হোম

Birthday Special: ‘ধনঞ্জয়’ থেকে ‘শেখর’....বরাবর Director’s Choice রবি ঘোষ দস্তিদার

  | November 25, 2019 08:42 IST (কলকাতা)
Rabi Ghosh

পাঁচ সিনেমার পাঞ্চ

১৯৫৩ থেকে ১৯৫৯, টানা ছ-বছর রবি চাকরি করেন ব্যাঙ্কশাল কোর্টে। কিন্তু যিনি অভিনয়ের আগুন নিয়ে জন্মান তাঁকে কি দশটা-পাঁচটার চাকরির বাঁধন বাঁধতে পারে?

পাঁচ কি ছয়ের দশকের কথা। তখনকার ডাকসাইটে অভিনেত্রী ছায়া দেবী একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন রবি ঘোষ দস্তিদারকে (Rabi Ghosh), ‘ছবিতে কী করে এলে রবি'? আন্তরিক জবাব এসেছিল তৎক্ষণাত, ‘ঢুলুদা মানে পরিচালক অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় নিয়ে এসেছেন আমায় সিনেমাতে। সনাতনের চরিত্রে আমার অভিনয় ঢুলুদাকে এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে, তাঁর প্রথম পরিচালিত ছবি ‘কিছুক্ষণ'-এ ছোট একটি চরিত্রে আমায় অভিনয়ের সুযোগ দিয়েছিলেন।‘ সেই ছোট্ট চরিত্রেই নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন রবি। জন্মসূত্রে যাঁর নাম রবি ঘোষ দস্তিদার। তারপরেই ১৯৬২-তে দাপুটে তিন পরিচালক সত্যজিৎ রায়, তপন সিংহ, অসিত সেনের যথাক্রমে 'অভিযান', 'হাঁসুলিবাঁকের উপকথা', 'আগুন' ছবিতে পরপর দেখা গেছিল তাঁকে।


vrg0i218


১৯৩১ সালের ২৪ নভেম্বর কলকাতায় জন্ম (Birthday) খ্যাতিমান অভিনেতার। অভিনয়ের শুরুতে তাঁর কথায় বাংলাদেশের টান স্পষ্ট ছিল। পরে নিজেকে ঘষেমেজে খাঁটি কলকাত্তাইয়া হয়ে ওঠেন তিনি। সাউথ সুবার্বান স্কুল, আশুতোষ কলেজে পড়াশোনার পর ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৯, টানা ছ-বছর রবি চাকরি করেন ব্যাঙ্কশাল কোর্টে। কিন্তু যিনি অভিনয়ের আগুন নিয়ে জন্মান তাঁকে কি দশটা-পাঁচটার চাকরির বাঁধন বাঁধতে পারে? অঙ্গার নাটকে তাঁর অভিনীত চরিত্র সনাতন দেখার পরেই চাকরিতে ইতি। টালিগঞ্জ পাড়ায় পা। প্রথম বিয়ে আরেক দাপুটে অভিনেত্রী অনুভা গুপ্তকে। সেই বিয়ে ভাঙার পর রবি ঘোষের বাকি জীবনের ঘরনি বৈশাখী দেবী।



p3qr7qjg


দিন কেটে মাস ঘুরে বছরের পর বছর এসেছে। রবি ঘোষ অভিনীত ছবির সংখ্যা অসংখ্য। তারই মধ্যে সেরা পাঁচ ছবি অভিনেতার জন্মদিনে রবিবাসরীয় বিনোদন হয়ে উঠতেই পারে। জেনে নিন কোন পাঁচটি সেরা ছবি দেখবেন। শুধু কৌতুকাভিনেতা হিসেবে নয়, জোরালো অভিনেতা হিসেবেও চিনে নিন রবি ঘোষকে---

১. গল্প হলেও সত্যি--- তপন সিংহের অনবদ্য সৃষ্টি। বড়-সেজ-ছোট খোকার পরিবারে সাক্ষাৎ দেবদূত 'চাকর' ধনঞ্জয়। রোজের রাগ, তিক্ততা, মান-অভিমান নিয়ে যখন প্রায় ভাঙার পথে একান্তবর্তী পরিবারটি তখনই আবির্ভাব তার। সব কাজ একা হাতে সামলে, সবাইকে এক সুতোয় গেঁথে দিয়েই ছুটি নেয় সে। ছবি থেকে আপনার মনে হবেই, এমন কেন সত্যি হয় না, আহা!

২.কাপুরুষ মহাপুরুষ---- সত্যজিৎ রায়ের এই ছবিতে দুটি গল্প। দ্বিতীয়টি বিরিঞ্চিবাবা অবলম্বনে। সেখানে সেই স্বঘোষিত মহাপুরুষের অ্যাসিসটেন্ট রবি ঘোষ। হাসির সঙ্গে বাস্তবকে মিলিয়েছিলেন তিনি এই ছবিতে।


gjcb073o


৩. শ্রীমান পৃথ্বিরাজ--- তরুণ মজুমদারের এই ছবিতে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুর দেওয়া স্বকণ্ঠের সেই বিখ্যাত গান 'হরিদাসের বুলবুলভাজা টাটকা তাজা খেতে মজা' মন ভালো করে দেবার পক্ষে যথেষ্ট। গানের কথাগুলোও ভীষণ মজাদার। রানি ভিক্টোরিয়া নাকি হরিদাসের এই বুলবুল ভাজার ভয়ানক ভক্ত ছিলেন!

৪. গুপী গাইন বাঘা বাইন--- সত্যজিৎ রায়ের এই সিরিজ তৈরিই হত না যদি গুপী তপেন গাঙ্গুলির সঙ্গে বাঘা রবি ঘোষ না থাকতেন। ভূতের রাজার তিন বরের জোরে যাঁরা শুন্ডি থেকে হীরক রাজার দেশে পৌঁছেছিলেন। গুপীর গান আর বাঘার বাজনা---আজও দেখতে বসলে সময়ের খেয়াল থাকে না।

৫. অরণ্যের দিনরাত্রি--- ,সত্যজিৎ রায়ের আরও একটি ছবি 'অরণ্যের দিনরাত্রি'-তে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়ের পাশে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন 'শেখর' রূপী রবি ঘোষ।

দেখুন ভিডিও:





বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement