হোমটিভি

‘‘সিনেমাকে মিস করি না, কারণ ধারাবাহিকই আমাকে সাফল্য এনে দিয়েছে’’

দমদমের ছেলে, মতিঝিল কলেজ থেকে অ্যাকাউন্টেন্সিতে অনার্স গ্র্যাজুয়েট। একজনই প্রিয় বন্ধু আর একজনই গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে আনন্দে বাঁচেন। ছোটপর্দার হার্টথ্রব ‘গোবিন্দ’ তথা রোহন ভট্টাচার্যের সঙ্গে আড্ডা দিলেন মৌমিতা করগুপ্ত।

  | January 27, 2019 18:11 IST (কলকাতা)
Rohan Bhattacharya

ছবি সৌজন্যে- অভিনেতা রোহন ভট্টাচার্য।

Highlights

  • খুব তাড়াতাড়িই ছোটপর্দায় ফিরছেন রোহন
  • নিজের আগামী কাজ নিয়ে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী
  • ভজ আর গোবিন্দই রোহনকে জনপ্রিয় করে দিয়েছে

‘ভজ গোবিন্দ' ধারাবাহিক শেষ হওয়ার পরে ইন্সটাগ্রামে-টুইটারে প্রায় কান্নাকাটির রোল পড়ে গিয়েছিলএই ফ্যান ফলোয়িং সামলান কী করে?

এটা আসলে আমার কাছে অভিনেতা হিসাবে একটা বিরাট পাওনা। একটা কল্প চরিত্রকে মানুষ এতটা আপন করে নিয়েছেন যে ধারাবাহিক শেষ হওয়ার পরেও তাঁরা প্রতিদিন হটস্টার বা অন্য ভাবে আমাকে দেখছেন। একজন অভিনেতার কাছে এর থেকে বড় সাফল্য কীই বা হতে পারে।

5kp77og

গোবিন্দের মেক আপে রোহন ভট্টাচার্য।

ধারাবাহিককের শুটিং তো শেষ, ফাঁকা সময় কাটালেন কী ভাবে?


ইচ্ছা তো ছিল অনেক কিছুই করার। কিন্তু খুব বেশি কিছু করতে পারিনি। ট্রেকিং আমার খুব প্রিয়। তাই দার্জিলিং সান্দাকফুর দিকে খানিকটা ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলাম। নেপালেও কিছুটা ঘুরেছি। তার পর ফিরেই স্টার জলসার দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানে আমার একটা পারফর্ম্যান্স রয়েছে তারই শুটিংয়ে ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম।

ভক্তিমূলক ধারাবাহিকের তালিকায় নতুন সংযোজন, তারাপীঠের স্থান মাহাত্ম্যের

টেলিভিশনের পর্দায় আবার নিয়মিত ভাবে কবে ফিরবেন?

খুব তাড়াতাড়িই ফিরবো। তবে এ বারের কাজটা একটু অন্যরকম হবে। কাজটা কী সেটা আপাতত দর্শকদের জন্য সারপ্রাইজ। তবে এটুকু বলতে পারি, গোবিন্দ বা অন্য কোনও চরিত্রের মোড়ক পেরিয়ে ব্যক্তি হিসাবে রোহন কেমন সেটা খানিকটা জানা যাবে এ বার।

m7cdref8

স্বমহিমায় রোহন ভট্টাচার্য।

গোবিন্দ বা ভজ চরিত্র কি ব্যক্তি হিসাবে রোহনকে ছাপিয়ে গিয়েছে?

সেটা কিছু সময়ে সত্যিই মনে হয়। রাস্তাঘাটে অনেকেই ‘গোবিন্দ' বলে ডেকে আমার সঙ্গে সেলফি তুলতে আসেন। আসলে গোবিন্দ চরিত্রটা এতটাই জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে তার পরে অনেকেই কে গোবিন্দ জানার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় করে খুঁজেছেন। সেই খোঁজ থেকে রোহনকেও মানুষ চিনে ফেলেছেন। ভজ আর গোবিন্দই রোহনকে জনপ্রিয় করে দিয়েছে। সিরিয়াল চলাকালীন প্রচুর মাচা শো করেছি। সেখানেও লোকে গোবিন্দ চরিত্রের পিছনে রোহনকে চিনেছেন। আসল‌ে প্ল্যাটফর্মটা গোবিন্দ তৈরি করে দিয়েছে। সেটাই পরিচিতি দিয়েছে রোহনকে।

প্রজাতন্ত্র দিবসে দেশমাতৃকার বন্দনা সারেগামাপা-র মঞ্চে

গোবিন্দকে কতটা মিস করছেন?

ওই ধারাবাহিকে আমি প্রায় ৬ থেকে সাতটা ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমাকে কেউ বলে দেননি কী ম্যনারিজম হবে। আমি নিজের মতো করে এক্সপেরিমেন্ট করতাম। তবে ভজ আর গোবিন্দ দু'টোই আমার সবথেকে প্রিয় চরিত্র। তাদের আমি সব সময়ই মিস করি।

ডালি তো গোবিন্দের প্রেমিকা, রোহনের প্রেমিকার কী খবর?

আমার বান্ধবীর আর আমার সম্পর্ক দীর্ঘ বহু বছরের। আমাদের আন্ডারস্ট্যান্ডিংও খুব ভালো। সত্যি বলতে কী কাজের জগতের বাইরে আমার যে জগৎটা, এটা নিয়েও আমি খুব আনন্দে থাকি।

76vnpn8gবান্ধবীর সঙ্গে রোহন ভট্টাচার্য

ইন্ডাস্ট্রিতে এলেন কী ভাবে?

ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম অভিনেতা হবো। ক্লাস ফাইভে পড়তে পড়তেই বাবাকে নিজের স্বপ্নের কথা জানাই। বাবা নিজেও মঞ্চাভিনেতা ছিলেন। তাই তিনি খুবই উৎসাহ দিয়েছেন প্রথম থেকেই। বাবা বলেছিলেন, প্রস্তুতিটা খুব জরুরি, এক দিনে অভিনেতা হওয়া যায় না। ছোট থেকে সব রকম ভাবে নিজেকে তৈরি করতে হয়। তাই গান, নাচ, আবৃত্তি, ঘোড়া চালানো, গাড়ি চালানো, সাঁতার, মার্শাল আর্ট সব রকম ছোট থেকেই শিখেছি। পরবর্তীকালে মার্শাল আর্টে জাতীয় স্তরে পুরস্কারও পেয়েছি। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পরে অভিনয় শেখার একটি স্কুলে ভর্তি হই। সেখান থেকে পাশ করার পরে শুরু হয় আসল স্ট্রাগল।

দুষ্কৃতীদের হাতে অপহৃত পরম, স্বামীকে বাঁচাতে কোন পথে হাঁটবে জবা

স্ট্রাগল কেন?

প্রথম দিকে ‘বাজিকর', ‘ওম শান্তি', ‘ব্ল্যাকমেল', ‘মন শুধু তোকে চায়'-এর মতো প্রায় ১০ থেকে ১২টা সিনেমা করেছি। কিন্তু যে কোনও কারণেই হোক সেগুলো বিশেষ সাফল্য পায়নি। আমার সঙ্গে শুরু করে অনেকে হারিয়ে যাচ্ছিল ধীরে ধীরে। আমি এই জগতটা থেকে কোনও ভাবে বেরিয়ে আসতে চাইনি। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে একটি সিনেমার কাজ করছিলাম, তখনই গোবিন্দর চরিত্রের জন্য অফারটা আসে। প্রথম দিকে সিরিয়ালে খুব বেশি ইন্টারেস্টেড ছিলাম না। কিন্তু তত দিনে বেশ কিছু সিনেমা করে ফেললেও তেমন পরিচিতি তৈরি হয়নি, ফলে লোকে বেশিরভাগ সময়ে চিনতে পারতো না।

মায়ের খুব ইচ্ছা ছিল যে ছেলে সিরিয়াল করুক। তা হলে লোকে অন্তত চিনবে। সিরিয়ালের অফার পেয়েছি শুনে মা জোর করে পাঠায়। তারপরে গল্পটা শুনে আর না করতে পারিনি।

শীতের ময়দান থেকে ট্রামের সিটে নিজের ‘জান'-এর সঙ্গে রোমান্স জিতের

এখন কি আক্ষেপ হয় যে বড় পর্দাটা ছেড়ে আসার জন্য?

না, সত্যি বলতে আমি ধারাবাহিকের কাজটা নিয়ে ভীষণ খুশি। একজন অভিনেতার লক্ষ্যই থাকে বেশি সংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছনো, আর ধারাবাহিকই আমাকে সেই সুযোগটা করে দিয়েছে। দর্শকেরা প্রতি দিন যখন টুইট করে বলে, ‘‘দাদা কবে ফের তোমায় দেখতে পাবো', তখন বুঝি আসলে এটাই তো এই পরিচিতিটাই চেয়েছিলাম। যেটা আমি সিনেমায় না পেলেও ধারাবাহিকের মাধ্যমেই পেয়েছি।

নিজের পারিশ্রমিক দিয়ে কী স্বপ্নপূরণ করলেন?

আমার বাইকের খুব শখ। আগে দু'টো বাইক কিনেছিলাম। তবে সম্প্রতি হার্লে ডেভিডসন কিনেছি। কখনও ভাবতে পারিনি এত তাড়াতাড়ি এই স্বপ্নটা পূরণ করে ফেলতে পারবো।

f3kb8tacঅন্য মেজাজে রোহন ভট্টাচার্য।

প্রথম কাজেই এতটা সাফল্য, পরের কাজটা ততটা আকাশছোঁয়া হবে কি না তা নিয়ে মনে সংশয় কাজ করে?

এই ভয়ে অনেকগুলো কাজ তো করলামই না। ‘ভজ গোবিন্দ'র থেকে ভালো অন্তত ‘ভজ গোবিন্দ'র মতো ভালো কিছু করতেই হবে এই ভাবনাটা সব সময়েই মাথায় কাজ করে। আমি জানি দর্শক আমার কাছে কী চান।

এটা কি নিজের উপরেও একটা চাপ তৈরি করে দেয় না?

হয়তো করে, কিন্তু আমার আত্মবিশ্বাস বলছে আমি এমন কিছুই করবো যেটা দর্শকেরও ভালো লাগবে। না হলে করবোই না।

নতুন যে কাজটা শুরু করতে চলেছেন সেটা নিয়ে কতটা আত্মবিশ্বাসী?

এটা একটা চ্যালেঞ্জ। কাউকে ছোট না করেই বলছি ভজ গোবিন্দ ধারাবাহিকে আমি অনেক সময়ে এমন ভাবে কাজ করেছি যা হয়তো অনেক নতুন অভিনেতাই করতে ভয় পাবেন। কখনও কখনও তো স্ক্রিপ্টের বাইরে গিয়েও কাজ করেছি। কিন্তু পরিচালক তথা প্রযোজক স্নেহাশিস চক্রবর্তী সব সময়ে নিজের মতো করে কাজ করার স্বাধীনতা দিতেন। কাজটা করতে করতে বুঝে গিয়েছি কোনটা দর্শক পছন্দ করবে আর কোনটা করবে না। সেটাই আমার পুঁজি।

আরও খবর দেখুন এখানে


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
 
Advertisement
Advertisement
Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com