হোমরিভিউস

তারাখসা সিতারা, ভোরের আগেই অপমৃত্যু ভোরের প্রসূতি-র

  | July 21, 2019 14:55 IST
Movie Review

সিতারা ছবিতে রাইমা সেন

ছবির তাল এবং সুর কাটল শুরুতেই। ছবির টাইটেল কার্ড, শব্দপ্রক্ষেপণ না চোখকে আরাম দেয়, না কানকে। তার মধ্যেই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অনন্য।

ছবি :  সিতারা

পরিচালক: আশিস রায়

অভিনয়: রাইমা সেন, মাসুদ আখতার, সুব্রত দত্ত, জাহিদ হাসান

প্রযোজনা: শিবানী এন্টারটেনমেন্ট



রেটিং: ১.৫

সিতারা (Sitara) দেখার ইচ্ছে ছিল দু-টি কারণে। এক, প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক আবুল বাশারের উপন্যাস 'ভোরের প্রসূতি' ছবির প্রধান উপাদান। দুই, রাইমা সেন (Raima Sen)। যাঁকে একসময় প্রয়াত পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘চোখের বালি'তে মনে রাখার মতো অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ছবির তাল এবং সুর কাটল শুরুতেই। ছবির টাইটেল কার্ড, শব্দ প্রক্ষেপণ না চোখকে আরাম দেয়, না কানকে। তার মধ্যেই ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং গানগুলি অনন্য। কারণ, এর সুর দিয়েছিলেন প্রয়াত সুরকার কালীকা প্রসাদ ভট্টাচার্য।

নেটওয়ার্ক রিভিউ: এভাবেই সিনে দুনিয়া জুড়ে অপরাধের জাল বিছোয় ‘নেটওয়ার্ক'

তোমার মন নাই সিতারা: ছবিটি দেখতে দেখতে এই প্রশ্নই বারেবারে জাগছিল মনে। আবুল বাশার যখন উপন্যাসটি লিখেছিলেন তখন কি তিনি শুধুই সিতারাকে ভোগ্যা হিসেবে গড়েছিলেন? তাহলে উপন্যাসের নাম ভোরের প্রসূতি দিয়েছিলেন কেন? পর্দা জুড়ে সিতারা তো শুধুই চাপচাপ অন্ধকার ছড়াল! স্বামী জীবন শেখ তাঁকে বাংলাদেশের বর্ডার পেরিয়ে ছেড়ে গেছে ভারত সীমান্তে। টাকার বদলে বেচে দিয়ে গেছে স্মাগলার কবীরের কাছে। আস্তে আস্তে নিজের রূপ-যৌবন বেচে সিতারা বিবি হয়ে উঠল স্মাগলিং ক্যুইন। যে সীমান্ত পেরিয়ে আসা পোশাক পৌঁছে দেয় বিভিন্ন মহাজনের কাছে। পোশাকের সঙ্গে নিজের রূপ-যৌবনও বেচতে হত তাকে। কারণ, এই ব্যবসার নাকি এটাই দস্তুর। একসময় নানা রোগে ধরে সিতারাকে। সবাই তাকে ছেড়ে চলে যেতে থাকে। স্বামী, ভাই, মহাজন এমনকি ভালোবাসার মানুষ স্বেচ্ছ্বাসেবক মানবও। যে সিতারাকে খুঁটি বানিয়ে এমএলএ হয়। ব্যতিক্রম দিলু। যে নিজের বোনকে হারিয়েও ছাড়তে পারে না সিতারাকে।

অভিনয় ছত্রাকার: যে, যাঁর ইচ্ছে মতো অভিনয় করে গেছেন। সারা ছবি জুড়ে মেপে মেপে সংলাপ বলেছেন কবীর রূপী নাসর। তবে চেহারায় তিনি দুর্দান্ত খল। জীবনের চরিত্রে ফজলুর রহমান বাবু যথাযথ। ভালো লেগেছে মানব রূপী সুব্রত দত্তকে। তবে সমস্ত আশায় জল ঢেলেছেন রাইমা। চাইলে, উনি একা ছবি বয়ে নিয়ে যেতে পারতেন। বদলে তিনিও বেপথু। তার মধ্যেই ভালো লেগেছে দিলুর সঙ্গে তাঁর সহজ অভিনয়। আর মেকআপ ছাড়া রাইমা.....অনবদ্য। ব্যতিক্রম দিলু ওরফে জাহিদ হাসান। নিজেকে নিংড়ে দিয়েছেন ছবিতে।

দিল্লি কা লাড্ডু! দেখবেন? নাকি........

ছোট্ট ডিজ্ঞাসা: পরিচালককে। যিনি  আবুল বাশারের এই গল্প বাছতে পারেন তিনি কেন এত কাঁচা পরিচালনা করলেন! শব্দ বা অভিনয়ের কথা ছেড়েই দিন, বাংলাদেশ থেকে অভাবের তাড়নায় আসা সিতারা বিবির পায়ে অত দামি চামড়ার চপ্পল থাকে কী করে? রাইমার শরীর ছাড়া আর কি কিছুই ব্যবহারের ছিল না? ওঁর চোখ দুটোই তো ব্যবহার করা যেত! প্রশ্ন রাইমাকেও। যিনি ঋতুপর্ণ ঘোষের পাঠশালায় পড়ে এসেছেন, তিনি সিতারাকে রাতের আকাশে আলো ছড়াতে না দিয়ে মাঝরাতেই এভাবে ম্লান করে দিলেন!




বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement
Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com