হোমআঞ্চলিক

স্বীকার করতে সমস্যা নেই, অনলাইন ছবি এসে সব বেড়া ভেঙে দিয়েছেঃ আবির চট্টোপাধ্যায়

  | December 30, 2018 09:09 IST (কলকাতা)
Abir Chatterjee

বিজয়া ছবিতে আবির চট্টোপাধ্যায়।

বাংলা ছবির সর্বজনপ্রিয় নায়ক তিনি। নতুন ছবি 'বিজয়া'-র মুক্তির আগে কথা বললেন  NDTV বাংলা'র সঙ্গে। অকপট কথাবার্তার সাক্ষী রইলেন বোধিসত্ত্ব ভট্টাচার্য।

বোধিসত্ত্ব: প্রবল শীত পড়েছে। ২০১৮ শেষ হতে চলল। আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। প্রতি বছরের মতোই এই বছরটিতেও অন্তত সিনেমার সংখ্যার নিরিখে আপনার ঝুলি পরিপূর্ণ। কেমন গেল আপনার মতে এই বছরটা?

আবিরঃ হ্যাঁ। শীতটা জমিয়েই পড়েছে। এই বছরটা ভালোই গেল। কাজের মধ্যেই রয়েছি। এটাই সবথেকে বেশি ভালো ব্যাপার। সামনের বছরটিতেও পরপর অনেকগুলো ছবি আসবে। সব মিলিয়ে বছরটা ভালোই গেল বলা যায়। আরও ভালো কাজ করতে চাই সামনের দিনগুলোতে। একজন শিল্পী হিসেবে এটাই চাহিদা। 

এই বছর আবির চট্টোপাধ্যায় অভিনীত যতগুলো সিনেমা মুক্তি পেল, তার মধ্যে আপনার সবথেকে প্রিয় ছবি কোনটা?

দেখুন, এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটা মুশকিল একটু। কারণ, যেহেতু, আমার ছবির মধ্যে থেকেই আমাকে বাছতে হবে, তাই, আনবায়াসড হয়ে পুরোটা বলা মুশকিল। আর, আনবায়াসড না হলে তো এই ধরনের বাছাবাছির কোনও মানেই হয় না। তবে, প্রতিটা ছবিই অনেককিছু শিখিয়েছে। নতুন ধরনের কনটেন্ট নিয়ে কাজ হয়েছে। সেগুলো দর্শক গ্রহণ করেছেন। বক্স-অফিসেও তার প্রভাব পড়েছে। এই বছরের দুটো অন্যতম ব্যবসায়িকভাবে সফল ছবির সঙ্গেও আমি জড়িত ছিলাম। ব্যোমকেশ গোত্র এবং গুপ্তধনের সন্ধানে৷ সেটা একটা আনন্দ দিয়েছে তো বটেই। দীর্ঘদিন ধরে অনেকটা লড়াই করে খেটে বানানো ছবি যখন দর্শকের ভালোলাগে তার থেকে বেশি আনন্দের আর কী-ই বা আছে!


আর, যে ছবিগুলো বক্স-অফিসে তেমন সাফল্য পেল না, সেগুলো নিয়ে কিছু বলবেন না? সেগুলোর কথাও জানতে চাইছি...

হ্যাঁ। অবশ্যই। দেখুন, সাফল্য পাক বা ব্যর্থ হোক, দিনের শেষে এই ছবিগুলো তো কোথাও গিয়ে আমার সন্তানের মতোই...আর, ছবি ভালো ব্যবসা করেনি মানেই যে খারাপ ছবি, তেমনটা যে কখনওই নয়, এ তো আমরা জানি। যেমন ধরুন, একটা ছবির কথা বলব। এই বছরের শুরুতে মুক্তি পায় সেটি। নাম- আমি জয় চ্যাটার্জি। মনোজ মিশিগানের ছবি। বারবার প্ল্যানিং হওয়া সত্ত্বেও ছবিটা রিলিজ করানো যাচ্ছিল না। ইন্ডিপেনডেন্ট ছবির ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি তো হয়। কিন্তু তারপর ছবিটি রিলিজ করে। প্রযোজকরা ছবিটি অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকাতেও নিয়ে যান দেখানোর জন্য। এই ছবিতে আমি নিজেকে একটু অন্যরকমভাবে ডিসকভার করতে পেরেছি। চরিত্রটাও সেরকম ছিল। কীভাবে 'আমিত্ব' থেকে বেরিয়ে এসে সকলের মধ্যে মিশে গিয়ে অন্যভাবে বাঁচা যায়, সেই গল্পই বলতে চেয়েছিল ছবিটি। এবং, সেটা বলা হয়েছিল অত্যন্ত অন্যরকমভাবে। ভীষণ স্টাইলিশ ম্যানারে। এই ছবিটি করতে গিয়ে আমিও অনেককিছু শিখেছি। মানুষ হিসেবেও শিখেছি অনেককিছু। প্রত্যেকটি নতুন চরিত্র করতে গিয়েই তো সেই চরিত্রটির মধ্যে ঢুকে পড়ার প্রক্রিয়া, তার ভিতর দিয়ে যেতে যেতে তো আমরা মানুষ হিসেবেও অনেকটা ইভলভ করি। এই ছবিটা আমাকে সেই সুযোগ এনে দিয়েছিল। ছবিটি রিলিজ করেছিল খুব অল্পসংখ্যক হলে। দেখেছেনও অল্প কিছু মানুষ। কিন্তু, যাঁরা দেখেছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই ইমোশনালি ইনভলভড হয়ে পড়েছিলেন। ছবিটা অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও পাওয়া যায় না৷ সেটা খুব দুর্ভাগ্যজনক। 

এটিই একমাত্র? নাকি আর কোনও ছবি রয়েছে?

আরেকটি ছবির কথা বলব। সেটির নাম- ফ্ল্যাট নম্বর ৬০৯। ছবিটি হরর জঁরের। কিন্তু এই ছবিতে আমাকে সচরাচর পর্দায় যে ধরনের চরিত্রে দেখা যায়, সেই ধরনের চরিত্রেই প্রথমদিকে দেখতে পেলেও শেষ কুড়ি মিনিটে একটা বাঁক আসে। চরিত্রটির ধূসর দিকটিও তখন চলে আসে সামনে। বা, ধূসর দিকটিই চলে আসে সামনে। এটা আমার কাছে একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ, এই ধরনের চরিত্র এর আগে করলেও অনেক কম করেছি। আর, ব্যোমকেশ, সোনাদা এইসব চরিত্রে আমাকে এমনভাবে দেখতে অভ্যস্ত দর্শক, যে, এই অচেনা বাঁকটি তাঁদের একটু অবাক করে দেবেই। সেটা দিয়েছেও। এই ছবিটার কথা বলছি, কারণ, এখানে অভিনয় করার সময়েও আমি নিজেকে অনেকটা ভেঙেছিলাম। কেরিয়ারের এই জায়গায় দাঁড়িয়ে ওই ভাঙাটাও আমার কাছে একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। ছবির পরিচালক অরিন্দম ভট্টাচার্যের এটা দ্বিতীয় ছবি। এই চ্যালেঞ্জটা ও যেভাবে অ্যাক্সেপ্ট করেছিল, সেটাও কুর্নিশের যোগ্য। ২০১৮ সালের এই দুটো ছবির কথা আমি বলতে চাই বিশেষ করে। বাকি ছবিগুলো ব্যবসায়িক দিক থেকে যথেষ্ট সফল হয়েছে। 

রহস্য, প্রেম, পরকীয়ার বুনোটে গল্প শোনাবে ‘হ্যালো'

বাণিজ্যিক সাফল্য পেয়েছে শেষমেশ, কিন্তু প্রথমে ছবিটির ব্যাপারে ততটা ভাবা যায়নি, এমন কোনও ছবি ছিল আপনার এই বছর?

যেমন ধরুন, 'বিদায় ব্যোমকেশ'। এত এক্সপেরিমেন্টাল ছবি! অথচ এত দারুণ ব্যবসায়িক সাফল্য পাবে, সেটা ভাবাই যায়নি। যদিও দর্শকদের মতামতের মধ্যে ভিন্নতা ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও ছবিটা অসম্ভব ভালো চলেছে। ছবিটা সুপারহিট হয়। এছাড়া, আরেকটা ছবির কথা বলব, মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি। ছবিতে আমার চরিত্র ক্যামিও'র। আমি সাধারণত ক্যামিও'র চরিত্র করি না। কিন্তু, এটা শীর্ষেন্দুবাবুর গল্প। অনিন্দ্যদার পরিচালনা। সবমিলিয়ে রাজি হয়েছিলাম। ছবিটা পুজোর সময় ছোটরা ছবিটা হুড়মুড়িয়ে দেখেছে। এবং, ছবিটাও দারুণ হিট করে। 

আপনি যে প্রথম থেকে আপনার ছবিগুলোর ব্যবসায়িক সাফল্য এবং সুপারহিট হওয়ার কথা বলছেন, অথচ, হলে কি ছবিগুলো বেশিদিন চলছে? সিঙ্গল স্ক্রিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক। মাল্টিপ্লেক্সে বাংলা ছবি চলে ঠিকই, কিন্তু সাতদিন বাদে একটা বড় ব্যানারের হিন্দি ছবি চলে এলে বাংলা ছবির শো কমিয়ে দেওয়া হয় বা তুলেই দেওয়া হয়। তাহলে ছবিগুলোকে হিট বা সুপারহিট বলছেন আপনি কীসের নিরিখে?

ব্যবসার নিরিখেই। কিন্তু সেই ব্যবসাটা এখন আর সম্পূর্ণভাবে সিনেমা হলের মুখাপেক্ষী নয়। আমরা একটা কথা ভুলে যাই। কোনও ছবির বাজেট যদি ১০ টাকা হয়, সেই ছবিটা ১৫ টাকা আয় করলেও কিন্তু ৫০ শতাংশ লাভ হচ্ছে। ৫০ শতাংশ লাভ মানে তো সুপারহিট!

সুপারহিট নাকি মার্জিনালি হিট? যে ছবিগুলো ২০০ বা ২৫০ শতাংশ লাভ করছে, তাকে তাহলে কী বলবেন?

সেগুলো সুপার-ডুপার হিট। কিন্তু, যে ছবি ৫০ শতাংশ লাভ করছে, সেটি যে সুপারহিট, সেই ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। একজন কমার্সের স্টুডেন্ট হিসেবেই এই কথাটা বললাম আপনাকে। 

প্রেক্ষাগৃহ ছাড়া আর কী কী ভাবে ছবির ব্যবসাটা হয়, যার নিরিখে তার গায়ে ট্যাগগুলো লাগিয়ে দিতে পারেন প্রযোজকরা? স্যাটেলাইট রাইটস?

স্যাটেলাইট রাইটসের ওপর বাংলা ছবির ব্যবসা একসময় অনেকটা নির্ভর করত। এখন, তার সঙ্গে যোগ হয়েছে অনলাইন রাইটসও। মোবাইলে যে বাংলা ছবি দেখা যাচ্ছে, সেই বাংলা ছবি কিন্তু ওই অনলাইন রাইটস বিক্রি করেও অনেকটা অর্থ ঘরে নিয়ে আসতে পারছে। আমি একবারও বলিনি, যে, হলে বা মাল্টিপ্লেক্সে কত দর্শক আসছেন ছবিটি দেখতে, তার ওপর নির্ভর করে ব্যবসাটা হচ্ছে। বা, সুপারহিট বলছি। না। আমি তা বলছি না। একটা ছবির  ব্যবসার সঙ্গে এই সবটা জড়িয়ে রয়েছে। সবমিলিয়ে ব্যবসাটা কী হচ্ছে, সেটাই বলতে চাইছি। আপনি খুব ভালো প্রশ্নটা করেছেন। এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও কথা হওয়া দরকার। যেহেতু, এগুলো টেকনিক্যাল বিষয়, তাই বেশি কথা হয় না এগুলো নিয়ে। কিন্তু, সত্যিই দরকার।

অনলাইন রাইটস নিয়ে কথা হচ্ছে। এই বিষয়টা ধরেই আরেককটু গভীরে ঢোকা যাক। অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে আপনি কীভাবে দেখছেন? গত দেড় বছরে তো লড়াইটা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। একটা যে বেড়া ছিল, সেটাও ভেঙে গিয়েছে। কারণ সবার হাতে স্মার্টফোন। প্রায় সকলের কাছেই অফুরন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা। যা ধরে চলে আসছে নেটফ্লিক্স বা অ্যামাজনের দারুণ দারুণ সব ওয়েবসিরিজ। যেটা অভিজাত মলের কফিশপে বসে কোনও কোটিপতি তার মোবাইলে দেখছে যেমন, তেমনই মাঠে বসে শীতের খেজুরের রস খেতে খেতে নিজের স্মার্টফোনে হয়তো একইসময়ে দেখে ফেলছে বনগাঁর কোনও স্কুলপড়ুয়া। অর্থাৎ, বেরিয়ারটা ভেঙে গেছে। অভিনেতার চ্যালেঞ্জও কেবলমাত্র কোনও স্থানভিত্তিক নয়। অর্থাৎ, টলিউডের অভিনেতার সঙ্গে টলিউডের অভিনেতার টক্কর বা বলিউডের এক স্টারের সঙ্গে আরেক স্টারের লড়াই- ব্যাপারটা এমন আর নেই। স্পেনের কোনও ওয়েবসিরিজ-এর জনৈক অভিনেতার দুর্দান্ত অভিনয়  দেখে উঠে হয়তো সেই মানুষটা 'গুপ্তধনের সন্ধানে' দেখতে বসছেন। তার মানে, আবির চট্টোপাধ্যায়ের লড়াই তখন স্পেনের ওই অজানা  অভিনেতার সঙ্গেও। এই লড়াইটাকে আপনি কীভাবে দেখেন? 

এক্ষেত্রে আমি একটা পালটা প্রশ্ন করি। আমরা কি সত্যিই মনে করি যে, বেরিয়ারটা ভেঙে গিয়েছে? 

'তৃতীয় অধ্যায়' ট্রেলারঃ চিরকালীন অনুসন্ধানের আনোখা কাহিনী

আমি সেটা মনে করি। বিশ্বাস করি।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি।  অন্তত এই মুহূর্তে আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তো বটেই। বেরিয়ার সত্যিই আর নেই। আমার অভিজ্ঞতা তাই বলে। ওটা ভেঙে গিয়েছে। তবুও, খানিকটা হাস্যকরভাবে আমরা সকলেই একটা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, গ্রাম আর শহরের মধ্যে তফাৎ করার। আমার মনে হয়, এই কথাটা সকলের বলা উচিত। শুধু আমাদেরই না, দর্শকদেরও বলতে হবে। এখন সবার হাতে স্মার্টফোন। সবাই সবকিছু দেখতে আরে ইচ্ছেমতো।  ডেটা উদ্বৃত্ত। এখন আর ডেটা শেষ হয় না৷ ডেটা বেঁচে থাকে। দর্শকদের দেখার চোখ, ভাবনা সবই বদলে যাচ্ছে অতি দ্রুত। অনলাইনে কোনও বাধাও নেই সেনসরের, তাই সবকিছুই নিজের মতো করে দেখানো যায়৷ দর্শক কিন্তু পুরো ব্যাপারটার সঙ্গেই মিশে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। এবং, সাবালক হচ্ছে আরও। 

অভিনেতাদের কাছেও তো একটা নতুন চ্যালেঞ্জ এটা৷ তাঁরাও তো সাবালক হচ্ছেন...

অবশ্যই। এখন টাচস্ক্রিনে কেউ এক মুহূর্তের মধ্যে আমার কাজ ভালো না লাগলে স্ক্রিনটা সোয়াইপ করে অন্য একটা কিছুতে চলে যাবে। এই চ্যালেঞ্জটা আমাকে কোথাও গিয়ে খুব চার্জড আপ করে দেয়। অর্থাৎ, আরও ভালো কাজ আরও ভালো কনটেন্ট নিয়ে আমাদের পৌঁছাতে হবে দর্শকের কাছে। এখন কিন্তু কেউ কিছু টোকা জিনিস চালিয়ে দিলে তা দর্শকই ধরে ফেলবে!

'বিসর্জন'-এর পর 'বিজয়া'। এপার বাংলা আর ওপার বাংলার সম্পর্কের বুনোটটির ছাপ ছিল 'বিসর্জন'-এর পরতে পরতে। ঠিক এই জায়গা থেকে আপনার কাছে একটি প্রশ্ন, আপনি দেশভাগকে কীভাবে দেখেন?

আমি তো দেশভাগ দেখিনি। আমার দাদু দেশভাগের আগে এপারে চলে আসেন৷ পড়াশোনার জন্য। তারপর এখানেই থেকে যান। আমার বাবারও জন্ম এখানেই। আমি হয়তো দেশভাগ দেখিনি, কিন্তু বহু বয়স্ক মানুষের মধ্যে দেশভাগের যন্ত্রণা দেখেছি। বছরের পর বছর ধরে একটা জায়গায় আমি রয়েছি। আমার পরিবার বন্ধুবান্ধব সবাই রয়েছেন। আচমকা এক সকালে বলা হল, এখান থেকে তুমি চলে যাও। সব ছেড়েছুড়ে। এটা তোমার জায়গা নয়... এই যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে না গেলে হয়তো পুরোটা টের পাওয়া যায় না। কিন্তু শুধু অভিনেতা হিসেবে নয়, একজন সংবেদনশীল মানুষ হিসেবেও যদি পুরো ঘটনাটা একবার ভাবার চেষ্টা করি, তাহলেও কষ্টটা খানিকটা হলেও টের পাওয়া যায়। সেটা আমি পেয়েছি। 

এই প্রশ্নটা 'বিসর্জন' নিয়ে। স্ক্রিপ্ট পড়ার সময় ঠিক কোন জায়গাটা এসে মনে হয়েছিল, নাসির আলি চরিত্রটা আমার করা উচিত?

একটা চরিত্রকে সবদিক দিয়ে  বেঁধে দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া। এটা আমাকে খুব হন্ট করেছিল। নাসির আলি ফিজিক্যালি ইমমোবাইল। ওরালি ইমমোবাইল। কারণ, বেশি কথা বলতে পারছে না। কাগজপত্র ইত্যাদি ছাড়া রয়েছে সে। তাই সবসময়ই সে কুণ্ঠিত হয়ে আছে। যখন বুঝতে পারছে পদ্মা তাকে তার স্বামীর জায়গা দিচ্ছে, নির্ভর করছে তার ওপর, তখন আরও অসহায় হয়ে পড়ছে সে...আর, সারা জীবন শহুরে জীবনে অভ্যস্ত হয়ে আমার ভিতরে থাকা ভীষণ কলকাতাটাকে ভেঙে দিয়ে ওই চরিত্রটা করা খুব বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। আর‍, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং জয়া আহসানের সঙ্গে অভিনয় করতে হচ্ছে, সেটাও তো একটা দারুণ চ্যালেঞ্জ বটেই।

'বিসর্জন'-এর নাসির আলির থেকে 'বিজয়া'-র নাসির আলি  কোথায় আলাদা?

এই ছবিটিতে নাসির অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। ও এখন আর চোরাকারবারও করছে না। এটুকু বলতে পারি। পায়ের সমস্যাটাও নেই আর। বয়স বেড়েছে। অভিজ্ঞতা বেড়েছে। মানুষকে অন্যভাবে দেখতে শিখেছে। নিজের দেশে রয়েছে। তবে, মনের মধ্যে কোথাও একটা অপরাধবোধ রয়ে গিয়েছে। পদ্মা কি আদৌ বেঁচে আছে? তাও ও জানে না। এই ছবিটি আগের ছবিতে তোলা অনেক প্রশ্নের যেমন জবাব দেবে, ঠিক তেমনই অনেক নতুন প্রশ্নের জন্মও দেবে...

প্রশ্নের জন্ম হোক আরও,  সেই প্রশ্নগুলো নিয়েই না হয়  পরেরবার আরও নতুন প্রশ্ন করা যাবে...

(হাসি) নিশ্চয়ই! 'বিসর্জন' যেমন সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল, 'বিজয়া'ও তেমনটা পাক, দর্শক দেখুন ছবিটি,  অভিনেতা হিসেবে এটাই চাই। 

অনেক ধন্যবাদ, আবির। ভালো থাকবেন। 

আপনাকেও ধন্যবাদ।


বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement
Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com