হোমমিউজিক

Birthday Special: ৪১ বছরে প্রকৃত ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছিলেন রাহুল দেব বর্মন

  | June 27, 2019 22:33 IST (কলকাতা)
Rahul Dev Burman

সেদিন একবারের জন্যও কেউ ভাবেননি, একদিন নিজের বাবার সঙ্গে গানের দুনিয়ায় টক্কর লাগবে তাঁর। একমাত্র জানতেন সবার মাথার ওপরে বসে থাকা ওপরওয়ালা। সাতের দশকের শেষের দিকে আস্তে আস্তে যখন পড়ন্ত সূর্য বর্মন দাদা তখনই প্রাচ্য-পাশাত্যের সুরে গান বানিয়ে আসর মাত করেছিলেন শচীন কর্তার ছেলে পঞ্চম। যিনি জন্ম থেকেই নাকি পা বা সরগমের পঞ্চম সুর একবারে গলায় তুলেছিলেন বলে ডাক নাম হয়েছিল পঞ্চম। আজ তাঁর ৮০ তম জন্মদিন। চলুন দেখে নিই তাঁর জীবনের সুর কি ততটাই নিখুঁত ছিল তাঁর গানের সুরের মতো-------

১৯৩১-এর আজকের দিনে মেঠো গানের রাজা শচীন দেব বর্মনের (Sachin Dev Burman) ঘরে এসেছিলেন রাহুল দেব বর্মন (Rahul Dev Burman) । সেদিন একবারের জন্যও কেউ ভাবেননি, একদিন নিজের বাবার সঙ্গে গানের দুনিয়ায় টক্কর লাগবে তাঁর। একমাত্র জানতেন সবার মাথার ওপরে বসে থাকা ওপরওয়ালা। সাতের দশকের শেষের দিকে আস্তে আস্তে যখন পড়ন্ত সূর্য, বর্মন দাদা, তখনই প্রাচ্য-পাশাত্যের সুরে গান বানিয়ে আসর মাত করেছিলেন শচীন কর্তার ছেলে পঞ্চম। যিনি জন্ম থেকেই নাকি পা বা সরগমের পঞ্চম সুর একবারে গলায় তুলেছিলেন বলে ডাক নাম হয়েছিল পঞ্চম। আজ তাঁর ৮০ তম জন্মদিন (Birth Day)। চলুন দেখে নিই তাঁর জীবনের সুর কি ততটাই নিখুঁত ছিল তাঁর গানের সুরের মতো-------

সন ১৯৬৬। পঞ্চম তখন মাত্র ২৭। ওই সময়েই প্রেমে পড়েছিলেন তাঁরই অন্ধ ভক্ত রীতা পটেলের। রীতার সঙ্গে রাহুলের আলাপ  দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি পথের বাঁকে। সেই প্রেমের পেছনেও মজার গল্প আছে। রীতা নাকি বান্ধবীদের সঙ্গে বাজি ধরেছিলেন, যেভাবেই হোক, বিয়ে করবেন পঞ্চমকে। সেই বাজি জিতবেন বলেই রীতা চুটিয়ে প্রেম করেছিলেন রাহুলের সঙ্গে। রীতার বান্ধবীরা ভেবেছিলেন, দু-জনের আদ্যক্ষর 'র' দিয়ে শুরু। সুতরাং, বিয়েটা সুখেরই হবে। রাহুল নিজেও সেরকমই ভেবেছিলেন। কিন্তু বিয়ের এক বছর ঘুরতেই দেখা গেল, রাহুলের যেমন সুরেলা ঘরনি পছন্দ রীতা তেমন নন। গান ভালোবাসলেও গানের কিছুই বোঝেন না। ফলে, ভালোবাসা রং হারিয়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে। তারপরেও জোর করে বিয়ে ধরে রেখেছিলেন দু-জনেই। শেষে ১৯৭১-এ এসে  সম্পর্কের বোঝা আর টানতে না পেরে সরে যান দু-জনেই।

kra3cq28

সেই প্রথম সুরে বাজেননি রাহুল দেব বর্মন। এরপর সম্পর্ক, প্রেম, বিয়ের পথে আর না হেঁটে গানের নেশায় বুঁদ হয়ে রইলেন পঞ্চম। কিন্তু শিল্পী মানুষদের জীবনে যে প্রেম ঘুরে ফিরে আসে! সেই কথাকে সত্যি প্রমাণ করে ফের ভালোবাসায় জড়িয়ে গেলেন রাহুল। এবার তাঁর জীবনে এলেন আশা ভোঁসলে। আপাদমস্তক যিনি সুরেলা। কিন্তু তাঁর জীবনেও ততদিনে সুর কেটেছে একবার। মাত্র ১৬ বছর বয়সে গণপত রাও ভোঁসলের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন আশাজি। তাঁর সেই আশার ঘরও টেকেনি। তাই সুরে-সুরে, গানে-গানে দুই ঘরপোড়া গরু যখন এক হয়েছিলেন, ভয় ছিল দু-জনার মনেই। তাই ভালোবাসলেও সেকথা মুখ ফুটে প্রথমে কিছুতেই আশাজিকে জানাতে পারেননি রাহুল। বদলে একের পর এক গান গাইয়েছেন তাঁকে দিয়ে। বেশিক্ষণ কাছে পাওয়ার আশায়। সেই গানে গানেই বোঝাতে চেষ্টা করতেন, আশা তাঁর পরম পাওয়া।  আশা আরও একটু সাহসী। তাই পঞ্চমকে আদর করে ডাকা শুরু করেছেন বাবস বলে। কিন্তু ভালোবাসার কথা বলতে ভয় ছিল তাঁরও।


শেষে একদিন আশাকে দিয়ে গাওয়ালেন রাহুল, কহে দু তুমহে, ইয়া চুপ রহু......। গান রেকর্ডিংয়ের পর আশা যখন বেরিয়ে আসছেন রেকর্ডিং রুম থেকে তখন রাহুল তাঁকে নরম গলায় বললেন, আর কী বলে বোঝাতে হবে! লজ্জায় লাল আশা সেদিন কোনও কথা না বলে মাথা নাড়িয়ে বলেছিলেন, সব বুঝেছেন। আর বলতে হবে না। এরপর ১৯৮০-তে ফের সাতপাক ঘোরেন রাহুল দেব বর্মন-আশা ভোঁসলে। ১৪ বছর সুর নিয়ে, গান নিয়ে একসঙ্গে ঘর করার পর ১৯৯৪-এর ৪ জানুয়ারি সুরলোকের পাকাপাকি বাসিন্দা হলেন পঞ্চম। আশাকে ছাড়াই।

  


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement