হোমরিভিউস

নাট্য সমালোচনা: জীবনের ‘ওয়ারিশ’ নিয়ে দর্শকের দরবারে ‘বেওয়ারিশ’

  | August 18, 2019 08:31 IST (কলকাতা)
Bewarish

নাটক বেওয়ারিশ

কখন যে আপনি নাটকে ডুবে যাবেন, টেরও পাবেন না। কেন জানেন? নাটকটি অত্যন্ত সমসাময়িক। রাজনীতি থেকে আজকের যুগ এবং জীবন---ব্যঙ্গ রসে মাখিয়ে পরিচালক পরিবেশন করে সুকৌশলে। এর জন্য নাট্যকারেরও ধন্যবাদ প্রাপ্য।

নাটক: বেওয়ারিশ

পরিাচলনা: অভিজিত অনুকামিন

রচনা: মলয় বন্দোপাধ্যায়

প্রযোজনা: কোলাহল থিয়েটার ওয়ার্কশপ


অভিনয়ে:সংকেত, শান্তনু, শুভাশিস, সমীর, প্রসেনজিৎ, জিনিয়া, অজয়, অভিজিৎ অনুকামিন

রেটিং: ৩.৫/৫

ঘটনাসূত্র: কলকাতা থেকে বিহার যাবার পথে এক বাস দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। তাদের ৬জন বেওয়ারিশ হয়ে পড়ে লাশকাটা ঘরে। আচমকাই মর্গে জনতার তাড়া খেয়ে ঢুকে পড়ে এক চোর। জীবন্ত মানুষের সাড়া পেতেই মৃতদেহগুলোতে যেন প্রাণ সঞ্চার হয়। তারা অনুনয় করতে থাকে চোরকে। তাদের পরিচয় জানিয়ে সদগতি করার জন্য। এভাবে বেওয়ারিশ (Bewarish) হয়ে থাকতে কতদিন ভালো লাগে!

এই সূত্রেই তারা যেচে নিজেদের পরিচয় দেয়। এদের কেউ সরকারি কেরানি, কেউ ভাগের বাপ, কেউ সুপারি কিলার, কেউ ঘটক, কেউ চোরাচালানকারি আবার কেউ ভণ্ড জোতিষী। স্বর্গে যাওয়ার আনন্দে যখন এরা মশগুল তখন হঠাৎ আসে ছয়ের দশকের ব্যর্থ নায়িকা কুসুমবালা। যে মনের মানুষের খোঁজে প্রায়ই হানা দেয় মর্গে। সবাই স্বর্গ ছেড়ে মজে ওঠে কামিনী-তে। এমন সময় ৬ লাশের পাঁচজনের খোঁজে আসে পরিজন। বেওয়ারিশ দশা মুক্তি ঘটে তাদের। বাকি একজন অন্যের পরিচয়ে সদগতি পায়। কিন্তু শেষে বেওয়ারিশ লাশ বনে যায় সেই চোর! কীভাবে জ্যান্ত মানুষ মৃত হয়ে যায়? জানতে, দেখতে হবে নাটকটি।

নাট্য সমালোচনা; দৈর্ঘ্যই বাহুল্য, গুণমানে সত্যিই ‘মহাভারত'

সমালোচনা: খুব সাদামাঠা গল্প। তারকার ঝলকও নেই। কিন্তু নাটক শুরু হওয়ার একটু পরে থেকেই এই অনুভূতি মন্ত্রবলে ভ্যানিশ হয়ে যায় মন থেকে। কখন যে আপনি নাটকে ডুবে যাবেন, টেরও পাবেন না। কেন জানেন? নাটকটি অত্যন্ত সমসাময়িক। রাজনীতি থেকে আজকের যুগ এবং জীবন---ব্যঙ্গ রসে মাখিয়ে পরিচালক পরিবেশন করেছেন সুকৌশলে। এর জন্য নাট্যকারেরও ধন্যবাদ প্রাপ্য। ধন্যবাদ পাবে কোলাহল থিয়েটার ওয়ার্কশপও (Kolahol Theater Workshop)। এবং এই নাট্যগোষ্ঠীর অন্যকম প্রধান নাইজেল আকারা (Nigel Akkara)। যিনি অন্ধকার থেকে আলোর যাত্রী হওয়ার সময় থেকেই সঙ্গে নিয়েছেন সেই সব পিছিয়ে পড়া মানুষদের, যাঁরা ঘটন-অঘটনে সমাজের চোখে ব্রাত্য, বেওয়ারিশ।

দ্বিতীয় কারণ, এই নাটকের অভিনেতারা। কেউ নামজাদা নন। বরং অভিনয়ের দুনিয়ায় একেবারেই নাম-গোত্রহীন। এঁরা সবাই আলিয়ানা রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের (Aliyana Rehability Center) সদস্য। প্রথমে বেশিরভাগই অনিচ্ছুক ছিলেন অভিনয় করতে। গত ৭-৮ মাসের পরিশ্রমের পর আজকে তাঁরা সাবলীল অভিনেতা। এখন সবাই সগর্বে ঘোষণা করেন, তাঁরা এখন এই নাটকের অভিনয়ের নেশায় আক্রান্ত। তাই আলাদা করে কাউকে বেশি ভালো বলার জায়গা নেই। বরং এক এক সময় পরিচালক অভিজিতের অভিনয়কেও ( নাটকে পুলিশ অফিসার) ছাপিয়ে গেছেন সবাই। যা দেখে মনে হয়েছে, জীবনের ‘ওয়ারিশ' নিয়ে দর্শকের দরবারে হাজির সমাজ থেকে সাময়িক ব্রাত্য একদল মানুষ।

নাটক দেখার পর একটা কথা খুব মনে হয়েছে, দামি রেস্তোরাঁ নয়, মধ্যবিত্ত বাড়ির সাদাসিধে ডাল-ভাত-তরকারি আন্তরিকতার সঙ্গে পরিবেশনের পর খেয়ে যে তৃপ্তি, এই নাটক দেখেও তেমনটাই। ভালো নাটকের এত উপাদান যে নাটকে মজুত, সে নাটক মঞ্চস্থ হওয়ার সময় হল ভর্তি হয় না কেন? সেটাই আক্ষেপ, সেটাই প্রশ্ন। 








বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement