হোমরিভিউস

Moview Review: জটিল ভাবনার সহজ প্রকাশ ‘অব্যক্ত’

বিদেশে শুট না করে, সহজ কথায় সমাজের জটিলতাকে তুলে ধরার এই মুন্সিয়ানা অর্জুনের আগামী ছবি 'গুলদস্তা'-তেও থাকবে তো? 

  | February 01, 2020 21:52 IST (কলকাতা)
Arjun Dutta

সাথীর সঙ্গী যখন তানপুরা

Highlights

  • অর্জুন দত্তের অব্যক্ত-র প্রাণভোমরা অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়.
  • প্রথম ছবিতেই মারাত্মক সাবলীল অনুভব কাঞ্জিলাল
  • সমাজের জটিল কথা পরিচালকের মুন্সিয়ানায় সহজেই ব্যক্ত

ছবি: অব্যক্ত

পরিচালক: অর্জুন দত্ত

অভিনয়: অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়, আদিল হুসেন, অনির্বাণ ঘোষ, লিলি চক্রবর্তী, দেবযানী চট্টোপাধ্যায়, অনুভব

প্রযোজনা: রূপ প্রোডাকশন


রেটিং : ৪.৫/

ট্যাগলাইন: সহজ কথা যায় যে বলা সহজে...

চেনা পরিবারের জানা গল্প--- ছোট্ট ছেলেটা মেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে পুতুলের বিয়ে দিতে ভালোবাসে। ভালোবাসে ডল হাউজ। কচি মনের গোপন ইচ্ছেয় ভর করে আড়ালে সাজে মায়ের মতো। মায়ের শাড়ি, টিপ, লিপস্টিকে। কিন্তু মা দেখলেই বকে! কেন? ছোট থেকে সেই ছেলের স্বপ্ন বাবার বন্ধু রুদ্র কাকুর মতো সাহিত্য নিয়ে পড়বে, পড়াবে। মায়ের তাতেও বাধা! রুদ্র কাকুকে দেখলেই যেন তপ্ত উনুনের গনগনে আঁচ ধবধবে ফর্সা, সুন্দরী মায়ের চোখেমুখে। কেন? জানে না বাবা কেন তাকে অন্ধ প্রশ্রয় দেয়। আর মা সারাক্ষণ দাবড়ে রাখে। জানে না, দোলের সকালে সে অজান্তে মায়ের হাত ছেড়েছিল, না মা? ছেলেবেলা থেকে নাগাড়ে শাসনে থাকা কচি মন প্রতি মুহূর্তে ক্ষতবিক্ষত হতে হতে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে মায়ের প্রতি। বড় হয়ে সেই ছেলে ইন্দ্র দিল্লি প্রবাসী। বড় চাকুরে। লিভ ইন করে অদিতির সঙ্গে। কিন্তু বিয়ে করতে ভয় পায়। যদি অদিতি বিয়ের পর আরেক জন তার মা ওরফে সাথী হয়ে ওঠে!

মায়ের থেকে যে ছেলে সারাক্ষণ পালাতে ব্যস্ত তাকেই সম্পত্তির আইনি ব্যবস্থার জন্য কলকাতামুখী হতে হয়। জোর করে দূরে সরে থেকেও প্রতিদিন এক ছাদের নীচে ওঠাবসা করতে করতে সে যেন আবিষ্কার করতে থাকে নিজের মাকে। কখনও মামী, কখনও মা, কখনও রুদ্র কাকুর মুখ থেকে নানা কথা শুনে। কেন তার মা আর মামাবাড়ি যায় না? কেন তার মা ভালো গান জানা সত্ত্বেও গায় না গান? কেন তার মা এত শাসন করত তাকে? ছেলেরা মেয়েদের খেলনা নিয়ে খেললেই মেয়ে হয়ে যায়? ছোট থেকে বুকের মধ্যে পাহাড়ের মতো জমে থাকা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর একসময় উন্মুক্ত হয় তার সামনে। প্রকাশ্যে আসে মা-ছেলে এত যুগের অব্যক্ত কথা। কীভাবে? এটাই ছবির টুইস্ট। তাই এটুকু তোলা থাক পর্দার জন্য?

চেনা হয়েও অচেনা যখন--- এই গল্প কম বেশি পরিবারে ঘটেই থাকে। যেটুকু বলা হল সেটুকুই প্রকাশ্যে আসে। আসে না যা তাই-ই অব্যক্ত। যেমন, প্রকাশ্যে আসে না বাবার সমকামিতা কীভাবে সম্মানের মোড়কে আড়াল করেন মা। সামনে আসে না, কেন বাবার বন্ধুকে দেখলেই ক্ষেপে যান তিনি। কেন ছেলে মেয়ে সাজতে চাইলে, খেলনবাটি সাজিয়ে পুতুলের বিয়ে দিতে চাইলে কেঁপে ওঠে মায়ের বুক। এসমাজ যে এখনও মানে না সমকামিতাকে। সেই মা-ই রোজ দম আটকে বাঁচতে বাঁচতে নতুন করে চেনে, জানে, বোঝে উভকামী স্বামীকে। তাই তাঁর চোখ বোঁজার আগে ফিরিয়ে আনেন স্বামীর ভালোবাসা রুদ্রকে। অন্যের চোখ দিয়ে মাকে জানার পর ছেলে ঝাঁপিয়ে মায়ের কোলে মুখ গুঁজলে সব অপমান, অভিমান, দূরত্ব এক লহমায় সরিয়ে পরম আদরে বুকে জড়িয়ে নেন ছেলেকে।

অভিনয় যখন অলঙ্কার এবং অহঙ্কার--- এই ছবির পরম প্রাপ্তি সাথী ওরফে অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়। তিনিই এছবির প্রাণভোমরা। তাঁকে ঘিরে আবর্তিত ইন্দ্র ওরফে অনুভব কাঞ্জিলাল, রুদ্র ওরফে আদিল হুসেন, কৌশিক ওরফে অনির্বাণ ঘোষ। সধবা অর্পিতা দাপুটে, অভিজাত সুন্দরী বাঙালি ঘরনি। স্বামীহারা সাথী ততটাই রিক্ত, নিঃস্ব হয়েও কোথাও যেন নিজের বলে বলীয়ান। সেই তেজ, জোর পর্দাতেও প্রতিফলিত। ছেলের দেওয়া তাচ্ছিল্য মাথা পেতে নিয়েও একবারের জন্য মুখ খোলেননি স্বামীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে জোর গলায় জানাতে ভোলেননি, ছেলেকে শাসন করেছেন তার ভালোর জন্যই। তার জন্য আপশোস নেই। বিশেষ করে অর্পিতার গলায় 'বাবু' ডাক আর কান্নায় ভেঙে পড়ার দৃশ্য অনেক মায়ের চোখ ভেজাবে। এই ছবি অনুভবের প্রথম ছবি। দিল্লির মঞ্চাভিনেতা প্রথম ছবিতেই মারাত্মক সাবলীল। অনির্বাণ তাঁর মতো করে যথাযথ। আদিল এই ছবির অলঙ্কার। ছোট্ট চরিত্রে ভালো লেগেছে লিলি চক্রবর্তী, খেয়া চট্টোপাধ্যায়, দেবযানী চট্টোপাধ্যায়কে।

অর্জুনের লক্ষ্যভেদ---- হয় হরর থ্রিলার, নয় ক্রাইম থ্রিলার দেখতে দেখতে যখন দর্শকদের চোখ-মন ক্লান্ত তখনই শিকড়ের খোঁজ দেয় অর্জুনের এই ছবি। প্রথম ছবিতেই ঘরে ঘরে মা-ছেলের না বলা কথাকে বড়পর্দায় তুলে ধরে খুব অনাড়ম্বর এবং সহজ ভাবে ব্যক্ত করেছেন তিনি। এটাই অর্জুনের লক্ষ্যভেদ। অথচ সমকামিতা বোঝাতে কোনও অন্তরঙ্গ দৃশ্যের প্রয়োজন পড়েনি তাঁর। সেই জন্যেই এই ছবি দেশ-বিদেশ মিলিয়ে ৩৭টি সম্মানে সম্মানিত। প্রত্যেক অভিনেতার প্রতিভার সঠিক ব্যবহার করেছেন তিনি। তরুণ মজুমদারের পরে ফিউশন নয়, বিশুদ্ধ রবীন্দ্রগান ছবিতে রেখেছেন। শুধুই তানপুরার সঙ্গে। রবীন্দ্র ঘরানায় যা মেলে। এর জন্য আলাদা ধন্যবাদ প্রাপ্য সুরকার সৌম্যরীতের। আর আছে বিশ্বকবির কবিতা। বরাবরই যার জোরে তিনি সহজ কথা বলে এসেছেন সহজেই। বহু যুগ আগের বাঙালি ঘরের জানলায় ঝোলা কাপড়ের পাতলা পর্দা ফিরেছে তাঁর হাত ধরে। আবহে শুধুই সারেঙ্গি আর সেতারের যুগলবন্দি জুড়িয়ে দেয় শরীর। বিদেশে শুট না করে, সহজ কথায় সমাজের জটিলতাকে তুলে ধরার এই মুন্সিয়ানা অর্জুনের আগামী ছবি 'গুলদস্তা'-তেও থাকবে তো? 





বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
 
Advertisement
Advertisement
Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com