হোমআঞ্চলিক

রসগোল্লার পর উজান অবন্তিকা স্টারঃ রজতাভ

  | December 19, 2018 18:39 IST (কলকাতা)
Rosogolla

আড্ডা চলাকালীন পরিচালকের সঙ্গে রজতাভ দত্ত, উজান ও অবন্তিকা।

রসগোল্লা মুক্তির আগে পরিচালক পাভেল, অভিনেতা উজান, অবন্তিকা ও রজতাভ দত্তের সঙ্গে মিষ্টি আড্ডা দিয়ে এসে লিখলেন পরিজা কর্মকার। আজ প্রকাশিত হল সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় তথা শেষ পর্ব।

এই শীতে বাঙালিকে রসে বসে রাখতে পরিচালক পাভেল নিয়ে আসছেন 'রসগোল্লা'। ইতিমধ্যে শহরের রাস্তাঘাট হোর্ডিংয়ে মুড়ে নবীনচন্দ্র-খিরোদমনি জানান দিয়েছেন আগামী ২১ তারিখ তাঁদের সঙ্গে শহরবাসীর আলাপ হবে। জানা যাবে রসগোল্লা তৈরির নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা কাহিনী। এক যুবকের স্বপ্ন, জেদ ও ভালোবাসায় ভর করে স্বপ্নপূরণের কাহিনী। তার আগে রসগোল্লা ছবির পরিচালক পাভেল, নবীনচন্দ্র তথা উজান গঙ্গোপাধ্যায়, খিরোদমনি তথা অবন্তিকা বিশ্বাস ও কালীদাস ইন্দ্র তথা রজতাভ দত্তের সঙ্গে এক সন্ধ্যায় মিষ্টি আড্ডা দিয়ে এসে কলম ধরলেন পরিজা কর্মকার। আজ প্রকাশিত হল আড্ডার শেষ তথা অন্তিম পর্ব।

প্রথম পর্বের লিঙ্কঃ রসগোল্লা নিয়ে মিষ্টি আড্ডায় পরিচালক পাভেল, উজান, অবন্তিকা ও রজতাভ দত্ত

পরিজা: অনস্ক্রিন কালীদাস ইন্দ্রের কাছে নবীনচন্দ্রের কাজ শেখার মতোই বাস্তবে তো রজতাভ দত্তের থেকে অভিনয় শিখেছে উজান ও অবন্তিকা। আপনার কী মনে হচ্ছে ওদের কাজ দেখে?
রজতাভ: আসলে শেখাটা দু'তরফেই চলতে থাকে। বয়সটা সেখানে কোনও ফ্যাক্টর নয়। নতুন একজন অভিনয় করতে এলে সে কতটা প্যাশন নিয়ে আসছে সেটা কিন্তু বাকিদের সব সময় ইনস্পায়ার করতে থাকে। সুতরাং উল্টোদিকের মানুষটার বয়স কম না বেশি সেখানে সেটা ম্যাটার করে না। দ্বিতীয়ত, একটা সময়ের পরে একটা জেনারেশন সব সময় ব্যাকডেটেড হয়ে যাবেই। তাই সব সময় তাদের চোখ-কানটা খোলা রাখা উচিত যাতে আশপাশে কী ঘটছে সেটার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। বয়সে ছোট এমন অভিনেতা-অভিনেত্রীদের থেকে কিন্তু তাদের বাচনভঙ্গি, যদি ল্যাঙ্গুয়েজ এগুলো সব সময় শিখতে হয় নিজেদের আপ-টু-টেড রাখার জন্য। সুতরাং আমার কখনই মনে হয়নি আমি বয়সে ছোট কারও সঙ্গে কাজ করছি। আমার সব সময় মনে হয়েছে আমি একজন কলিগের সঙ্গে কাজ করছি। আর ও যে কৌশিকের পুত্র সেটা মাই জেনেছি অনেক পরে। অনেক ছোটবেলায় ওকে দেখেছিলাম। তাই প্রথমে চিনতেই পারিনি। এবার সেটা জানার পরেও ওর ওই পরিচয়টা সেটের বাইরে পর্যন্তই ছিল। সেটের ভিতর ক্যামেরা চালু হওয়ার পর কিন্তু আমরা পরস্পরের কলিগ হিসেবেই কাজ করেছি।
উজান: এক্ষেত্রে আমি একটা কথা বলবো। ধরো আজ বিয়র্ন বর্গ আর রজার ফেডেরারের ম্যাচ। আর ফেডেরারের প্রথম ম্যাচ, সেখানে এমন একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সঙ্গে তাঁকে খেলতে হবে। তখন কিন্তু ফেডেরারের ফোর হ্যান্ড, ব্যাক হ্যান্ড সমস্ত কিছুই বর্গের বিপরীতে খেলতে গিয়ে প্রত্যেক বার চ‍্যালেঞ্জড হবে। ফেডেরার নার্ভাস হয়ে যেতে পারে। কী করবে না বুঝেও উঠতে পারে। কিন্তু একটা জিনিস কী বলতো, খেলোয়াড় বা অভিনেতা যেই হোক, আর তার বিপরীতে যত অভিজ্ঞ মানুষই থাকুক না কেন, খেলা বা অভিনয়ের ভিতরে ঢুকে যাওয়ার পর তার থেকে ভাল অনুভূতি আর কিছু হয় না।
রজতাভ: তুমি কী দিচ্ছ আর উল্টো দিক থেকে কী পাচ্ছ, সেটাই শুধু তখন ম্যাটার করে। অবন্তিকার সঙ্গে আমার তেমন স্ক্রিন শেয়ার ছিল না। আমার খরাজ, কৌশিক সেন আর সব চেয়ে বেশি উজানের সঙ্গেই সিন ছিল। ওরা দুজনেই অসম্ভব ভাল অভিনেতা, প্রচন্ড ট্যালেন্টেড। আর সেটা ওরা আগে থেকেই ছিল। কিন্তু আমার মনে হয় এই ছবিটার পর থেকে দু'জন স্টার তৈরি হবে।

‘দ্বিখন্ডিত' সিনেমার টিজার প্রকাশিত



পরিজা: অবন্তিকার থেকে একটা বিষয় জানতে চাইবো। আগেই আমি শুনলাম পাভেল দাকে কতটা ভয় পায় অবন্তিকা। কিন্তু দেড় বছর ওয়ার্ক শপে অনেকটাই তো শিখেছে সে পাভেল দার থেকে। সেক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাটা ঠিক কেমন?
অবন্তিকা: ওয়ার্কশপে একজন দিদি পাভেল দার কাছে জানতে চেয়েছিল 'অভিনয় করার সময় আমার হাত দুটো কী করবো?' পাভেল দা বলেছিল, 'অভিনয় করার সময় মনে করবি তোর মত তোর হাত দুটোরও ব্রেন আছে।' পাভেল দা জিনিসগুলো খুব সুন্দর করে আমাদের বোঝাতো। তবে একটা জিনিস বোঝানোর সময় যদি একবার 'হ্যাঁ বুঝেছি' বলে দিতাম, আর তারপর আবার সেটা জিজ্ঞাসা করতাম তাহলে পাভেল দা রেগে যেত। মানে সেটা করলেই বুঝতে হবে কপালে বিশাল দুঃখ আছে। আর একটা জিনিস, পাভেল দা সব সময় সাহস জুগিয়েছে। আমাকে যখন পরপর বাতিল করা হয়েছে, পাভেল দাই কিন্তু ফোন করে বলেছে, 'তুই কিন্তু এখনও আছিস। ঠিক আছে?' এইভাবে মেন্টাল সাপোর্টটা পাভেল দা সব সময় দিয়েছে। 
পরিজা: এবার উজানের কাছে আসা যাক। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সবাই জানে উজান কিন্তু কৌশিক গাঙ্গুলি ও চূর্ণী গাঙ্গুলির ছেলে। এবার সেখান থেকে রসগোল্লায় উজানের অভিনয় ভাল হলে তাকে দুরকম কথা শুনতে হবে। এক, মানুষ প্রশংসা করবে। বলবে ভাল হয়েছে। দুই, ভাল হয়েছে বলার পাশাপাশি বলবে, ওর তো এটা রক্তেই ছিল। আর খারাপ হলে কিন্তু তাকে গালাগালটাও খেতে হবে যে অমুকের ছেলে হয়েও পারলো না। এবার সেখানে উজানের কী বক্তব্য?
উজান: ধরো, একজন ছেলের মা বাবা দুজনেই ডাক্তার। দুজনেই নামকরা সার্জেন। এবার সেই ছেলেকেও যে ওই রকমই পাকা ডাক্তার হতে হবে তার কোনও মানে নেই। এবার জেনেটিক্যালি তার কোনও প্রমাণও নেই। এবার রক্ত বা জিনগতভাবে অনেক কিছুই বংশপরম্পরায় পাওয়া যায়। কিন্তু অভিনয়টা পাওয়া যায় না বলেই আমার বিশ্বাস। এক্সপ্রেশন, ফেসিয়াল স্ট্রাকচার, ভয়েস এগুলো জেনেটিক কিন্তু ভাল অভিনয় করতে গেলে যে ফ্যাকাল্টিগুলো প্রয়োজন সেটা যদি রক্তে থাকলেও ঠিকভাবে প্রয়োগ না করা যায় তাহলে তো কিছু করার নেই। আজ ধরো, তোমার রান্নাঘরে দুধ, লেবু, কড়াই, জল সব তৈরি আছে। কিন্তু তুমি তো ছানা তৈরি করে পনীরের তরকারিও তৈরি করতে পারো। এবার আমার রক্তে যা আছে সেগুলো তাঁদের আশীর্বাদ। এবার ঘটনাচক্রে আমিও একই জিনিস করছি। এবার আমার মনে হয় সেটা আমার পড়াশোনা, আমার শিক্ষক-শিক্ষিকা, আমার মা-বাবা, দাদু-দিদা সবার আশীর্বাদ এবং আমার নিজের খাটনি বা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমি নিজে তৈরি করেছি। 
পরিজা: বাড়ি থেকে কখনও কোনও প্রেশার ছিল? 
উজান: প্রেশারের কনসেপ্টটা যদি বৈজ্ঞানিক দিক থেকে ভাবা হয়, তবে গ্র্যাভিটি না থাকলে কিন্তু মানুষ বাঁচবে না। আবার ব্লাড প্রেশার ধরো, না থাকলে তো আমাদের শরীরের সিস্টেমগুলোও চলবে না। পৃথিবীও তো চলছে প্রেশারের কারণেই। এবার যে সমালোচনা আর প্রেশারের প্রসঙ্গটা আসছে, এক্ষেত্রে সেটা আমাকে মোটিভেট করতে সাহায্য করবে। আর অভিনয়টা অবশ্যই আমি কন্টিনিউ করবো। তো এই প্রেশারটা আমার অভিনয় দক্ষতা বাড়াবে। তুলনা আসবে সেটা আমি জানি। আমি এটাও জানি যে যেই মুহূর্তে সেটা আমি বুঝে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবো, তখন প্রশ্নচিহ্নের পাশাপাশি বিস্ময়বোধক চিহ্ন, ভালবাসা এইসব ইমোজিগুলোও আসবে। 
পরিজা: বেশ। কিন্তু উজান অবন্তিকা দু'জনেই তো এখনও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। অবন্তিকার তো এই বছর শুটিং শেষ হওয়ার পরই বোর্ডের পরীক্ষা ছিল। আর সে তো নাকি ৮৬% নম্বরও পেয়েছে।
উজান: মেয়ের তো আসলে পড়াশোনায় মন নেই। তাই অনেকটা লো টার্গেট সেট করা হয়েছিল।
পাভেল: ওদের পড়াশোনার যে হারে আমি বারোটা বাজিয়েছি, সত্যি কথাটা আর তো কেউ জানে না, কিন্তু ও বা ওর মা কেউ আমাকে কিছু বলতো না। আমাকে কেউ কিছু বলতে এলেই বলতাম, 'মেয়ে নায়িকা হবে তো? ব্যাস করতে দিন। ঝামেলা করবেন না।' 
অবন্তিকা: এমার পরীক্ষার সঙ্গে শুটিং-এর ডেট ক্ল্যাশ করার একটা সম্ভাবনা এসেছিল। পাভেল দা একদিন আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, 'তোর কাছে কোনটা বেশি ইম্পর্টেন্ট? আইসিএসই না রসগোল্লা?' আমি তখন বলেছিলাম, 'আমি তো জানি না। আমি খালি রসগোল্লাটা করতে চাই।'
পাভেল: ওর পরীক্ষার সমস্যা না হলেও পড়ার ক্ষতি কিছুটা হয়েছিল। আমি বকাবকি করলেও মনে মনে ওকে বলতাম পাশটা কিন্তু করতে হবে। ওর থেকে আমার চাপটা বেশি ছিল। ও ফেল করলে উজান ওকে আওয়াজ দেবে ঠিক করেই রেখেছিল। কিন্তু আমার জন্য একটা বাচ্চা মেয়ে ফেল করলে আমি নিজেকে তো অনেক খারাপ জায়গায় পাঠাতাম। কিন্তু ও যে ৮৬ পেয়েছে, আমি বলেছিলেন, 'ধ‍্যার ৮৬ পেয়েছে, তোর ৫৬ পেলেও চলবে!' তাই আমি বলেছি ওর এইচএসের সময় ওকে আবার একটা ছবিতে খাটাবো। তাহলে নম্বর আবার বেড়ে যাবে। 

মুক্তি পেল ‘ভবিষ্যতের ভূত'-এর টিজার


উজান: এই দেশে অন্তত অ্যাকাডেমিক্সে ভাল না হলে খুব সমস্যা। 
পাভেল: উজান কিন্তু পড়াশোনাটা সিরিয়াসলি করে। ওকে যদি সিনেমা থেকে হঠাৎ একটা দু-পাঁচ বছরের অফ নিয়ে পিএইচডি করতে যেতে দেখি তবে কেউ অবাক হব না। আমি তো অন্তত অবাক নয়, বরং খুশিই হব।
পরিজা: রসগোল্লায় দু'জনের নতুন মুখ যেভাবে ক্লিক করেছে মানুষের মধ্যে এবার তো খুব তাড়াতাড়ি আবার উজান অবন্তিকাকে নিশ্চয়ই আমরা পর্দায় দেখতে পাবো।
পাভেল: ক্লিক না করলেও আসবে। পরিচালক হিসেবে এই ধরণের কথা আমার বলা উচিত নয়, তবুও বলছি। কালিকা দা বলতেন, 'এই যে নিষ্ঠাটা নিয়ে কাজ করছো এটা বজায় রেখো আর সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিও। দেখবে মঙ্গল হবে।' আমিও এই নিষ্ঠাটা ওদের মধ্যে ছড়ানোর চেষ্টা করেছি আর ওদের মধ্যে সেটা প্রথম থেকেই আছে। তো আমরা প্রত্যেকেই নিষ্ঠা সহকারে একটা ছবি বানিয়েছি। সেটা ভাল হয়েছে আমরা দেখেছি। এবার আশা করি সবার সেটা ভাল লাগবে। ব্লকবাস্টার না হলেও ম্যাটার করবে না। খারাপ লাগে অবশ্যই থাকবে। কিন্তু তাতে উজান আবার কাজ করবে কারণ ও নিজের নিষ্ঠা দিয়ে কাজ করবে। তাই এই ছবিটার ভাগ্যের ওপর ওর কাজ নির্ভর করছে না কিন্তু ওর পারিশ্রমিক নির্ভর করছে। 
পরিজা: মা বাবা কী বলছেন?
উজান: বাবা মা দু'জনেই বারবার যেটা বলেছেন, তাঁরাও তো একসময় ফ্রিল্যান্সিং করেছেন। তো এই পেশাটা আসলে খুবই কঠিন। সেটা আমি দেখে শিখেছি। তাই আমার কোনও ভাল খবর শুনলে মা বাবা যতটা খুশি হয় ততটা চিন্তাও করেন কারণ তাঁরা জানেন ফ্রিল্যান্সিং-এ কতটা কষ্ট! আর আমার যদি নেশা হয়ে যায় আর আমি বাকি সব ভুলে গিয়ে এর মধ্যে ঢুকে যাই তাহলে আমি অনিশ্চিত একটা ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। কারণ সেখানে অনেক কিছুই আমার হাতে নেই। কিন্তু আমি যদি অ্যাকাডেমিক্সে থাকি তাহলে কিন্তু আমার হাতে সুযোগ প্রচুর থাকবে। তাই তাঁরা যেমন আমার জন্য গর্বিত, ঠিক তেমনই চিন্তিত। সিনেমাটা দেখে ওই দু'জনের রিয়‍্যাকশন আমি প্রথমে জানবো। 
পরিজা: উজানের কথা না হয় জানলাম। অবন্তিকার বাড়িতে কী বলছে? 
অবন্তিকা: মা তো সবটা সব সময় দেখেছে। কিন্তু বাবা তো কিচ্ছু জানে না। আমি শুট থেকে ফেরার পর বাবা অপেক্ষা করে থাকতো সারাদিন কী হয়েছে জানার জন্য। ট্রেলারটা লঞ্চ করার পর বাবা দেড় ঘণ্টা ধরে ওটাই শুধু দেখেছে।  
উজান: অবন্তিকা যেমন ফ্যামিলি ব্যাকিং পায়নি সবাই বলে তাতে কী সমস্যা ওকে ফেস করতে হয়েছে? সত্যি বলতে আমি নিজে তো দেখছি, ও যা পাচ্ছে তাতে ও প্রচন্ড লাকি। অবন্তিকার মা আমাদের সবার সাপোর্ট সিস্টেম হিসেবে রয়েছেন। আর ওর বাবার মতো পিআর আমি আজ অবধি কাউকে করতে দেখিনি। 
পরিজা: এরপর নতুন কিছু কাজের কথা হয়েছে?
উজান: ডেসার্ট দিয়ে শুরু হল। এবার মেনকোর্স, স্টার্টার সারা বছর তো পাবেই মানুষ!
পরিজা: বড়দিনে রসগোল্লায় মজুক সবাই। শুভকামনা রইল!




বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement