হোম

পর্দা আলো দুই প্রজন্মের অভিনয়ের সেতুবন্ধে           

  | December 21, 2019 15:57 IST (কলকাতা)
Leena Ganguly

অভিনয়ের আলো জ্বালল সাঁঝবাতি

সুলেখা দেবী কাজের মেয়ে ফুলিকে নিয়ে থাকেন সল্টলেকের মতো ফাঁকা জায়গায়। বিরাট বাড়িতে। বিলেত ফেরত ডাক্তার ছেলে প্রায় রোজই ভিডিও কলে বিদেশে যাওয়ার নিমন্ত্রণ পাঠায়।

ছবি: সাঁঝবাতি

পরিচালক: লীনা গঙ্গোপাধ্যায়-শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিনয়: সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, লিলি চক্রবর্তী, দেব, পাওলি, সোহিনী সেনগুপ্ত, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, সন্তু মুখোপাধ্যায়

প্রযোজনা: অতনু রায়চৌধুরী


রেটিং : ৩.৫/৫

ট্যাগলাইন: পুরো শহরটাই একদিন বৃদ্ধাবাস হয়ে যাবে

চেনা গল্প জানা ছবি--- খুব চেনা গল্প। শহরে হামেশাই ঘটছে। মা-বাবাকে রেখে কাজের তাগিদে, বড় হওয়ার নেশায় ছেলেমেয়েরা বিদেশে ছুটছে। মা-বাবা কেয়ারটেকারের তত্ত্বাবধানে। অথবা কোনও বৃদ্ধাশ্রমে। তাকেই ঘিরেই লীনা গঙ্গোপাধ্যায়-শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় ছবি ‘সাঁঝবাতি'। যেখানে সুলেখা দেবী কাজের মেয়ে ফুলিকে নিয়ে থাকেন সল্টলেকের মতো ফাঁকা জায়গায়। বিরাট বাড়িতে। বিলেত ফেরত ডাক্তার ছেলে প্রায় রোজই ভিডিও কলে বিদেশে যাওয়ার নিমন্ত্রণ পাঠায়। কিন্তু সুলেখা দেবী নারাজ। ট্রেকিং করতে যাওয়া ছোট ছেলের হঠাৎ মৃত্যু, তাঁর পুরনো স্মৃতি, ভরা সংসারের গন্ধ ফেলে কী করতে তিনি বিদেশে যাবেন? ফুলি ছাড়াও সুলেখা দেবীর কাছের জন ছানা দাদু আর ছোট ছেলের হবু বউমা। বিশাল বাড়ির এমন আপনিকোপনি মালকিন হলে স্বাভাবিক ভাবেই চোখ টাটায় পাড়ার প্রমোটারের। গুণ্ডা লাগিয়ে সারাক্ষণ উত্যক্ত করতে থাকে সুলেখা দেবীকে। এমন অবস্থায় সেখানে সুলেখা দেবীর কেয়ারটেকার হিসেবে মেদিনীপুর থেকে আসে চন্দন চট্টোপাধ্যায়। প্রথম দিনেই দিদার নাতি হয়ে মন জয় করে ফেলে চাঁদু। তার ব্যবহারে বশ হন ছানা দাদুও। প্রথমে খটামটি লাগানোর চেষ্টা করলেও পরে ভালোবেসে ফেলে ফুলিও। সব কিছু নিয়ে যখন খুশি খুশি দিন কাটছে সবার, তখনই বিনা মেঘে বজ্রপাত সুলেখা দেবীর মৃত্যু। তাঁর মৃত্যুর কারণ ফুলি-চাঁদু? না প্রোমোটারোর ভাড়া করা গুণ্ডা? বলবে পর্দা। 

মাটি, লীনা, সাঁঝবাতি--- প্রথম ছবি 'মাটি'-তে লীনা নিজের জীবনের গল্প বলেছিলেন। যেখানে ভারত-বাংলাদেশ ছিল। কাঁটাতারের ব্যবধান ছিল। আর ছিলেন পাওলি। এই ছবি নাগরিক জীবনের গল্প। যেখানে ছানা দাদুর মতো হাজারো বৃদ্ধ-বৃদ্ধার আক্ষেপ, পুরো শহরটাই একদিন বৃদ্ধাবাস হয়ে যাবে। এই ছবি তৈরির সময় লীনা বলেছিলেন, ক্যামেরায় দুই প্রজন্মের অভিনেতাদের ধরার পাশাপাশি নতুন জুটি উপহার দেবেন। সেই জুটি দেব-পাওলি। প্রথম কথা রাখতে গিয়ে অর্থাৎ দুই প্রজন্মকে ধরতে গিয়ে অসাধারণ কিছু দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেছেন পরিচালকদ্বয়। সৌমিত্র বাবু-লিলি চক্রবর্তীর অনায়াস চরিত্র হয়ে ওঠা। আর তাঁদের ছোঁয়ায় দেব-পাওলির অভিনয়ে আরও উত্তরণ। বিশেষ করে দেব। এত নীচু স্কেলে তাঁর অভিনয় মনে করিয়েছে অনিরুদ্ধ রাচৌধুরীর 'বুনো হাঁস'-কে। ছানা দাদু-সুলেখা দেবীর অভিনয় নিয়ে বলার ধৃষ্টতা এই সমালোচকের নেই। ছবিতে এঁরাই তো প্রাণসঞ্চার করেছেন! বিশেষ করে সৌমিত্রবাবু। যত দিন যাচ্ছে তত যেন তিনি আবিষ্কারের বস্তু হয়ে উঠছেন। অনেক দিন পরে সন্তু মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় মন ভালো করে দিয়েছে। ভীষণ ভালো লেগেছে নিরুচ্চার প্রেমের দৃশ্যবন্ধগুলো। দেব ছবিতে সত্যিই দায়িত্ববান প্রেমিক। এই ছবিতেও পাওলি আছেন। তবে 'মাটি'র মতো করে নয়। পাওয়া গেল না পুরনো অনুপম রায়কেও। তবে এই ছবি কেন যেন বারেবারে মনে পড়িয়ে দিচ্ছিল সদ্য পুরনো একটি ছবির কথা। কী যেন নাম?





বাংলা ভাষায় বিশ্বের সকল বিনোদনের আপডেটস তথা বাংলা সিনেমার খবর, বলিউডের খবর, হলিউডের খবর, সিনেমা রিভিউস, টেলিভিশনের খবর আর গসিপ জানতে লাইক করুন আমাদের Facebook পেজ অথবা ফলো করুন Twitter আর সাবস্ক্রাইব করুন YouTube
Advertisement
Advertisement