হোমরিভিউস

ভয় ও কমেডির সংমিশ্ৰণ ঘটেছে 'নানু কি জানু'-তে

  | May 04, 2018 17:45 IST
Nanu Ki Jaanu Movie Review

অভয় দেওয়াল ও পত্রলেখা অভিনীত 'নানু কি জানু'

'নানু কি জানু' সিনেমায় ভয় ও কমেডির এক অপ্রত্যাশিত সংমিশ্ৰণ ঘেটেছে. সংমিশ্রণের এই কাজটা এতটাই অসংলগ্ন যে, যার ফলে সম্পূর্ণ সিনেমাটি ঘেঁটে গেছে. 

 অভিনয়ে: অভয় দেওয়াল, পত্রলেখা, রাজেশ শর্মা এবং হিমানী শিবপুরী
পরিচালক: ফারাজ হায়দার
রেটিং: 1 স্টার (5এর মধ্যে)
'নানু কি জানু' সিনেমায় ভয় ও কমেডির এক অপ্রত্যাশিত সংমিশ্ৰণ ঘেটেছে. সংমিশ্রণের এই কাজটা এতটাই অসংলগ্ন যে, যার ফলে সম্পূর্ণ সিনেমাটি ঘেঁটে গেছে. 
ফারাজ হায়দারের এই সিনেমা অতি কষ্টে নিজের পথ বেছে নিয়েছে, যা কিনা অত্যন্ত উদ্ভট- পথ দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া একটি মেয়ে ভুত হয়ে একজন হাতুড়ে ডাক্তারকে ভয় দেখতে শুরু করে, যে কি না তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়- ক্লাইমাক্সের আগে সেই আত্মা তাঁকে বরফকলে নিয়ে গিয়ে জীবনের প্রয়োজনীয় 2-1 টা গূঢ় শিক্ষা দিয়ে যায়. 
2016 সালে তাঁর শেষ ছবি 'হ্যাপি ভাগ জায়গি'-র পর এই সিনেমা এমন ঘেঁটে যাওয়ায় অভয় দেওয়াল খুব একটা খুশী হননি। এক্ষেত্রে অভিনেতা নিজের সর্বস্ব দিয়ে ভালো কাজ করার চেষ্টা করলেও খারাপ স্ক্রিপ্টের জন্য পুরো ব্যাপারটাই উল্টোপাল্টা হয়ে গেছে।
অভয় দেওয়াল ছাড়াও এই সিনেমার অন্যান্য অভিনেতা- অভিনেত্রীদের চরিত্রকেও অতিরঞ্জিত করা হয়েছে এবং বাজে স্ক্রিপ্টের আড়ালে তাঁদের প্রতিভাকে চেপে দিয়েছেন পরিচালক।
নানুর চরিত্রে অভয় দেওয়াল একজন রূঢ় ভাষী দুষ্কৃতি। চোখের সামনে একটা মেয়েকে মারা যেতে দেখে তিনি ট্রমায় চলে যান। তাঁর আকস্মিক পরিবর্তনে দলের অন্যান্য সদস্যরা হতবুদ্ধি হয়ে যায়।
ভুত হয়ে নানুর ফ্ল্যাটে এসে পত্রলেখা একজন স্ত্রীয়ের মত নানুর সঙ্গে ব্যবহার শুরু করে। এমনকী একজন সিঁধেল চোর নানুর ফ্ল্যাটে এসে চুরি না করে শুধুমাত্র ফ্ল্যাট পরিষ্কার করে বেরিয়ে যাচ্ছে- এমন দৃশ্যও আমরা এই সিনেমায় দেখতে পেয়েছি. 
2014 সালের তামিল হিট ছবি পিসাসুর নিকৃষ্ট রিমেক এই ছবিতে, অরিজিনাল ছবির প্রযোজক এবং পরিচালক, যথাক্রমে বালা ও মিসকীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও, অরিজিনাল ছবি যতখানি সফল হয়েছিল, এই ছবি তার সিকি ভাগ প্রশংসাও লাভ করতে পারেনি।

এই ছবি একটা অপরাধ মূলক ছবি হিসাবে শুরু হয়ে, ভয়ের দিকে ঝুঁকে যায় এবং তারপর ঘটনায় আসে অন্য রকম মোড়, মৃত মেয়েটির প্রায় উন্মাদ বাবা (রাজেশ শর্মা) মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজতে শুরু করে. 
এই সিনেমার ভুত কেন্দ্রীয় চরিত্রের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের চিমনিতে রিফিউজির মত বসবাস করে। কালক্রমে, হিরো নানু এই অশরীরি আত্মার প্রেমে পড়ে বলেন 'তেরে স্মাইল নে মুঝে ইনসান বানা দিয়া'। সিনেমায় আমরা বেশিরভাগই আকাশ-কুসুম কল্পনাকেই দেখেছি, তবে যাই হোক, নানু কি জানু প্রসঙ্গে আমরা কোনও ভাবেই তাকে সিনেমার মর্যাদা দিতে পারবো না।
এই সিনেমা দেখে দর্শক যেন হতাশ হয়ে না ফেরেন, সে ব্যবস্থা করতে পরিচালক এখানে- পথ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সততাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য- এই ধরণের কিছু বার্তা দিয়েছেন।
সবশেষে বলা যায়, নানু কি জানু, শুধুমাত্র একটা মেয়ের ভুত হয়ে একটা চিমনিতে দিনযাপনের গল্প না হয়ে আরও বেশী কিছু হলে হয়তো দর্শকের মন জয় করে নিতে পারতো।

বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement
Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com