হোমরিভিউস

ফিরে এল রূপকথা, মন জিতল ‘বুদ্ধু ভূতুম’

  | September 20, 2019 19:49 IST (কলকাতা)
Buddhu Bhutum

বুদ্ধু আর ভূতুম

শুধু ছোটদের নয়, এখন যাঁরা সেই যুগের প্রতিনিধি তাঁদের মন চাইবে চাক্ষুস করতে সেই জীবন্ত রূপকথা।

ছবি: বুদ্ধু ভূতুম

পরিচালকনীতিশ রায়

অভিনয়: কৌশিক সরকার, শঙ্কর চক্রবর্তী, লকেট চট্টোপাধ্যায়, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবলীনা কুমার, মানালি দে, সুজয় কুমার সাহা, গৌতম হালদার

রেটিং : ৩/৫


বিদ্ধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: সমালোচক মন অফ, শিশু মন অন


অনেকদিন পরে আবার রূপকথা। সেই কোন ছোটবেলায় পড়া দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ঠাকুমার ঝুলি। সেখানে নানা রকমের, নানা স্বাদের রাজা-রানি-রাক্ষস-খোক্ষসদের গপ্পো। পড়তে পড়েত আপনা থেকেই মন উধাও কল্পকথার দুনিয়ায়। মন হারানোর আরও একটা কারণ আছে। ছোট ছেলেরা সেই সময়ে গল্পে বলা পক্ষিরাজ ঘোড়ার চড়ে নিমেষে সওয়ারি হতে পারত মবে মনে। গল্প পড়তে পড়তেই। তারপর রাতের বেলায় যখন ঘুম নামত চোখে সেই কচিচোখ নিজেদের দেখতে পেত রাজপুত্র বা রাজকন্যা রূপে। নিজেদের অপূর্ণ সাধ তারা পূরণ করত ইচ্ছেমতো। সেই এসেন্স এই প্রথম ধরা পড়ল বড় পর্দায়। ফলে, শুধু ছোটদের নয়, এখন যাঁরা সেই যুগের প্রতিনিধি তাঁদের মন চাইবে চাক্ষুস করতে সেই জীবন্ত রূপকথা। সঙ্গে আরও একটি কৌতূহল, ছবির পরিচালক নীতিশ রায়ের ৪৭ বছর ধরে দেখা স্বপ্ন কতটা সফল হল?

গল্পকথা: মনে পড়ছে? সেই যে, এক রাজার তিন রানি। রাজার সব আছে কিন্তু সন্তান নেই। তার জন্য মেজ আর ছোট রানি সাত সমুদ্র তের নদী পেরিয়ে যাবে এক সন্ন্যাসীর কাছে। যাঁর কাছে আছে এক আশ্চর্য শিকড়। যা বেটে গেলে সন্তান হবেই। সেই শিকড় নিয়েও আসেন তাঁরা। কিন্তু বড় রানি যে ভীষণ দুষ্টু! চালাকি করে পুরো শিকড় বাটা নিজে খেয়ে শিল-নোড়া ধোয়া জল খেতে দেয় বাকি দুই সতীনকে। ফলাফল, চাঁদের মতো রানি বড় রানির। মেজ রানিও পরীক্ষায় উতরে যান। কিন্তু ছোট রানি যে সরলমনা। তাই তাঁর কপালে যত দুর্ভোগ। বেচারি এত কষ্ট করে শিকড় এনে জন্ম দেন বানর রাজপুত্র বুদ্ধুর। প্রজাদের মন রাখতে বাধ্য হয়ে রাজা বাধ্য হয়ে বনে নির্বাসন দেন ছোটকে। সেখানেই রানি মানুষ করতে থাকেন তিনি তাঁর সন্তানকে। বুদ্ধু কি কোনোদিন পারবে নিজের রাজ্যে ফিরতে? মাকে নিয়ে আজীবন কি তাকে কাটাতে হবে জঙ্গলে? উত্তর তো আপনাদের জানা!

কতটা যান্ত্রিক কতটা অভিনয়ে সমৃদ্ধ: তুল্যমূল্য বিচার খুবই কঠিন। প্রোডাকশনের কাজে বরাবরই দক্ষ নীতিশ রায়। নিজের হাতে সেদিক সামলেছেন। ফলে, গ্রাফিক্সের দিক থেকে নীতিশ রায়ের ছবি ভালো মতো উতরে গেছেন। আর এই গ্রাফিক্স না থাকলে রূপকথা ফুটত কি ঠিক মতো!

বাকি অভিনয়। সবাই তাঁদের চরিত্রে যথাযথ। বিরাটগড়ের রাজা শত্রাজিৎ রূপী কৌশিক চক্রবর্তী, মন্ত্রী শঙ্কর চক্রবর্তী, বুদ্ধু সঞ্জয় সাহা যথাযথ। ছোট চরিত্রে গৌতম হালদার নজর কেড়েছেন ব্যক্তিত্বে, অভিনয় গুণে। বড় রানি সোহাগ তথা লকেট চট্টোপাধ্যায় ভীষণ স্বাভাবিক। অভিনয়ে নজর কেড়েছেন মেজ রানি রুমকি তথা কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে ভীষণ ভাবে উজ্জ্বল দেবলীনা কুমার, ছোট রানি সোনামন। আর বুদ্ধুর অনস্ক্রিন বোন মানালি মনীষা দে। তবে অনেকেই বলেছিলেন, ছবিতে নাকি গ্রাফিক্সের দৌরাত্ম্যে অভিনেতাদের অভিনয় করার সুযোগই নেই। সত্যিই যদি তেমন হত তাহলে অভিনয় নিয়ে বোধহয় দু-চারকথা বলা যেত না।

তবে...: কোথাও কোথাও যেমন মনে হয়েছে, হীরক রাজার দেশে-র সামান্য গন্ধ রয়েছে ছবিতে। যেমন, রাজার সঙ্গে মন্ত্রীর ছন্দে ছন্দে কথা। পুরোটাই যখন পরিচালকের মস্তিষ্কজাত, তখন এটুকুর খুব দরকার ছিল? তবে মানতেই হবে, এত বছর ধরে চেষ্টার পরে অবশেষে বাংলায় আবার ফিরল রূপকথা। সঙ্গে সহজপাঠের এসেন্স নিয়ে। পরিচয় লিপিতে নন্দলাল বসুর আঁকার গন্ধে মাখামাখি হয়ে। একই সঙ্গে দেখা গেছে যৌথ পরিবার, পরিবারে দ্বন্দ্ব, কূটকচালি, সতীনকাঁটা, পারস্পরিক টান, ভাই-বোনের ভালোবাসা--- রাজা-রানি- রাজকন্যা-রাজপুত্রের রূপ ধরে। যা নিউক্লিয়ার যুগে ফসিল। বাঙালির হারানো এই সমস্ত সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সাধুবাদ অবশ্যই প্রাপ্য পরিচালকের।





বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement