হোমআঞ্চলিক

রেনবোজেলি 2 হলে মহাব্রত আবার ঘোতন হবে: সৌকর্য ঘোষাল

  | January 21, 2019 17:38 IST
Wbfja Awards

ছবি- পরিচালকের ফেসবুক সৌজন্যে।

দেশ বিদেশে বিভিন্ন মানুষের প্রশংসা লাভের পর রেনবোজেলি ছবির জন্য এ বছর WBFJA মোস্ট প্রমিসিং ডিরেক্টরের পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন পরিচালক সৌকর্য ঘোষাল। পুরস্কার লাভের পর পরিজা কর্মকারের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন নিজের মতামত।

পরিজা: প্রথমেই অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

সৌকর্য: আপনারা পাশে না থাকলে কিছুই হত না। আপনাদেরও অনেক শুভেচ্ছা।

পরিজা: রেনবোজেলির পুরো ইউনিটটা সবার সাপোর্ট পেয়েছে বলেই তো আজ এই জায়গায় এসেছে।

সৌকর্য: নিশ্চয়ই তাই। এটা খুবই সত্যি কথা।


পরিজা: মহাব্রত বা ওর মতোই যারা 'স্পেশাল চাইল্ড' রেনবোজেলি তাদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার পাশাপাশি কি তাদের প্রত্যেককে একটা আলাদা সাপোর্ট দিয়েছে?

সৌকর্য: দেখুন, রেনবোজেলি তো সত্যিই একটা আন্ডারডগ ছেলের কথা বলে। সেটা কিন্তু আমাদের সবার মধ্যেই একটা পর্যায়ে থাকে। এবার এক্ষেত্রে মহাব্রত নিজেই যেহেতু ঘোতনের লড়াইটা করেছে তাই একটা আলাদা মাত্রা তো পেয়েছেই। এবার সেটা দেখে তো অনেকেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। বহু স্কুল থেকেও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ছবিটা দেখতে চেয়েছে। এইগুলো তো একটা কাল্টই। এবার সে ভাবে দেখতে গেলে আমাদের বাংলা সাহিত্যেও যত কাল্ট আছে বা শিশু সাহিত্যের ক্ষেত্রেও ঘোতনের মতো কোনও চরিত্র তো কাল্ট হয় না। সেই অভাবটাই হয় তো পূরণ করেছে ঘোতন। সেই কারণেই হয় তো বিষয়টা এতোটা ছড়িয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুনঃ ডব্লিউবিএফজেএ-র মঞ্চে এসভিএফ-এর ঝুলি উপচে গেল পুরষ্কারে

পরিজা: মোস্ট প্রমিসিং ডিরেক্টরের পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে মিডিয়া এবং দর্শকের সাপোর্টটা থেকেছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকেও কিন্তু এখন স্কুলে সাধারণ ছেলেমেয়েদের সঙ্গে যেন 'স্পেশাল চাইল্ড'রাও একসঙ্গে পড়াশোনা করতে পারে, কাউকে যেন ফিরিয়ে না দেওয়া হয়, সে উদ্যোগটা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এই সব বাচ্চাদের একটু পাশ কাটিয়ে দেওয়ার প্রবণতাও আমরা দেখতে পাই। এবার রেনবোজেলি কি 'স্পেশাল চাইল্ড'দের মা-বাবার মনেও একটা আলাদা জোর এনে দিল?

সৌকর্য: আমার সঙ্গে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তো মা বাবারা যোগাযোগ করেছেন। ছবিটা তাঁদের নাড়া দিয়েছে বলেই করেছেন। কিন্তু সরকার বা স্কুল কর্তৃপক্ষ নয় এই বাচ্চাদের ক্ষেত্রে যত্নটা শুরু হওয়া উচিত তাদের বাড়ি থেকেই। এবার স্কুলে গিয়ে তাদের কতোটা পাশ কাটিয়ে দেওয়া হবে বা হবে না সেটা কিন্তু মা বাবার চোখের আড়ালেই হবে। এবার স্পেশাল হোক বা সাধারণ, পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠাটা কিন্তু বাড়ির ওপরেই নির্ভর করে। আমরা যত বড়ই স্কুল বা কলেজে যাই না কেন বাড়ির বীজটা স্ট্রং না হলে কিন্তু হয় না। আর স্পেশাল চাইল্ডের ক্ষেত্রে বাড়ির যত্নটা আরও বেশিই প্রয়োজন। আর সরকারের এই নিয়মটা ভালো কিন্তু মানুষের অ্যাটিটিউডটা সবচেয়ে আগে বদলানো উচিত। এবার শুধু টিচারদের নয়, শিশুটির সহপাঠীদেরও অ্যাপ্রোচটা বদলানো প্রয়োজন। সেটাও কিন্তু আবার আসবে বাড়ি থেকেই। 'অ্যাবনর্মাল' শব্দটা এখন অনেক পুরনো হয়ে গিয়েছে। নব্বইয়ের দশক থেকে শব্দটা চলেছে। এরপর এল 'চ্যালেঞ্জড' শব্দটা। 'চ্যালেঞ্জড' ঠিক নয় 'ডিফারেন্টলি এবল্ড'। যেকোনও বিষয়কে আমরা কতটা সেনসিটিভ ভাবে অ্যাপ্রোচ করতে পারছি তার ভাবনাটা আসলে বাড়ি থেকেই আসে। সুতরাং বাড়ির শিক্ষাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পরিজা: মহাব্রতকে ডিল করাটা কতটা 'চ্যালেঞ্জিং' ছিল আপনার কাছে?

সৌকর্য: চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু সে সময় অত ভেবে লাভ ছিল না কারণ ছবিটা আমাদের করতেই হত। আর মহাব্রত যে পরিমাণ পরিশ্রম করার ক্ষমতা রাখে সেটাও আমাদের কাছে প্লাস পয়েন্ট ছিল। মহাব্রতর যে জেদ, ও যে এত স্ট্রং সেটা আবার অন্যান্য অনেক অভিনেতাদের তুলনায় ওকে এগিয়ে রাখে। আর সেটা স্পেশাল বলেই সম্ভব, কারণ আমাদের স্পেশালিটিটা মন থেকেই আসে। 

আরও পড়ুনঃ সিনেমায় মধু একজন প্রেমিক, সম না অসম সেটা বড় ব্যাপার নয়: ঋত্বিক

পরিজা: রেনবোজেলির সাফল্যে মহাব্রতর রিঅ্যাকশন ঠিক কী?

সৌকর্য: ওর কোনও হ্যাতক্যাত নেই। ও এখনও একই রকম। WBFJA-তে আমার সঙ্গেই ও গিয়েছিল। তো ওর জীবনে ওকে যেরকম বাবা মা নিয়ে চলে ও সেভাবেই থাকে। যখন আবার রেনবোজেলি 2 হবে তখন আবার ও ঘোতন হবে। 

পরিজা: রেনবোজেলি করার সময় প্রোডিউসার পেতে সমস্যা হয়েছিল। তারপর ছবিটা নিজে প্রযোজনা করলেন এবং অবিশ্বাস্য সাফল্য পেলেন। তারপর মোস্ট প্রমিসিং ডিরেক্টরের পুরস্কার। পুরস্কারটা কি কাজের ক্ষেত্রে একটা 'কিক' দিল?

সৌকর্য: খুব সত্যি কথা বলতে কাজের ক্ষেত্রে 'কিক'টা রেনবোজেলির থেকেই ছিল। অ্যাওয়ার্ড সত্যিই একটা স্বীকৃতি দেয়। তাই ভালোই লাগে। তবে উত্তাপটা এক বছরের। তাই এক বছরের উত্তাপ ভুলে আবার পরের বছর কাজের জন্য এগিয়ে যেতে হবে। ব্যাপারটা অনেকটা টাইমারের মতো। টাইম বাঁধা ছিল। তবে অ্যাওয়ার্ডটা পেতে কিন্তু সত্যিই ভালো লাগে। তবে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে ছবিটা যখন মানুষের ভালো লাগে। হায়দ্রাবাদ, দিল্লি, বাহারিন- দেশ-বিদেশের বহু জায়গায় ছবিটা নিয়ে আমরা গিয়েছি। বহু মানুষের ছবিটা ভালো লেগেছে, তারা নানাভাবে আমাদের জানিয়েছেন। তবে এটা ঠিক শহরের একটা মায়া আছে। শহর থেকে একটা রেকগনিশনের দাম খুব বড়। সেটার সঙ্গে অন্য কোনও রেকগনিশনের কোনও তুলনাই হয় না।

bjh9le48

পরিচালকের প্রাপ্ত পুরস্কার। (সৌজন্যে ফেসবুক)

পরিজা: রেকগনিশনের পর অনেকে সেখান থেকে ভালো কাজ করার রসদ পায়, কারও বিশেষ কোনও হেলদোল থাকে না, কেউ আবার নিজেকে রাজা মনে করে। পরিচালক সৌকর্য ঘোষালের প্রতিক্রিয়া ঠিক কী?

সৌকর্য: আমি যেটা বললাম, প্রত্যেকটা স্বীকৃতির উত্তাপ এক বছরের। আমাদের তো প্রতি বছরের কাজের ভিত্তিতে রিপোর্ট কার্ড জমা পড়ে। তার হিসাবেই ইন্ডাস্ট্রিতে সবার মান্যি-গণ‍্যি বিচার হয়। তাই ভাবতে হবে স্বীকৃতিটা নিশ্চয়ই এসেছে কাজের জন্য। গত বছরটা পেরিয়ে গিয়েছে। সুতরাং, এই বছর বা আগামী দিনে একই রকম বা তার থেকেও বেটার কিছু করতে হবে। 

পরিজা: রক্তরহস্য এই বছরই তো মুক্তি পাবে। তার পরের প্রজেক্ট কিছু ঠিক হয়েছে? 

সৌকর্য: হ্যাঁ একটা লেখালেখি শুরু করেছি। অন্য জ‍্যরের গল্প লেখার চেষ্টা করছি। দেখি কী হয়! 

পরিজা: আগামী দিনের জন্য অনেক শুভেচ্ছা।

সৌকর্য: অসংখ্য ধন্যবাদ।


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement