হোমরিভিউস

Movie Review Parcel: ‘পার্সেল’ খুলল, প্রত্যাশা পূরণ হল কই?

  | March 14, 2020 15:08 IST (কলকাতা)
Indrasish Acharya

এক পার্সেলে এতকিছু!

পার্সেলকে কেন্দ্র করে সমান্তরালভাবে উঠে এসেছে একুশের সমাজ, সোশ্যাল নির্ভর যাপিত জীবন, রোগী-চিকিৎসকের তলানিতে ঠেকে যাওয়া পারস্পরিক নির্ভরতা, আরও অনেক কিছু।

ছবি: পার্সেল

পরিচালক: ইন্দ্রাশিস আচার্য

অভিনয়: শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, শ্রীলা মজুমদার, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, অম্বরীশ ভট্টাচার্য, দামিনী বসু, প্রদীপ মুখোপাধ্যায়। 

প্রযোজনা: ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, কৃষ্ণা কয়াল


রেটিং: ২.৫/৫

ট্যাগলাইন: একুশের বিপর্যস্ত যাপিত জীবনের ছায়াপাত

পার্সেল সবার ঘরেই কমবেশি আসে। আগে এবং এখনও অনলাইন শপিংয়ের সৌজন্যে হামেশাই দেখা মেলে তার। উপহার-টুপোহারও এখন দূরের মানুষ কাছের জনকে পাঠিয়ে দেন পার্সেল করেই। তেমনই এক পার্সেল নন্দিনীর জন্মদিনে এসে পৌঁছোয় তার হাতে। পেশায় ডাক্তার স্বামী শৌভিকই হাতে করে আনে সারপ্রাইজ গিফট। প্রেরকের নাম নেই তাতে। সেই শুরু। তারপর ঘনঘন সারপ্রাইজড উপহার পেতে পেতে প্রথমে বিস্ময় তারপর মনান্তর শেষে সন্দেহের বিষাক্ত তিরে ক্ষতবিক্ষত নন্দিনী-শৌভিকের দাম্পত্য। একটা সময় শুধু নন্দিনী নয়, পার্সেল পায় তাদের মেয়ে সুজা এবং শেষে শৌভিকও! কে পাঠাচ্ছে এই পার্সেল? সেই রহস্য আদ্যন্ত বয়ে বেরিয়েছে পরিচালক ইন্দ্রাশিস আচার্যের তৃতীয় ছবি ‘পার্সেল'।


md4clop8


উটকো পার্সেলকে কেন্দ্র করে সমান্তরালভাবে উঠে এসেছে একুশের সমাজ, সোশ্যাল নির্ভর যাপিত জীবন, রোগী-চিকিৎসকের তলানিতে ঠেকে যাওয়া পারস্পরিক নির্ভরতা, বন্ধু বা বন্ধুত্বের অবলুপ্তি, অবসাদ, পরকীয়া....আরও অনেক কিছু। কিন্তু এত কিছু এক ছবিতে বুনোটহীন ভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় দর্শক বিভ্রান্ত হয়ে যেতে পারেন। যেমন, ছবিতে বারেবারে পার্সেল এলে নন্দিনী কখনও নির্বিকার, কখনও তার অতীত সামনে এসে দাঁড়ানোর ভয়ে প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক। কিন্তু কখনোই প্রশাসনের সাহায্য নেয়নি দম্পতি। সম্পর্ক নিয়ে যখনই রহস্য ঘনীভূত তখনই হাজির পেশাগত ঝামেলা। ফলে, বেনামি পার্সেল আসার উত্তেজনা তখনকার মতো স্তিমিত।

নন্দিনীর অতীত রয়েছে একাধিক। আছে শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত পারিবারিক সমস্যা। শৌভিকেরও আছে পরকীয়া। পেশার কারণে আত্মকেন্দ্রিকতা। এই সমস্ত থেকে রেহাই পেতে শেষে শহর ছাড়ার পরিকল্পনাও করে তারা। কিন্তু একটাও দৃশ্য দাগ কাটে না। একমাত্র সূর্যাস্তে গ্রামের বাড়ির নদীর পাড়ে একা নন্দিনীর আত্মোপলব্ধির চেষ্টা চোখ-মন দুটোই স্বস্তি দেয়। একই সঙ্গে ছবি ভীষণ শ্লথগতির। ফলে, এটিও ছবির বিপক্ষেই যাবে।


79d8ns5


তারপরেও দু'টি পরমপ্রাপ্তি, অভিনেতাদের অভিনয় এবং শ্রীলা মজুমদার, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের গলায় গান। ঋতুপর্ণা-শাশ্বত অনবদ্য।  এই জুটি ভালো লাগবে দর্শকদের। দুর্বল চিত্রনাট্যের সহায় তাঁদের স্বাভাবিক-সংযত অভিনয়। ভীষণ স্বাভাবিক শ্রীলা মজুমদার, অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়, অম্বরীশ ভট্টাচার্য, দামিনী বসু, প্রদীপ মুখোপাধ্যায় প্রত্যেকে। একটানা শট, দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ক্লান্তি আনতে পারে। সুরকার জয় সরকারের আবহে তেমন কিছুই করার নেই। তবে বেহালায় ছড়ের টানে তোলা সুর অবশ্যই ভিন্ন স্বাদ আনে। আর নন্দিনীর জন্মদিনে শ্রীলার খালি গলায় 'আমার রাত পোহালো' রবীন্দ্র গান বা ঋতুর কণ্ঠে 'বিলাসিনী রাই আমাদের' চমকে দেবে দর্শকদের। সম্পর্কের গল্প বলতে ভালোবাসেন ইন্দ্রাশিস। তাঁর আগের দুটি ছবি 'বিলু রাক্ষস' আর 'পিউপা'---সেই প্যাশনের প্রতিনিধি। এবারেও আশা ছিল, ইন্দ্রাশিস অন্যরকম কিছু উপহার দেবেন। আসলে, এক বাক্সে অনেক কিছু ভরতে গিয়ে আকারে বিশাল হয়ে গেছে পার্সেল। একুশের বিপর্যস্ত যাপিত জীবনের ছায়া ধরতে গিয়ে পরিচালকও যেন সামান্য বেপথু। 


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement
Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com