হোমটলিউড

সত্যজিৎ রায় ছিলেন আমার সেন্সর: সন্দীপ রায়

  | December 17, 2019 19:42 IST
Professor Shonku O El Dorado

বড়পর্দায় প্রফেসর শঙ্কুর জনক

৬১ সালে জন্ম প্রফেসর শঙ্কুর। জনক বিশ্ববরেণ্য সত্যজিৎ রায়। দুই মলাটের ভাঁজে অনেক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার করে ফেলেছেন। সবার সামনে আসছেন আগামী ২০ ডিসেম্বর। বড্ড দেরি হল আসতে?

৬১ সালে জন্ম প্রফেসর শঙ্কুর। জনক বিশ্ববরেণ্য সত্যজিৎ রায়। দুই মলাটের ভাঁজে অনেক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার করে ফেলেছেন। কিন্তু সবার সামনে আসছেন ২০ ডিসেম্বর। বড্ড দেরি হল আসতে? একুশের শঙ্কু কি ছয়ের দশকের মতোই? কতটা টেকস্যাভি হয়েছেন? বিগ বাজেট, বিগ ব্যানার, আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা---চাপ বাড়াচ্ছে পরিচালকের? ছবি বানাতে বানাতে বাবাকে কতটা মিস করলেন? ছবি বানানোর পরে এখনও টেনশনে ভোগেন? বড়দিনের আগে Professor Shonku O El Dorado নিয়ে অনর্গল Sandip Ray। মুগ্ধ শ্রোতা উপালি মুখোপাধ্যায়

সাক্ষাৎকার শুরুর আগের পর্ব। ১/১ বিশপ লেফ্রয় রোডের বিশাল হলুদ বাড়ির তিনতলায় লিফট দিয়ে উঠে দরজা খুললেই লম্বা করিডোর। সেখানে সদা হাস্যময়ী ললিতা রায়। নিজেই এগিয়ে এসে আপ্যায়ন করেন আন্তরিক ভাবে। এবারেও ব্যতিক্রম নেই। প্রথমে চা-জল-কফি-কচুরি খাওয়ার সনির্বন্ধ অনুরোধ। তারপরেই মুখোমুখি প্রফেসর শঙ্কুর বড়পর্দার জনক সন্দীপ রায়ের। সবার যিনি শ্রদ্ধার-ভালোবাসার 'বাবুদা'---

প্রশ্ন: সত্যজিৎ রায় সময়ের অনেক আগে এনেছিলেন প্রফেসর শঙ্কুকে। তাই কি বড়পর্দায় তাঁকে আনতে এতটা সময় লাগল?

উত্তর: শঙ্কুর জন্ম ৬১ সালে। তারপরে ফেলুদাকে জন্ম দিয়েছেন বাবা। সুতরাং আমার প্রথম প্রেম প্রফেসর শঙ্কু-ই। কিন্তু, তাঁকে আনার পথের প্রধান বাধা লজিস্টিকস। কারণ, শঙ্কু সায়েন্স ফিকশন, ফ্যান্টাসি। প্রথম ১০-১২ মিনিট হয়ত জন্মস্থান গিরিডি-তে থাকেন। তারপরেই চলে যান বিদেশে। ওঁর বেশির ভাগ বন্ধুই বিদেশি। ফলে, কথাবার্তার সিংহভাগ ইংরেজিতে। ভাষার দিক থেকেও তাই সমস্যা রয়েছে। উপরন্তু টেকনোলজি ততটাও পোক্ত ছিল না। ভিজ্যুয়াল এফেক্ট আনা তাই সম্ভব ছিল না। তাছাড়া, খরচের ব্যপারটাও তো মাথায় রাখতে হবে! সব মিলিয়ে তাই পরে জন্মেও ফেলুদা জনপ্রিয় হলেন বেশি। সামনেও এলেন সবার আগে। কিন্তু প্রফেসর শঙ্কুকে আনা যায়নি। বলা যেতে পারে, SVF-এর তাগাদাতেই ২০১৭-র শেষ থেকে হাত দিলাম প্রফেসর শঙ্কুতে।



3co07plg


প্রশ্ন: শঙ্কুর আরও গল্প ছিল। 'নকুড়বাবু ও এলডোরাডো'-ই কেন?

উত্তর: আমার ভীষণ প্রিয় গল্প 'একশৃঙ্গ অভিযান'। কিন্তু তার লোকেশন বাছা, খরচ, বানানোর হ্যাপা--- সব মিলিয়ে ভয়ঙ্কর। তাই এই গল্প বাছলাম। নকুড়বাবু আমার খুব পছন্দের চরিত্র। খুব অদ্ভুত! ভূত-ভবিষ্যত দেখতে পান। নানারকম জিনিস হাজির করতে পারেন চাইলেই। বেশ একটা অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা রয়েছে। আর যেহেতু তিনি শঙ্কুর সঙ্গে বিদেশ যাবেন তাই বাংলার গন্ধটাও রয়ে যাবে সারা ছবিতে। বাংলা-ইংরেজি দুই ভাষাই সমান মর্যাদা পাবে। এর ভিজ্যুয়াল এফেক্টও বহনযোগ্য। সব মিলিয়ে তাই 'একশৃঙ্গ অভিযান'-এর জায়গায় 'নকুড়বাবু ও এলডোরাডো'।

প্রশ্ন: ৬১ সাল থেকে ২০১৯-এ আসতে গিয়ে কতটা বদলালেন প্রফেসর?

উত্তর: প্রফেসরকে এযুগের করে নিতে খুব বেগ পেতে হয়নি। কারণ, শঙ্কুর আবিষ্কারগুলো এখনও সর্বজনগ্রাহ্য নয়। এখনও কেউ পকেটে অ্যানাইলিম গান নিয়ে ঘোরে না। মিউরোকিউরল অয়েনমেন্ট বা ওষুধও ব্যবহার করে না। তাই প্রফেসর শঙ্কু একুশেও সমসাময়িক। পটভূমিকাও এখনকার মতোই। সামান্য ব্রাশআপ ছাড়া বেশি খাটিনি। এবং শঙ্কু টেকস্যাভিও। মোবাইল ব্যবহার করেন।

প্রশ্ন: সত্যজিৎ রায় নিজের স্কেচ দেখে অভিনেতা বাছতেন। আপনিও কি সেটাই?

উত্তর: আমিও চেষ্টা করি। কিন্তু সবসময় হয়ে ওঠে না। অনেক সময় হয়ত চেহারা মিলছে কিন্তু ভীষণ খারাপ অভিনেতা! তবে শঙ্কুর ক্ষেত্রে আমার কোনও অসুবিধে হয়নি। কারণ, প্রথম থেকেই শঙ্কুর জন্য আমি ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়কে বেছে রেখেছিলাম। প্রফেসরের বয়সী-ই তিনি। প্রগাঢ় পাণ্ডিত্য। অনেক ভাষায় দক্ষ। চোখের চাহনিতে প্রচণ্ড তীক্ষ্ণতা। এবং চেহারায় শঙ্কুর মতোই ঋষিসুলভ ভাব (হাসি)। বরং নকুড়বাবুর চেহারার সঙ্গে পারফেক্ট গেছেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়। বাবা নকুড়বাবুর একটা পোট্রেট এঁকেছিলেন। সেই ছবি আর শুভাশিসকে পাশাপাশি দাঁড় করালে মনে হবে একে অন্যের ছায়া। ভয় ছিল বিদেশিদের নিয়ে। ব্রাজিলের লাইন প্রোডিউসারের সঙ্গে অনলাইনে কথা চালাচালি করে, বাবার ছবি পাঠিয়ে মোটামুটি মেলাতে পেরেছি। হয়ত নিখুঁত নয়। তবে ওঁরা সবাই খুব ভালো অভিনেতা।


c2fhlh28


প্রশ্ন: গল্পের খাতিরে বাংলা ছবিতে যদি ইংরেজি ভাষার আধিক্য হয় বাঙালি রিলেট করতে পারবে?

উত্তর: ওই জন্যেই বাইলিঙ্গুয়াল বা দুটো ভাষায় বানিয়েছি। শহরের মাল্টিপ্লেক্সে ইংরেজি সহ ছবিটি দেখানো হবে। শহরতলিতে ওই অংশের ডাবিং থাকবে বাংলায়। যদিও এখন আর শহর-শহরতলির ভেদাভেদ নেই। তবে ইংরেজিটা রাখছি বিদেশেও দেখানোর ইচ্ছে রয়েছে বলে। শঙ্কুর ব্যাপ্তি বা পরিধি তো বিশ্বব্যাপী। যে বাজেটের, যে মানের ছবি বানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে আশা করি খুব অসুবিধে হবে না।

প্রশ্ন: ছবি বানাতে গিয়ে বাবাকে মিস করলেন?

উত্তর: গল্পটাই তো বাবার লেখা! অভাব কিসের? বাবা থাকাকালীনও কোনোদিন প্রি-পোস্ট বা প্রোডাকশন যখন চলছে, শুট হচ্ছে--- এই সময়ে তাঁকে ডাকিনি। বাবা থাকতেন বাবার মতো। বাড়িতে। আমার কাজে নাকও গলাতেন না। ফলে, আজও ছবি করার সময় মিস করি না বাবাকে। মনে হয়, বাড়িতেই তো আছেন। আর ওঁর সব গল্প নিয়েই ছবি করি। ফলে, আমি বাবাময়। অভাব বোধ করি তখন, যখন ছবির প্রথম শো বা ফার্স্ট কাটের সময়। বাবা থাকলে ওটা ওঁকে দেখিয়ে নিতাম। বাবা ছবি দেখে খুশি মানেই উতরে গেছি। সত্যজিৎ রায় সন্দীপ রায়ের সেন্সর ছিলেন।

প্রশ্ন: ললিতা রায় এবারেও প্রোডাকশন সামলেছেন?

উত্তর: সবার মাপ নিয়ে পোশাক বানানো, বিদেশিদেরও। কারণ, ব্রাজিল থেকে বলেই পাঠিয়েছিল, কলকাতায় পোশাক বানিয়ে নিন। ওখানে পোশাক তৈরির মস্ত খরচ। সব একা হাতে সামলেছে। আর সবার দেখভাল করা--যা আগেও করেছে তাই-ই এবারেও নিজ দায়িত্বে সামলেছে ও।

প্রশ্ন: বড় দিনের বড় ছবি কোন বসয়ের দর্শক টানবে? ডবল ফেলুদার মতো ডবল শঙ্কু হবে?

উত্তর: আমি চাইব আট টু আশি। সব বয়সের উপযোগী প্রফেসর শঙ্কু। আর চাইব সব শ্রেণি দেখুন আমার প্রফেসরকে। তবেই তো ছবি তৈরি সার্থক। বাণিজ্য ভালো হলে অবশ্যই হবে। প্রচুর ভালো ভালো গল্প রয়েছে প্রফেসরের। তার জন্য সবাইকে দেখতে হবে ছবি।

প্রশ্ন: এখনও ছবি রিলিজের আগে ভয় করে?

উত্তর: ওরে ব্বাবা! মারাত্মক। তবে ভেতরে ভেতরে। বাইরেটা দেখে কেউ বুঝতেই পারবেন না, ভেতরে কী ঝড় বইছে!

দেখুন ভিডিও:





বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement
Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com