হোমমিউজিক

প্রেমে পড়তে বারণ করলেও অধিকাংশ বারণই কেউ শোনে নাঃ রণজয় ভট্টাচার্য

  | March 08, 2019 21:10 IST
Ranajoy Bhattachary

রণজয় ভট্টাচার্য। (সৌজন্যে ফেসবুক)

'সোয়েটার' আসছে। ছবির গান 'প্রেমে পড়া বারণ' শুনে গানের পাশাপাশি স্রষ্টা রণজয় ভট্টাচার্যেরও প্রেমে পড়েছে আমজনতা। ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি ছেড়ে একের পর এক সুর বেঁধে চলেছেন সুদূর বোম্বেতে বসে। 'প্রেমে পড়া বারণ' মুক্তির পর তাঁর সঙ্গে আড্ডা দিয়ে এসে কলম ধরলেন পরিজা কর্মকার।

কলকাতাবাসী তো সারাদিন শুধু একটাই গান শুনছে...

লোকজনের সঙ্গে গানের মধ্যে দিয়ে এইভাবে কানেক্ট করতে পারলে তো ভালোই লাগে।

প্রেমে পড়তে বারণ করেছেন কিন্তু লোকজন তো গান শুনেই প্রেমে পড়ছে!

বারণ করলেই শুনতে হবে তার তো কোনও মানে নেই। অধিকাংশ বারণই কেউ শোনে না।


সেক্ষেত্রে কী করছেন? 

আমি বারণ করছি বা করছি না কোনটাই নয়। তারা তাদের মন মতো যা ইচ্ছে করছে।

আপনি নিজেও তো বেশ ভালোই গান করেন। মেল ভার্সনটা আপনার কণ্ঠে শুনতে পাবো?

প্ল্যান তো আছে একটা মেল ভার্সন করার। প্রচুর মানুষ বলছেও। ইচ্ছা আছে। দেখা যাক কবে করতে পারি।

সোয়েটারের গায়কদের তালিকায় ইউটিউবে আপনার নামটা তো রয়েছে। তাহলে কি আপনার গাওয়া অন্য কোনও গান ছবিতে শোনা যাবে?

হ্যাঁ থাকবে। সেটা জানা যাবে খুব তাড়াতাড়ি।

'প্রেমে পড়া বারণ' শুনেই মনে হচ্ছে খুব কষ্ট পেয়ে লেখা। সত্যিই কি তাই?

এসব কথা বলা বারণ।

বেশ। কবে লিখেছিলেন?

গতবছর ফেব্রুয়ারিতে। প্রথমে সুরটাও আলাদা ছিল। তারপর মে-জুন নাগাদ নতুন সুরটা তৈরি করি।

আরও পড়ুনঃ প্রেমে পড়তে বারণ করলেও আপনি নিজেকে সামলাতে পারবেন তো?

সোয়েটারের জন্যই নাকি?

না এমনিই লিখেছিলাম। পরে সোয়েটারের ডিরেক্টর (শিলাদিত্য মৌলিক) শুনেই গানটা প্রায় কেড়ে নেন (হেসে)।

বেশ করেছেন কেড়ে নিয়ে!

আসলে আমি নিজের জন্যই এমন অনেক গান লিখি।

আপনি পেশায় তো ইঞ্জিনিয়ার?

ইঞ্জিনিয়ার ছিলাম ৬ বছর আগে পর্যন্ত। তারপর সে সব ছেড়ে দিয়ে পুরোপুরি মিউজিশিয়ান হয়ে গিয়েছি।

সঙ্গীত চর্চার শুরু কবে থেকে?

শুরু হয়েছিল ৬ বছর বয়স থেকে। 

গুরু কে আপনার?

চন্দনা ভট্টাচার্য। তাঁর কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এবং নজরুলগীতি শিখেছি। তারপর তপন সিনহার কাছে আধুনিক ও বাণিজ্যিক গানের তালিম নিয়েছিলাম। তাছাড়া শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক্যাল পিয়ানো শিখেছি। 

চাকরি ছেড়েছেন ৬ বছর আগে।

আমি কোইনসিডেন্টালি ২০১৩ সালের ৭ই মার্চ টিসিএস-এর চাকরিটা ছেড়েছিলাম।

ছাড়লেন কেন?

কর্পোরেট জগতে নিজেকে একেবারেই বেমানান মনে হত। আর গানবাজনাও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়েছিল। 

চাকরি ছাড়া নিয়ে বাড়ির লোকের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

প্রথমে স্বাভাবিকভাবেই টেনশন করেছিল। তারপর যখন দেখলো চাকরিটা নিয়ে আমি প্রচন্ড অখুশি তখন সাপোর্ট করেছিল। তাছাড়া আমি ছোট থেকেই প্রচন্ড গান পাগল সেটা বাড়ির লোক জানতো। 

বাড়ির পরিবেশটাও কি তেমনই?

হ্যাঁ। তবে, বাড়িতে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির কেউ নেই। কিন্তু আমার মা এককালে গান শিখেছেন। বাবা সেতার, তবলা বাজাতেন। কিন্তু দু'জনেই চাকরি করতেন। আমার দিদি, বোনও খুব ভালো গান করে। তো বাড়িতে গানের পরিবেশের মধ্যেই বড় হয়েছি। খুব ভালো ভালো গান শুনেছি ছোট থেকেই। 

আরও পড়ুনঃ ইশার জন্মদিনেই মুক্তি পেল 'সোয়েটার'-এর ট্রেলার

গান লেখা শুরু কবে থেকে? 

