। আমার পরিবারের কেউ কোনোদিন গান করেননি। আমি তো হারমোনিয়াম ছুঁইনি। কিন্তু এখন দেখলাম কী করে যেন হয়ে গেল।

প্রশ্ন: শো করতে গিয়ে সমাজ আর মানুষের কী কী অদল বদল দেখলেন?

উত্তর: কোনটা ছেড়ে কোনটা বলি! ভালো-মন্দ দুটোই হয়েছে। তবে একটা বিশাল পরিবর্তন মোবাইল আর কানে তার গুঁজে কথা বলতে বলতে পথ চলা! সেদিন দেখি রাস্তা দিয়ে একজন সুন্দরী মহিলা যাচ্ছেন। চুল খোলা বলে কানে ওয়্যারলেস হেডফোন না কি যেন আছে বুঝিনি। দেখি, নিজের মনে বকবক করতে করতে চলেছেন। আমি তো ভাবলাম, বোধহয় পাগলই হয়ে গেলেন। আহা রে, এই বয়সে! ওমা পরে দেখি, উনি ওয়্যারলেস হেডফোন লাগিয়ে কথা বলতে বলতে যাচ্ছেন! চুলের ফাঁকে যা ঢাকা ছিল। সারাক্ষণ যন্ত্র ব্যস্ত থাকলে নিজের চারপাশ মানুষ দেখবে কখন!

প্রশ্ন: খেলার নিয়ম বলবেন?

উত্তর: দুটো পদ্ধতিতে খেলা হবে। প্রথম পর্বে তিনটে প্রশ্নের মধ্যে দুটো সঠিক আর দ্বিতীয় পর্বে পাঁচটি প্রশ্নের চারটে সঠিক জবাব দিতেই হবে। দ্বিতীয় শো-এ প্রতিযোগী প্রতিবেশির সাহায্য নিতে পারবেন। নিয়ম মেনে জবাব দিতে পারলে পুরনোর বদলে নতুন জিনিস আপনার। না পারলে নতুনের সঙ্গে পুরনোটাও আমার। একই সঙ্গে আমরা একটি করে চারাগাছ নিয়ে যাচ্ছি। সেটা দেব যাঁর বাড়িতে গেলাম। এভাবেই একটি গাছ একটি প্রাণ কনসেপ্ট তুলে ধরছি।

প্রশ্ন: আপনি প্রতিযোগী হলে কী বদলে নেবেন?

উত্তর: (হাসতে হাসতে) সম্ভব হলে নিজের জীবনটাকেই আরেকবার বদলে নিতাম।

giu280s

শো নিয়ে কথা হল চ্যানেলের বিজনেস হেড রাহুল চক্রবর্তীর সঙ্গেও। তিনি জানালেন, ১১টা এপিসোড শুট হয়েছে এখনও। দারুণ সাড়া পাচ্ছি। কাঞ্চন মানেই জমজমাট ব্যাপার। ওঁকে দেখেই সবাই ভীষণ উত্তেজিত, উৎসাহিত। আবার আমাদের ভ্যান দেখে বাকিরা বলছেন, আমাদের বাড়ি আসবেন না? দর্শককে আকর্ষণ করার জন্য খেলার ফর্ম্যাট অনুযায়ী অন্দরমহলে চলে যাচ্ছেন কাঞ্চন। এতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বাড়বে। তবে পুরনোটাও নিয়ে নেওয়ার কথা উঠলে কেউ কেউ পিছিয়ে গেলেও সবটাই এখনও ইতিবাচক পথেই হাঁটছে। প্রযোজনায় এন্ডেমল শাইন ইন্ডিয়া।

২২ জুলাই সোম থেকে শনি রোজ বিকেল সাড়ে পাঁচটায় দেখতে পাবেন কালার্স বাংলার এই নন ফিকশন শো। আপনিও একটার ট্রাই করবেন নাকি? পুরনো জিনিস বদলের পাশাপাশি নিজের বাড়িতে বসে কাঞ্চনের মুখোমুখি হতে? 




বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement