হোমটলিউড

"একজন ক্রিয়েটিভ মানুষ হিসেবে ক্ষমতার বিরুদ্ধে কথা বলা আমার দায়িত্ব": জয়ন্ত কৃপালনি

  | January 18, 2019 18:41 IST (কলকাতা)
Jayant Kripalni

"একজন ক্রিয়েটিভ মানুষ হিসেবে ক্ষমতার বিরুদ্ধে কথা বলা আমার দায়িত্ব": জয়ন্ত কৃপালনি

টেলিভিশনের বুদ্ধিদীপ্ত কমেডির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে সচেতন ভারতীয় দর্শক বহুদিন আগেই গ্রহণ করে নিয়েছে তাঁকে। বড় পর্দাতেও যখনই এসেছেন, মনে হয়েছে, চরিত্র যত ছোটই হোক না কেন, চরিত্রায়ণে রয়ে গিয়েছে সময়ের মেধাবি চুম্বন। তিনি, জয়ন্ত কৃপালনি। এবার সামনে আসছেন কিউ পরিচালিত 'হইচই'-এর নতুন ওয়েব সিরিজ 'তারানাথ তান্ত্রিক'-এর মাধ্যমে। তাঁর সঙ্গে কথা বললেন বোধিসত্ত্ব ভট্টাচার্য।

বোধিসত্ত্বঃ- 'থ্রি ইডিয়টস'-এ আপনার চরিত্রটি মেনস্ট্রিম ভারতীয় ছবির দর্শকের তথাকথিত সাক্ষাৎকার নিয়ে ধারণাটাকেই একেবারে দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছিল...

জয়ন্ত কৃপালনিঃ- হা হা! আপনি বললেন, ভালোই লেগে গেল! তবে, আমি তার আগে বা পরেও বহু কাজ করেছি, সেগুলো নিয়ে কথা বললেও ভালোলাগে। যদিও টেলিভিশনে যতটা কাজ করেছি, সেই তুলনায় সিনেমার কাজের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। 

সিনেমায় এত কম কেন? অথচ, মজার ব্যাপার, আপনি যে কয়েকবার বড় স্ক্রিনে এসেছেন, প্রত্যেকবারই মনে হয়েছে, আপনি কোথাও গিয়ে যেন সিনটা নিয়ে ঠিক বেরিয়ে গেলেন...

সত্যি বলতে কী, আমি এমনিতে একটু অলস মানুষ। আর, আমি কারও কাছে কাজের জন্য তদ্বির করতে যেতে পারি না। যে কাজগুলো আমার কাছে আসে, সেগুলো নিয়েই ছানবিন করে নিজের পছন্দমতো বেছে নিই। এছাড়া তেমন কিছু নয়। আরেকটা ব্যাপার হল, আমি এখন সব কাজগুলো নিয়েই বেশ ভালো আছি। বেশ চমৎকার আছি...


অলসতা নিয়েই? 

হ্যাঁ। কেন নয়? ওটাও তো জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কাজ এবং অলসতা, এই দুই নিয়েই তো চলা...

আপনি দীর্ঘদিন টেলিভিশনে কাজ করেছেন। অত্যন্ত জরুরি কাজগুলো করেছেন। এখনকার টেলিভিশন নিয়ে আপনার কী বক্তব্য? আপনি কি এখন টিভি দেখেন?

এই প্রশ্নটা আপনি একজন ভুল মানুষকে করলেন। আমি টিভি দেখি না। মেগা সিরিয়াল বা রিয়েলিটি শো'র মতো ব্যাপারগুলো দেখার থেকে খারাপ কিছু নেই বলেই মনে হয় আমার। আমি, ইনফ্যাক্ট, টিভিই দেখি না, খবরের চ্যানেলগুলো ছাড়া। কী দেখব বলুন তো? কী দেখার আছে! কতগুলো মানুষ একটা ঘরে দিনের পর দিন ধরে নিজেদের বন্দি রেখে একে অপরকে গালিগালাজ করছে, কদর্য ব্যবহার করছে, সেটা দেখব? নাকি, গান গাইতে এসে স্টেজের ওপর দাঁড়িয়ে সকলে মিলে প্রতিযোগীর আর্থিক অবস্থা নিয়ে কথা বলতে বলতে কান্নাকাটি করছে, সেটা? আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি, অত্যন্ত দুঃখ নিয়েই, যে, এখনকার এইসব শো'গুলো সম্বন্ধে বলতে গেলে আমার মুখ দিয়ে 'রাবিশ' ছাড়া আর কিছু বেরিয়ে আসে না...তবে, সিনেমাটা তাও এখনও অনেক সময়েই ভীষণ আনন্দ দেয়। অনুপ্রাণিত করে। কিন্তু, টেলিভিশনের ব্যাপারে...আ বিগ নো! আপনার শুনে বোধহয় ভালোলাগবে, আমি টেলিভিশনে শেষবার মনে রাখার মতো কাজ পেয়েছি এবং করেছি  NDTV -র সঙ্গে। ২০০৩ সালে। জি মন্ত্রীজি। 

তারানাথ তান্ত্রিকের চরিত্রটা কী কারণে বেছে নিলেন আপনি? 

মূল কারণ একটাই। সেই কারণটি হল, ওয়েব সিরিজের পরিচালক- কিউ। ওর সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের পরিচয়। কুড়ি বছরেরও বেশি সময় ধরে। একদিন আমাদের বাড়িতে এল। কলিং বেল বাজল। দরজা খুললাম। বলল, আমি কিউ। আমি বললাম, আমি জানি। ও বলল, আমি চা খেতে এসেছি... তারপরই কথায় কথায় জানাল যে, ও চায় আমি এই চরিত্রটা করি?

অফারটা কি সঙ্গে সঙ্গেই গ্রহণ করে নিলেন?

না না! আমি বেশ খানিকক্ষণ দোনামনা করলাম। তার কারণ, আমি লাইন মনে রাখতে পারি না। এছাড়া, একটা সময় শরীরের ওপর প্রচুর অত্যাচার করে এখন তার ফলটা ভুগছি। আমি বুড়ো হয়ে গিয়েছি।  আমি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় নই। আমি ওকে বলেছিলাম, মাথাখারাপ নাকি! আমি করব না। এখন সব ছেড়ে দিয়েছি! ও বলল, একবার গল্পটা শুনে নাও। সেটা শুনে আমার মনে হল, ইট কুড বি ইন্টারেস্টিং। তারপর তো পড়াশোনা শুরু করলাম। কিউ এবং ওর সহকারী সুরজিৎ সেন আমাকে এডুকেট করল। এইভাবেই হল পুরো ব্যাপারটা। 

আপনি একজন টেলিভিশনের মানুষ হিসেবে এই নতুন মাধ্যমটিকে কীভাবে দেখেন? এই ওয়েবসিরিজের মাধ্যমটিকে?

ভীষণ ইন্টারেস্টিং। আর দারুণ দারুণ কাজও হয়ে চলেছে এখানে দিনের পর দিন ধরে। নতুন নতুন মানুষ এখানে এসে ভীষণ এক্সাইটিং কাজ করে চলেছেন। আমার যদিও কোনও ওয়েবসিরিজে এটাই প্রথম কাজ। আর, অ্যাজ আই সেড, আই ডোন্ট রিয়েলি লুক ফর ওয়ার্ক। তাই, ভবিষ্যতে কাজ আসবে কি আসবে না, তা নিয়ে ভাবি না খুব একটা। তবে এরকম কোনও অফার এই নতুন মাধ্যমটির জন্য এলে তো করবই। 

আপনি কেবল অভিনেতাই নন। তার সঙ্গে একজন লেখকও। সেই লেখক সত্তাটি এই মুহূর্তে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে কী বলছে? কয়েকদিন আগে আপনার বন্ধু তথা অতি প্রিয় অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ এই নিয়ে মুখ খুলে তো তোপের মুখে পড়েছেন...

নাসির কি কিছু ভুল বলেছিল? (উত্তেজিত) আপনি বলুন আমাকে? উই নিড ডেসপ্যারেটলি চেঞ্জ। উই নিড চেঞ্জ ডেসপ্যারেটলি। নাসির ইজ রাইট। আই সাপোর্ট হিম অল দ্য ওয়ে। নাসির একভাবে ওর সন্তানদের মানুষ করেছে। আমি একভাবে আমার সন্তানদের মানুষ করেছি। কে হিন্দু, কে মুসলমান এইভাবে দেখিয়ে দেখিয়ে ছাপ মেরে দিয়ে আমরা সন্তানদের বড় করিনি। তাই আজ যদি কোনও **(ছাপার অযোগ্য শব্দ) এসে তাদের এই কথা জিজ্ঞাসা করে, তাহলে তারা কী উত্তর দেবে?  তারপর  মার খাবে। কারণ, আমাদের সন্তানদের জবাব তো একই থাকবে। কিন্তু, সেই জবাব নিয়ে তো ওরা আর মবের সঙ্গে লড়াই করতে যেতে পারবে না। ওরা বলবে, উই ডোন্ট বিলিভ ইন এনি রিলিজিয়ন। আমাদের ধর্ম কী, তা নিয়ে আমাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। আমরা মানুষ এবং এই বিশ্বের নাগরিক। সেখানে ধর্মের জায়গা শূন্য। তোমাদের তৈরি করে দেওয়া ধর্মের সংজ্ঞাটা তো একেবারেই নেগেটিভ। তাই ওরা মার খাবে। দেখুন, যোগী, মোদীদের হিন্দুত্বের সঙ্গে আমার পরিচিত হিন্দুধর্মের কোনও মিল নেই। আমি ওদের ঘৃণা করি। আমি এমন কয়েকজন মানুষকে চিনি, যাঁরা ধর্মীয় বিশ্বাসে হিন্দু হলেও আমার তাঁদের কথা বলতে গিয়ে মাথা নত হয়ে আসে। কিন্তু তাঁরা কেউ গেরুয়া পরে রাজনীতি করে দিল্লির চেয়ারে বসে পড়ে না...

আপনি একজন ক্রিয়েটিভ মানুষ হিসেবে এর বিরুদ্ধে কিছু করার কথা ভাবেন আপনার কাজের মাধ্যমে?

অবশ্যই। আমার হৃদয়টি ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছে। তাই নিজের মধ্যেই ভাবনা চলছে একটা। খুব তাড়াতাড়িই এটা নিয়ে নতুন কোনও কাজ করব। আরেকটা কথা কী জানেন, একজন ক্রিয়েটিভ মানুষ হিসেবে আমার সবসময় দায়িত্ব থাকেই ওই চেয়ারে বসে থাকা মানুষগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলা। ক্ষমতার বিরুদ্ধে কথা বলা। আমি সেটায় বিশ্বাস করি। সেটাই করার চেষ্টা করব।


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement
Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com