আমি খুব ছোট থেকেই গান লিখতাম। তখন তো আর এখনকার মতো স্মার্টফোন ছিল না। তাই ডায়েরিতে লিখতাম। ক্লাস নাইন, টেন বা তারও আগে থেকে ডায়েরিতে গান, কবিতা লিখতাম। এবার সেগুলো মাঝে অনেকটা সময় বন্ধ ছিল। তখন আমি গানে সুর করতাম, গান গাইতাম। কিন্তু লেখালেখির অভ্যাস একেবারেই চলে গিয়েছিল। বছরে হয়তো দুটো গান লিখেছি কোনও সময়। তারপর ২০১৭ সাল নাগাদ আমার আবার সেই লেখার ফ্লো-টা ফিরিয়ে আনতে ইচ্ছে হল। ২০১৮-তে আমি প্রচুর গান বানিয়েছি। পাশাপাশি অন্যের গানে সুর করেছি তো বটেই। ২০১৮ সালটা আমার গান লেখার ফ্লো-টা আবার ফিরিয়ে দিয়েছে। 

অত ছোটবেলায় লেখা শুরু করার পেছনে কোনও একজনের ভূমিকা অনেক সময়েই থাকে। আপনার জীবনে কি তেমন কোনও মানুষ আছেন যার থেকে আপনি অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন?

ছোটবেলায় কবীর সুমন, নচিকেতা, অঞ্জন দত্তের অ্যালবাম শুনে তো প্রচন্ড ইন্সপায়ার হতাম। আমাদের বাড়িতে ক্যাসেট কেনার চল ছিল। শুনে শুনে গানের কথাগুলো যেন রক্তে ঢুকে গিয়েছিল। এগুলোই ইন্সপিরেশন। পরবর্তীকালে আরও অনেকের লেখা দেখে নিজের গান নিজে লিখতে ইচ্ছে হয়েছে। তবে আমি ডেডিকেটেডলি গান লিখবো সেই প্ল্যান ছিল না। সেটা এখনও নেই যদিও। তবে আমি নচিকেতার বিশাল বড় ফ্যান। তারপর মাঝে একটা সময় শ্রীকান্ত আচার্য, মনোময় ভট্টাচার্য আরও অনেকের বিভিন্ন গানের অ্যালবাম বের হতো। সেখানে জয় সরকারের সুর থাকতো। এই ধরণের মানুষগুলো আমাকে প্রচন্ড ইন্সপায়ার করেছে। 

২০১৩ সালে চাকরি ছাড়ার পর মাঝে গানে সুর করলেও ২০১৭-১৮ থেকে আবার গান লিখতে শুরু করেছেন। মাঝের সময়টাতে নিজের কেরিয়ারগ্রাফ নিয়ে খুশি ছিলেন?

২০১৪ সালে আমি বোম্বেতে শিফট করি। সেখানে গিয়েই কাজ পাওয়াটা তো খুব সহজ নয়। সেখানে যেহেতু মাধ্যমটা হিন্দি তাই আমার গান লেখার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছিল। আমার হিন্দি শব্দভাণ্ডার তেমন ভালো ছিল না সেই সময়। আমি অন্যের জন্য মিউজিক অ্যারেঞ্জ করেছি। আর তখন আমার মূল লক্ষ্য ছিল গানের সুর করা এবং গান গাওয়া। তাই বোম্বেতে গিয়ে ওইসময় অন্যের গানে সুর করেছি। তারপর আমি অনুরাগ বসুর সঙ্গে কাজ করেছি। যদিও সেই কাজটা অন্যরকম। 'স্টোরিজ বাই রবীন্দ্রনাথ টেগর', তাতে রবীন্দ্রনাথের গানও ছিল। সেই গানগুলোর হিন্দি করা হয়েছিল। আমি তার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক করেছিলাম। গান গেয়েও ছিলাম। বোম্বেতে যাওয়ার পর কলকাতা থেকেও অনেক কাজের ডাক পেয়েছি। ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের জন্য মিউজিক অ্যারেঞ্জ করেছি। 'পারবো না আমি ছাড়তে তোকে', 'আমি যে কে তোমার' ইত্যাদি ছবি রয়েছে তার মধ্যে। তাছাড়া প্রচুর টেলিভিশন, শর্টফিল্ম, অ্যাডভারটাইজমেন্টের কাজ করেছি। তারপর ২০১৭ সালে প্রীতম দার JAM 8-এ কাজ করি। 'ভুতু'র টাইটেল ট্র্যাকটা JAM 8-এর হয়ে আমি কম্পোজ করেছিলাম। পাশাপাশি নিজের কাজও করেছি। মারাঠি, গুজরাটি ফিল্মের মিউজিক করেছি। ২০১৮ সালে কলকাতা, বাংলাদেশ দুটো বইমেলার থিম মিউজিকই আমি করেছিলাম। সেটা আমার কাছে খুবই বড় ব্যাপার। অ্যাডভারটাইজমেন্টের কাজ করতে গিয়েই ২০১৭ সালে শিলাদিত্য দার সঙ্গে আলাপ হয়। ওই বছরের শেষ থেকেই সোয়েটার নিয়ে কথাবার্তা শুরু হয়। তারপর শেষ পর্যন্ত সোয়েটার হল।

মুম্বাই ফিরছেন আবার?

হ্যাঁ, মার্চের শেষ বা এপ্রিলের শুরুতে।

তারপর কাজের কী প্ল্যান? বলা যাবে না সেটাও বলা বারণ? 

একটা হিন্দি ফিল্মের মিউজিক করছি। ফিরে সেটাই কন্টিনিউ করবো। 

এর মধ্যে কলকাতায় আর অফার পেলেন?

হ্যাঁ। সেটারও কাজ তাড়াতাড়িই শুরু হবে।

ডিরেক্টর?

(হেসে) সেটা এই মুহূর্তে বলা বারণ।


 


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement