হোমমিউজিক

20 years Of Singing: ‘২০ বছর পরেও স্ট্রাগল রয়েই গেছে’: রাঘব চট্টোপাধ্যায়

  | August 23, 2019 14:36 IST
Raghab Chatterjee

১৯-এ ২০ রাঘব চট্টোপাধ্যায়

১৯-এ এসে ২০-তে পা রাখলেন রাঘব চট্টোপাধ্যায়। হেঁয়ালি শোনাচ্ছে? আসলে ২০১৯-এ গান জীবনের ২০ বছর পূর্ণ করলেন শিল্পী।

১৯-এ এসে ২০-তে পা রাখলেন রাঘব চট্টোপাধ্যায় (Raghab chatterjee)। হেঁয়ালি শোনাচ্ছে? আসলে ২০১৯-এ গান জীবনের ২০ বছর পূর্ণ করলেন শিল্পী (20 years Of Singing)। তাই সেলিব্রেশন তো চাই-ই। রাঘবও উদযাপন করছেন তাঁর গান-জীবন। একটু ভিন্ন ভাবে। ‘হৃদয় রোটারি ক্লাব অফ ওল্ড সিটি'র সঙ্গে মিলে তিনি আগামী ২৪ অগাস্ট, কলামন্দিরে সন্ধে ছ-টায় পালন করতে চলেছেন ‘উনিশে কুড়ি' অনুষ্ঠান। যেখানে গান তো থাকবেই। থাকবে সংশ্লিষ্ট ক্লাবকে অনুষ্ঠানের থেকে উঠে আসা অর্থ দান। যাতে অভাবী পরিবারের ছোট শিশুরা হৃদরোগের চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে বাইপাস সার্জারি করাতে পারে। এই অভিনব উদ্যোগের পাশাপাশি রাঘব ফিরে দেখলেন নিজের যাপিত জীবন। পাওয়া-নাওয়ার হিসেবনিকেশের সঙ্গে বললেন একাল আর সেকালের গান দুনিয়ার অনেক কথা। শুনে নিলেন উপালি মুখোপাধ্যায়

প্রশ্ন: ২০ বছর গানের দুনিয়ায় কাটানোর পর কী মনে হচ্ছে? খুব সহজ ছিল এই জার্নি?

উত্তর: নৈহাটির মতো মফস্স্বল থেকে কলকাতায় এসে নিজের জায়গা বানানো। গান তৈরি করে রেকর্ডিং সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ। ধীরে ধীরে ছবির গানের দুনিয়ায় প্রবেশ---কোনোটাই সহজে হয়নি। পরিশ্রম করতে হয়েছে। ধৈর্যও ধরতে হয়েছে। একই সঙ্গে লেগে থাকতে হয়েছে গান নিয়ে। গান গাওয়ার পাশাপাশি গান শিখছিও সমানে। এসব একদিনের ফসল নয়। তাই ২০ বছরের জার্নিও সহজ নয়। তবে আমি কোনোদিন ফাঁকি দিইনি। মন দিয়ে কাজ করে গেছি। তারই ফলশ্রুতি গান-দুনিয়ায় এতগুলো বছর কেটে গেল। শ্রোতারা আজও আমার গান শুনছেন। তবে ২০ বছর পরেও স্ট্রাগল কিন্তু রয়েই গেছে।

কথায়-গানে-স্মৃতিচারণে হেমন্ত-মান্নায় 'Mahanayak'


প্রশ্ন: এই স্ট্রাগল কি নিজেকে আরও উঁচুতে তোলার স্ট্রাগল? না, আগামী ২০ বছর শ্রোতার-মনে থেকে যাওয়ার লড়াই?

উত্তর: দুটোই। রাঘব চট্টোপাধ্যায় বললেই সবাই যা আশা করেন সেটা ধরে রাখতে হবে তো! একই সঙ্গে নিজেকেও তুলে নিয়ে যেতে হবে। দরকারে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে নিজেকে নিয়ে, গানকে নিয়ে। একটা নামি বিস্কুটের সংস্থা যেমন তার সুনাম ধরে রাখতে সারাক্ষণ পরিশ্রম এবং লড়াই করেন শিল্পীদের ক্ষেত্রেও সেটা একইরকম। নিজের মান ধরে রাখাটাই শিল্পী জীবনের এক এবং অদ্বিতীয় স্ট্রাগল। তার জন্য রোজ আমার মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে বসি। কী করে আরও ভালো মিউজিক হয় গানের তার জন্য। ফিউশন নিয়ে কাজ করছি। সঙ্গে রবীন্দ্র গান, নজরুলগীতি, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতও আছে। তাছাড়া, আমার বড় মেয়ে গান গায়, ছোট মেয়ে গিচার বাজায়, কম্পোজও করে---সেসবেও সাহায্য করি। সব মিলিয়ে এভাবেই নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

প্রশ্ন: নিশ্চিন্ত জীবনযাপনের পথ না দেখিয়ে স্ট্রাগল লাইফে মেয়েদেরও আনছেন কেন? আপনাকেও কি পরিবার এভাবেই সাপোর্ট করেছিল? 

উত্তর: ২০০ পার্সেন্ট পাশে দাঁড়িয়েছিল। কারণ, আমার বাড়ি সাঙ্গীতিক বাড়ি। মা শিলা চট্টোপাধ্যায় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী। উনিই আমার প্রথম গুরু। আমার স্ত্রী অনিতা-ও ক্লাসিক্যাল সিঙ্গার। বাড়িতে যে গান শেখানোর প্রতিষ্ঠান আছে সেটা দেখে মা আর বউমা মিলে। ফলে, এই বাড়ির ছেলে তো গান নিয়েই থাকবে! আর সাপোর্ট না করলেও করার কিছু ছিল না। আমি গান ছাড়া আর কিছু বুঝি না। আর বাকি রইল মেয়েরা। এই পরিবেশে মানুষ হয়ে ওরাও গানটা যেমন সহজে পারে অন্য কিছু তেমন সহজে পারবে না। বড় মেয়ে যেমন ছোট থেকেই গান গায়। ছোট মেয়ে অবশ্য বলেছিল, গান গাওয়ার বদলে গিটার বাজাবে। আমি তাতেই রাজি। এখন তো দিদির সঙ্গে মিউজিক কম্পোজও করছে। মানে, আস্তে আস্তে গানের দুনিয়ায় আসছে। ও যদি এই দুনিয়ায় না আসতে চাইত, বলত ছবি আঁকব, সেটাও হাসিমুখে মেনে নিতাম। কারণ, কারোর ওপরে জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার বদলে স্বাধীনতা দিলে মানুষ সাইন করে। তবে ওরা খুব ভাগ্যবান, আমার মতো স্ট্রাগল ওদের করতে হচ্ছে না।

8cp25ft8


প্রশ্ন: আজকের শিল্পীরা আপনাদের মতো করে সত্যিই কি আর পরিশ্রম করেন? এখন তো রিয়েলিটি শো-এর মঞ্চ থেকে শিল্পী তৈরি হয়ে যাচ্ছে! 

উত্তর: আমার মতে, এটা এক ধরনের অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জায়গা। আমার কাছে যখন কেউ জানতে আসেন যে অংশ নেবেন কিনা, আমি বলি, পুরোটাই তাঁর ইচ্ছে। এই শো-কে যেন চূড়ান্ত ফলাফল না ধরেন কেউ। জিতলে ভালো। হারলেও কুছপরোয়া নেই। তবে একে ধরে থাকলে কিন্তু এগোনোর পথ বন্ধ হয়ে যাবে। নিজেকে তৈরি করাই আসল। এই ধরনের প্রতিযোগিতা জীবনের অংশমাত্র।

প্রশ্ন: গলা ভালো রাখতে গেলে, ভালো শিল্পী হতে গেলে কি অনুষ্ঠান, বিশেষ করে মাচা বা স্টেজ শো কম করা উচিত? যদিও সদ্য সারেগামাপা বিজয়ী অঙ্কিতা ভট্টাচার্য এই কথা বলে সমালোচিত হয়েছেন! 

উত্তর: গানের দুনিয়ায় টিকে থাকতে গেলে কিন্তু ভীষণ নিয়মানুবর্তিতার দরকার। রোজ যেমন রেওয়াজ করতে হবে সময় ধরে তেমনি জীবনযাত্রাও হবে সংযত। রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়তে হবে। নেশা করা চলবে না। যা ইচ্ছে খাওয়া যাবে না। আস্তে কথা বলতে হবে। এবং অবশ্যই বেশি গান গাওয়া বা প্রোগ্রাম করা যাবে না। অঙ্কিতা খুব ভুল বলেনি। তবে ছোট মেয়ে, ঠিক মতো বুঝিয়ে উঠতে পারেনি। মাচা মানে খোলা স্টেজে প্রোগ্রাম। আর সেটা ঢাকা হলেই সভাগৃহের অনুষ্ঠান। পার্থক্য এটুকুই। আমি কিন্তু পকেটে পয়সা কম থাকার সময়েও বেশি অনুষ্ঠান করতাম না।

রবীন্দ্র-নজরুল গানে আকাশবাণীর 'প্রথম সম্প্রচারণ'! কী বলছে 'রেডিওর গান গপ্পো'?

প্রশ্ন: ২০ বছরের গান জীবন কীভাবে উদযাপন করছেন? 

উত্তর: দুটি ভাগ থাকছে অনুষ্ঠানের।  একটি ভাগে আমার বাকি গান বন্ধু যেমন রূপঙ্কর বাগচি, লোপামুদ্রা মিত্র, অনুপম রায়, শুভমিতা এঁরা আমার গান গাইবেন ওঁদের মতো করে। আর একটি ভাগে আমি গাইব আমার গান। সঙ্গে থাকবে শ্রোতাদের অনুরোধ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন মীর। অনুষ্ঠানের অর্থ দান করা হবে হৃদয় রোটারি ক্লাব অফ ওল্ড সিটি-কে। দুঃস্থ শিশুদের হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য। 

প্রশ্ন: আপনার মা-আপনি-আপনার দুই মেয়ে---তিন প্রজন্ম গানের দুনিয়ায়। ভালো শিল্পী হতে গেলে বংশ পরম্পরা কি খুব জরুরি? 

উত্তর: (হেসে ফেলে) সব ক্ষেত্রে নয়। তবে এটা ঠিক, যে যেটা রক্তে নিয়ে জন্মেছে সেই কাজ সে করলে তার থেকে ভালো আর কেউ করতে পারবে না। তার মানে এটাও নয় যে, সাঙ্গীতিক পরিবেশে বড় না হলে সে গায়ক বা শিল্পী হবে না। আসলে পুরো ব্যাপারটাই আপেক্ষিক। 







বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement